The Cob untold

The Cob untold উত্তরবঙ্গের প্রথম মোটিভেশনাল চ্যানেল The Cob Untold লুকানো প্রতিভাকে পরিচিতি দানই চ্যানেলের মুখ্যকাজ
(9)

বাল্যবিবাহ থেকে বাঁ'চা সেই মেয়েটাই আজ ইন্টারমিডিয়েট বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম! অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের এক সাধারণ পরিবারে ...
04/05/2026

বাল্যবিবাহ থেকে বাঁ'চা সেই মেয়েটাই আজ ইন্টারমিডিয়েট বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম!

অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলের এক সাধারণ পরিবারে জ'ন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই সে দেখেছে, মেয়েদের জন্য স্বপ্ন নয়, বরং বেঁধে দেওয়া থাকে এক নির্দিষ্ট পথ, অল্প বয়সে বিয়ে, সংসার আর দায়িত্বের বোঝা। নির্মলার জী'ব'নে'ও সেই একই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এখানেই সে অন্যদের থেকে আলাদা।

সে চুপ থাকেনি। সে ভয় পায়নি। নিজের ভবিষ্যতের জন্য সে নিজেই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরিবারের বি'রো'ধি'তা, চাপ, কষ্ট, সবকিছুর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্মলা বলেছিল, “না, আমি এখন বিয়ে করব না। আমি পড়াশোনা করব, নিজের পায়ে দাঁড়াব।”

এই সাহসই বদলে দেয় তার জীবন। পরে সে ভর্তি হয় কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, অল্প রিসোর্স, কিছুই তাকে থামাতে পারেনি। প্রতিদিন নিজের স্বপ্নকে সামনে রেখে, কঠোর পরিশ্রম করে গেছে সে।

আর সেই পরিশ্রমের ফল? ২০২৪ সালের অন্ধ্রপ্রদেশ ইন্টারমিডিয়েট বোর্ড পরীক্ষায় ৪৪০-এর মধ্যে ৪২১ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন! একসময় যে মেয়েটিকে বাল্যবিবাহের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল, আজ সেই মেয়েটিই সাফল্যের শিখরে।

নির্মলার স্বপ্ন আরও বড়, সে চায় একজন IPS অফিসার হতে। সে চায় এমন এক সমাজ গড়তে, যেখানে কোনো মেয়েকে তার স্বপ্নের আগে বিয়ের কথা ভাবতে না হয়।

এই গল্প আমাদের শেখায়, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, যদি ইচ্ছা আর সাহস থাকে, তাহলে নিজের ভাগ্য নিজেই লেখা যায়। সঠিক সময়ে সুযোগ আর সমর্থন পেলে, আমাদের মেয়েরাও আকাশ ছুঁতে পারে। নির্মলা শুধু একজন ছাত্রীর নাম নয়, সে এক অনুপ্রেরণা, একটি পরিবর্তনের শুরু।

✍️ — অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

দিনহাটার হৃদয়ে সজলদার সিঙ্গারা! কি সজলদার নামটা শুনেই পুরনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে গেল তো?দিনহাটায় যারা বাস করেন বা অতী...
04/05/2026

দিনহাটার হৃদয়ে সজলদার সিঙ্গারা! কি সজলদার নামটা শুনেই পুরনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে গেল তো?

দিনহাটায় যারা বাস করেন বা অতীতে করেছেন এরকম প্রায় সকলেই জানেন সজলের সিঙ্গারার জনপ্রিয়তার কথা। দিনহাটার সজলদার সিঙ্গারা, স্বাদের চেয়েও বড় এক আবেগ, এক শহরের নস্টালজিয়া!

দিনহাটার নাম শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে অলিগলি, চায়ের দোকান, বিকেলের ব্যস্ততা আর সেই চেনা গন্ধ, গরম গরম সজলদার সিঙ্গারা। এ শুধু একটি দোকানের গল্প নয়, এ এক শহরের গল্প। এ এক স্বাদের গল্প, যা মানুষের জিভে যেমন লেগে আছে, তেমনই হৃদয়ের গভীরেও জায়গা করে নিয়েছে।

আজকের এই দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবীতে, যেখানে প্রতিদিন নতুন নতুন খাবার, নতুন নতুন দোকান আর নতুন নতুন আকর্ষণ আমাদের টেনে নিয়ে যায়, সেখানে প্রায় ৩০ বছর ধরে একই ভালোবাসা, একই জনপ্রিয়তা, একই ভিড় নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সজলদার সিঙ্গারা। কিন্তু কেন? কারণ কিছু জিনিসের দাম টাকায় মাপা যায় না। কিছু স্বাদ শুধু মুখে নয়, মনে লাগে। কিছু মানুষ শুধু ব্যবসা করেন না, তারা মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যান।

একটা সময় ছিল, যখন বিকেলে টিউশন থেকে ফেরার পথে মনে শুধু একটাই ইচ্ছে কাজ করত, আজ সজলের সিঙ্গারা খাওয়া হবে তো? ফুলদিঘির পাশে ছোট্ট একটা ঠেলা গাড়ি, সেখানে নিজেই বানাতেন, নিজেই ভাজতেন, নিজেই বিক্রি করতেন। আর মানুষ? তারা দাঁড়িয়ে থাকত। ১৫ মিনিট, ২০ মিনিট, কখনও তারও বেশি। কিন্তু সেই অপেক্ষা বিরক্তির ছিল না, ছিল আনন্দের। কারণ সবাই জানত, এই অপেক্ষার শেষে যে স্বাদ মিলবে, তা সহজে ভোলার নয়।

