02/09/2026
ফাতিমা শেখ ছিলেন ১৯ শতকের একজন মহান ভারতীয় শিক্ষাবিদ, নারীবাদী আইকন এবং সমাজ সংস্কারক। তাঁকে ভারতের প্রথম মুসলিম মহিলা শিক্ষক হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হয়। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের চরম বিরোধিতা ও বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে তিনি নারী ও অবহেলিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর (বিশেষ করে দলিত ও মুসলিম মেয়েদের) শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
👉১৮৩১ সালের ৯ জানুয়ারি পুনেতে জন্মগ্রহণ করেন । ফুলে দম্পতির পাশে দাঁড়ানো এবং আশ্রয় প্রদানসমাজ সংস্কারক জ্যোতিরাও ফুলে এবং সাবিত্রীবাই ফুলে যখন দলিত ও নারীদের শিক্ষা দেওয়ার অপরাধে সমাজ ও নিজেদের পরিবার থেকে বহিষ্কৃত হন, তখন ফতিমা শেখ এবং তাঁর ভাই উসমান শেখ তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তাঁরা ফুলে দম্পতিকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দেন। উসমান শেখের বাড়ির একটি অংশেই ১৮৪৮ সালে ভারতের প্রথম মেয়েদের স্কুল "আদিবাসী গ্রন্থাগার" (Indigenous Library) নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
👉সাবিত্রীবাই ফুলে এবং ফাতিমা শেখ একসঙ্গে আহমেদনগরের একটি আমেরিকান মিশনারি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি পুনে এবং পরবর্তীতে মুম্বাইয়ে ফুলে দম্পতির প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা শুরু করেন। মিশনারি তদারকির বাইরে তাঁরাই ছিলেন প্রথম ভারতীয় নারী শিক্ষক জুটি। তাঁদের পাঠ্যক্রমে কেবল প্রাথমিক শিক্ষাই ছিল না, বরং ইতিহাস, ভূগোল ও পাটিগণিতের মতো আধুনিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
👉৩. তৃণমূল স্তরের আন্দোলন ও সামাজিক বাধা মোকাবেলা সে যুগে মেয়েদের ঘর থেকে বের হওয়া বা শিক্ষা গ্রহণ করাকে ঘোর পাপ বলে মনে করা হতো। ফাতিমা শেখ ও সাবিত্রীবাইকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে চরম লাঞ্ছনা ও শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে হতো। রক্ষণশীল হিন্দু ও মুসলিম সমাজের মানুষ তাঁদের লক্ষ্য করে কাদা, গোবর এবং পাথর ছুড়ে মারত। কিন্তু কোনো বাধাই ফাতিমাকে দমাতে পারেনি। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর জন্য রাজি করাতেন।
👉 জাতপাত ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইফাতিমা শেখ শুধু নারী শিক্ষার প্রসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি জ্যোতিরাও ফুলের 'সত্যশোধক সমাজ' (Satyashodhak Samaj) আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তৎকালীন কট্টর সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি দলিত, আদিবাসী এবং পিছিয়ে পড়া মুসলিম শিশুদের এক ছাদের নিচে এনে শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
👉 বিস্মৃতির আড়াল থেকে স্বীকৃতিইতিহাসের পাতায় দীর্ঘদিন এই মহান নারীর অবদান অবহেলিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর অবদানকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে।২০১৪ সালে মহারাষ্ট্র সরকার এবং ২০২২ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার স্কুল পাঠ্যবইয়ে ফাতিমা শেখের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেছে।
♦️ ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর ১৯১তম জন্মবার্ষিকীতে Google ডুডল-এর মাধ্যমে তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। ২০২৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলায় তাঁর একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি উন্মোচন করা হয়।ফাতিমা শেখ এবং সাবিত্রীবাই ফুলের মধ্যকার এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও যৌথ সংগ্রাম আজ ভারতে বহুত্ববাদ, নারীবাদ ও সামাজিক সমতার এক অনন্য প্রতীক।
এ ইসলাম