29/08/2026
পাঁপড়,ভুজিয়া,ধূপকাঠির বিক্রি করে ১১ বছর ধরে সমাজসেবা করেন! কোচবিহার শহরের গরীবের মাসিহা ৭২ বছরের মাঙ্গিলাল। পাঁপড়,ভুজিয়া,ধূপকাঠির বিক্রি করে ১১ বছর ধরে সমাজসেবা করেন।
হ্যাঁ ঠিকই বলছি, এই মানুষটাই দীর্ঘ ১১ বছর ধরে প্রচারের আড়ালেই নিজের সব রোজগার সমাজের স্বার্থে বিলিয়ে দিচ্ছেন। বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করেই সমাজের জন্য নিঃস্বার্থভাবে ভেবে চলেছেন! যা দেখে রীতিমত চমকে যাচ্ছে সকলেই। প্রশংসার ঝড় উঠেছে গোটা কোচবিহার জুড়ে। পাঁপড়, ভুজিয়া, ধূপকাঠির বিক্রি করে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সমাজসেবা করে চলেছেন ৭২ বছরের মাঙ্গিলালবাবু।
এই সময় দাঁড়িয়ে নিজে ছাড়া অন্য মানুষের কথা নিঃস্বার্থভাবে কজন ভাবে। ক'জন প্রত্যেকদিন বিলীন করে দেয় অন্য সবার জন্য। কোচবিহার শহরের এন এন পার্ক এলাকায় বাড়ি মাঙ্গিলাল বোথরার। বাড়িতে স্ত্রী এক ছেলে পুত্রবধূ এবং দুই নাতি-নাতিনে নিয়েই সংসার মাঙ্গিলাল বাবুর। ছেলে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন। সংসার খরচ ছেলেই চালান। আজ থেকে ১১ বছর আগে মাঙ্গিলাল বাবু তার মাকে হারান।
পারিবার আর্থিক অবস্থা খা'রাপ থাকায় তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সেভাবে কিনতে পারেননি তিনি। মায়ের ওষুধ, পথ্য কেনার জন্য অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু কারও কাছ থেকে সেভাবে সাহায্য পাননি। মায়ের মৃ/ত্যু/র পরেই জী'বন-পণ করেছিলেন মাঙ্গিলাল বাবু। গরিবদের সেবা করাটা নিজের পণ করি।
জীর্ণ শরীর নিয়ে পাঁপড়, ভুজিয়া, ধূপকাঠির ব্যাগ হাতে নিয়ে তিনি বাড়িতে বাড়িতে ফেরি করতে বেরিয়ে পড়েন। দিনভর ফেরি করে ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়। প্রতিদিন যে টাকা রোজগার করি তার একটি পয়সাও বাড়ি নিয়ে যাই না। সবটাই গরিবদের সেবায় বিলিয়ে দেন।
এক্ষেত্রে বলে রাখি, মাঙ্গিলাল বাবুর এই মহান কাজ সম্পর্কে কোচবিহার বাসী সকলেই জানেন। যে কারণে মাঙ্গিলাল বাবু কোনও বাড়িতে ফেরি করতে গেলে কেউ তাঁকে চট করে ফেরান না।
মাঙ্গিলাল চা-বিস্কুট খেয়ে প্রতিদিন সকাল ৯টায় ব্যাগ নিয়ে ফেরি করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর দিনভর ফেরি করে বেলা সাড়ে ৩টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে! সামান্য ডাল-ভাত সবজি খান। বাড়িতে একটু রেস্ট করে তারপর আবার ফেরি করতে বেরিয়ে পড়েন। রাত ১০টা নাগাদ বাড়ি ঢোকেন। প্রতিদিন যে টাকা রোজগার করেন তার একটি পয়সাও তিনি বাড়িতে নিয়ে যান না। প্রতি রাতে তিনি হাসপাতালে যান। যারা অর্থের অভাবে ঔষধ কিনতে পারছেন না তাদের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে যতটা পারেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ওষুধপত্র কিনে দেন এই ৭২ বছরের মাঙ্গিলাল বাবু। এমনকি রাস্তায় কেউ খাবার খেতে চাইলে তাকে হোটেলে নিরামিষ ভাত খাওয়ান। মাঙ্গিলাল বাবু এই অবধ ৩৮ টি গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়ের জন্য সমস্ত পোশাক কিনে দিয়েছেন। এই বিয়ের কাজে সাহায্যে মাঙ্গিলাল বাবু দুজন ব্যবসায়ীকেও পাশে পেয়েছেন।
তবে আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে মাঙ্গিলাল বাবু তার রোজগারের সব টাকা বিলিয়ে দিলে সংসার চলে কী করে?
মাঙ্গিলাল বাবু ছেলে একটি বেসরকারি সংস্থায় বছর দশেক ধরে কাজ করে। সংসারের সমস্ত খরচ তিনি চালান। এমনকি তিনি মাঙ্গিলাল বাবুর হাতখরচ হিসেবে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেন।
মাঙ্গিলাল বাবু বলেন,
'যতদিন বাঁচব, সবার জন্য এভাবেই কাজ করে যাব।' ঔষধের অভাবে চলে যাওয়া মানুষদের জন্য যেন কোন মা, কোন বোন, কোন ছেলে, কোন স্ত্রীর চোখের জল না পড়ে।
হ্যাঁ, মাঙ্গিলাল বাবুর চাইলেই তো পারতেন আর পাঁচটা বয়স্ক মানুষের মতো তিনিও ঘরে শুয়েবসে, নাতি- নাতনিদের সঙ্গে আরামে দিন কাটাতে। কিন্তু তিনি তা করেননি, তিনি সারাদিন পায়ে হেঁটে ফেরি করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, নিজের সবটুকু উপার্জন নিয়ে প্রতি রাতেই ছুটে চলেছেন। নিজের সবটা উজাড় করে দিয়েছেন সমাজের গরীব অসহায় মানুষদের জন্য।
আজকের এই ভাইরাল কিংবা জনপ্রিয় মানুষদের ভিড়ে কোথাও যেন এক কোণে হয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সমাজ সেবকরা। না তাদের খোঁজ নেইনা কেউ কিংবা রাখিনা। অথচ ওই মানুষগুলোই কি নীরবে প্রচারের আড়ালেই নিঃস্বার্থভাবে মানুষদের কথা ভেবে চলেছেন। মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন।
হ্যাঁ এই মানুষগুলি তো সম্মান পাওয়ার যোগ্য। এই মানুষগুলোও তো সরকারের কাছ থেকে সম্মান পাওয়ার দাবীদের রাখেন।
"মানুষ মানুষের জন্যই"
মাঙ্গিলাল বাবুর জীবন যু/দ্ধ এবং তার কাজ নিয়ে বলতে গেলে ঋণী হতে হয় শব্দের কাছে। এই মাটি এবং এই দেশ আজ গর্বিত তার জন্য। মাঙ্গিলাল বাবুকে আভূমিক প্রণতি জানায় The Cob Untold.
✍🏻— অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )
( বি:দ্র — ক্রেডিট ছাড়া তথ্য কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া )
#ভাইরাল