সজলদার সিঙ্গারার বিশেষত্ব শুধু তার মুচমুচে আবরণে নয়, শুধু আলুর মশলাদার পুরেও নয়। এর আসল জাদু লুকিয়ে আছে নিষ্ঠায়, পরিশ্রমে আর সততায়। মুচমুচে আবরণ, ভেতরে আলুর মশলাদার পুর, আর কড়াই থেকে ওঠা গরম ধোঁয়া, এসবের সঙ্গে মিশে আছে দিনহাটার বহু মানুষের জীবনের গল্প। আজও দোকানে গেলে দেখা যায়, কড়াইতে যা ভাজা হচ্ছে, তার অনেকটাই আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। মানে সজলদার সিঙ্গারা শুধু তৈরি হয় না, প্রতিদিন নতুন করে মানুষের ভালোবাসায় জন্ম নেয়।

সময় বদলেছে, দাম বদলেছে, জায়গা বদলেছে। এক টাকার সিঙ্গারা আজ দশ টাকা হয়েছে। ঠেলা গাড়ির জায়গায় এখন ছোট্ট দোকান। কিন্তু বদলায়নি একটাই জিনিস, মানুষের ভরসা। বদলায়নি সেই স্বাদ, যে স্বাদ দিনহাটার মানুষকে আজও একসূত্রে গেঁথে রাখে। নতুন নতুন ফাস্ট ফুডের দোকান এসেছে। তবু বিকেলের চা মানেই অনেকের কাছে এখনও সজলদার সিঙ্গারা।

কেন জানেন? কারণ এখানে শুধু খাবার বিক্রি হয় না, বিক্রি হয় স্মৃতি। হয়তো একসময় বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে বাড়ির জন্য দশটা সিঙ্গারা নিয়ে আসতেন। হয়তো হঠাৎ অতিথি এলে ঘরের কেউ বলতেন, “চিন্তা কী? সজলদা তো আছেই!” হয়তো বন্ধুরা আড্ডা জমাত লাল চা আর সজলদার সিঙ্গারা দিয়ে। এইসব ছোট ছোট মুহূর্তই তো আসলে জীবনের বড় সম্পদ।

সবচেয়ে অনুপ্রেরণার কথা হলো, সাফল্য মানে শুধু টাকা নয়, মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া। সজলদার দোকানে এখনও ভিড় হয়, এখনও অপেক্ষা করতে হয়, এখনও কড়াইতে ভাজা সিঙ্গারা আগেই বিক্রি হয়ে যায়। এ যেন এক নিঃশব্দ সম্মাননা, যা মানুষ ভালোবেসে দিয়েছে।

আমাদের জীবনটাও তো অনেকটা এরকমই। ছোট থেকে শুরু করে, ঘাম ঝরিয়ে, সততার সাথে যদি আমরা এগিয়ে যাই, তবে সজলদার মতো আমরাও একদিন নিজেদের ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠব। পরিস্থিতি বদলাবে, জায়গা বদলাবে, কিন্তু আপনার গুণমান যদি ঠিক থাকে, তবে মানুষ আপনাকে খুঁজেই নেবে। তাই যদি কখনও দিনহাটায় যান, বা কোনোদিন এই চেনা রাস্তায় পা পড়ে, সজলদার দোকানে একবার দাঁড়াতে ভুলবেন না। শুধু সিঙারা খেতে নয়, একজন মানুষের দীর্ঘ ৩০ বছরের লড়াই আর নিষ্ঠাকে সম্মান জানাতে। আর আপনি যদি গিয়ে থাকেন অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন।

✍️ — অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

#সিংড়া

বীরপাড়া থানার এই সাফল্যের গল্প শুধু একটি চু'রি'র মামলার সমাধান নয়, এটি দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব এবং অদম্য কর্মস্পৃহারে...
03/05/2026

বীরপাড়া থানার এই সাফল্যের গল্প শুধু একটি চু'রি'র মামলার সমাধান নয়, এটি দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব এবং অদম্য কর্মস্পৃহারের এক অনন্য উদাহরণ।

মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা। হ্যাঁ, মাত্র এক দিনের মধ্যেই একটি শপিং মলে সং'ঘ'টি'ত চু'রি'র র'হ'স্য উদ্ঘাটন করে মূল অ'ভি'যু'ক্ত'কে গ্রে/প্তা/র করেছে বীরপাড়া থানার পুলিশ। এমন দ্রুত পদক্ষেপ আজকের দিনে সত্যিই বিরল, আর সেই কারণেই এই ঘটনাটি এখন গোটা এলাকায় প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু।

গত বুধবার যখন শপিং মলে চু'রি'র অভিযোগ সামনে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মুহূর্তেই বীরপাড়া থানার পুলিশ প্রমাণ করে দেয়, দায়িত্ব যখন সঠিক হাতে থাকে, তখন অ/প/রা/ধ বেশিদিন লুকিয়ে থাকতে পারে না।

