Golpo Kutir

Golpo Kutir Golpo Kutir is a content publisher & online bookseller based in Kolkata, India.
(1781)

Golpo Kutir is Bengal’s first ever online fictional content publisher with 7 million readers per month and focuses mainly on Bengali tales. We are one of the ultimate destinations for all the happenings in the Bengali cultural world.

লোকটাকে দেখে ঠিক ভূত দেখার মতোই চমকে উঠলেন অনিমেষবাবু। এই মুহূর্তে তিনি শুয়ে আছেন দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের...
09/06/2026

লোকটাকে দেখে ঠিক ভূত দেখার মতোই চমকে উঠলেন অনিমেষবাবু। এই মুহূর্তে তিনি শুয়ে আছেন দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে— মাথায় হনুমান-টুপির মতো করে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ডাক্তারবাবু আগেভাগেই বলে দিয়েছিলেন যে এই সার্জারি সফল হওয়ার সম্ভাবনা ন্যূনতম। কিন্তু তা সত্ত্বেও এযাত্রায় প্রাণটা বেঁচে গেছে বুঝতে পেরে তিনি এখন যত না আনন্দিত, তার চেয়েও বেশি অবাক হয়েছেন এমন একটা জায়গায় ডাক্তার, নার্স, নিজের স্ত্রী-কন্যা আর শ্যালকের পাশে, মুখে পাগলাটে হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই লোকটাকে দেখে। এমনিতে বছর পাঁচেক আগে রাস্তায় দেখা কোনো পাগলকে কারোর মনে থাকার কথা নয়, কিন্তু এই লোকটাকে অবিনাশবাবুর মনে আছে একটা বিশেষ কারণে— লোকটার গায়ের রং কুচকুচে কালো। এমন কালো মানুষ তিনি আর কখনও দেখেননি। সেইবার অফিস যাওয়ার পথে তাঁর শীততাপনিয়ন্ত্রিত ক্যাবটা যখন চিংড়িঘাটার সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল, তখন কোথা থেকে যেন উদয় হয়ে জানালার কাঁচে টোকা দিয়েছিল এই লোকটা। অসম্ভব কালো গায়ের রং, জটপাকানো চুল-দাড়ি, পরনে শুধু একটা ময়লা ছেঁড়া লুঙ্গি। প্রথমটায় ভেবেছিলেন বুঝি ভিখারি, তাই চালককে কাঁচ নামানোর নির্দেশ দিয়ে মানিব্যাগের দিকে হাত বাড়িয়েছিলেন। তবে কাঁচ নেমে যেতেই সে হঠাৎ করে বলে উঠেছিল, "আরে সাব! আপকে সাথ তো মেরা খুন কা রিশতা হ্যায়!"
একথা শুনে অনিমেষবাবুকে ভড়কে যেতে দেখে চালক হেসে বলেছিল, "এলাকায় নতুন আমদানি হয়েছে স্যার, গত তিন-চারদিন ধরেই দেখছি এখানে।" এরপর সিগন্যাল সবুজ হয়ে যেতেই তিরবেগে গাড়ি ছুটিয়ে দিয়েছিল সে।
ডাক্তাবাবুর কথায় তিনি আবার বর্তমানে ফিরে এলেন, "মিট হিম মিঃ সান্যাল, ইউ হ্যাভ হ্যাড আ ম্যাসিভ ব্লাড লস ডিউরিং দ্য সার্জারি। আর আপনি তো জানেনই, আপনার ব্লাড গ্রুপ কতটা রেয়ার। ওই গ্রুপের তিন ইউনিট ব্লাড জোগাড় করা খুবই আর্জেন্ট হয়ে পড়েছিল। আপনার ফ্যামিলি বা আমরা, কারোর পক্ষ থেকেই সেটা জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই ভদ্রলোক যদি স্বেচ্ছায় ব্লাড ডোনেট করতে রাজি না হতেন, তাহলে হয়তো আপনাকে বাঁচানো সম্ভব হতো না।"
অবিনাশবাবুর মাথা কাজ করছিল না; তিনি শুধু শুনলেন লোকটা তার সেই পাগলাটে হাসিটা ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখেই বলছে, "আপকো বোলা থা না সাব, আপকে সাথ মেরা খুন কা রিশতা হ্যায়!"

