01/05/2026
সবজি বিক্রি করে যে মা সন্তানদের মানুষ করেছে, শেষ বয়সে সেই মায়েরই ঠাঁই হলো ভা'ঙা কুঁড়েঘরে!
দুই ছেলের ঘরে আছে সবার জায়গা, শুধু নেই মা জন্য একটু আশ্রয়, এর চেয়ে বড় নি'ষ্ঠু'র'তা আর কী হতে পারে?
এই মায়ের কথা শুনলে আপনার বুকেও কেঁ'পে উঠবে!
আমাদের চারপাশে উঁচু উঁচু ইমারত বাড়ছে, চাকচিক্য বাড়ছে, বাড়ছে আধুনিকতা। কিন্তু এই জৌলুসের আড়ালে কোথাও কি আমরা আমাদের বুকটা পাথর করে ফেলছি? সম্প্রতি 'Dil Khan' ফেসবুক পেজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়ে সজোরে একটা ধা'ক্কা দিয়েছে। এমন এক মায়ের গল্প, যিনি সবজি বিক্রি করে তার নিজের র/ক্ত জল করে দুই ছেলেকে মানুষ করেছেন, শিক্ষিত করেছেন। কিন্তু আজ সেই ছেলেদের আলিশান বাড়িতে নিজের জ/ন্ম/দা/ত্রী/র জন্য কয়েক ফুট জায়গাও অবশিষ্ট নেই। এর চেয়ে ল/জ্জা/র, এর চেয়ে নি/ষ্ঠু/র, এর চেয়ে অ'মা'ন'বি'ক দৃশ্য আর কী হতে পারে?
নচিকেতার সেই গানটি আজ প্রতিটি ইটের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, "নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী, সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি।"
কি অদ্ভুত এই পৃথিবী তাই না! যে মায়ের আঙুল ধরে ছেলেরা হাঁটতে শিখেছে, আজ সেই ছেলেদের নিজেদের সন্তানদের জন্য আলাদা ঘর আছে, শৌখিন জিনিসের জন্য জায়গা আছে, শুধু নেই সেই মায়ের জন্য। মা পড়ে আছেন একটি ভা'ঙাচোরা কুঁড়েঘরে, যেখানে অ/ব/হে/লা, অ/স/হা/য়/ত্ব আর অ/সু/স্থ/তা তার নিত্যসঙ্গী। যে মা খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন, আজ সেই ছেলেদের কাছে মা হয়ে উঠেছেন এক বাড়তি 'বোঝা'।
তবে ওই, যার কেউ নেই তার ভগবান আছেন, যখন র/ক্ত সম্পর্কের আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন ঈশ্বর পাঠালেন দিল খানকে। না, কোনো র/ক্তে/র টান নেই, নেই কোনো পুরনো পরিচয়। শুধু মানবতার টানে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ছুটে গেলেন সেই জী'র্ণ কুটিরে। যেখানে নিজের ছেলেরা শিক্ষিত হয়েও দায়িত্ব ভুলেছে, সেখানে দিল খান এক অপরিচিত হয়েও সেই মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিলেন। তাকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন, বৃদ্ধা অ/সু/স্থ মাকে নিজের হাতে ফল কেটে খাইয়ে দিলেন। এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন, যা ছিল সেই সন্তানদের দায়িত্ব।
তিনি শুধু সাহায্য করেই থেমে থাকেননি, ছেলেদের মুখোমুখি হয়ে তাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ছেলেরা আশ্বস্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন একজন বাইরের মানুষকে এসে সন্তানদের শেখাতে হবে যে মা তাদের কাছে ঋণী নয়, বরং সন্তানরাই মায়ের কাছে চিরঋণী?
আচ্ছা, আমরা কোন দুনিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? মনে রাখবেন, আজ আপনি আপনার মায়ের সাথে যা করছেন, কাল আপনার সন্তান আপনার সাথে ঠিক সেটাই করবে। আপনি যদি আপনার সন্তানদের দামী শিক্ষা দেন কিন্তু 'মানুষ' না বানান, তবে সেই শিক্ষার কোনো মূল্য নেই।
আজ আমরা আধুনিক হয়েছি, শিক্ষিত হয়েছি, প্রযুক্তিতে এগিয়েছি, কিন্তু যদি নিজের বৃদ্ধ মা-বাবার চোখের জল দেখতে না পাই, তবে সেই শিক্ষা, সেই উন্নতি, সেই আধুনিকতার মূল্য কোথায়? যে ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্মান নেই, সে ঘরে শান্তি থাকতে পারে না। যে সন্তান বাবা-মায়ের প্রতি নি/ষ্ঠু/র, সে কখনও প্রকৃত অর্থে বড় মানুষ হতে পারে না, যত বড় পদেই সে থাকুক না কেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাবা-মা কখনো সন্তানের কাছে অতিরিক্ত কিছু চান না। তারা শুধু চান একটু খোঁজ, একটু যত্ন, একটু ভালোবাসা, আর শেষ বয়সে নি'রা'প'দ একটি আশ্রয়। তাদের চাওয়া খুব ছোট, কিন্তু আমাদের অবহেলা খুব বড়। তাই আজ সমাজের প্রতি, প্রতিটি সন্তানের প্রতি আমাদের আবেদন, নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দিকে তাকান। তারা কতটা অসহায়, কতটা নির্ভরশীল, কতটা ভালোবাসা নিয়ে এখনো আপনাকেই আগলে রেখেছেন, সেটা অনুভব করুন। মনে রাখবেন, পৃথিবী আপনাকে অনেক পরিচয় দেবে, কিন্তু “মা-বাবার ভালো সন্তান” এই পরিচয়ের চেয়ে বড় সম্মান আর নেই।
✍️— অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )