15/10/2023
উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েরা চা বেচবে, ঘুগনি বানাবে ভালো কথা৷ কেউ মাস্টারডিগ্রি চা ওয়ালা হবে৷ কেউ ইঞ্জিনিয়ার ঘুগনিওয়ালা। এতে খারাপ কী! শুনতেও ভাল্লাগে৷ আপনিও সচেতন ভোটার, সংবেদনশীল ব্যক্তি, তাই বলে দিলেন – চা বেচা কি খারাপ নাকি? কোনও কাজই ছোট নয়।
তাছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ঘুগনি বেচার মধ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার আছে৷ জমিজমা বন্ধক রেখে বিএড করে শিক্ষিকতা করার স্বপ্ন নিয়ে চা বিক্রি করার মধ্যেও সমাজকে শিক্ষিত করার সুযোগ রয়েছে৷ চা ঢালতে ঢালতে পিথাগোরাসের উপপাদ্যটা বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ কি নেই?
'কোনও কাজই ছোট নয়' বিষয়টা খুবই মনোরম৷ কিন্তু সেই ছোট কাজগুলো সাধারণ বাড়ির ছেলেপুলেদের জন্যই৷ এই ছোট কাজ করতে নেতার ছেলেমেয়েদের দেখবেন না৷ তাঁরা টেট পাশ করুন বা না করুন, সার্টিফিকেট জাল করে হলেও একটা চাকরি বাগিয়ে নেন। কিন্তু কেন? কারণটা আপনিও জানেন৷ তাও বলেন – কোনও কাজ ছোট নয়৷
কাজ ছোট নয়, কিন্তু কেউ তাঁর মতো কাজ করতে চাইলে সেই সু্যোগ দিতে না পারাটা সরকারের ব্যর্থতা এটা আপনি বলতে পারছেন না কেন স্যার?
যাঁরা ঘুগনি বেচার তাঁরা বেচছেন৷ চায়ের দোকানের অভাব নেই৷ রাজনৈতিক মঞ্চ অনুপ্রেরণা না দিলেও যিনি চা বিক্রি করবেন, চপ ভাজবেন, তিনি আপনা থেকেই করবেন৷ কিন্তু যে ছেলেটি বা মেয়েটি চপ ভাজতে এতদূর পড়াশোনা করেননি, চাকরিটা যাঁর কাছে শুধু স্বাবলম্বী হওয়া নয় – একটা স্বীকৃতিও বটে৷ তিনি কোথায় যাবেন?
যিনি বলছেন চা বিক্রি করো, তাঁর পরিবারের কেউ কি চা বিক্রি করেন? কাশফুল দিয়ে বালিশ বানানোর ঠিকেদারি নিয়েছেন? উত্তর না৷ এগুলো তাঁরা কখনও করবেন না৷ তাঁরা চাকরি বাগাবেন৷ আর ব্যবসা করলেও তাঁদের জন্য আছে সরকারি প্রভাব খাটিয়ে খাদান, খনি, বালি ইত্যাদি৷ হাজার আর কয়েক হাজার কোটির তফাৎটা এখানেই৷
অন্যের ছেলেকে চপ ভাজতে বলে নিজের গোপালটিকে রাজার হালে রাখা ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার আগে দুবার ভাবুন৷ পাবলিকের ট্যাক্সের পয়সায় বাবুগিরি করে যিনি বলেন – আর দিতে পারছি না৷ তিনি নিজ ট্যাঁকশাল থেকে টাকা দেন? তাহলে বারবার কেন বলেন – দিতে পারছি না, দিতে পারবো না, বেশি চাইবেন না?
মানুষ কি এঁদের কাছে সত্যিই ভিখারি হয়ে গেছে? হয়ত তাই।
✍️ Mir Imran