20/08/2026
#পিছনে_ফিরে_দেখা
সাল ১৯৮৬ তৎকালীন মুম্বাই লাস্যময়ী রেখা'র
কোলকাতায় অনুষ্ঠিত "হোপ ৮৬" এ আগমন।
সাল ২০০২ জনপ্রিয় গায়িকা ঊষা ঊত্থুপের গানকে অশ্লীল বলা। এবং তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর আশীর্বাদ নিয়ে ঊষা ঊত্থুপের পুনরায় সচল হওয়া।
সাল ২০০৫ তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর তারাপীঠ এ পূজা দেওয়া নিয়ে সিপিএম এর তাকে শো-কজ করা।
এইসব নিয়ে আজকের পিছনে ফিরে দেখা।
জ্যোতি বসুর জীবনী একটা বেইমানির কালো ইতিহাস!
জ্যোতি বসু সম্পর্কে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ১৯৯২-৯৩ তে 'দেশ' পত্রিকায় একটা লেখা লেখেন l সেখানে উনি বলেন জ্যোতি বসু বিলেতে যান ICS দিতে এবং ওখানে —লন্ডনের সেরা প্রাইভেট টিউটর দেয়া হয় ওঁনার জন্যে l
সিদ্ধার্থবাবু বলেন, জ্যোতি বাবুর শিক্ষার পিছনে যত টাকা খরচ হয় সেই টাকায় আমাদের দেশের ১০০ ছাত্রকে পড়ানো যেত l কিন্তু ৪ বার দিয়ে পাশ করেন নি উনি l
এরপর ব্যারিস্টারি বেছে নেন l সেখানেও ৪ বার ফেল করে ছয় বছরের ছোট সিদ্ধার্থ রায়ের সঙ্গে পাশ করে l আর তাই সিদ্ধার্থবাবু ৬ বছরের ছোট হয়েও ওনাকে জ্যোতি দাদা না বলে জ্যোতি বলতেন l
দেশে ফিরে কমিউনিস্ট পার্টি l প্রথমে সোভিয়েত ইউনিয়নের নির্দেশের ৪২ আন্দোলনের বিরোধীতা l এরপর সোভিয়েতের নির্দেশে রোজ নিয়ম করে নেতাজীকে গালাগালি এবং পি সি যোশির সঙ্গে পুরো পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তান বানানোর চক্রন্তে সামিল l
ক্যালকাটা অ্যাকশন ডে দেখার পরে বোঝেন পাকিস্তান হলে আর থাকা যাবেনা l শেষে ডঃ শ্যামাপ্রসাদের কথা শুনে নাক খত দিয়ে বাংলা ভাগে পশ্চিমবঙ্গর পক্ষে ভোট l
দেশভাগের পরে প্রথমে বাঙালদের ক্ষেপানো l বিধান রায়কে বুর্জোয়া বলা এবং দেশের ইতিহাসে অন্যতম সৎ রাজনৈতিক ব্যাক্তি প্রফুল্ল সেন কে চোরের অপবাদ দিয়ে ১৯৬৭তে জিতে প্রথমবার জিতে উপমুখ্যমন্ত্রী l
ইনার সময়ে ৫ বছর শুধু দা*ঙ্গা! বিড়লা পেটানো, কারখানা বন্ধ, গোপাল সেন হত্যা, সাঁইবাড়ী হত্যা এবং গণ টোকাটুকি এবং সিদ্ধার্থ রায়ের পাল্টা মার l
১৯৭৭ এ ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন ভয়ঙ্কর অপরাধীদের জেল থেকে বের করে তাদের নতুন করে পরিচয়পত্র দিয়ে কাউকে মন্ত্রী ( নিরুপম সেন ) কাউকে সাংসদ (অনিল বসু), কাউকে যাদবপুর রেজিট্রার (রজত ব্যানার্জী ) এবং যে ৪ পাশ তাকে পার্টির বড় নেতা (বিনয় কোনার) বানিয়ে সমাজকে রসাতলে পাঠানো l
মমতা ব্যানার্জী যেমন চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পে বাধা দেয়, তেমনিই জ্যোতি বসু পুরো কলকাতা মেট্রো প্রকল্পকেই বাধা দেন l এছাড়া কম্পিউটার ঢুকতে না দেয়া, CESC কে দিয়ে বাংলা লুট, ইংরেজী তুলে দেয়া, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্যকে রাস্তায় অপমান, বহু হেড মাস্টার খুন (তার মধ্যে একজন দমদম কুমার আশুতোষ ব্রাঞ্চ স্কুল) CITU কে দিয়ে আইএএস পেটানো, ক্যাডারদের বৌকে স্কুল কলেজ শিক্ষক বানানো, উচ্চশিক্ষায় ৯৯% সংরক্ষণ, বাকী ১% তরমুজদের, যুগান্তর, বসুমতি বন্ধ, ৫০০০০ এর উপর কারখানা বন্ধ এবং ৫৫০০০ খুন ইত্যাদি বহু কীর্তি l
শেষে আসি উনি কত আয় করলেন❓ ওঁনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদের চুক্তি হত যে উনি ওই রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদের কাজ দেবেন, আর বদলে ওঁনার ছেলে চন্দন বোস
কে কাজ দেবে তারা l
যেমন কমল নাথ WBSEBর কোটিকোটি টাকার ঠিকাদারি করতো, এবং তার বদলে চন্দন বোস ও নিরঞ্জন সেনগুপ্ত'র ভাইপো কাজল সেনগুপ্ত'র কোম্পানি সেনবো দিল্লীতে ব্রিজ ও মেট্রো বানানোর কাজ পায় l
জীবনের শেষে উনি উনার পুত্র চন্দন বোসকে ৭০০ টাকার কেরানী থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়ে ছাড়েন l ব্যারিস্টারি করলে সেটা সম্ভব ছিল না l
কারণ— সিদ্ধার্থ রায় "দেশ" পত্রিকার ওই লেখায় বলেন জ্যোতি বসু আইন বুঝতেন না বলে বিচারকের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন না l টুকে পাশ করা ছাত্রদের যে দশা হয় আর কি l সেই সময় জ্যোতি বসু ক্ষমতার শীর্ষে l রোজ একের পর এক খুন করছেন তার পার্টিকে দিয়ে l কিন্তু মানহানি মানলা করেন নি l যাতে জানাজানি না হয় l
পশ্চিমবঙ্গের জনজীবনে জ্যোতি বাবুর একটাই ভূমিকা,
আর এখানেই বিতর্ক শেষ! ——সেটা হল উনি ২৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গর স্বাস্থ্য শিক্ষা শিল্প বাণিজ্য কৃষি এবং সমাজের সর্বনাশ করেই শুধু ক্ষান্ত হন নি —মৃত্যুর আগে ওঁনার প্ৰিয় ছাত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী করার সব রাস্তা তৈরি করে দিয়ে গেছেন, আরও ১৫ বছর রাজত্ব করে রাজ্যের বাকী সর্বনাশটা করে যাওয়ার জন্যে l
ওঁনার মৃত্যুর এক বছর পরেই ওঁনার ছাত্রী মুখ্যমন্ত্রী হন,
১৫ বছরের জন্যে এবং তিনিও দ্বিতীয় চন্দন তৈরি করেন l
এবং পরিশেষে বলি —আমার বয়স এখন ৬৫। কাজেই
এই "সিপিএম" র শয়তানি আমি নিজে চোখে দেখেছি।
এদের কার্যকলাপের কথা মনে পরলেই বমির উদ্রেক হয়।
আর একটা কথা, মমতা সিপিএমকে হঠায় নি। সিপিএমের অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌছেছিল যে —মানুষ তিতিবিরক্ত হয়ে সিপিএমকে হঠিয়েছিল।
বিকল্প ছিল "সততার প্রতীকের"আড়ালে "শঠতার প্রতীক" তৃনমুল। তাই ক্ষীরটা মমতা খেয়েছে। আর, সেই ট্র্যডিশন বজায় রেখে মানুষ ঘাড়ধাক্কা দিয়েছে তৃনমূলকে, যেমনটি দিয়েছিল সিপিএমকে।
Subrata Paul Official