এই অভিযানে এসআই দীপঙ্কর দাসের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। তাঁর তী/ক্ষ্ণ তদন্ত দক্ষতা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের সূ'ক্ষ্ম'তা, এবং অ'প'রা'ধী'কে শ'না'ক্ত করার অদম্য প্রচেষ্টা গোটা তদন্তকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়। একজন দক্ষ অফিসারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার পর্যবেক্ষণ ক্ষ'ম'তা, আর দীপঙ্কর দাস সেই গুণের বাস্তব প্রমাণ রেখেছেন।

তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে ভোলা মু'ন্ডা নামক অ'ভি'যু'ক্ত'কে গ্রে/প্তা/র করে। শুধু তাই নয়, বীরপাড়া চা বাগান এলাকা থেকে চু'রি যাওয়া লকারও উদ্ধার করা হয়। এই উদ্ধার অভিযান প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং সাহস একসঙ্গে থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাধারণ মানুষের সহযোগিতা। পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক বিশ্বাসই সমাজকে নি'রা'প'দ করে তোলে। যখন দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করে, তখন অ/প/রা/ধে/র জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হয়।

ওসি রিকি তামাংয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পুরো টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সাফল্য এসেছে। এটি শুধু একটি মা'ম'লা সমাধানের ঘটনা নয়, বরং একটি বার্তা, সততা, নিষ্ঠা ও কর্মনিষ্ঠা থাকলে যে কোনও চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব।

বীরপাড়া থানার এই কাহিনি আমাদের শেখায়, দায়িত্বকে যদি কর্তব্য হিসেবে নয়, মিশন হিসেবে নেওয়া যায়, তবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আজকের এই সাফল্য শুধু পুলিশের নয়, গোটা এলাকার। কারণ নি'রা'প'ত্তা তখনই শক্তিশালী হয়, যখন রক্ষাকারীরা তাদের কাজকে হৃদয়ের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করে।

বীরপাড়া থানার এই অধ্যায় নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ভারত ভুটান সীমান্তের ছোট্ট শহর থেকে বড় মঞ্চে সাফল্য, ১২ বছরের বিবেকের নাচের ছন্দে কাঁ'প'ছে বাংলা!ফাইনাল মঞ্চে চোখে চোট ...
03/05/2026

ভারত ভুটান সীমান্তের ছোট্ট শহর থেকে বড় মঞ্চে সাফল্য, ১২ বছরের বিবেকের নাচের ছন্দে কাঁ'প'ছে বাংলা!

ফাইনাল মঞ্চে চোখে চোট পেয়েও যে ছেলে নাচ থামায়নি সেই বিবেক বাগিশ আজ আলিপুরদুয়ারের গর্ব!

এই গল্প আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান বর্ডারের পাশে ছোট্ট শহর জয়গাঁও এর এক প্রতিভাবান ছেলে বিবেক বাগিশকে নিয়ে। সে SHMD স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনা, ছবি আঁকা, ক্রিকেট আর মঞ্চে ডান্স পারফরম্যান্স, সবকিছু একসাথে সমানতালে চালিয়ে গেছে। অনেক শিশু একটি বিষয়েই মন দেয়, কিন্তু বিবেক নিজের প্রতিটি ভালো লাগাকে সম্মান করেছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছিল নাচ। নাচ ছিল শুধু তার শখ নয়, তার ভালোবাসা, তার আবেগ, তার নিজের পরিচয় তৈরি করার একটা পথ।

স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ভুটানের ইন্ডিয়া হাউস, বিভিন্ন মঞ্চে নিজের নাচের মাধ্যমে সে সবার মন জয় করেছে। ঘরে একা সময় পেলেই সে ডান্স প্র্যাকটিস করত। এই একটি ছবি আমাদের অনেক বড় শিক্ষা দেয়, সাফল্য মঞ্চে দেখা যায়, কিন্তু তার জ/ন্ম হয় ঘরের ভেতরে, একান্ত অনুশীলনের সময়। যখন কেউ দেখে না, তখন যে শিশু নিজের স্বপ্নের জন্য পরিশ্রম করে, একদিন তাকেই সবাই দেখে।

বিবেকের এই যাত্রা খুব সহজ ছিল না। সে জয়গাঁও এর সমীর মন্ডল স্যারের কাছে নাচ শেখা শুরু করে। কিন্তু প্রতিভার পথ কখনও শুধু ফুল দিয়ে সাজানো থাকে না। তার নাচ শেখা নিয়েও বহু ক'টু'ক্তি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে, অনেকেই নিরুৎসাহ করেছে। কিন্তু এখানেই বিবেক আলাদা। সে থামেনি। কারণ যারা নিজের লক্ষ্যকে সত্যি ভালোবাসে, তারা মানুষের কথায় নয়, নিজের কাজেই উত্তর দেয়।

তারপর শুরু হয় আরও বড় লড়াই। কোচবিহারে অডিশন দিয়ে শুরু হয়েছিল তার বড় মঞ্চের যাত্রা। সেখান থেকে নির্বাচিত হয়ে সে পৌঁছে যায় কলকাতায়। এরপর এক মাসের কঠোর প্র্যাকটিস, শুটিং আর মানসিক চাপের মধ্যেও সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। টিভির জনপ্রিয় নাচের প্রতিযোগিতা “জিনিয়াস দ্য ডান্সিং স্টার সিজন ৪ – নাচের ম'হা'যু'দ্ধ”-এ সে ফার্স্ট রানারআপ হয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে।

