16/09/2025
✋👉পরকীয়া শুধুই ‘বিনা লাইসেন্সে শরীর ভোগ’-এর ছাড়পত্র
অন্যের স্বামীর শরীরের ঘ্রাণ বা অন্যের স্ত্রীর উষ্ণ নিঃশ্বাসের নেশা কতটা তীব্র হতে পারে? কতটা ভয়ংকর আকর্ষণ থাকলে একজন মানুষ তার নিজের বিশ্বস্ততার ঘরকে জেনেশুনে আগুনে ঠেলে দেয়? আমি ফারহানা, একজন নারী হিসেবে আজ সেই নিষিদ্ধ জগতের কথা বলতে এসেছি, যে জগতের চাকচিক্য আর উত্তেজনা বাইরে থেকে আমাদের প্রলুব্ধ করে, কিন্তু যার ভেতরে কেবলই অন্ধকার, প্রতারণা আর আত্মার অবক্ষয়।
আপনারা যাকে বলেন পরকীয়া, আমি তাকে বলি ‘চরিত্রের ক্যানসার’। এই ক্যানসারের জন্য সমাজ সব সময় আঙুল তোলে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির দিকে। ‘ওই মেয়েটা ডাইনি, ঘর-ভাঙানি’, অথবা ‘ওই ছেলেটা সুযোগসন্ধানী, পরের বউকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেল’। কী সহজ, তাই না? সমস্ত দোষ একজন বাইরের মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের পবিত্র প্রমাণ করা!
কিন্তু আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই। যে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, সেই দরজাটা বাইরের একজন মানুষ কীভাবে খুলল? চোর তো তখনই ঘরে ঢোকে, যখন ঘরের মালিক নিজেই দরজা খুলে দেয়। পরকীয়ার খেলায় তৃতীয় ব্যক্তিটি হয়তো সেই চোর, কিন্তু আসল বিশ্বাসঘাতক তো সে, যে নিজের ঘরের দরজা অন্যের জন্য খুলে দিয়েছিল। যে আপনার হাত ধরেছিল, সে-ই তো প্রথম আপনাকে তার গোপন পৃথিবীতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
"আপনি যাকে 'রাজকুমার' বা 'রাজকন্যা' ভেবে অন্যের ঘর ভাঙছেন, মনে রাখবেন, তার চরিত্রটাই আসলে কলঙ্কিত।"
ভেবে দেখুন তো, যে পুরুষ নিজের সন্তানের মায়ের চোখে ধুলো দিয়ে, তার স্ত্রীর বিশ্বাসকে বুটের তলায় পিষে আপনার কাছে ছুটে আসে রাতের অন্ধকারে শরীরী উত্তাপের খোঁজে, সে কি সত্যিই আপনার ‘রাজকুমার’? তার ভালোবাসা কি এতটাই খাঁটি? যে নারী তার স্বামীর সংসারের প্রতিটা ইঁটে জমানো ভালোবাসাকে অস্বীকার করে আপনার বুকে আশ্রয় খোঁজে, সে কি আসলেই একজন ‘নির্যাতিতা রাজকন্যা’?
না! এটা কোনো রূপকথা নয়। এটা এক নোংরা বাস্তব। আপনি যাকে আপনার জীবনের নায়ক বা নায়িকা ভাবছেন, সে আসলে তার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় খলনায়ক। যে নিজের জীবনসঙ্গীকে দিনের পর দিন ঠকাতে পারে, সে একটা আস্ত প্রতারক। আর একটা কথা মনে গেঁথে নিন - "যে পুরুষ নিজের স্ত্রীকে ঠকায়, বা যে নারী তার স্বামীকে ঠকায়, সে আপনাকেও ঠকাবে।" এটা কোনো অভিশাপ নয়, এটাই চরিত্র। তার রক্তে মিশে আছে বেইমানি। আজ সে তার সঙ্গীর সাথে যা করছে, কাল পরিস্থিতি বদলালে আপনার সাথেও ঠিক তাই করবে। কারণ সে ভালোবাসতে জানে না, সে জানে শুধু নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে।
পরকীয়া কি শুধুই ‘বিনা লাইসেন্সে শরীর ভোগ’-এর ছাড়পত্র?
