15/12/2025
আজকাল এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছে আমাদের সংসারগুলোতে। ঘরে আলো জ্বলে, টিভি চলে, কিন্তু মনখারাপের একটা পর্দা যেন সর্বদা টাঙানো থাকে। কারণটা ছোট—একটা স্মার্টফোন। কিন্তু তার প্রভাব ভয়ংকর।
একসময় সন্ধে নামলেই স্ত্রী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত—দেখবে, কবে তার স্বামী ফিরবে। চায়ের কাপে প্রথম চুমুকটা ভাগ করে নিত দু’জনে। এখন সেই অপেক্ষা মিলিয়ে গেছে ফোনের আলোয়। কারও আঙুল ব্যস্ত স্ক্রিনে, কারও চোখ ঘুরে বেড়ায় ভার্চুয়াল জগতে।
স্বামী অফিস থেকে ফিরেও ফোনের মধ্যে ডুবে থাকে। ছোট্ট ছেলেটা পাশেই বসে বই খুলে, কিন্তু বাবা তাকায় না। মেয়েটা নতুন গল্প বলতে চায়, কিন্তু উত্তর আসে না—কারণ বাবার মন তখন রিল বা গ্রুপচ্যাটে। অন্যদিকে স্ত্রীরাও এখন ব্যস্ত—কখনও অনলাইন শপিংয়ে, কখনও বন্ধুর ইনবক্সে, কখনও অচেনা কারও সঙ্গে আলাপে।
এইভাবেই দূরত্ব তৈরি হয়—চুপিচুপি, অদৃশ্যভাবে। একসময় যাদের কথা ফুরোতো না, এখন তাদের মধ্যে কথা খুঁজে পেতেও কষ্ট হয়। একে অপরের চোখে তাকিয়ে যে স্নেহ, যে মমতা একসময় জেগে থাকত, সেটাই যেন হারিয়ে যাচ্ছে এই মোবাইলের নীল আলোয়।
অনেক সংসার ভেঙে যাচ্ছে, শুধু এজন্য যে মানুষ বাস্তব ভালোবাসার বদলে ভার্চুয়াল মনোযোগ খুঁজে নিচ্ছে। কেউ কারও সময় দিচ্ছে না, যত্ন দিচ্ছে না। সন্তানরাও তা দেখছে—তারা শিখছে, ভালোবাসার মানে আর একসঙ্গে থাকা নয়, বরং কে কতটা ব্যস্ত নিজের স্ক্রিনে।
আমরা হয়তো বুঝতে পারি না, কিন্তু প্রতিদিন একটু একটু করে হারাচ্ছি আমাদের সম্পর্কের উষ্ণতা। ফোনে যত স্মার্ট হচ্ছি, হৃদয়ে ততই ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছি।
সময় এসেছে একটু থামার। একসঙ্গে বসে গল্প বলার, সন্তানকে জড়িয়ে ধরার, এক কাপ চা ভাগ করে নেওয়ার। কারণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে প্রযুক্তি নয়—টিকিয়ে রাখে মন, যত্ন আর উপস্থিতি।