এই পথচলায় সে শুধু ফাইনালেই পৌঁছায়নি, বরং পারফরম্যান্স অফ দ্য ডে হয়ে মেডেলও জিতেছে। বিচারকদের সামনে নিজের দ'ক্ষ'তা, আবেগ আর নাচের শক্তি এমনভাবে তুলে ধরেছে যে তারা মুগ্ধ হয়েছেন, এমনকি আবেগাপ্লুতও হয়েছেন। মহুয়া দাস, রোহিত চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসু, রাজিব বোস, রিতুজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং পুষ্পিতা মুখার্জির মতো বিচারকদের সামনে নিজেকে প্রমাণ করা কোনও সাধারণ বিষয় নয়।

সবচেয়ে অনুপ্রেরণার কথা হলো, গ্র্যান্ড ফিনালের সময় চোখে ব্য'থা পেয়েও সে থেমে যায়নি। এই একটি ঘটনাই বলে দেয়, সাফল্য শুধুমাত্র প্রতিভার জন্য আসে না; সাফল্য আসে সহ্যশক্তি, আত্মবিশ্বাস আর শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা থেকে।

বিবেকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে তার পরিবারের অবদানও। তার বাবা সুভাষ বাগিশ, একজন ছোট ব্যবসায়ী, আর মা দীপা বাগিশ, একজন প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা। সাধারণ পরিবার, কিন্তু অসাধারণ স্বপ্ন। তারা চেয়েছিলেন, তাদের ছেলে নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করুক। আর সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে তারা দুজনেই পুরোপুরি পাশে থেকেছেন। এই গল্প প্রতিটি অভিভাবককে মনে করিয়ে দেয়, সন্তানের প্রতিভাকে চিনুন, তাকে বিশ্বাস করুন, তাকে সমর্থন করুন। সব সন্তান একরকম হয় না, কিন্তু প্রত্যেক সন্তানের ভেতরেই বিশেষ কিছু থাকে।

বিবেক এর আগেও আসামে নাচ করেছে, ভুটানের ইন্ডিয়া হাউসেও পারফর্ম করেছে। আজ তার সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গোটা আলিপুরদুয়ার জেলা গর্বিত। সে আমাদের শিখিয়েছে, গ্রাম ছোট হতে পারে, পরিবার সাধারণ হতে পারে, বয়স কম হতে পারে; কিন্তু স্বপ্ন যদি বড় হয়, পরিশ্রম যদি সত্যি হয়, আর পরিবার যদি পাশে থাকে, তাহলে সাফল্য নিশ্চিত।

আজকের প্রত্যেক ছেলে-মেয়েদের বলব, নিজের ভালো লাগাকে ছোট করে দেখো না। যে কাজ তোমার মনকে আনন্দ দেয়, সেই কাজই একদিন তোমার পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। আর সব অভিভাবকদের বলব, সন্তানের উপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেবেন না, বরং তার ভেতরের আলোটা খুঁজে বের করুন। কারণ ঠিকমতো যত্ন পেলে, সেই ছোট্ট আলোই একদিন সূর্যের মতো জ্ব'লে উঠবে।

✍️ — অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ি চা, বাগানের এক ছোট্ট টিনের বাড়ি। দু’টি ছোট ঘর, সামান্য একটুকরো বারান্দা, আর চারদিকে অভাবের দীর্ঘ ...
03/05/2026

জলপাইগুড়ির হলদিবাড়ি চা, বাগানের এক ছোট্ট টিনের বাড়ি। দু’টি ছোট ঘর, সামান্য একটুকরো বারান্দা, আর চারদিকে অভাবের দীর্ঘ ছায়া।

সেখানেই বড় হয়েছে ১৭ বছরের কনক টোপনো। চারপাশের বাস্তবতা তাকে ছোট করে রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল অনেক বড়।

যে ঘরে হয়তো আরাম ছিল না, ছিল না পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা,
সেই ঘরেই কনক নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন বুনেছিল নীরবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ISC দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফলে ৯৫% নম্বর পেয়ে কনক শুধু নিজের পরিবারকেই নয়, গোটা এলাকাকেই চমকে দিয়েছে। আজ হলদিবাড়ি চা-বাগান জুড়ে তার সাফল্যের গল্পই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কনকের বাবা আনন্দপ্রকাশ টোপনো, চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। মা কান্তা টোপনো একজন গৃহবধূ। অভাব ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু মেয়েকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার স্বপ্ন কখনও ছাড়েননি তাঁরা।

পেনশনের সামান্য টাকায় সংসার চলত ক/ষ্টে। তাই আলাদা করে টিউশন পড়ানোর সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। কিন্তু কনক থেমে যায়নি। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাহায্য আর নিজের কঠোর অধ্যবসায়কেই সে বানিয়েছিল নিজের শক্তি।

ইংরেজিতে ৯২, হিন্দিতে ৯৫, ইতিহাসে ৯৫, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯৭, ভূগোলে ৯০ এবং পরিবেশবিদ্যায় ৮৮ নম্বর। এই ফল কেবল সংখ্যা নয়, এটি এক অসম লড়াইয়ের জয়গাথা।

