05/06/2026
*ত্রিপুরার পাহাড়ি জনপদে এক অদম্য স্বাস্থ্যযোদ্ধা: ভ্যাক্সিন কাঁধে উত্তাল নদী পেরিয়ে মানবিকতার নতুন নজির হিমু দেবনাথের*
ধলাই জেলার মাছলি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই প্রথম সারির কর্মীর কর্তব্যনিষ্ঠা ছুঁয়ে গেছে ত্রিপুরার আপামর জনসাধারণের হৃদয়
পর্বত-অরণ্য পরিবেষ্টিত ত্রিপুরার গ্রামীণ জনপদে যেখানে যাতায়াতের পথ প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় থমকে যায়, সেখানেই এক অবিস্মরণীয় মানবিক রূপকথা রচনা করলেন ধলাই জেলার মাছলি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক অকুতোভয় স্বাস্থ্যকর্মী (MPW)। তাঁর নাম হিমু দেবনাথ। পিঠে শত শত শিশুর জীবনের সুরক্ষাকবচ ভ্যাক্সিন ক্যারিয়ার নিয়ে, কোমর সমান পাহাড়ি ছড়ার তীব্র স্রোত ভেঙে বনের ভেতরের গ্রামের দিকে এগিয়ে চলার তাঁর একটি দৃশ্য এখন ত্রিপুরার প্রতিটি নাগরিকের মনে গভীর দাগ কেটেছে।
ভৌগোলিক কারণে ত্রিপুরার এডিসি (ADC) এবং প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্ষার দিনগুলোতে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিপাতে পাহাড়ি নদী ও ছড়াগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। কিন্তু ত্রিপুরার প্রত্যন্ত প্রান্তিক স্তরের কোনো শিশু বা গর্ভবতী মা যেন সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে মাসের পর মাস এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হিমু বাবু।
ত্রিপুরার মাটির আসল গৌরব:
সাহসী ও কর্মঠ মানুষের এই শতাব্দী প্রাচীন ভূমিতে হিমু দেবনাথের মতো স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রমাণ করে দেন যে, সদিচ্ছা ও বুকভরা মানবিকতা থাকলে সমস্ত ভৌগোলিক বাধাকে জয় করা সম্ভব। এসি ঘরে বসে ফাইল নাড়াচাড়া করা চাকুরিজীবীদের আড়ালে থাকা এই গ্রাউন্ড-লেভেল যোদ্ধারাই আজ ত্রিপুরার আসল হিরো ও গৌরব।
টিকাকরণের নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাক্সিনের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা (কোল্ড-চেইন) বজায় রাখা এবং সঠিক সময়ে তা কেন্দ্রে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। একটু দেরি হলেই কার্যকারিতা হারাতে পারে জীবনদায়ী ওষুধ। তাই সময়ের সাথে পাঞ্জা লড়ে, পাহাড়ি জঙ্গল, বন্য জন্তু বা বিষাক্ত সাপের ভয়কে উপেক্ষা করে হিমুবাবু পৌঁছে যান গন্তব্যে। সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে যেভাবে তিনি নিজের কাঁধে করে পাহাড়-জঙ্গল পার করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন, তা ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও সেবার এক অনন্য উজ্জ্বল দিক নির্দেশ করে। তাঁর এই নিঃস্বার্থ সেবাকে কুর্ণিশ জানাচ্ছে রাজ্যের আপামর জনসাধারণ।