09/10/2022
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমস্তুতে ..............
সংস্কৃত ব্যাকরণ ঘাঁটলে পাওয়া যাবে, “लक्ष्मी:” শব্দের উৎপত্তি “लक्ष्” থেকে, যার অর্থ চিন্হ বা লক্ষন।যে লক্ষন এর দ্বারা ঈশ্বর কে ঈশ্বর বলে চেনা যায়, জীব কে জীবিত বলে জানা যায়, তাই লক্ষ্মী! মানবের জীবনধারণের জন্য যে প্রাণের রসদ ও মনের শান্তি প্রয়োজন সে সবেরই মূর্ত প্রতীক এই দেবী। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে বর্তমান সময় অব্দি তার উপাসনা নিরবিচ্ছন্নভাবে হয়ে চলেছে। ইনিই বেদের শ্রী সুক্তে বন্দিতা, হীরণ্য বর্ণা হরিণী –“শ্রী” , তন্ত্রে ইনিই দশম মহাবিদ্যা কমলাত্মিকা!
कान्ता कांचनसन्निभां हिमगिरिप्रख्यैश्चतुर्भिर्गजैः हस्तोत्क्षिप्तहिरण्मयामृतघटैरासिच्यमानां श्रियम् I
बिभ्राणां वरमब्जयुग्ममभयं हस्तैः किरीटोज्वलाम्।
क्षौमाबद्धनितम्बबिंबललिताम् वंदेSरविंदस्थिताम् II
যাঁর দেহ কান্তি কাঞ্চন তুল্য, হিমালয়ের ন্যায় হস্তী চতুষ্টয়, যার শিরে স্বর্ণ কলস হতে অমৃত সিঞ্চন করছে, যার হাতে বর অভয় ও পদ্ম যুগ্ম শোভামান, যিনি ক্ষৌম বস্ত্রে আবৃতা ও উজ্জ্বল মুকুট ও হারাদির দ্বারা শোভিতা, পদ্মের উপর আসীনা, সেই শ্রী কে বন্দনা করি!
কমলা কমালবন বিহারিনী ! জটিল জীবনের ঘাত প্রতিঘাত ময় পঙ্কে থেকেও যার মন ঈশ্বর রুপী সূর্যের দিকে তাকিয়ে, পাঁকের আবিলতার উর্ধ্বে উঠে, পদ্ম হয়ে ফোটে, তার সেই হৃদয় কমল বনেই জ্যতিময়ী কমলার আসন প্রস্তুত হয়! নেহাত ধনলাভ হলেই তাকে লক্ষীলাভ বলা যায় না!
শ্রী শ্রী মা বলতেন “সন্তোষের সমান ধন নেই”, এই তুষ্টি, এই সন্তোষ, স্বস্তি, এইটিই লক্ষ্মীর কৃপা দৃষ্টি। তাই তো কাঙালের কুটির থেকে রাজপ্রাসাদ অব্দি সর্বত্রই তার আসন পাতা। তার কাঞ্চন প্রভা, তার ঐশ্বর্য্য, ভৌতিক ঐশ্বর্য্য নয়, তা চৈতন্যের আলো!
মহাত্মা বিজয়কৃষ্ণ দেবসর্মা, সাধক- মানসে দেবীর রুপ বর্ণনায় লিখছেন –
“জ্ঞান ঐশ্বর্য্য, ধর্ম্ম ও বৈরাগ্য—এই চারটি মাতঙ্গে হিরন্ময় কলসে অমৃতধারা কমলার শিরে ঢালছে। সহস্রদল পদ্মে বসে অমৃত প্লাবনে পরিপ্লুতা পারিজাতপ্রিয়া শুভদা স্বয়ংশ্রী।নেই—শুধু ভূমা সুখ; সুখসাগরে ঢল-ঢল কোটি হৃদয়কমল— শান্ত স্নিগ্ধ সীমাহীন; শুধু সুখপ্রকাশ—স্বয়ম্প্রকাশ। মুক্ত হৃদয়-শতদল— দলে দলে, তাঁর সুপ্তি-সুধা। দহরে দহরে একই কমল—কমলে কমলে একই ‘কমল’—হিরণ্য-হরিণী স্বয়ংশ্রী।”
কোজাগরীর এই পূণ্য তিথিতে প্রতিটি হৃদয় কমলার কমলাসন হয়ে ফুটুক, সকলের জীবনে সন্তোষ ধন লাভ হোক, এই প্রার্থনা রইলো।