The hashtag

The hashtag প্রার্থনা আর বিশ্বাস- এই দুটোই অদৃশ্য
কিন্তু এই দুটোয় এতো শক্তি আছে যে...
অসম্ভবকে একদিন 'সম্ভব' করে তুলতে পারে।

ভয় পেও না...
10/02/2026

ভয় পেও না...

"তুমি আর নেই সে তুমি" -শঙ্খ ঘোষ তুমি বললে মানবতাআমি বললে পাপবন্ধ করে দিয়েছে দেশসমস্ত তার ঝাঁপতুমি বললে হিটলারিওজনপ্রেমে ...
14/07/2025

"তুমি আর নেই সে তুমি"
-শঙ্খ ঘোষ

তুমি বললে মানবতা
আমি বললে পাপ
বন্ধ করে দিয়েছে দেশ
সমস্ত তার ঝাঁপ
তুমি বললে হিটলারিও
জনপ্রেমে ভরা
আমি বললে গজদন্ত
তুমি বললে ছড়া ।

তুমি বললে বাঁচার দাবি
আমি বললে ছুতো
হামলে কেন এল সবাই
দিব্বি খেত শুত ।
হোক না জীবন শুকনো খরা
বন্ধ্যা বা নিষ্ফলা ।
আমি বললে সেপাই দিয়ে
উপড়ে নেবে গলা ।

তুমি বললে দণ্ডকে নয়
আপন ভূমিই চাই
আমি বললে ভণ্ড, কেবল
লোক খ্যাপাবার চাঁই ।
চোখের সামনে ধুঁকলে মানুষ
উড়িয়ে দেবে টিয়া
তুমি বললে বিপ্লব, আর
আমি প্রতিক্রিয়া ।

12/07/2025

কোন্ দেশে
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত [১৮৮২-১৯২২]

কোন্ দেশেতে তরুলতা-
সকল দেশের চাইতে শ্যামল?
কোন্ দেশেতে চলতে গেলেই-
দলতে হয় রে দূর্বা কোমল?
কোথায় ফলে সোনার ফসল-
সোনার কমল ফোটে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরি বাংলা রে।

কোথায় ডাকে দোয়েল শ্যামা,
ফিঙে গাছে গাছে নাচে?
কোথায় জলে মরাল চলে,
মরালী তার পাছে পাছে?
বাবুই কোথায় বাসা বোনে-
চাতক বারি যাচে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরি বাংলা রে।

কোন্ ভাষা মরমে পশি-
আকুল করি তোলে প্রাণ?
কোথায় গেলে শুনতে পাব-
বাউল সুরে মধুর গান?
চণ্ডীদাসের রামপ্রসাদের
কণ্ঠ কোথায় বাজে রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরি বাংলা রে।

কোন্ দেশের দুর্দশায় মোরা-
সবার অধিক পাইরে দুখ?
কোন্ দেশের গৌরবের কথায়-
বেড়ে উঠে মোদের বুক?

মোদের পিতৃ-পিতামহের-
চরণ ধূলি কোথা রে?
সে আমাদের বাংলাদেশ,
আমাদেরি বাংলা রে।

12/07/2025

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি
- শঙ্খ ঘোষ [১৯৩২-২০২১]

আমাদের ডান পাশে ধ্বস
আমাদের বাঁয়ে গিরিখাদ
আমাদের মাথায় বোমারু
পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ
আমাদের পথ নেই কোনো
আমাদের ঘর গেছে উড়ে
আমাদের শিশুদের শব
ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে।
আমরাও তবে এইভাবে
এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?
আমাদের পথ নেই আর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।

আমাদের ইতিহাস নেই
অথবা এমনই ইতিহাস
আমাদের চোখমুখ ঢাকা
আমরা ভিখারি বারোমাস
পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে
পৃথিবী হয়তো গেছে মরে
আমাদের কথা কে-বা জানে
আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।
কিছুই কোথাও যদি নেই
তবু তো কজন আছি বাকি
আয় আরো হাতে হাত রেখে
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।

12/07/2025

প্যাঁচা আর প্যাঁচানি
- সুকুমার রায়
[১৮৮৭-১৯২৩]

প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি,
খাসা তোর চ্যাঁচানি!
শুনে শুনে আন্‌মন
নাচে মোর প্রাণমন!
মাজা–গলা চাঁচা সুর
আহ্লাদে ভরপুর!
গলা–চেরা গমকে
গাছ পালা চমকে,
সুরে সুরে কত প্যাঁচ
গিট্‌কিরি ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্!
যত ভয় যত দুখ
দুরু দুরু ধুক্ ধুক্,
তোর গানে পেঁচি রে
সব ভুলে গেছি রে—
চাঁদামুখে মিঠে গান
শুনে ঝরে দু’নয়ান।