আসুন, আরও গভীরে যাই। এই সম্পর্কের আসল উদ্দেশ্যটা কী? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে পুরুষদের জন্য, পরকীয়া হলো বিনা খরচে, বিনা দায়িত্বে শরীর ভোগ করার একটা সহজ উপায়। নিজের স্ত্রী হয়তো পুরনো হয়ে গেছে, তার শরীরের ভাঁজে এখন আর নতুনত্ব নেই। তাই বাইরে একটু তাজা মাংসের স্বাদ নিতে ক্ষতি কী? এই পুরুষগুলো আপনাকে ভালোবাসার স্বপ্ন দেখাবে, আপনার জন্য আকাশের চাঁদ এনে দেওয়ার গল্প শোনাবে, কিন্তু এরা কখনোই আপনাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাইবে না।
কেন চাইবে না জানেন? কারণ সংসার করার জন্য যে দায়িত্ব, যে সামাজিক স্বীকৃতি লাগে, সেটা তো তার ঘরেই আছে। আপনি তার জীবনে কেবল একটা ডেজার্ট, একটা সাময়িক উত্তেজনা। আপনি তার কাছে একটা ‘এক্সাইটিং প্রজেক্ট’, যার সাথে কোনো কমিটমেন্টের বালাই নেই। যখনই আপনি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেবেন, বা সম্পর্কের স্বীকৃতি চাইবেন, দেখবেন আপনার সেই ‘রাজকুমার’ কেমন করে গিরগিটির মতো রং বদলায়। কারণ তার উদ্দেশ্য আপনাকে পাওয়া নয়, আপনার শরীরটাকে ভোগ করা।
একইভাবে, যে নারীরা পরকীয়ায় জড়ান, তাদেরও অনেকে কেবল স্বামীর উপর প্রতিশোধ নিতে, বা নিজের একঘেয়ে জীবনে একটু উত্তেজনা খুঁজতে এই পথে পা বাড়ান। তারাও হয়তো জানেন, এই সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এটা কেবলই একটা নিষিদ্ধ ফলের স্বাদ নেওয়ার সাময়িক আয়োজন।
দোষটা কার? সমাজের, প্রতারকের, নাকি আপনার নিজের?
আমি জানি, এই লেখাটা পড়ার পর আপনার মনে হচ্ছে, তাহলে আমি কী ভুল? আমার কি কোনো দোষ নেই?
হ্যাঁ, আপনারও দোষ আছে। আপনার দোষ, আপনি একটা মিথ্যাকে বিশ্বাস করেছেন। আপনি জেনেবুঝে একটা ভাঙা আয়নায় নিজের মুখ দেখতে চেয়েছেন। আপনি এমন একজনের হাত ধরেছেন, যার হাত ইতিমধ্যেই রক্তে ভেজা—বিশ্বাসের রক্তে। আপনি অন্যের সাজানো সংসারে আগুন লাগিয়ে সেই আগুনের উত্তাপে নিজের শরীর সেঁকে নিতে চেয়েছেন।
সমাজ সেই তৃতীয় ব্যক্তিকেই দোষ দেবে, কারণ এটাই সবচেয়ে সহজ। কিন্তু আসল সত্য হলো, এই পাপের ভাগীদার তিনজনই। প্রথম ও প্রধান দোষী সেই প্রতারক পুরুষ বা নারী, যে নিজের সঙ্গীকে ঠকিয়েছে। দ্বিতীয় দোষী আপনি, কারণ আপনি জেনে শুনে সেই পাপে নিজেকে জড়িয়েছেন। আর তৃতীয় দোষী আমাদের এই সমাজ, যা সম্পর্কের ভেতরের ফাঁকফোকর বা মানসিক দূরত্বের সমাধান না খুঁজে, কেবল বাহ্যিক দোষারোপের খেলায় মেতে ওঠে।
আজ আপনি যার জন্য নিজের সম্মান, নিজের সময়, নিজের পবিত্রতা নষ্ট করছেন, কাল যখন সে আপনাকে ছেড়ে তার ‘নিরাপদ’ সংসারে ফিরে যাবে, তখন আপনার পাশে কে থাকবে? সমাজ আপনাকে ‘নষ্টা’ বা ‘চরিত্রহীন’ বলে গালি দেবে, আর সেই প্রতারক মানুষটা নিজের পরিবারে ফিরে গিয়ে একজন ‘ভালো স্বামী’ বা ‘ভালো স্ত্রী’ সাজার অভিনয় করবে।
খেলাটা তখন শেষ হয়ে যাবে, আর আপনি রয়ে যাবেন একা, একজন পরাজিত সৈনিক হিসেবে। আপনার হাতে থাকবে শুধু একরাশ লজ্জা, অপমান আর বুকভাঙা কষ্ট।
তাই ভাবুন। আবারও ভাবুন। অন্যের এঁটো প্লেটে খাওয়ার মধ্যে কোনো গৌরব নেই। অন্যের ভেঙে যাওয়া বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে নিজের সুখের প্রাসাদ গড়া যায় না। যে মানুষটা তার নিজের নয়, সে কখনোই আপনার হতে পারে না।
আজ অন্যের ঘর ভাঙার আগুনে যে উত্তাপ নিচ্ছেন, কাল সেই আগুনেই আপনার নিজের সাজানো স্বপ্ন পুড়ে ছাই হবে না তো? উত্তরটা আপনার আয়নার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
✅ যারা প্রতিদিন এমন সব আর্টিকেল পড়তে চান,, তারা পেজটা ফলো করে রাখতে পারেন। সময় করে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। Copy