24/09/2026
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যুবসমাজের এক বড় অংশ নানা মানসিক চাপ, হতাশা কিংবা সামাজিক বিভ্রান্তির শিকার হয়ে বিভিন্ন ক্ষতিকর নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ, জীবনের সুন্দর স্বপ্ন এবং মা-বাবার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে তিলে তিলে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে আজকের তরুণ প্রজন্ম। যুবসমাজকে এই সর্বনাশা অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং সঠিক সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ন্যাশনাল মেডিকাস অর্গানাইজেশন (NMO) বিএমসিএইচ (BMCH) ইউনিটের উদ্যোগে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সম্প্রতি আয়োজিত হলো ‘নেশামুক্ত যুব ফর বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান’। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য ও শুভ সূচনা করা হয়। নেশামুক্ত ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার এই উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন একাধিক পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলুড় মঠের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পূজনীয় স্বামী দিব্যানন্দজী মহারাজ, আঁটপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী দেবপ্রিয়ানন্দজী, বাজে প্রতাপপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী অজ্ঞানন্দজী এবং শ্যামসায়র রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী বিদিতানন্দজী মহারাজ। তরুণ প্রজন্মকে মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিতে উপস্থিত ছিলেন এভারেস্টজয়ী অভিযাত্রী সৌমেন সরকার। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. সব্যসাচী দাস, যুগ্ম অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার অর্ঘ্য দাস ও মিষ্টি নন্দী, ড. প্রমিত গোস্বামী, ড. প্রভাত কুমার সিং এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রফেশনাল, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী পূর্ণেন্দুশেখর দাসসহ অন্যান্য বিশিষ্ট আধিকারিক ও মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা একসুরে বলেন, তরুণ প্রজন্মই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। সেই যুবশক্তি যদি নেশার গ্রাসে পড়ে দিশাহারা হয়ে যায়, তবে দেশের অগ্রগতি থমকে যাবে। তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে একটি সুস্থ ‘বিকশিত ভারত’ গঠন করতে হলে আগে আমাদের যুবসমাজকে সম্পূর্ণ নেশামুক্ত করতে হবে। রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের আধ্যাত্মিক ও নীতিশিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করে। একটি সুন্দর, সুশিক্ষিত ও নেশামুক্ত সমাজ গঠনে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।