কনকের স্বপ্ন এখন আরও বড়। সে চায় UPSC পাশ করে একজন IAS অফিসার হতে।

তার নিজের কথায়, “প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটেয় উঠে প্রায় ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতাম। মাঝে কিছুক্ষণ খেলতাম, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতাম। বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়াচ্ছেন। IAS অফিসার হয়ে তাঁদের সব কষ্ট দূর করতে চাই।”

এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক মেয়ের দায়িত্ববোধ, সংগ্রাম আর ভালোবাসা। একটি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে পড়াশোনা করেছে কনক।
তার শিক্ষিকা হৈমন্তী সাহা বলেন,
“কনকের কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না। নিজের চেষ্টাতেই এই ফল করেছে। আমরা শুধু পাশে থেকেছি।”

স্কুলের প্রিন্সিপাল ফাদার অ্যালবার্ট জোসেফও গর্বিত কনকের সাফল্যে। তার কথায়, “চা-বাগানের এত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে এমন ফল করা সত্যিই অনুপ্রেরণার।”

যে চা-বাগান এলাকায় বহু পড়ুয়া মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়, যেখানে কেউ কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে যায়,
আর অনেক মেয়ে অল্প বয়সেই চা পাতা তোলার কাজে যোগ দেয়, সেই বাস্তবতার মাঝখান থেকে কনক দেখিয়ে দিয়েছে, ইচ্ছে থাকলে পথ তৈরি হয়।

কনকের সাফল্য আজ শুধু তার নিজের নয়, এটি চা-বাগানের আরও হাজারো ছেলে-মেয়ের চোখে নতুন আলো জ্বালানো এক গল্প। কারণ বড় হতে গেলে বড় বাড়ি লাগে না, লাগে বড় মন, বড় স্বপ্ন, আর হার না মানা পরিশ্রম।

কনক টোপনো আজ প্রমাণ করেছে, ছোট্ট টিনের ঘর থেকেও একদিন দেশের প্রশাসনের সর্বোচ্চ আসনে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখা যায়। আর সেই স্বপ্নই একদিন বদলে দিতে পারে পুরো একটি সমাজের ভবিষ্যৎ।

✍️ — অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

বাবা নেই, মা পরিচালিকার কাজ করেন, শিলিগুড়ির সেই ছেলেই পেল JEE মেইনসে 99.1%!অ'ভা'ব কখনও স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না, এই ...
02/05/2026

বাবা নেই, মা পরিচালিকার কাজ করেন, শিলিগুড়ির সেই ছেলেই পেল JEE মেইনসে 99.1%!

অ'ভা'ব কখনও স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারে না, এই সত্যটাই আবারও প্রমাণ করলেন মালবাজারের কৃতি ছাত্র রূপায়ণ চন্দ। বাবা নেই। সংসারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তাঁর মা পরিচালিকার কাজ করেন। সীমিত আয়, এক কামরার ঘর, চারদিকে অনটন, এই ছিল তাঁর বেড়ে ওঠার বাস্তবতা। কিন্তু সেই বাস্তবতার মধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক অসাধারণ ভবিষ্যৎ।

কোনও নামিদামি কোচিং সেন্টার নয়, বড় শহরের বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধাও নয়, শুধু অনলাইন ক্লাস, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দিনের পর দিন নিরলস পরিশ্রম। আর সেই পরিশ্রমের ফল, JEE Main-এ ৯৯.১ পার্সেন্টাইল। এক অবিশ্বাস্য সাফল্য, যা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আইআইটি-র দোরগোড়ায়।

রূপায়ণের গল্প শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়, এটি সংগ্রামের, আত্মবিশ্বাসের এবং মায়ের ত্যাগের গল্প। যেখানে অনেকেই অজুহাত খোঁজেন, সেখানে তিনি খুঁজেছেন সুযোগ। যেখানে অনেকেই হাল ছেড়ে দেন, সেখানে তিনি ল'ড়া'ই করে গেছেন।

আজ রূপায়ণ শুধু মালবাজার বা শিলিগুড়ির গর্ব নন, তিনি হাজারো তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণা। তাঁর সাফল্য আমাদের শেখায়, স্বপ্ন বড় হলে, পথ যতই কঠিন হোক, জয় একদিন নিশ্চিত।

✍️— অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

পুলিশের চাকরিতে টানা ২০ বছর কাটানোর পর এক হাবলদার স্বেচ্ছায় অবসর(VRS)নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।এই খবর শুনে এসপি সাহেব নিজ...
02/05/2026