12/07/2025

সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
- জ্ঞানদাস

সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয় সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল ॥
সখি কি মোর করমে লেখি।
শীতল বলিয়া ও চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি ॥
নিচল ছাড়িয়া উচলে উঠিতে
পড়িনু অগাধ জলে।
লছমী চাহিতে দারিদ্র্য বেঢ়ল
মাণিক হারানু হেলে ॥
নগর বসালাম সাগর বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আসে।
সাগর শুকাল মাণিক লুকালো
অভাগীর করম দোষে ॥
পিয়াস লাগিয়া জলদ সেবিনু
বজর পড়িয়া গেল।
জ্ঞানদাস কহে কানুর পিরীতি
মরণঅধিক শেল ॥

You can change your life
16/03/2025

You can change your life

📌সক্রেটিস করেছিলেন দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি সুন্দরী ছিলেন বটে, কিন্তু মুখে ছিলো বিষ, আর চোখে আগুন। সক্রেটিসের ঘর...
30/12/2024

📌সক্রেটিস করেছিলেন দুই বিয়ে। প্রথম স্ত্রী জ্যানথিপি সুন্দরী ছিলেন বটে, কিন্তু মুখে ছিলো বিষ, আর চোখে আগুন। সক্রেটিসের ঘরে ঝগড়া লেগেই থাকতো।

সারাদিন জ্ঞান বিলোয় লোকটা। বিনিময়ে একটি কড়িও নেন না। কোনো আয় উপার্জন নেই।
ঘরে তিন সন্তান, এক স্ত্রী। এর উপর করেছেন দ্বিতীয় বিয়ে, মির্টো নামের এক মেয়েকে! বাপের কিছু সম্পদ আছে তার। একে বাড়াবে দূরে থাক, গরীবদের বিলিয়েই শেষ করে চলছেন।

কতো আর সহ্য করবেন জ্যানথিপি?
একরাতে ঘরে নেই খাবার, ছেলে-মেয়ে কেঁদেকেটে ঘুমিয়েছে। সক্রেটিস ঘরে বসে ধ্যান করছেন। জ্যানথিপির সহ্য হলো না। শুরু করলেন বকাঝকা।
যেই সেই বকা নয়, ভয়াবহ কিছু! সক্রেটিস নীরবে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। বাইরে এসে চাঁদের আলোয় শুরু করলেন বইপড়া!

জ্যানথিপি এটা দেখে তো আরো আগুন! করলেন কী? ঘরে সারা দিনের জমানো ময়লা জল ছিলো এক গামলায়। সেই গামলার জল ঢেলে দিলেন সক্রেটিসের উপর!

সক্রেটিস রাগ করলেন না। বরং হেসে বললেন- এতো গুরুগম্ভীর মেঘের গর্জনের পরে এক পশলা বৃষ্টি না হলে কি আর শোভা পায় ?!

গ্রীষ্ম হোক আর শীত হোক, সক্রেটিসের গায়ে থাকতো একটাই কোট। সব ঋতুতে এটাই পরতেন। অন্য কোনো জামা ছিলো না তার। পায়ে ছিলো না কোনো জুতা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সুখের সুযোগ ত্যাগ করে এতো কষ্টের জীবন কেন বেছে নিলেন?

সক্রেটিস বললেন, এটা বেছে নিলাম, যাতে লোভের কুকুরগুলো বুঝে- সত্য, জ্ঞান ও স্বাধীনতা এমন এমন এক সুখ, যাকে ক্রয় করতে হয় কষ্ট ও কৃচ্ছ্রতার বিনিময়ে!

সেখান থেকেই আমরা পাই তাঁর বিখ্যাত উক্তি -
"যদি তুমি ভালো বউ পাও, তাহলে তুমি সুখি হবে, আর না পেলে তুমি দার্শনিক হবে"
কৃতঋণ

স্মৃতির রেখা~~  যেদিন বিভূতিভূষণ ইহলোকের মায়া কাটিয়ে  চলে গেলেন পরলোকে ..."সূর্য পশ্চিমে ঢলছে, নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন বিভূত...
04/11/2024

স্মৃতির রেখা~~

যেদিন বিভূতিভূষণ ইহলোকের মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন পরলোকে ...

