31/05/2026
পেশা বনাম সেবা
পেশা কী আর সেবা কী, এ দুটো নিয়েও আমাদের মধ্যে বিরাট অস্পষ্টতা। দুটো দুই জিনিস, একটাকে আরেকটা বানিয়ে নিলে মহাসমস্যা। মেডিকেল সেক্টরে যারা আসতে চায় (ডাক্তার, নার্স) বা শিক্ষকতা-ওকালতি পেশায় যারা আসতে চায়, তাদের মনে এরকম একটা প্রশ্ন তৈরি হয় যে, আমি পেশা করছি, নাকি সেবা?
প্রথমত, এটা 'চ্যারিটি' অর্থে সেবা নয়। এটা 'সার্ভিস' অর্থে সেবা। এর সাথে মানবতার সম্পর্ক নেই, এর সাথে সম্পর্ক কাস্টমারকে যথাযথ সার্ভিস দেয়ার।
এটাকে বলা হয় প্রফেশনালিজম বা পেশাদারিত্ব। সুতরাং এই 'সেবা' শব্দটি মানবতা অর্থে নয়, বরং 'পেশা' অর্থেই আসবে, কাস্টমার টাকার বিপরীতে প্রাপ্য সার্ভিসটা পাচ্ছে কিনা। প্রফেশনালিজম হচ্ছে, তোমাকে একজন মানুষ একটা কাজ করার জন্য ৫০ টাকা দিচ্ছে। সুতরাং তোমাকে এই ৫০ টাকায় পূর্ণাঙ্গ যে সার্ভিসটা দেওয়ার কথা, সেই সার্ভিসটা তোমাকে পূর্ণাঙ্গ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো গড়িমসির সুযোগ নেই। এটা হল পেশার মনোভাব।
আর তুমি যখন সেবা করবে মানবতা অর্থে, তখন সেটা সম্পূর্ণ মন দিয়ে করতে পারবে না। মনে হবে আমি তো সেবা করছি, যা করছি এটাই অনেক, একরকম করলেই হলো। কোনোরকম একটা হলেই হল। দেখ সেবাকে পেশা, আর পেশাকে সেবা বানানোর বিপদ। পেশাকে পেশার জায়গাতেই রাখতে হবে, সেবাকে সেবা হিসেবেই দেখতে হবে।
আমরা যেহেতু ছোটবেলা থেকেই বলছি: আমি শিক্ষক হতে চাই, দেশের সেবা করতে চাই। আমি ডাক্তার হতে চাই, মানুষের সেবা করতে চাই। এই যে সেবা করতে চাই শিখেছি একটা কথা, এর ফলে আমাদের পেশাটা যে পরিমাণ সিরিয়াসলি করার প্রয়োজন, তা আমরা হারিয়ে ফেলি। আমরা প্রত্যেকেই নিজের প্রফেশনটাকে সেবা বলে দাবি করি, এবং সেবা বলে দাবি করার ফলে এটা আমার নিজের মর্জি মাফিক হয়ে যায়। এখানে আমার সিরিয়াসনেস থাকে না, দায়বদ্ধতা থাকে না। তখন কাস্টমার আমার কাছে কী পায় সেটা মুখ্য থাকে না, বরং সেবার বিনিময়ে আমি কাস্টমারের কাছে যথেষ্ট সম্মান-কৃতজ্ঞতা পাচ্ছি কিনা সেটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
তুমি যখন একটা ব্যবসা করবে, সেটাও তোমাকে পেশাদারিত্বের সাথে করতে হবে। তোমার কাস্টমারের স্বার্থের দিকে তোমাকে লক্ষ রাখতে হবে। যারা তোমার অধীনে কাজ করছে, তোমার স্টাফ-কর্মচারী-সাপ্লায়ার; তাদের স্বার্থের দিকে তোমাকে লক্ষ রাখতে হবে। যেকোনো পেশাজীবী যদি মনে করে, আমি সেবা করছি, সুতরাং করছি এই তো বেশি, এটা তো সেবাগ্রহীতার কপাল যে আমি চেম্বারে বসেছি আজকে- এমন যদি মনে করা হ