পুলিশের চাকরিতে টানা ২০ বছর কাটানোর পর এক হাবলদার স্বেচ্ছায় অবসর(VRS)নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
এই খবর শুনে এসপি সাহেব নিজেই তাকে অফিসে ডেকে পাঠালেন। কারণ তিনি জানতেন, এই মানুষটি শুধু একজন কর্মচারী নন, বরং একজন নিষ্ঠাবান, সৎ এবং অভিজ্ঞ পুলিশ সদস্য।
হাবলদার অফিসে ঢুকলেন। নিয়ম মেনে ‘সাবধান’ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলেন। এসপি সাহেব নিজের চেয়ারে বসে অনেকক্ষণ ধরে বোঝাতে লাগলেন,
“তোমার চাকরিতে তো সব সুযোগ-সুবিধা আছে। বেতন আছে, সম্মান আছে, নিরাপত্তা আছে। তাহলে কেন এই সিদ্ধান্ত? আর কয়েকটা বছর কাটিয়ে দিলে তো আরামেই অবসর নিতে পারতে!”
সময় কেটে গেল। এক ঘণ্টা… দুই ঘণ্টা…
হাবলদার একইভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার সামনে কয়েকটি চেয়ার খালি পড়ে ছিল, কিন্তু একবারও বলেনি, “বসুন।”
সবশেষে এসপি সাহেব প্রশ্ন করলেন,
“চাকরিতে তো সবই পাচ্ছ, তবে কেন চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছ?”
তখন হাবলদার মাথা তুলে শান্ত, স্থির কণ্ঠে বললেন,
“স্যার… আপনার সামনে চেয়ারগুলো খালি পড়ে থাকা সত্ত্বেও, আপনি এই দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে ‘সাবধান’ পজিশনে দাঁড় করিয়ে যা যা বোঝালেন…
ঠিক সেই কারণেই আমি চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে যাচ্ছি।”

কথাগুলো শুনে ঘরে নেমে এলো নিস্তব্ধতা। কারণ কিছু মানুষ শুধু বেতনের জন্য কাজ করে না। কিছু মানুষ কাজ করে মর্যাদার জন্য, সম্মানের জন্য, নিজের অস্তিত্বের মূল্য পাওয়ার জন্য। যেখানে একজন মানুষের বছরের পর বছর পরিশ্রমের থেকেও তার অবস্থান ছোট হয়ে যায়… সেখানে চাকরি থাকে, কিন্তু আত্মসম্মান থাকে না।

জীবনে অর্থের চেয়ে বড় হলো সম্মান। পদবীর চেয়ে বড় হলো মানবিকতা। আর আত্মসম্মানের চেয়ে মূল্যবান কিছুই নেই।
যে মানুষ নিজের সম্মানের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সে হারায় না বরং নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় জয় অর্জন করে।

02/05/2026

দিনহাটার সজলদার সিঙ্গারা, স্বাদের চেয়েও বড় এক আবেগের! ৩০ বছর ধরে একই জনপ্রিয়তা, একই স্বাদের গল্প!

#সিংড়া

সবজি বিক্রি করে যে মা সন্তানদের মানুষ করেছে, শেষ বয়সে সেই মায়েরই ঠাঁই হলো ভা'ঙা কুঁড়েঘরে!দুই ছেলের ঘরে আছে সবার জায়গ...
01/05/2026

সবজি বিক্রি করে যে মা সন্তানদের মানুষ করেছে, শেষ বয়সে সেই মায়েরই ঠাঁই হলো ভা'ঙা কুঁড়েঘরে!
দুই ছেলের ঘরে আছে সবার জায়গা, শুধু নেই মা জন্য একটু আশ্রয়, এর চেয়ে বড় নি'ষ্ঠু'র'তা আর কী হতে পারে?
এই মায়ের কথা শুনলে আপনার বুকেও কেঁ'পে উঠবে!

আমাদের চারপাশে উঁচু উঁচু ইমারত বাড়ছে, চাকচিক্য বাড়ছে, বাড়ছে আধুনিকতা। কিন্তু এই জৌলুসের আড়ালে কোথাও কি আমরা আমাদের বুকটা পাথর করে ফেলছি? সম্প্রতি 'Dil Khan' ফেসবুক পেজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়ে সজোরে একটা ধা'ক্কা দিয়েছে। এমন এক মায়ের গল্প, যিনি সবজি বিক্রি করে তার নিজের র/ক্ত জল করে দুই ছেলেকে মানুষ করেছেন, শিক্ষিত করেছেন। কিন্তু আজ সেই ছেলেদের আলিশান বাড়িতে নিজের জ/ন্ম/দা/ত্রী/র জন্য কয়েক ফুট জায়গাও অবশিষ্ট নেই। এর চেয়ে ল/জ্জা/র, এর চেয়ে নি/ষ্ঠু/র, এর চেয়ে অ'মা'ন'বি'ক দৃশ্য আর কী হতে পারে?

নচিকেতার সেই গানটি আজ প্রতিটি ইটের দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, "নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী, সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি।"

কি অদ্ভুত এই পৃথিবী তাই না! যে মায়ের আঙুল ধরে ছেলেরা হাঁটতে শিখেছে, আজ সেই ছেলেদের নিজেদের সন্তানদের জন্য আলাদা ঘর আছে, শৌখিন জিনিসের জন্য জায়গা আছে, শুধু নেই সেই মায়ের জন্য। মা পড়ে আছেন একটি ভা'ঙাচোরা কুঁড়েঘরে, যেখানে অ/ব/হে/লা, অ/স/হা/য়/ত্ব আর অ/সু/স্থ/তা তার নিত্যসঙ্গী। যে মা খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন, আজ সেই ছেলেদের কাছে মা হয়ে উঠেছেন এক বাড়তি 'বোঝা'।