"সূর্য পশ্চিমে ঢলছে, নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন বিভূতিভূষণ। দাদাকে ফেরাতে ওষুধ-ইনজেকশানে গলদঘর্ম নুটু চেষ্টা করছেন আর হতাশ হচ্ছেন যেন। সন্ধ্যার সঙ্গে

সঙ্গে একটা আশঙ্কার ছায়া দুলতে থাকল গৌরীকুঞ্জের 'পরে। আচ্ছন্নের মতো পড়ে আছেন বিভূতিভূষণ। নুটু এক দাগ ওষুধ এনে দাঁড়ালো,

দাদা! ধীরে ধীরে চোখ মেললেন তিনি। ছোট ভাইয়ের দিকে চেয়ে বললেন, কী ওটা? ওষুধ, খেয়ে নাও দাদা।

ওষুধ! থাক নুটু। ক্ষীণকণ্ঠ। টেনে টেনে বললেন, তুই বরং আমার কাছে বোস।

নুটু অবশ্য দু' পা দূরেও যাচ্ছেন না। কল্যাণী তো আছেনই। কী একটা ওষুধ মালিশ করছেন পেটে। যমুনা এটা-ওটা এগিয়ে দিচ্ছেন। আর তার ফাঁকে বাবলুকে সামলাচ্ছেন ও-ঘরে।

নুটু বসে আছেন বিছানার পাশে। তাঁর দিকে তাকিয়ে বিভূতিভূষণ বললেন, আমরা কত ভাইবোন ছিলেম-না রে। আজ কেবল তুই আর আমি। এর পর তুই একলা। চোখের পাশ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল বিভূতিভূষণের।

দাদা। ধমক দিতে গিয়ে নুটুও কেঁদে ফেলেন। নিজেকে সামলে নিতে পারছেন না তিনি। তবু তিনি ডাক্তার। বুক বাঁধতে চেষ্টা করেন। -আমার কথা রাখবে না দাদা?

নুটুর হাতখানা বুকের পরে টেনে নিলেন বিভূতিভূষণ। ছোট ভাইয়ের হাত!

তবে ওষুধটা খাও।

দে। হাঁ করে ওষুধটা খেলেন। তার পরে করুণভাবে মিনতি, আর আমাকে ওষুধ খেতে বলিসনে ভাই। তুই বরং এক কাজ কর। ঘরে গীতা আছে, তুই পড়, আমি শুনি।

গীতা হাতে নিয়ে নুটু জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ অধ্যায় পড়ব দাদা?

বিশ্বরূপ দর্শন-একাদশ অধ্যায়। -চোখ বুজে আবার যেন ধ্যানমগ্ন হলেন তিনি। নুটু পড়ে চললেন। একে একে ষোড়শ শ্লোক পর্যন্ত পড়ে তাঁর মনে হল, ব্যাখ্যাটাও পড়ে যাই। সপ্তদশ শ্লোক শুরু করলেন-

কিরীটিনং গদিনং চক্রিণঞ্চ, তেজোরাশিং সর্বতো দীপ্তিমন্তম্।
পশ্যামি ত্বাং দুর্নিরীক্ষ্যং সমস্তাদ, দীপ্তানলার্কদ্যুতিমপ্রমেয়ম্ ॥
ত্বমক্ষরং পরমং বেদিতব্যং, ত্বমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্।
ত্বমব্যয়ঃ শাশ্বতধর্মগোপ্তা, সনাতনস্থং পুরুষো মতো মে ॥

কিরীটিধারী, গদাচক্রহস্ত, সর্বত্র তেজঃপুঞ্জস্বরূপ দুর্নিরীক্ষ্য, প্রদীপ্ত অগ্নি ও সূর্যের ন্যায় প্রভাময় এক অপ্রমেয় পুরুষকে সর্বদিকে অবলোকন করছি।

নুটু বাঙলা বলে যেতেই বিভূতিভূষণ আবার চোখ খুললেন। বললেন, ব্যাখ্যার দরকার নেই। ওতে সময় বেশি যাচ্ছে। তুই শুধু পড়ে যা। নুটু

আবার পড়তে থাকলেন- অনাদিমধ্যান্তমনস্তবীর্যমনস্তবাহুং শশিসূর্যনেত্রম্।
পশ্যামি ত্বাং দীপ্তহুতাশবকত্রং, স্বতেজসা বিশ্বমিদং তপস্তম্ ॥

