22/01/2026
এ কেমন লীলা?
---------------------
এক ইহুদি নারী মুহম্মদ আসলেই নবী কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য তাকে ও তার এক সাহাবিকে বিষ মিশ্রিত ছাগলের মাংস খাওয়ান। সহিহ হাদিস অনুযায়ী, মুহম্মদ তার মৃত্যুর সময়ে আয়েশাকে বলেন তিনি সেই বিষক্রিয়া অনুভব করছেন, যার ফলে তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছিল। মুসনাদে আহমদ-এর একটি সহিহ হাদিসে এসেছে, নবী এক টুকরো মাংস খেয়ে ফেলেন, অতঃপর ঐ ছাগলের একটি হাড় তাকে জানিয়ে দেয় এই মাংসে বিষ আছে। অনেক ইসলামিক স্কলার বলতে চান, ছাগলের হাড়ের এই জানিয়ে দেওয়া ছিল মুহম্মদের মুজেজা। কিন্তু এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসবে, মুহম্মদের মুজেজা এত স্লো কেন? এক টুকরো মাংস পেটে যাওয়ার আগে এই মুজেজা কাজ না করে পরে কাজ করলো কেন? কয়েক সেকেন্ড আগে এই মুজেজা সক্রিয় হলে তো আর বিষমিশ্রিত মাংস পেটে যেত না, আর মৃত্যুর সময় তার বিষক্রিয়ার কষ্টও হত না। আমি সহজভাবে যেভাবে বুঝি, মাংস মুখে নেওয়ার পরই তিনি ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছিলেন, ঐ ইহুদি মহিলা মাংসে বিষ মিশিয়েছে। কিন্তু তখন আর কিছু করার নাই, মাংস ইতোমধ্যেই মুহম্মদের পেটে চলে গেছে। আমি ইসলামের যতই সমালোচনা করি না কেন, আমি সেখানে উপস্থিত থাকলে মুহম্মদকে ঐ মাংস খেতে দিতাম না, যাতে তার বিষক্রিয়ার কষ্ট না হয়, সে ব্যবস্থা করতাম।
কিন্তু আমার প্রশ্ন যে, আল্লাহ জয়নবের সাথে বিয়ের পর সাহাবিরা যখন দাওয়াত খেয়ে মুহম্মদের ঘরে আড্ডা দিচ্ছিল, তখন আল্লাহ আয়াত নাজিল করেনঃ
"আর আহার শেষ হলে বের হয়ে যেও, কথা বলতে বসে থেকো না; এ কর্মটি নবীর জন্য কষ্টদায়ক, কিন্তু তিনি তোমাদের প্রতি লজ্জাবোধ করেন। আল্লাহ লজ্জা বোধ করেন না সত্য কথা বলায়..."
[সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৩],
সেই আল্লাহ কেন ছাগলের মাংসে বিষ আছে তা নবীকে জানালেন না? সাহাবিরা খানাপিনা করার পর মুহম্মদের ঘরে আড্ডা দিচ্ছে, যা নবীর জন্য বিরক্তিকর—এমন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আল্লাহ সরাসরি আয়াত নাজিল করছেন, আর ঐদিকে তার প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ মানবকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে, তা নিয়ে আল্লাহ টু শব্দ করছেন না কেন? এ কেমন আল্লাহ, যার কাছে তার প্রেরিত নবী মুহম্মদকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলার প্রচেষ্টার চাইতে তাকে আড্ডা দিয়ে বিরক্ত করার বিষয়টা অধিক গুরুত্বপূর্ণ? এই আয়াত পড়লে আমার মনে হয়, মুহম্মদ সংকোচের কারণে যখন সাহাবিদের তার বাসা ত্যাগ করতে বলতে পারছিলেন না, তখন তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজের বিরক্তি আল্লাহর নামে নিজেই প্রকাশ করেন।