13/08/2026
যাঁদের আত্মত্যাগ আর অদম্য সাহসিকতার ইতিহাস আমাদের স্বাধীনতার ভীত শক্ত করেছে, তাঁদের মধ্যে এমন কিছু নারী ও মায়েরা আছেন, যাঁদের অবদানকে কোনোদিন ম্লান হতে দেওয়া যায় না। ইতিহাসের পাতায় পুরুষদের পাশাপাশি এমন কিছু মহীয়সী নারী নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে গেছেন, যাঁদের ছাড়া আমাদের স্বাধীনতার গল্প অসম্পূর্ণ।
আজ স্মরণ করি সেই বীর নারীদের, যাঁদের ভূমিকা আমাদের এই স্বাধীনতার প্রতিটা অপূর্ণ অক্ষরকে পূর্ণ করে তুলেছে:
🔥 বেগম হজরত মহল: অদম্য সাহসের প্রতীক
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় লখনউয়ের মাটিতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধের ঝড় উঠেছিল, তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বেগম হজরত মহল। নবাব ওয়াজিদ আলী শাহর নির্বাসনের পর তিনি শুধু নিজের রাজ্য রক্ষা করতেই এগিয়ে আসেননি, বরং লখনউয়ের রণাঙ্গনে নিজে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ বাহিনীকে তীব্র চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও মহাশক্তিধর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাঁর সেই আপসহীন লড়াই আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।
🇮🇳 অরুণা আসিফ আলী: ১৯৪২-এর বিপ্লবী মানবী
ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা ১৯৪২-এর গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ অরুণা আসিফ আলী। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট বোম্বাইয়ের অগালিয়া ময়দানে ব্রিটিশ সরকারের শত চোখ ফাঁকি দিয়ে কংগ্রেসের পতাকা উত্তোলন করে তিনি বিপ্লবের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভূগর্ভস্থ থেকে আন্দোলন পরিচালনা করা এবং ‘ গ্র্যান্ড ওল্ড লেডি অব ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স’ হিসেবে পরিচিত হওয়া এই নারী প্রমাণ করেছিলেন দেশের টানে কতটা অবিচল থাকা যায়।
🤲 আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের মা (বি আম্মা): দেশপ্রেমের এক অনন্য মূর্ত প্রতীক
মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলী—যাঁরা খেলাফত আন্দোলন এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক বিশাল ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের এই দেশপ্রেমের পেছনে প্রেরণা ছিলেন তাঁদেরই মা, যাঁকে আমরা ‘বি আম্মা’ বা আমাদি বেগম নামে চিনি। পর্দা প্রথার বেড়াজাল ভেঙে তিনি জনসভায় দাঁড়িয়ে ব্রিটিশবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশের জন্য উৎসর্গ করতে শিখিয়েছিলেন। তিনি শুধু দুই বিপ্লবী নেতার জননীই ছিলেন না, বরং গোটা জাতির কাছে এক আদর্শ ‘মাতা’ হয়ে উঠেছিলেন।
এই মহান নায়িকারা আমাদের শিখিয়েছেন—স্বাধীনতা কেবল কিছু নিয়মের পরিবর্তন নয়, এটি আত্মত্যাগ, জেদ আর মুক্তির এক অন্তহীন লড়াই। তাঁদের এই নিঃস্বার্থ অবদান ও অদম্য আত্মত্যাগের কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আজকের দিনে আমাদের এই বীর নারীদের প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ সালাম ও গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। 🇮🇳❤️