মর্ত্য থেকে অমর্ত্যলোক বিস্তারী এক জ্যোতির্বলয় যেন রচিত হল সে মন্ত্রে। যেন পরম পথিকের মহাযাত্রার আয়োজন শুরু হয়েছে গৌরীকুঞ্জে। এমন সময় স্বামী প্রজ্ঞানন্দ এলেন। নিমীলিতনেত্র হলেও যেন বুঝতে পারলেন বিভূতিভূষণ। অস্ফুট কণ্ঠে আহ্বান জানালেন স্বামীজিকে। সৌম্যমূর্তি স্বামী প্রজ্ঞানন্দও যেন কিঞ্চিৎ ব্যথাতুর। ওঁর শিয়রে বসে মুখ, ললাট-সমগ্র অবয়ব অবলোকন করলেন।

কী দেখছেন স্বামীজি? কল্যাণী যেন কোন দৈববাণী শুনতে চাইছেন। সে কথার উত্তর দিলেন না স্বামীজি। বোধহয় উত্তর নেই। শুধু বিভূতিভূষণের কানের কাছে মুখ নিলেন, নামগান করি?

গীতার একাদশ অধ্যায় পাঠ শেষ হয়েছে। ওঁর মুখে যেন এক প্রশান্তির ছায়া। মাথা কাত করে সম্মতি জানালেন নামগানে। স্বামীজি শুরু করেন, 'গুরুব্রহ্মাঃ গুরুবিষ্ণুঃ, গুরুরেব মহেশ্বরঃ।' গাইলেন রামকৃষ্ণ নামমালা। কীর্তন করে চললেন,

বিভূতিভূষণের প্রিয় ওই জাতীয় সঙ্গীত- 'প্রলয়পয়োধিজলে ধৃতবানসি বেদম্'। জপ করলেন রামনাম 'রামায় রামচন্দ্রায় রামভদ্রায় বেধসে। রঘুনাথায় নাথায় সীতায়াঃ পতয়ে নমঃ।' তারপর নির্বাণ স্তোত্র- 'চিদানন্দরূপঃ শিবোহহং শিবোহহম্' আবৃত্তি। শোনাচ্ছেন কাকে? চৈতন্য লুপ্ত হল কি? নামগান থামিয়ে ওঁর মুখের কাছে ঝুঁকে পড়লেন স্বামীজি। কিন্তু না, এক চৈতন্যলোক থেকে নিত্যচৈতন্যলোকে বিলীন হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বিভূতিভূষণ সজ্ঞান। তবে যাত্রা বোধহয় শুরু হয়েছে। কথা বললেন, যেন কোন দূরলোক থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর। বললেন, থামলেন কেন স্বামীজি, বলুন, পুণ্যনাম শুনি। এখনও বাকি কত নাম, বুদ্ধ, চৈতন্য, রামপ্রসাদ-কত পুণ্যনাম।

স্বামীজি আবার শুরু করলেন, ও বুদ্ধায় দিবাকরায়, গোতম চন্দিমায়। নুটুর আর সাধ্য নেই কিছু করবার। কল্যাণী যেন পাথর হয়ে যাচ্ছেন।

ঘাটশিলার আকাশে ধীরে ধীরে রাত নেমে এলো। তার আড়ালে এক মহাসর্বনাশ প্রতীক্ষারত গৌরীকুঞ্জের দুয়ারে। সময় বুঝি হয়ে এলো। মুরাতিপুরের আকাশে কান্না ছড়িয়ে যে শিশু যাত্রা শুরু করেছিল একদিন, কত কাল পরে, কত পথ হেঁটে, কত থেমে, কত চলে আজ বুঝি তাঁর বিদায়লগ্ন আসন্ন।

ও কার কান্না এ মুহূর্তে?-তখনও সজ্ঞান তিনি। বললেন বাবলু। বাবলু কাঁদছেকল্যাণী, ওর কাছে যাও।