রাসবিহারীর মোড়ের গাছের দোকানটার নিয়মিত খদ্দের পৃথা। আজ কোনো একটা ইন্ডোর প্ল্যান্ট কেনার ইচ্ছে আছে।"পৃথা..." আবার সেই ডাক...
09/06/2026

রাসবিহারীর মোড়ের গাছের দোকানটার নিয়মিত খদ্দের পৃথা। আজ কোনো একটা ইন্ডোর প্ল্যান্ট কেনার ইচ্ছে আছে।
"পৃথা..." আবার সেই ডাক! নিজেকে সংযত করে নেয় ও। ভদ্রতার হাসি মুখে এঁকে নিয়ে জিগ্যেস করে, "আরে দেবাঞ্জনবাবু, আপনি এখানে? গাছ?"
"না আপনি, আপনাকে দেখেই দাঁড়িয়ে পড়লাম।"
পৃথাকে দেখেও কেউ দাঁড়ায় তাহলে, মধ্য চল্লিশেও এই কথাটা শিহরণ ধরায় শরীরের মধ্যে।
"পৃথা চা খাবেন? এই সামনেই যে দোকানটা আছে..."
হলুদ গোলা বলটাকে গুরুদোয়ারার ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে, পৃথার অবশ্য সময় বা ইচ্ছে কোনোটাই হয় না হলুদ গোলা বলটাকে দেখার। তবু আজ বুঝি ব্যতিক্রম। আরো একটা দিন শেষ হল, পৃথার একা জীবন থেকে আরো একটা পাতা নিঃশব্দে খসে পড়ল। আজ একটা লোভ হচ্ছে, একা জীবনে যদি কোনো বন্ধু আসে। আচ্ছা অবিবাহিত দেবাঞ্জনবাবু যদি খারাপ হন? আবার সেই দোলাচল, পথ আটকে ধরে পৃথার।
"পৃথা চা খাবেন?" না! পৃথা এতকিছু ভাবতে পারছে না, ভালো লাগছে ওঁর দেবাঞ্জনবাবুকে। চা খাবে ও। জড়তা সরিয়ে হেসে বলেন পৃথা, "চলুন চা খাওয়া যাক..."

দুপুর থেকেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বিনি। ওর মা বেড়ার ঘর থেকে সেই কান্না শুনছে আর ভাত নাড়ছে। সেই ভাতের গন্ধে খিদে বেড...
09/06/2026