তবে ওই, যার কেউ নেই তার ভগবান আছেন, যখন র/ক্ত সম্পর্কের আত্মীয়রা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন ঈশ্বর পাঠালেন দিল খানকে। না, কোনো র/ক্তে/র টান নেই, নেই কোনো পুরনো পরিচয়। শুধু মানবতার টানে ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ছুটে গেলেন সেই জী'র্ণ কুটিরে। যেখানে নিজের ছেলেরা শিক্ষিত হয়েও দায়িত্ব ভুলেছে, সেখানে দিল খান এক অপরিচিত হয়েও সেই মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিলেন। তাকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন, বৃদ্ধা অ/সু/স্থ মাকে নিজের হাতে ফল কেটে খাইয়ে দিলেন। এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন, যা ছিল সেই সন্তানদের দায়িত্ব।
তিনি শুধু সাহায্য করেই থেমে থাকেননি, ছেলেদের মুখোমুখি হয়ে তাদের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। ছেলেরা আশ্বস্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন একজন বাইরের মানুষকে এসে সন্তানদের শেখাতে হবে যে মা তাদের কাছে ঋণী নয়, বরং সন্তানরাই মায়ের কাছে চিরঋণী?

আচ্ছা, আমরা কোন দুনিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? মনে রাখবেন, আজ আপনি আপনার মায়ের সাথে যা করছেন, কাল আপনার সন্তান আপনার সাথে ঠিক সেটাই করবে। আপনি যদি আপনার সন্তানদের দামী শিক্ষা দেন কিন্তু 'মানুষ' না বানান, তবে সেই শিক্ষার কোনো মূল্য নেই।

আজ আমরা আধুনিক হয়েছি, শিক্ষিত হয়েছি, প্রযুক্তিতে এগিয়েছি, কিন্তু যদি নিজের বৃদ্ধ মা-বাবার চোখের জল দেখতে না পাই, তবে সেই শিক্ষা, সেই উন্নতি, সেই আধুনিকতার মূল্য কোথায়? যে ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্মান নেই, সে ঘরে শান্তি থাকতে পারে না। যে সন্তান বাবা-মায়ের প্রতি নি/ষ্ঠু/র, সে কখনও প্রকৃত অর্থে বড় মানুষ হতে পারে না, যত বড় পদেই সে থাকুক না কেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাবা-মা কখনো সন্তানের কাছে অতিরিক্ত কিছু চান না। তারা শুধু চান একটু খোঁজ, একটু যত্ন, একটু ভালোবাসা, আর শেষ বয়সে নি'রা'প'দ একটি আশ্রয়। তাদের চাওয়া খুব ছোট, কিন্তু আমাদের অবহেলা খুব বড়। তাই আজ সমাজের প্রতি, প্রতিটি সন্তানের প্রতি আমাদের আবেদন, নিজের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দিকে তাকান। তারা কতটা অসহায়, কতটা নির্ভরশীল, কতটা ভালোবাসা নিয়ে এখনো আপনাকেই আগলে রেখেছেন, সেটা অনুভব করুন। মনে রাখবেন, পৃথিবী আপনাকে অনেক পরিচয় দেবে, কিন্তু “মা-বাবার ভালো সন্তান” এই পরিচয়ের চেয়ে বড় সম্মান আর নেই।

✍️— অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

01/05/2026

ভারত ভুটান সীমান্তের ছোট্ট শহর থেকে বড় মঞ্চে সাফল্য! জয়গাঁও এর এই ছেলের নাচে কাঁ'পছে বাংলা! ফাইনাল মঞ্চে চোখে চো'ট পেয়েও, ছেলেটি নিজের নাচ থামায়নি!

লোকে বলেছিল, গ্রামের মেয়ের আবার নাচ? আজ সেই মেয়ে সর্বভারতীয় সংগীত শিক্ষা পরিষদ থেকে পেয়েছেন স্বর্ণপদক। ঝুলিতে রয়েছে...
30/04/2026

লোকে বলেছিল, গ্রামের মেয়ের আবার নাচ?
আজ সেই মেয়ে সর্বভারতীয় সংগীত শিক্ষা পরিষদ থেকে পেয়েছেন স্বর্ণপদক। ঝুলিতে রয়েছে “সংস্কৃতির সৈনিক” পুরস্কারও। যারা একদিন ‘দুর দুর ছাই ছাই’ করত, আজ তারাই বুক ফুলিয়ে বলে, "ফুলি আমাদের গ্রামের গর্ব।"

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, অভাব ও অপবাদ ছাপিয়ে গ্রামের মেয়ে ‘ফুলি’ আজ নৃত্যের গর্ব! রায়গঞ্জের রামপুর গ্রাম। এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জ/ন্ম পারমিতা শীলের যার ডাকনাম ফুলি। বাবা পরিমলবাবু পেশায় নাপিত, মা গৃহবধূ। ছোটবেলা থেকেই পারমিতার পড়াশোনায় ভালো ফল ছিল। অ'ভা'ব যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে নাচ শেখার স্বপ্ন দেখা অনেকটা বিলাসিতার মতো ছিল। কিন্তু পারমিতার দু-পায়ে তখন থেকেই ছিল ছন্দের দোলা। স্বপ্ন ছিল বড় নৃত্যশিল্পী হওয়ার, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সমাজ আর নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার।

