25/11/2025
স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকে বেশ কয়েকজন প্রধানশিক্ষক এই বিদ্যালয়ের দায়িত্বভার সামলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন----
আমলাজোড়া উচ্চ বিদ্যালয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তির বছরে তৎকালীন অবিভক্ত বর্ধমান জেলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত একটি ছোট জনপদের অধিবাসীরা নিজেদের সন্তান সন্ততির পড়াশোনার জন্য গড়ে তুলেছিলেন এই বিদ্যালয়টি। প্রথমে প্রাথমিক, পরে জুনিয়র হাই সকুল, এবং সবশেষে ১৯৭৮ সালে এই বিদ্যালয়টি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানোর স্বীকৃতি পেল।
এই স্কুলটি বরাবরই আমলাজোড়া গ্রাম তো বটেই, আশেপাশের রাজবাঁধ, মাণিক আড়া, ধোবাঘাটা, বাবনাবেড়া, মোবারকগঞ্জ, বিহারপুর প্রভৃতি গ্রামের অধিবাসীদের প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে। এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে এই বিদ্যালয়টির নাম সুবিদিত।
স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকে বেশ কয়েকজন প্রধানশিক্ষক এই বিদ্যালয়ের দায়িত্বভার সামলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শশধর সরকার, যমুনা বিহারী মজুমদার, মদন মোহন কর্মকার ও ত্রিলোচন মন্ডল। শ্রী ত্রিলোচন মণ্ডল দীর্ঘকাল এই বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষকের গুরুদায়িত্ব পালন করে ২০০৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তার এক বছর পরে এই শিক্ষাঙ্গনের প্রাঙ্গনে শুভাগমন ঘটে আজকে যাঁর অবসরকালীন সংবর্ধনা সভায় আমরা সকলে সমাগত হয়েছি, সেই মাননীয় সন্দীপ চক্রবর্তী মহাশয়ের।
সন্দীপবাবু যখন প্রধানশিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন বিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীর কলরবে পরিপূর্ণ হলেও তার পরিসর ছিল সঙ্কীর্ণ। শ্রেণিকক্ষের অভাব ছিল, পরিকাঠামোরও উন্নয়নের প্রয়োজন ছিল। সন্দীপবাবু তাঁর স্বভাবসিদ্ধ দূরদর্শিতাকে কাজে লাগিয়েও ধীরে ধীরে সে উন্নয়নের কাজে হাত লাগালেন। তাঁর উদ্যোগে তৈরি হল পুরাতন ভবনে কয়েকটি নূতন শ্রেণীকক্ষ।
পরবর্তীকালে এই বিদ্যালয়ে স্থাপিত হল বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিভাগ। দূর হল এই অঞ্চলের বহু মানুষের একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুবিধা। প্রধানশিক্ষক অনুভব করলেন বিদ্যালয়টিকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার প্রয়োজন। তাঁর তৎপরতায় ২০১১ সালে শুরু হল কলাবিভাগের পঠন পাঠন।
তার পূর্বে সেই সময়ের পরিচালন সমিতির সম্পাদক ও গ্রামের অন্যান্য শুভানুধ্যায়ী মানুষের সহায়তায় গ্রামের প্রান্তে একটি বৃহৎ জমিতে স্থাপিত হল সম্পূর্ণ নূতন একটি সকুল বিল্ডিং। ধীরে ধীরে প্রধানশিক্ষকের উদ্যোগে স্টীল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অনুদানে গড়ে উঠল আজকের এই সুপ্রশস্ত বহুকক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয়ভবনটি।
বহু ইতিহাসের, বহু উত্থানপতনের সাক্ষী আমাদের সর্বজনপ্রিয় সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক শ্রী সন্দীপ চক্রবর্তী মহাশয়। তিনি একদিকে যেমন পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়েছেন বর্তমান পরিচালন সমিতির সভাপতি ও সদস্যদেরকে পাশে নিয়ে, অন্যদিকে তেমনই বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন, নিয়ম-শৃঙ্খলা, সহপাঠ্যক্রমিক কার্য্যাবলীতেও এনেছেন নতুন জোয়ার। তাঁর নেতৃত্বে সহশিক্ষক শিক্ষিকারা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুনতর উচ্চতায় তুলে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
গত ৩০ শে সেপ্টেম্বর আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় মাননীয় সন্দীপ চক্রবর্তী দীর্ঘ একুশ বছরের কর্মজীবন সম্পাদন করে কালের নিয়মে অবসর গ্রহণ করেছেন। তাঁর ত্যাগ, তিতিক্ষা, কর্মপ্রাণতা আমাদের সকলের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশা রাখি, তিনি দীর্ঘ ও নীরোগ জীবন লাভ করবেন, ও অবসরোত্তর কাল নুতনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করবেন। (স্ক্রিপ্ট লেখা সহযোগিতা করেছেন মাননীয় প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়)