দুপুর থেকেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে বিনি। ওর মা বেড়ার ঘর থেকে সেই কান্না শুনছে আর ভাত নাড়ছে। সেই ভাতের গন্ধে খিদে বেড়ে যায়।
একটু আগেই ঘর থেকে বিদায় নিয়েছে নিতাই। একরত্তি মেয়েটাকে মন পুষিয়ে মেরেছে। মদ গিলে মাথার ঠিক নেই, তার ওপর পাশের পাড়ার মোহন সাহার কাছে একগাদা ধার। সন্ধ্যা এবার ভাত নামিয়ে ঘরে ঢুকল। মেয়েটাকে টেনে কোলে শোয়ালো। পেট একেবারে গর্তে ঢুকে গেছে। সে বলল, "তুই জানিস তো মা, বাপ কেমন চিন্তায় থাকে। কী করে এই বাজারে সে মাছ আনবে?" একটু চুপ থেকে সে দরজার বাইরে তাকিয়ে কী যেন ভাবল! ভাবলো মোহন সাহার কথা! সবাই তাকে মানুষ বলে বটে! কিন্তু সন্ধ্যা জানে আদপে মোহন সাহা একটা জানোয়ার! ধার না মেটাতে পারলে সন্ধ্যাকে ভোগ করবে সে এমনটাই জানিয়েছে নিতাইকে। আর তার স্বামী আস্ত মেয়েমানুষ! সে কথাই সায় দিয়ে এসেছে! সেদিন তো বিনির সামনেই বলল তাকে, "মোহন সাহা তোকে চায়। এক রাতের ব্যাপার চলে যাবি।" মার খেয়ে মরার মত পড়ে শুনছিল সন্ধ্যা আর দেখছিল বিনি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে দুয়ারে।
"ওঠ মা। চল তোকে আলতা পরিয়ে দিই!" এই কথা শুনেই বিনি উঠে পড়ে জড়িয়ে ধরল সন্ধ্যাকে। মা মেয়েতে আলতা পরল আগে, তারপর পেট ভরে ভাত খেল।
রাতে গলা টিপে ধরল নিতাই— "যাবি না মানে? কাল সকালেই মোহন সাহার বাড়ি দিয়ে আসব তোকে। বেশি কথা বাড়াবি না!" বলে সন্ধ্যাকে খুবলোতে শুরু করল নিতাই।
সকালে লোক ভেঙে পড়ল নিতাইয়ের বাড়ি। নিতাই মরেছে। ডাক্তার ডাকা হয়েছে। সকলে বলেছে ঘুমের মধ্যেই চলে গেছে! শুধু অবাক হয়ে সবাই তাকিয়ে আছে নিতাইয়ের বুকের দিকে। সেখানে মাঝ বরাবর একটা ছোট আলতা পরা পায়ের ছাপ!

মা।লিখেছেন অঙ্কুশ অধিকারী।
09/06/2026

মা।
লিখেছেন অঙ্কুশ অধিকারী।

শতবর্ষ পূর্ণ উপলক্ষ্যে আমাদের কলেজ পুর্নমিলন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই উপলক্ষে কলেজের সমস্ত প্রাক্তন ছাত্র-ছ...
09/06/2026

শতবর্ষ পূর্ণ উপলক্ষ্যে আমাদের কলেজ পুর্নমিলন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই উপলক্ষে কলেজের সমস্ত প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত হয়েছে। পুরনো বন্ধুদের পেয়ে আড্ডাও বেশ জমে উঠেছে আমার। ঠিক সেই সময় একটি গাড়ি এসে দাঁড়াল আমাদের সামনে, গাড়ি থেকে যে নামল তাকে দেখে আমার বুকটা ধুকপুক করে উঠল! মনে পড়ে গেল সেই পুরনো দিনের কথা— সালটা তখন ২০০৩, কলেজের প্রথম দিনই সায়নিকে দেখে আমার সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে ফেলি তাকে। রিজেক্ট হওয়ার ভয় আমার চিরদিনই, তাই কখনো তা মুখ ফুটে বলতে পারিনি। তা সত্ত্বেও কলেজের শেষ দিন বুকে সাহস জমিয়ে গিয়েছিলাম আমার মনের কথা বলতে, কিন্তু গিয়ে দেখি সে নিজের হাতে একটি ছেলেকে কেক খাওয়াচ্ছে। তা দেখে আমার সমস্ত স্বপ্ন নিমেষেই চুরমার হয়ে যায়। পরে অবশ্য জানতে পারি ওটা ওর দাদা।
তেইশ বছর পর আজ সেই সায়নিই গাড়ি থেকে নামছে। আজও তার সঙ্গে কথা বলার সাহস নেই আমার। হ্যাঁ, অনেকবার দৃষ্টি বিনিময় হল ঠিকই কিন্তু কথা হল না। অনুষ্ঠানের শেষে এবার বিদায় নেওয়ার পালা, হঠাৎ সায়নি আমার হাতটা ধরে বলে উঠল, "আমি তোর অঙ্কের সলিউশন হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুই একবারও ঐ অঙ্কটার দিকে তাকিয়েও দেখলি না..." এই বলে সে গাড়িতে উঠে ধুলো উড়িয়ে চলে গেল। আমি বোকার মতো চেয়ে থাকলাম সেই ধুলো মাখা শূন্য পথের দিকে।