স্কুলের প্রোগ্রামে বাবলু স্যারের উৎসাহে মাঝেমধ্যে নাচলেও, শাস্ত্রীয় নৃত্যের তালিম নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পারমিতার। কিন্তু ঈশ্বর বোধহয় অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন। ২০১৬ সাল। ফেব্রুয়ারি মাস। রামপুর ইন্দিরা উচ্চ বিদ্যাপীঠের বার্ষিক অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতা থেকে এলেন ওই স্কুলের সংস্কৃত শিক্ষক শুভেন্দু পোদ্দার এর স্ত্রী অর্পিতা বসু পোদ্দার ম্যাডাম। সেই শুরু। তিনি পারমিতার হাত ধরে বলেছিলেন, “চলে আয়, আমার বাড়িতে নাচ শিখবি।” আর সেই এক ডাকে শুরু হয় পারমিতার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। ম্যাম থেকে অর্পিতা দি হয়ে ওঠার সেই যাত্রাই বদলে দিল পারমিতার জীবন। দিদির হাত ধরে শুরু হলো রায়গঞ্জে ভরতনাট্যমের তালিম।

গ্রামের মানুষের কু'রু'চি'পূ'র্ণ মন্তব্য, বিদ্রুপ আর ‘ফুলি’ নামের আড়ালে থাকা সেই মেয়েটির প্রতি বাঁকা নজর বারবার তাকে থমকে দিতে চেয়েছে। সমাজ বলেছিল, "নাচ দিয়ে কী হবে?" কেউ বলেছিল, "গ্রামের মেয়ের আবার নাচ?" পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, যখন পরিবারও কিছুটা দোটানায়, তখন পারমিতার পাশে অন্ধের যষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তার ম্যাম অর্পিতা। তিনি শুধু একটি কথাই বলতেন, "আমি আছি, তুই এগিয়ে চল।"

সেই ল'ড়া'ই আজ সার্থক। অ'ভা'বে'র ঘরে বসে পারমিতা শুধু নাচই শেখেননি, একের পর এক জয় করেছেন সাফল্যের শিখর। সর্বভারতীয় সংগীত শিক্ষা পরিষদ আয়োজিত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক, ২০১৮ সালে লোকনৃত্যে গোল্ড মেডেল, উত্তরবঙ্গ ব্যাপী নৃত্য প্রতিযোগিতায় টানা তিন বছর পুরস্কার, ভরতনাট্যমে প্রথম, ক্রিয়েটিভ ডান্সে সাফল্য, রবীন্দ্রনৃত্যে দ্বিতীয় স্থান, এমনকি “সংস্কৃতির সৈনিক” পুরস্কারও তার ঝুলিতে। ছাত্র যুব উৎসবে টানা তিন বছর জেলা জিতে রাজ্য স্তরে অংশগ্রহণ, এসবই প্রমাণ করে, প্রতিভা যদি পরিশ্রমের সঙ্গে মেশে, তবে তাকে কেউ থামাতে পারে না। আজ তিনি শুধু একজন ছাত্রী নন, তিনি একাধারে ভরতনাট্যম, রবীন্দ্র নৃত্য এবং লোকনৃত্যে একজন দক্ষ শিল্পী।

পারমিতার অদম্য জেদ আজ তাকে এক নতুন পরিচয় দিয়েছে। তিনি আজ নিজেই একজন শিক্ষিকা। নিজের গ্রামেই গড়ে তুলেছেন নাচের স্কুল, 'মৃদঙ্গম'। মাত্র ৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে শুরু হওয়া সেই স্কুল আজ ৫০ জনেরও বেশি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যারা একদিন ‘দুর দুর ছাই ছাই’ করত, আজ তারাই বুক ফুলিয়ে বলে, "ফুলি আমাদের গ্রামের গর্ব।"

লড়াই কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। আজও পারমিতার নাচের স্কুলের জন্য নিজস্ব কোনো পাকা ঘর নেই। কখনো খোলা রাস্তা, কখনো বা প্রাইমারি স্কুলের বারান্দাই তাদের মঞ্চ। কিন্তু পারমিতার মনোবল তাতে এক ফোঁটাও কমেনি। তার চোখে আজ এক বড় স্বপ্ন, তিনি চান তার গ্রাম থেকে আরও হাজার হাজার পারমিতা উঠে আসুক, যারা অভাবকে ভয় পাবে না, যারা সমাজকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করবে।

পারমিতার এই গল্প আমাদের শেখায় যে, প্রতিভার কোনো সীমানা নেই। যদি পাশে একজন সঠিক পথপ্রদর্শক আর মনে পাহাড়প্রমাণ জেদ থাকে, তবে সাধারণ ‘ফুলি’ থেকে ‘সাফল্যের শিখরে থাকা পারমিতা’ হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। আজ রামপুর গ্রামের আকাশেও তাই ঘুঙুরের শব্দ শোনা যায়। যে শব্দ কেবল নাচের নয়, বরং এক মেয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর জয়ধ্বনি।

✍️ — অমিত কুমার সিংহ ( অমিত বাবু )

30/04/2026

বাজারে সবজি বিক্রি করা ছেলেটি আজ BSF হয়ে দেশ পাহারা দেবে। মা আয়য়ার কাজ করতেন, আত্মীয়রাও পরিচয় দিতে লজ্জা পেতেন!

Address

Cooch Behar
DINHATA

Telephone

+916295286636

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Cob untold posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to The Cob untold:

Share

Category