16/09/2026
পানিসাগরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাকে পুলিশের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু এই ঘটনার পরই উঠছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অসম থেকে আসা একটি ট্রাক যদি পানিসাগর পর্যন্ত পৌঁছে প্রায় ৫০ কেজি ইয়াবা নিয়ে যেতে পারে, তাহলে বাগবাসা ও চুড়াইবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টে কেন সেটি আটকানো গেল না? দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পার হয়ে ট্রাকটি কীভাবে পানিসাগর পর্যন্ত পৌঁছল?
যদি গোটা চালানটি এত বড় হয়, তাহলে চুড়াইবাড়ি বা বাগবাসায় নিয়মিত তল্লাশির সময় সেটি নজরে এল না কেন? পানিসাগরে গিয়ে তবেই কেন এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হলো?
আরও একটি প্রশ্ন—এটি কি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি একইভাবে আরও অনেক মাদকবাহী যানবাহন বিভিন্ন চেকপোস্ট পার হয়ে যাচ্ছে? সীমান্ত ও আন্তঃরাজ্য সড়কপথে নজরদারি এবং নাকা চেকিং ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে।
মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ গড়ার কথা বলছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশের এই অভিযান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একইসঙ্গে প্রশ্ন হচ্ছে—মাদকবিরোধী অভিযান যদি সত্যিই কার্যকর হয়, তাহলে বাগবাসা ও চুড়াইবাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ পেরিয়ে এত বড় চালান কীভাবে পানিসাগর পর্যন্ত পৌঁছাল?
উদ্ধার হওয়া মাদকের পাশাপাশি এই প্রশ্নগুলোরও স্বচ্ছ তদন্ত ও উত্তর প্রয়োজন। কারণ শুধু চালান আটক করাই নয়, মাদক কীভাবে রাজ্যে ঢুকছে এবং কোন কোন পথ ব্যবহার করে তা বন্ধ করাও নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।