রাত সাড়ে দশটার ট্রেন থেকে দমদম স্টেশনে নামতেই রুপার বুকের ভিতরটা কেমন হু হু করে উঠল। প্রতিদিনের চেনা স্টেশনটাকে আজ যেন চ...
08/06/2026

রাত সাড়ে দশটার ট্রেন থেকে দমদম স্টেশনে নামতেই রুপার বুকের ভিতরটা কেমন হু হু করে উঠল। প্রতিদিনের চেনা স্টেশনটাকে আজ যেন চিনতেই পারছিল না সে! যে স্টেশনটা রাত পর্যন্ত দোকানের আলো, চায়ের কাপে ধোঁয়া আর মানুষের কোলাহলে মুখর থাকতো আজ সেখানে নেমে এসেছে কিছু মানুষের আশা, ভরসা আর জীবনের সমাধিক্ষেত্র।
সারাদিন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় সকালে ঘটে যাওয়া হকার উচ্ছেদের ঘটনা জানা ছিল না তার। স্টেশনের সব হকারদের অস্থায়ী দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরো স্টেশন অন্ধকার আর জনশূন্যে জর্জরিত। রুপার দাদা সেদিন তখনও তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে পৌঁছায়নি। একা অপেক্ষা করতে করতে সে লক্ষ্য করল স্টেশনটায় দোকানগুলো আজ না থাকার দরুণ যেন মাতালের আনাগোনা আর মদের আসর বার বাড়ন্ত লাগছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর দিকে অস্বস্তিকর দৃষ্টিতেও তাকাচ্ছে। ভয়ে আর একাকিত্ব থেকে বাঁচতে সে কোনো খোলা দোকানের আশ্রয় খুঁজছিল, কিন্তু আজ একটা দোকানেও আর লাইট জ্বলেনি। মিনিটগুলো যেন ঘন্টার মতো দীর্ঘ হতে লাগল। অবশেষে দাদার দেখা পেয়ে রূপা অনেকটা স্বস্তি পেল। বাড়ি ফেরার পথে দাদার কাছেই শুনল হকার উচ্ছেদের ঘটনা।
শহরের দিকে তাকিয়ে রুপা ভাবল— যাদের আমরা শুধু 'হকার' বলে চিনতাম , তারা কি সত্যিই শুধু 'হকার' ছিল? হয়তো না। তাদের উপস্থিতি, সারাক্ষণের আনাগোনা অজান্তেই অসময়ে বহু নারীর নিরাপত্তার বর্ম ছিল। আসলে, কিছু মানুষ জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের নীরব রক্ষক হিসেবেও বেঁচে থাকেন।

সহযাত্রী। লিখেছেন অরুণাভ চক্রবর্তী।
07/06/2026

সহযাত্রী।
লিখেছেন অরুণাভ চক্রবর্তী।

প্রেমে পড়া বারণ।লিখেছেন অয়নিকা।
07/06/2026

প্রেমে পড়া বারণ।
লিখেছেন অয়নিকা।

অন্য আলো।লিখেছেন পূবালী ভট্টাচার্য্য।
07/06/2026

অন্য আলো।
লিখেছেন পূবালী ভট্টাচার্য্য।

উৎসবের দিন।লিখেছেন অনিন্দিতা দাশ।
06/06/2026

উৎসবের দিন।
লিখেছেন অনিন্দিতা দাশ।

Address

054 Kalipada Mukherjee Road P S Behala Kolkata
Behala
700008

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Golpo Kutir posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Golpo Kutir:

Share