23/06/2026
বাচ্চাদের খোসপাঁচড়া বা স্ক্যাবিস একটি অত্যন্ত সংক্রামক চর্মরোগ। এটি মূলত একধরণের অতি ক্ষুদ্র পরজীবী কীটের কারণে হয়ে থাকে। সঠিক চিকিৎসায় পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়।
✅খোসপাঁচড়া কেন হয়?
◽মাইক্রোস্কোপিক কীট: এটি কোনো সাধারণ ময়লা বা ধুলাবালি থেকে সরাসরি হয় না। ‘সারকোপ্টিস স্ক্যাবিয়াই’ নামের একজাতীয় অতিক্ষুদ্র কীট (যা খালি চোখে দেখা যায় না) ত্বকের নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ডিম পাড়ে। এর ফলে ত্বকে তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
◽ছোঁয়াচে রোগ: আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এটি খুব দ্রুত ছড়ায়।
▪️বাচ্চা যদি আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির (পরিবারের সদস্য, খেলার সাথী বা ডে-কেয়ারের অন্য শিশু) ত্বক বা শরীরের সরাসরি সংস্পর্শে আসে।
▪️আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বিছানার চাদর, তোয়ালে, বালিশের কভার বা জামাকাপড় ব্যবহার করলে।
◽ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ: সাধারণত স্কুলে, ডে-কেয়ারে বা একই পরিবারে অনেক মানুষ একসাথে থাকলে একজন থেকে অন্যজনে এই কীট সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
✅লক্ষণগুলো কেমন হয়?
🔹তীব্র চুলকানি: বিশেষ করে রাতের বেলা চুলকানির তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়, যার কারণে বাচ্চার ঘুম ব্যাহত হয়।
🔹ছোট ছোট ফুসকুড়ি: আঙুলের ফাঁকে, কবজিতে, কনুইতে, বগলে, কোমরে বা কুচকিতে ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ি বা পানির দানার মতো দেখা যায়। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হাতের তালু, পায়ের তলা, এমনকি মাথায় ও ঘাড়েও এটি হতে পারে।
✅ খোসপাঁচড়া হলে করণীয় (চিকিৎসা ও যত্ন)
খোসপাঁচড়া দূর করতে হলে শুধু বাচ্চার যত্ন নিলেই চলে না, পুরো পরিবারের সচেতনতা প্রয়োজন।
চিকিৎসাঃ
ডাক্তারের পরামর্শে লোশন ব্যবহার: সাধারণত চিকিৎসকরা পারমেথ্রিন৫% ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
এই লোশনটি বাচ্চার ঘাড় থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরো শরীরে (কোথাও যেন বাদ না পড়ে, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, বগল ও নখের নিচে) ভালোভাবে লাগাতে হবে।
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় (সাধারণত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা) শরীরে রাখার পর সাবান দিয়ে ভালো করে স্নান করিয়ে দিতে হবে।
চুলকানি ও ইনফেকশনের ওষুধ: চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ এবং বাচ্চা চুলকানোর কারণে যদি ত্বকে কোনো ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেমন পুঁজ হওয়া) হয়ে থাকে, তবে অ্যান্টিবায়োটিক লাগানোর বা খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: পরিবারের কোনো একজন সদস্যের খোসপাঁচড়া হলে, লক্ষণ থাকুক বা না থাকুক, পরিবারের বাকি সব সদস্যেরই একই সাথে এই লোশনটি ব্যবহার করা উচিত। অন্যথায় একজন ভালো হলেও কয়েকদিন পর অন্যজনের কাছ থেকে আবার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
◽ঘরোয়া ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা:
▪️গরম জলে কাপড় ধোয়া: বাচ্চার ব্যবহৃত সব জামাকাপড়, বিছানার চাদর, বালিশের কভার এবং তোয়ালে অন্তত ৫-১০ মিনিট ফুটন্ত গরম পানিতে ফুটিয়ে ধুয়ে নিতে হবে এবং কড়া রোদে শুকাতে হবে।
▪️জীবাণুমুক্ত করার বিকল্প উপায়: যেসব জিনিস গরম পানিতে ধোয়া যায় না (যেমন বড় কম্বল বা খেলনা), সেগুলো একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে শক্ত করে মুখ আটকে অন্তত ৭ দিন আলাদা করে রেখে দিতে হবে। বাতাসে ও খাবারের অভাবে কীটগুলো ৩-৪ দিনের মধ্যে এমনিতেই মারা যায়।
▪️নখ ছোট রাখা: বাচ্চার হাতের নখ সবসময় ছোট ও পরিষ্কার রাখুন। নখ বড় থাকলে চুলকানোর সময় ত্বক ছিলে গিয়ে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে।