06/08/2026
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া আগামী নির্বাচনে হারবেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা ৷ তৃণমূলের ভাঙনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ৷
তিনি বলেন, "যেসব বিদ্রোহী সাংসদ প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হবে তাঁরা বিজেপি না এনসিপিআই'র হয়ে লড়বেন ? আমি অন ক্যামেরা বলছি রেকর্ড করে রাখুন ৷ যদি বিজেপির টিকিট ছাড়া ওঁরা ভোটে দাঁড়ান, যে'কটা সাংসদ এনসিপিআইতে গিয়েছেন তাঁদের সকলের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া ওঁরা নিজেদের জামানত বাঁচাতে পারবে না ৷"
এরপর তৃণমূল থেকে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "বাচ্চা ছেলে পেয়েছেন নাকি ৷ আপনারা এনসিপিআইতে আছেন ৷ এনডিএ'র পার্ট হল এনসিপিআই ৷ মুর্শিদাবাদের মানুষদের হাত থেকে যাতে ডিম না-খেতে হয় তার জন্য বোকা বানাচ্ছেন ৷ সৎ সাহস থাকলে এনসিপিআই থেকে বেরিয়ে আসুন ৷ তাহলে জানতে পারব আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার আছে ৷"
নওশাদ সিদ্দিকী তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, "এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের ভাঁড়ারে মধু ছিল, তাই সবাই সেখানে ভিড় করেছিল । এখন সেই মধু ফুরিয়ে গিয়েছে, তাই তাদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে । এতদিন ধরে দলের হাতে সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা ছিল বলেই সবাই একসঙ্গে ছিল ।" যদিও তিনি নিজে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তা এদিন স্পষ্ট করে দেন নওশাদ । তিনি জানান, রাজ্যে গত 15 বছর ধরে চলে আসা ক্ষমতার একচেটিয়া আধিপত্য ও দুর্নীতির ফলই তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদরা সম্প্রতি এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৷ আর সেই মতো তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থনের কথাও ঘোষণা করেন ৷ বিদ্রোহী সাংসদদের প্রথম সারিতে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তী, মালা রায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ডা. শর্মিলা সরকার, অভিনেতা দেব, জগদীশ বাসুনিয়া, মিতালি বাগ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, অসিত মাল, কালীপদ সোরেন-রা ৷
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে এনডিএ-র এই সাপ্তাহিক বৈঠক ৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ আর এরপরেই এই নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ৷