08/06/2026
২০ জন নয়! স্পিকারের চিঠিতে সই নিয়ে ধোঁয়াশা, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়ির বৈঠকে আসল অঙ্ক কী ছিল?
নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদদের নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, বৈঠকে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সংখ্যাটা এতটা নয় বলেই সূত্রের দাবি।
তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মুখ। অনুপস্থিতদের তালিকায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাজদা আহমেদ, সায়নী ঘোষ, কীর্তি আজাদ, শত্রুঘ্ন সিনহা, মালা রায়, প্রতিমা মণ্ডল, মিতালি বাগ, আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। এছাড়াও ইউসুফ পাঠান এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগে থাকলেও ওইদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮। অনুপস্থিত ১৪ জনকে বাদ দিলে বাকি থাকেন ১৪ জন সাংসদ। সূত্রের দাবি, তাঁদের মধ্যে ১২ জন সশরীরে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, বহরমপুরের সাংসদ বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও স্পিকারের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে সই করার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একইভাবে হুগলির সাংসদ বর্তমানে বিদেশে থাকলেও দেশে ফিরেই চিঠিতে স্বাক্ষর করবেন বলে বিজেপি নেতৃত্বকে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নতুন গোষ্ঠীর লক্ষ্য আপাতত সরাসরি বিজেপিতে যোগদান নয়। বরং লোকসভার ভিতরে পৃথক ব্লক হিসেবে থেকে এনডিএ-র সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলাই তাঁদের কৌশল হতে পারে। সেই উদ্দেশ্যেই স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে এই গোষ্ঠীর মধ্যেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সূত্রের দাবি, যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে এই ব্লকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে অনেকেই আগ্রহী নন। অন্যদিকে মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদের মতো কট্টর বিজেপি-বিরোধী নেতাদের নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বও বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এখন নজর স্পিকারের কাছে জমা পড়তে চলা চিঠির দিকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি আরও কয়েকজন সাংসদ এই উদ্যোগে সামিল হন, তাহলে তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।