না। বাবলুকে পরেও পাবেন কল্যাণী। কিন্তু যে পরমনির্ভর চলে যাচ্ছেন, তাঁকে কি আর পাবেন পরে? কাঁদুক বাবলু। কল্যাণী উঠবেন না। সেই শেষ বেলায় কী ভেবে হঠাৎ স্নান করে নিলেন, তারপর একখানা রঙিন লালপেড়ে শাড়ি পরে কপালে বড় করে একটা টিপ দিয়ে, সেই যে কল্যাণী স্বামীর পাশে বসলেন, আর ওঠেননি, উঠবেন না। দুটি চোখে জ্বালিয়ে রাখা অকম্প দীপশিখা। বুঝি শেষ আরতি করছেন আরাধ্যতমের। বাবলুর জন্য উনি নিজ আয়ু দান করেছিলেন, কল্যাণী কি পারেন নিজ আয়ু সমর্পণ করে ওঁকে বাঁচাতে?-আমি সব আমার তুলে দিচ্ছি ঠাকুর। তুমি ওঁকে বাঁচাও। শিয়রে কল্যাণী-মূর্তিমতী প্রার্থনা। তবু সংশয়, তবু কেঁপে ওঠা শঙ্কায়। চোখের জলেই বুঝি নিবে যায় চোখের আলোর প্রজ্বলিত দীপশিখা। তবু যদি দেবতা মুখ তুলে না তাকান, জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকে, সবচেয়ে বড় সর্বনাশকে কি আজ চোখের সামনেই ঘটতে দেখতে হবে? হোক, সে আঘাত তিনি বুক পেতে নেবেন। বুক ভেঙে তাঁর চুরমার করে দিক নির্দয় নিষ্ঠুর সে ভয়ঙ্কর বজ্রবাণ। কাঁদুক বাবলু। ওর সারাজীবনের কান্নাকে কী দিয়ে তিনি ভোলাবেন? কল্যাণী উঠলেন না।

নুটু নিয়ে এলেন বাবলুকে। ঘর ভর্তি তখন লোক। সবাইকে বাবলু চেনে না। অবাক সে। বাবাই কেন চোখ বুজে শুয়ে আছে! মা-কল্যাণী কেন কোলে নিচ্ছে না তাকে। মার চোখে কি জল? কাঁদছে? বললে, কাকিমা, মা-কল্যাণী কাঁদছে, সাট করে দাও। এ কী কাকিমাও কাঁদছে? কী হয়েছে, দাও মুছে দিই।

নুটু বললেন, দাদা, এই যে বাবলু।

বেশ কিছুক্ষণ বাদে অতি কষ্টে চোখ মেললেন বিভূতিভূষণ। আবার চোখ বুজলেন। ক্ষণিকের অমর্ত্য-আলোকেই হয়তো দেখে নিলেন নিজ জীবনের সমস্ত অধ্যায়কে। ঠোঁটে একটা আশ্চর্য হাসির প্রতিভাস। আস্তে আস্তে চোখের আলো নিবে গেল। জীবনদীপও বুঝি নির্বাপিত।

এ কী হল ঠাকুরপো। হাহাকার করে কেঁদে উঠলেন কল্যাণী। নুটু দাদার হাতখানা তুলে ধরলেন। আন্দাজ করতে চাইলেন ক্ষীণ জীবনস্রোত তখনও বইছে কিনা। সহসা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল রোগশয্যা। আবার,... আবার.... কী এক অলৌকিক কম্পন সমগ্র রোগীদেহে। মনে হচ্ছে, কোন অদৃশ্য হস্ত কাঁপিয়ে দিচ্ছে খাটখানাকে। কয়েক মুহূর্ত মাত্র। তারপর স্তব্ধ সব। সব শেষ। আর্তনাদ করে স্বামীর বুকে আছড়ে পড়লেন কল্যাণী।

পায়ের পরে মুখ থুবড়ে পড়লেন যমুনা কাঁদতে কাঁদতে। জানালার গরাদে মাথা দিয়ে হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন ছোট ভাই। হায়। বিভূতিভূষণ তখন সকল কান্নার ওপারে।"

ঋণ - "পথের কবি" - কিশলয় ঠাকুর , আনন্দ পাবলিশার্স

বিদ্যালয় পরিদর্শন🚸গ্রামের স্কুল পরিদর্শন করতে গেছেন এক পরিদর্শক। তিনি প্রথমেই ঢুকলেন ক্লাস এইটের রুমে। স্কুলের পড়াশোনার...
29/10/2024

বিদ্যালয় পরিদর্শন🚸

গ্রামের স্কুল পরিদর্শন করতে গেছেন
এক পরিদর্শক। তিনি প্রথমেই
ঢুকলেন ক্লাস এইটের রুমে।
স্কুলের পড়াশোনার মান কেমন তা যাচাই করার জন্য সামনের বেঞ্চের এক ছাত্রীকে কিছু প্রশ্ন করলেন।

পরিদর্শক: পশ্চিম বঙ্গের রাজধানীর নাম কি?

