26/08/2026
কখনো কখনো মানুষ এতটাই ক্লান্ত হয়ে যায় যে, কারও কাছে নিজের কষ্টটুকুও বলতে ইচ্ছে করে না। শুধু মনে হয়—একজন মানুষ যদি থাকত, যার সামনে সবকিছু খুলে বলতে পারতাম… যে আমার কথার মাঝখানে বিচার করত না, শুধু বুঝত।
কিন্তু সত্যিটা বড় কষ্টের—আজ পর্যন্ত এমন একজন মানুষও পেলাম না।
আপন মানুষ অনেক পেয়েছি, কিন্তু আপন হয়ে থাকার মানুষ পাইনি। সবাই কোনো না কোনো প্রয়োজন নিয়ে কাছে এসেছে। আমি তাদের প্রয়োজনে ছুটে গেছি, তাদের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছি, নিজের কষ্ট লুকিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি।
কিন্তু যেদিন আমার চোখে পানি ছিল, সেদিন পাশে বসে সেই পানি মুছে দেওয়ার মতো মানুষ ছিল না।
কেউ হয়তো বলবে, “তোমার বিপদে তো আমি ছিলাম।”
হয়তো ছিলে… কিন্তু আমার সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোতে যাদের পাশে পেয়েছি, তাদের অনেকেই ছিল আমার সহকর্মী—আপনজনের পরিচয়ে নয়, মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল তারা।
এই জায়গাটাতেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়।
আমি সবার জন্য এতটা ছিলাম, অথচ আমার জন্য কেউ ছিল না—এই সত্যিটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়।
কখনো রাগ করেছি, কখনো অভিমান করেছি, কখনো চেয়েছি কেউ এসে বলুক—
“কী হয়েছে? মন খারাপ কেন? বলো, আমি শুনছি।”
কেউ আসেনি।
শেষ পর্যন্ত নিজের চোখের পানি নিজেকেই মুছতে হয়েছে।
নিজের ভাঙা মন নিজেকেই বুঝাতে হয়েছে।
নিজের রাতের কান্না নিজেকেই লুকাতে হয়েছে।
তাই এখন আর কাউকে দোষ দিই না।
শুধু একটু দূরে সরে গেছি।
কারণ বারবার হাত বাড়িয়ে যখন শূন্যতা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না, তখন একসময় হাত বাড়ানোই বন্ধ করে দিতে হয়।
আমি পাথর হয়ে যাইনি…
শুধু অনেক কাঁদতে কাঁদতে শিখে গেছি—কীভাবে চোখের পানি লুকিয়ে হাসতে হয়।
আর সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার জানেন?
যাদের আপন ভেবেছিলাম, তাদের কাছেই আজ নিজেকে সবচেয়ে বেশি পর মনে হয়।