12/01/2026
বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে #কূটনৈতিক মাইলফলক: মোদী–শোলৎস বৈঠকে ভারত-জার্মানির চার #ঐতিহাসিক চুক্তি!
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীর তাৎপর্যপূর্ণ দিনে ভারত-জার্মানি কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎসের নয়াদিল্লি সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিগুলিকে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও বহুমাত্রিক করে তুলল।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ চুক্তিটি হয়েছে কৌশলগত খনিজ ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে। স্মার্টফোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তির মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত সেমিকন্ডাক্টর খাতে জার্মানির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও এই বৈঠকের অন্যতম বড় অর্জন। দুই নেতা এ বিষয়ে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে ভারত-জার্মানি আস্থার স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও যৌথ উৎপাদন জোরদার করতে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আয়ুর্বেদকে আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয় করে তোলার বিষয়েও সমঝোতা হয়। বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইউক্রেন ও গাজা সঙ্কট প্রসঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি সন্ত্রাসবাদকে মানবতার জন্য এক গুরুতর হুমকি আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে ভারত ও জার্মানির যৌথ ভূমিকার উপর জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি জার্মান কোম্পানি ভারতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, স্বামীজি ভারত ও জার্মানির মধ্যে দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের স্বপ্ন দেখতেন। অন্যদিকে চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস তাঁর বক্তব্যে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং গুজরাট সফরের সময় গান্ধীজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, এই সফর ও স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি স্পষ্ট করে দিল—ভারত ও জার্মানি কেবল কূটনৈতিক অংশীদার নয়, বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক রাজনীতিতে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী হিসেবেই এগিয়ে চলেছে।
Independent News Tripura
#বাংলাখবর #ত্রিপুরা