21/10/2024
আকাশ নীল দেখা যায় কেন? অন্য রং নয় কেন?
আকাশ নীল দেখার পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হল রেলেই বিক্ষেপণ (Rayleigh scattering) প্রক্রিয়া, যা আলোর বিভিন্ন রঙের বিক্ষিপ্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।
সূর্যের আলো এবং তার উপাদান
সূর্যের আলোকে সাদা আলো বলা হয়, যা বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সমন্বয়ে গঠিত। এই আলোতে সাতটি মূল রং থাকে—বেগুনি, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা, এবং লাল। প্রতিটি রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন, যেমন লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দীর্ঘ (প্রায় ৭০০ ন্যানোমিটার) এবং বেগুনি ও নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ছোট (প্রায় ৪০০-৪৫০ ন্যানোমিটার)।
রেলেই বিক্ষেপণ (Rayleigh Scattering)
আকাশ নীল দেখার মূল কারণ হল বায়ুমণ্ডলের গ্যাস কণাগুলোর দ্বারা সূর্যের আলো বিক্ষিপ্ত হওয়ার প্রক্রিয়া, যাকে রেলেই বিক্ষেপণ বলে। সূর্যের আলো যখন বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন আলো বায়ুমণ্ডলে থাকা নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন কণার সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই প্রক্রিয়ায় ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশি বিক্ষিপ্ত হয়, বিশেষ করে নীল ও বেগুনি রঙ।
নীল রং কেন প্রাধান্য পায়?
যদিও বেগুনি রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য নীলের চেয়ে ছোট, কিন্তু আমাদের চোখ বেগুনি রঙের প্রতি তুলনামূলকভাবে কম সংবেদনশীল। এছাড়া, সূর্য থেকে আসা বেগুনি রঙের আলো বায়ুমণ্ডলে শোষিতও হয় বেশি। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে নীল রঙের আলো বেশি বিক্ষিপ্ত হয় এবং আমাদের চোখে তা স্পষ্টভাবে আসে।
অন্য রং কেন নয়?
লাল, কমলা, ও হলুদ রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ার কারণে, এগুলি তেমনভাবে বিক্ষিপ্ত হয় না। এগুলি তুলনামূলকভাবে সরাসরি প্রবাহিত হয় এবং সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময়, যখন সূর্যের আলো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, তখন এই রঙগুলি আকাশে দেখা যায়।
সংক্ষেপে,
আকাশ নীল দেখার মূল কারণ হলো সূর্যের আলো বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার পর ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রঙের (বিশেষ করে নীল) অধিক বিক্ষিপ্ত হওয়া। বেগুনি রঙ তুলনামূলক কম দেখা যায় কারণ আমাদের চোখ সেটার প্রতি কম সংবেদনশীল এবং বায়ুমণ্ডল দ্বারা এটি বেশি শোষিত হয়।