02/09/2026
সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়: ছাত্র আন্দোলনের FIR নিয়ে বড় স্বস্তি, দেশজুড়ে মামলা বন্ধের নির্দেশ।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ছাত্র আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
NEET-UG পরীক্ষা ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০ থেকে ২৫ জুলাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত FIR নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে দায়ের হওয়া সংশ্লিষ্ট FIR বাতিল করেছে। শুধু তাই নয়, একই সময়ের ওই ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দায়ের হওয়া মামলাগুলিও আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বা তদন্ত না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নতুন করে একই ঘটনার ভিত্তিতে FIR করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করেই আদালত Article 142-এর ক্ষমতা ব্যবহার করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি ওই বিশেষ পরিস্থিতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে এবং এটিকে ভবিষ্যতের সব মামলায় বাধ্যতামূলক নজির হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
তবে এখানেই পুরো বিষয়টির শেষ নয়।
জান্তর মন্তরের আন্দোলনে উপস্থিত ২,৮৭৩ জনের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশকে একটি পৃথক FIR করার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই FIR শুধুমাত্র গুরুতর শারীরিক আঘাত এবং সম্পত্তি ধ্বংসের মতো অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আদালত এক চোখে দেখেনি।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
NEET-UG ২০২৬-সহ শিক্ষাগত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে ছাত্রছাত্রীরা আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রকে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি দেশব্যাপী নীতি তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এই রায়ের পর ৫ সেপ্টেম্বরের প্রস্তাবিত আন্দোলন/মিছিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও সামনে এসেছে।
সামাজিক বার্তা:
গণতন্ত্রে ছাত্রদের প্রশ্ন করার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আন্দোলনের নামে হিংসা, শারীরিক আঘাত বা সম্পত্তি নষ্ট করাও সমর্থনযোগ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের সবচেয়ে বড় বার্তা হতে পারে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজের দাবি জানানোকে অপরাধ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্তও হতে হবে।
ছাত্রদের ভবিষ্যৎ যেন একটি FIR-এর কারণে অন্ধকার না হয়, আবার আন্দোলনের আড়ালে অপরাধও যেন প্রশ্রয় না পায়, ভারসাম্যটাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: সুপ্রিম কোর্টের রায় ও বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।