19/05/2026
রাজনীতিকদের পোশাকআশাক (পর্ব ১)
পিনাকপাণি ঘোষ
২০১৪ সালের ১৫ অগস্ট। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান দেখার আগ্রহ সে বার একটু বেশিই ছিল। কারণ, বড় শক্তি নিয়ে অনেক দিন পরে ক্ষমতায় অকংগ্রেসি সরকার। নরেন্দ্র মোদী ছিলেন নির্বাচনে বিজেপির মুখ। সেই মুখ হাওয়া তৈরি করতে পেরেছিল। যে ‘হাওয়া’ নির্বাচনের পরেও রয়ে গিয়েছিল। গোটা নির্বাচন পর্বেই মোদী নিজেকে বাকিদের থেকে এমনকি, নিজের দলের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর থেকেও আলাদা করে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। তবে তিনি একা সেই কাজটা করেননি। তাঁর পোশাকআশাকও আলাদা হয়ে উঠতে অনেক সাহায্য করেছিল। আর স্বাধীনতা দিবসে তিনি লালকেল্লায় হাজির হলেন এক অন্য বেশে। যা আগে কেউ দেখেনি। তাঁর আগের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ শিখ হিসাবে তো সব সময়েই পাগড়ি পরতেন। কিন্তু মোদীও! সূর্যের প্রথম কিরণের মতো ছিল সেই পাগড়ির রং। রাজস্থানী ধাঁচের পাগড়ি। একটি অংশ ঝুলে পড়েছে মোদীর পিঠে। সেই অংশ আবার সবুজ। হাঁটার সময়ে যা প্রধানমন্ত্রীর কাঁধ ছাপিয়ে ডান হাতের উপরে এসে পড়ছিল।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম স্বাধীনতা দিবসে মোদী কী কী বলেছিলেন তা এখন আর কারই বা মনে রয়েছে! কিন্তু মনে রয়েছে সেই পাগড়ির কথা। এর পরে তিনি প্রতি বছর বৈচিত্রের পাগড়িকে যেন স্বাধীনতা দিবসের পোশাক করে ফেলেন। এখন ওটাই রীতি হয়ে গিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তা বদলাবে বলে মনে হয় না। বিজেপিতে মোদীর উত্তরসুরিরা সম্ভবত বদলাতে চাইবেন না। কারণ, পাগড়ি অনেক কথা বলেছিল। টানা কংগ্রেস শাসনে থাকা ভারত এ বার ‘বিশ্বগুরু’ হতে চাইবে বলে যে দাবি মোদী প্রথম থেকেই করেছিলেন, তার বার্তা ছিল ওই পাগড়িতে।
রাজনীতিকদের সব সময়েই অন্য পেশার মানুষদের তুলনায় বেশি কথা বলতে হয়। সেই বলার কাজে পোশাকও যদি যোগ দেয় মন্দ কি! কারণ, আমরা জানি পোশাক কথা বলে। ব্যক্তিত্ব বোঝানোর সঙ্গে সঙ্গে পছন্দ, অপছন্দ, সমর্থন, বিরোধিতা অনেক কিছু বলে দেয়। আবার রাজনীতির প্রধান কথা— ‘আমি তোমাদেরই লোক’ বলে দেয় তো পোশাকই। সর্বক্ষেত্রেই ফ্যাশন কিছু না বলেও মতামত প্রকাশে সহায়তা করে। রাজনৈতিক ফ্যাশনের ধারণাটি খুবই বিস্তৃত এবং এতে সংস্কৃতি ও মতাদর্শের একাধিক পরিবর্তনশীলতা রয়েছে। ‘ফ্যাশন’ ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করারও ক্ষমতা রাখে।
তবে রাজনীতিকরা ফ্যাশন নিয়ে বিশেষ কথা বলতে চান না। সেটাকেও একটা ফ্যাশন বলা যেতে পারে। অনেকেই পোশাকের প্রশংসা করলে ‘আমি অত ভেবে পরি না’, ‘লোকে ভালবেসে যা দেয়, তাই পরি’ ইত্যাদি বলে থাকেন। তবে সবাই তেমন নন। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন মোদী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ‘ফ্যাশন স্টেটমেন্ট’ ছিল সবচেয়ে বেশি সরব। বুকে লাল গোলাপ রাখলেও মুখ বরাবরই প্রকাশ্যে বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু তেমনটা নন মোদী। ফলে তাঁর কথা এই লেখায় একটু বেশিই আসবে।
চলবে।