ছাত্রী: মেদিনীপুর।

পরিদর্শক: রাজধানীর নাম জানো না, তুমি ক্লাস এইটে উঠেছ কীভাবে? আমি তোমার নাম কেটে দেব।

ছাত্রী: আমার তো স্কুলের খাতায় নামই নাই, আপনে কাটবেন কেমনে?

পরিদর্শক: নাম নেই মানে?

ছাত্রী: আমি স্কুলের মাঠে গরু নিয়া আইছিলাম, স্যারে কইলো তোরে দশ টাকা দিমু, তুই ক্লাসে আইসা বইসা থাক।

পরিদর্শক: ছি! মাস্টার সাহেব, আপনার লজ্জা করে না, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা করছেন? আমি আপনাকে বরখাস্ত করব।

ক্লাস শিক্ষক: (তাচ্ছিল্যের সুরে) আপনে আমারে বরখাস্ত করতে পারবেন না, আমি মাস্টার না। সামনে যে মুদি দোকানটা দেখতাছেন ওইটা আমার। মাস্টার সাবে আমারে কইলো, শহর থেইকা এক বেটা আইবো, আমি হাটে গেলাম, তুই ক্লাস ঘরে যাইয়া বইসা থাকবি।

পরিদর্শক: (রেগেমেগে হেডমাস্টারের রুমে গিয়ে) আপনি হেডমাস্টার?

হেডমাস্টার: হ্যাঁ, কোনো সমস্যা ?

পরিদর্শক: কী করছেন আপনারা, এইসব নকল ছাত্র-শিক্ষক দিয়ে স্কুল চালান?

হেডমাস্টার: আমি না, আমার মামা এই স্কুলের হেড স্যার। উনি জমি কেনা-বেচার দালালি করেন। আইজ কাস্টমার নিয়া অন্য গ্রামে গেছেন। আমারে কইছেন, পরিদর্শক আইলে দশ হাজার টাকার এই বান্ডিলটা দিয়া দিছ।

পরিদর্শক: এই যাত্রায় আপনারা বেঁচে গেলেন। আসলে আমিও পরিদর্শক না, আমার চাচা পরিদর্শক। উনি ঠিকাদারির কাজও করেন। তাই টেন্ডার জমা দিতে পৌরসভায় গেছেন। আমাকে বললেন, তুই আমার হয়ে স্কুলটা পরিদর্শন করে আয়!

সীমানা জুড়ে পাঁচিল তুলেছো উঠোন করেছো আঁটো । বাইরে রেখেছো ইয়া বড়ো গেট মনের দরজা খাটো । যতদিন ছিলো হাঁড়িগুলো বড়ো পিসি কাকা...
06/09/2024

সীমানা জুড়ে পাঁচিল তুলেছো
উঠোন করেছো আঁটো ।
বাইরে রেখেছো ইয়া বড়ো গেট
মনের দরজা খাটো ।

যতদিন ছিলো হাঁড়িগুলো বড়ো
পিসি কাকা কাকিমাতে ,
হাসিতে গল্পে দিন কেটে যেতো
ঝোলে ঝালে আলু ভাতে ।

পাশাপাশি বাড়ি বোঝাই যেতো না
কার সীমা কত দূর ।
এ বাড়ির গান উঠোন পেরিয়ে
ও বাড়ি তুলতো সুর ।

এ বাড়ির গাছে ফুল ফল হলে
ও বাড়িতে যেতো আধা ।
হেঁসেলের ঘরে চিনি কম হলে
চেয়ে আনা ছিলো বাঁধা ।

এ বাড়ির খুড়ো ও-বাড়ি চা খেতো
ও বাড়ির খুড়ো ভাত ।
এ বাড়িতে কোনো ঝামেলা মেটাতে
ও বাড়ি বাড়াতো হাত ।

আজকে সবার বড়ো বড়ো বাড়ি
পাঁচিলে লাগানো কাঁচ ।
এ বাড়ির কারো হৃদয় ভাঙলে
ও বাড়ি পায়না আঁচ ।

বড়ো বাড়ি আর ছোটো পরিবার
চেয়েছিলো বুঝি তারা ।
এ বাড়িতে কেউ মারা গেলে তাই
ও বাড়ি দেয়না সাড়া ।

-ইচ্ছে কথা
রমা চক্রবর্তী দেবনাথ।

Happy Janmastami🙏
26/08/2024

Happy Janmastami🙏

Address

Kamarpukur
Arambagh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The hashtag posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share