25/06/2025
হাতে লেখা মোট ১২০০ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি; দশ বছর ধরে লেখা। A-5 সাইজের বই করা হলে পৃষ্ঠাসংখ্যা হয়তো দেড় হাজার ছুঁতো। তাই বইটি করা হলো A-4 সাইজে; এবং তথাপি, ৬৫০ পৃষ্ঠারও বেশী হয়েই গেলো। এই ব্যঙ্গ-উপন্যাস বাংলা গদ্যভাষায় লেখা এমন এক মহাকাব্য, যা আজ অবধি কখনো কোনো বাঙালী লেখক লেখেন নি, লিখে উঠতে পারেন নি; এবং সম্ভবতঃ, আগামী পাঁচশো কিংবা একহাজার বছরেও কেউ পারবেনও না। এ বই একবিংশ শতাব্দীর অধঃপতিত বাঙালী সভ্যতার এক শাণিত, জ্বলন্ত, বিস্ফোরক সামাজিক-রাজনৈতিক দলিল; এ বই একুশ শতকের অবক্ষীয়মান বাঙালী সমাজের অকপট দর্পণ; এ বই সমকালীন বাংলার পচতে-গলতে থাকা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের এক parallel universe-এর কুৎসিত রূপকথা; বাঙালী জাতির সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাসে, এই গ্রন্থ এক "unrepeatable solo classic epic masterpiece"! আধুনিক বাংলা গদ্যভাষার তথা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিগত সোয়া-দু'শো বছরের পরম্পরায়, বাঙালী সমাজ ও সেই সমাজের পাঠক-পাঠিকারা যেসব লেখকদের ঈশ্বর বলে পূজা করে এসেছেন এবং এখনো করেন, তাঁরা কেউ যেসব কথা তাঁদের লেখায় কোথাও বলেন নি, কখনো বলেন নি, কোনোভাবেই বলেন নি, সেই সমস্ত কথা এই বইতে লিখেছেন নীলোৎপল রায় --- অকুতোভয়, বেপরোয়া, আনসেন্সর্ড। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আটাত্তর বছর ধরে, ভারতীয় রাজনীতির যে ইতিহাস আমাদের কখনো জানতে দেওয়া হয় নি; ভারতীয় অর্থনীতির যে ইতিহাস আমাদের কাছ থেকে সবসময় লুকিয়ে রাখা হয়েছে; বাঙালী সমাজের যে সত্যিকারের গর্বের ঐতিহ্যগুলিকে ও বাংলা সাহিত্যের যে আসল Stalwart লেখকদেরকে তথা তাঁদের মণিমুক্তাবৎ সৃষ্টিগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অচর্চিত রেখে বিস্মৃতপ্রায় করে দেওয়া হয়েছে; বাঙালীর সাহিত্য জগতে যেভাবে প্রকৃত উৎকর্ষতাকে ধামাচাপা দিয়ে রেখে লিলিপুট লেখকদের প্রোপাগাণ্ডা করে প্রাতিষ্ঠানিক hegemony কায়েম করা হয়েছে; এবং বাঙালীর সাংবাদিকতা জগতে যেভাবে নিরপেক্ষতাকে নষ্ট করে দিয়ে রাজনৈতিক hegemony কায়েম করা হয়েছে; সেই সমস্ত না-বলা ঘটনা, না-শোনা কাহিনী, না-জানা বৃত্তান্তগুলির কড়চা এই উপন্যাসে কথিত হয়েছে --- রূপকধর্মী আখ্যানে। আর সবচেয়ে বড় কথা, বাংলা গদ্যভাষার সাহিত্যে, এবং বাংলা সাহিত্যের গদ্যভাষায়, এ এক এমন র্যাডিক্যাল নির্মাণ, যা বাঙালী সাহিত্যিকদের তৈরী করা, বাংলা গদ্যের বিগত সোয়া-দু'শো বছরের ডৌল চুরমার করে দিয়ে, সেই ছাঁচ থেকে বাংলা উপন্যাসকে সম্পূর্ণ বের করে এনে, এক অভিনব নিরীক্ষামূলক এযাবৎ-অদেখা শৈলীতে, ভাষায়, ও আঙ্গিকে লেখা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর আত্মঘাতী বাঙালীর আত্মার আয়না হয়ে প্রতীয়মান এই মহাকাব্যিক গদ্য-উপন্যাস, যা পড়া কোনোদিনই শেষ হবে না, এবং যা আপনাকে সারাজীবন ধরে পড়ে যেতে হবে, শীঘ্রই আমরা তুলে দেবো, আপনাদের হাতে। পর্দার চরিত্র নীলকণ্ঠ বাগচীর পুনর্জন্ম হয়েছে, উপন্যাসের চরিত্র নীলোৎপল হয়ে তিনি ফিরে এসেছেন, "যুক্তি, তক্কো আর গপ্পো" নিয়ে ... ভাবুন, ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন।
(ছবি : ২৫-শে ডিসেম্বর ২০১৮)
লেখক ও প্রকাশক
সাত বছর আগে এক সন্ধ্যায়
#নীলোৎপলবধকার্নিভাল
#নীলোৎপলরায়
Nilotpal Roy Somnath Bhattacharya Sudeshna Das