26/05/2026
১. বেশি বেশি তাওবাহ ও ইস্তিগফার করা
আরাফার দিন আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তাই এই দিনে নিজের পূর্বের সব গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন।
পড়তে পারেন: আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।
২. আরাফার দিনের বিশেষ জিকির
নবী কারীম (সা.) আরাফার দিনে একটি বিশেষ দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যা তিনি নিজে এবং পূর্ববর্তী নবীগণ বেশি বেশি পড়তেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের বলা শ্রেষ্ঠ দোয়াটি হলো:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।)
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
৩. আরাফার দিনের রোজা রাখা
যারা হজে যাননি (হাজি নন), তাদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম)
৪. তাকবীরে তাশরীক আদায় করা
৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষদের উচ্চস্বরে এবং নারীদের নিচুস্বরে একবার এই তাকবীর বলা ওয়াজিব:
তাকবীর: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
৫. দোয়ার জন্য বিশেষ সময় বের করা (বিশেষ করে আসরের পর)
আরাফার দিনের বিকেল বেলাটি (আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় দুনিয়ার আকাশে আল্লাহ তাআলা বিশেষ রহমত নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গৌরব করেন।
সব ব্যস্ততা সরিয়ে রেখে কিবলামুখী হয়ে, হাত তুলে নিজের, পরিবারের এবং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য মন খুলে দীর্ঘ দোয়া করুন।
একটি ছোট পরামর্শ: আরাফার দিনটি যেন মোবাইল স্ক্রলিং বা দুনিয়াবি গল্পগুজবে কেটে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সকাল থেকেই তাসবীহ, তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং দরুদ শরীফ পড়ার মাধ্যমে জিহ্বাকে ভেজা রাখুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই দিনের বরকত নসিব করুন। আমিন।
পারলে সবাই একটু বেশি করে শেয়ার করে দিয়ো