Hello India Bangla

Call Directions Contact the business

Hello India Bangla I am a creator of YouTube channel "Hello India Bangla".

I used to go every corners of Bengal and other states to highlight hidden and forgotten religious places, temples eminent saints.

রহস্যময় তারাপীঠ মহাশ্মশান…
04/10/2026

রহস্যময় তারাপীঠ মহাশ্মশান…

তারাপীঠ মহাশ্মশান …
04/10/2026

তারাপীঠ মহাশ্মশান …

ভিড়িঙ্গী শ্মশান কালী মন্দির, মায়ের ভোগ খাচ্ছেন বুড়ি মা...
04/10/2026

ভিড়িঙ্গী শ্মশান কালী মন্দির, মায়ের ভোগ খাচ্ছেন বুড়ি মা...

তারাপীঠ মহাশ্মশানে প্রবেশের মুখে বামদেবের মূর্তি …
03/10/2026

তারাপীঠ মহাশ্মশানে প্রবেশের মুখে বামদেবের মূর্তি …

মধ্যাহ্নে আহার সমাপন করে সবাই যখন বিশ্রাম নিচ্ছেন, সেই সময় বামাখ্যাপা দ্বারকার তীরে একটি বৃক্ষের নীচে চুপ করে বসে আছেন।...
03/10/2026

মধ্যাহ্নে আহার সমাপন করে সবাই যখন বিশ্রাম নিচ্ছেন, সেই সময় বামাখ্যাপা দ্বারকার তীরে একটি বৃক্ষের নীচে চুপ করে বসে আছেন।
স্থানটি ঘন বৃক্ষরাজিতে আচ্ছাদিত—অতি নির্জন, নিস্তব্ধ এবং ভয়াবহ। চারদিকে শিয়ালের দল ছিঁড়ে খাচ্ছে অর্ধদগ্ধ মৃতদেহের অবশেষ। আর শকুনেরা পাখা মেলে হানা দিচ্ছে সেই মাংস ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। এমন বীভৎস দৃশ্যের মধ্যেও ঠাকুর একপাশে বসে আছেন সম্পূর্ণ নিবিষ্টচিত্তে, যেন বাইরের জগতের কোনো কিছুর সঙ্গেই তাঁর আর কোনো সম্পর্ক নেই।
এমন সময় নদীর ওপার থেকে সামান্য জল ঠেলে একজন গৌরিকবসন পরিহিত জটাজুটধারী সন্ন্যাসী এসে উপস্থিত হলেন। কপালে তাঁর সিঁদুরের বিন্দু, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা, কাঁধে ঝুলি। তিনি অত্যন্ত ভক্তিভরে ঠাকুরকে প্রণাম করে তাঁর পাশে এসে বসলেন।
ঠাকুর তাঁকে দেখে বললেন—
— “এসো বাবা, কিছু আছে নাকি?”
সন্ন্যাসী বললেন—
— “হ্যাঁ বাবা।”
এই বলে তিনি তাঁর ঝুলি থেকে গাঁজা ও কলকে বের করলেন। গাঁজা সাজিয়ে বেশ মৌজ করে দুজনে সেবন করলেন।
কিন্তু অসাবধানতাবশত সন্ন্যাসী কলকের আগুনটি ঠাকুরের পাশেই ফেলে রেখে মন্দিরের দিকে চলে গেলেন।
যেদিকে আগুন পড়েছিল, ঠাকুর সেই দিকের পা তুলে বসেছিলেন। পাশে আগুন জ্বলছে—সেদিকে তাঁর কোনো হুঁশ নেই। তাঁর দৃষ্টি তখনও যেন অন্তর্লোকে নিবিষ্ট।
কখন যে তিনি সেই জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর উরু চেপে বসেছেন, কখন তাঁর রোম ও চামড়া পুড়ে গিয়েছে—সেদিকে তাঁর কোনো খেয়ালই নেই। তিনি বসে আছেন একেবারে নির্বিকারভাবে। যন্ত্রণা, কষ্ট—কোনো কিছুই যেন তাঁকে স্পর্শ করছে না।
এমন সময় বিশেষ কোনো প্রয়োজনে বহু অনুসন্ধান করে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন দুর্গাদাস চক্রবর্তী মহাশয়—ঠাকুরের এক প্রিয় ভক্ত।
চক্রবর্তী মহাশয়কে দেখে বামাখ্যাপা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তাঁকে নিজের পাশে বসানোর জন্য পা তুলে বসলেন।
হঠাৎ চক্রবর্তী মহাশয়ের চোখে পড়ল, বাবার উরুতে অঙ্গার লেগে আছে। তিনি তাড়াতাড়ি সেই অঙ্গার সরিয়ে দিলেন। তারপর ক্ষতটি ভালো করে দেখে বিস্মিত হয়ে বললেন—
— “বাবা! আপনার উরুটা তো পুড়ে একেবারে ক্ষত হয়ে গেছে!”
বামাখ্যাপা যেন ছোট্ট শিশুর মতো চমকে উঠলেন।
— “হ্যাঁ! বলেন কী বাবা! তাহলে কী হবে বাবা?”
চক্রবর্তী মহাশয় বললেন—
— “ভয় নেই বাবা। ওষুধ লাগালেই সেরে যাবে।”
বামাখ্যাপা বললেন—
— “তাহলে বাবা, এখনই দিন।”
চক্রবর্তী মহাশয় তখন পান্ডাদের ঘর থেকে ওষুধ আনতে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে একটি কচু পাতায় খানিকটা রেড়ির তেল নিয়ে ফিরে এলেন। তিনি সেই তেল বাবার ক্ষতে লাগিয়ে দিয়ে বললেন—
— “এইবার বাবা সেরে যাবে।”
বামাখ্যাপা শান্তভাবে বললেন—
— “সেরে তো যাবে?”
— “হ্যাঁ বাবা, সেরে যাবে।”
— “বেশ বাবা, বেঁচে থাকো বাবা।”
এই কথা বলে বামাখ্যাপা আবার মায়ের চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলেন। ক্ষত, যন্ত্রণা কিংবা নিজের শরীর—কোনো কিছুতেই তাঁর আর কোনো ভ্রুক্ষেপ রইল না।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর চক্রবর্তী মহাশয় জিজ্ঞাসা করলেন—
— “বাবা, কামরিপু কোন গুণের মধ্যে?”
বামাখ্যাপা বললেন—
— “ভোগের পথে তমোগুণপ্রধান। তা না হলে রজোগুণাত্মক। নিবৃত্তির পথে রজঃসমভাবাপন্ন। তন্ত্রমতে কাম শুভত্বমারক, জীবত্ববিধায়ক।”
চক্রবর্তী মহাশয় আবার জিজ্ঞাসা করলেন—
— “বাবা, কামরিপুকে নষ্ট করা যায় কী করে?”
বামাখ্যাপা সঙ্গে সঙ্গে বললেন—
— “নষ্ট করবি কীরে শাল! জয় করবি বল।”
চক্রবর্তী মহাশয় মাথা নত করে বললেন—
— “হ্যাঁ বাবা।”
বাবাখ্যাপা বলতে লাগলেন—
— “কাম দমন হলে ক্রোধরূপে প্রকাশ পায়। ঈশ্বর কামের বশ নয়, জীব কামের বশ। কাম কখনো নাশ হয় না বাবা—তাকে জয় করতে হয়।”
তিনি আরও বললেন—
— “কামের অধিষ্ঠান ইন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধি। প্রবৃত্তি দমনই কামজয়ের একমাত্র উপায়। মহাদেব মদনকে ভস্ম করেছিলেন, কিন্তু রতির কঠোর সাধনায় প্রীত হয়ে মদনকে পুনর্জীবিত করেছিলেন।”
চক্রবর্তী মহাশয় জিজ্ঞাসা করলেন—
— “বাবা, মন্ত্রের প্রয়োজন কেন?”
বামাখ্যাপা বললেন—
— “মন নিয়েই তো যা কিছু। মনকে বশে রাখবার জন্যই মন্ত্র-তন্ত্রের সৃষ্টি হয়েছে।”
চক্রবর্তী মহাশয় আবার জানতে চাইলেন—
— “সাধকের চরম লক্ষ্য কী, বাবা?”
বামাখ্যাপা উত্তর দিলেন—
— “সর্বভূতে ভগবান দর্শন এবং ভগবানের মধ্যে সর্বভূত দর্শনই সাধকের চরম লক্ষ্য বাবা।”
চক্রবর্তী মহাশয় বললেন—
— “হিন্দুধর্ম বড় জটিল বাবা।”
বামাখ্যাপা হেসে বললেন—
— “জটিল হবে কেন রে শাল? এরকম উদার ও সরল ধর্ম আর কিছুই নেই বাবা। সর্বজীবের হিতসাধনাই হল হিন্দুধর্মের প্রধান সাধনা।”
চক্রবর্তী মহাশয় আবার প্রশ্ন করলেন—
— “চরম তত্ত্ব কী, বাবা?”
বামাখ্যাপা বললেন—
— “শিব চরম তত্ত্ব, আর শক্তি তাঁর বাহ্যিক প্রকাশ। এই বাহ্যিক প্রকাশ থেকে শিবত্ব লাভ করাই হল চরম তত্ত্ব।”
এরপর চক্রবর্তী মহাশয় জিজ্ঞাসা করলেন—
— “পরমাগতি কাকে বলে?”
বামাখ্যাপা বললেন—
— “পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় যখন মনুষ্যের সঙ্গে অন্তর্মুখ হয়ে অবস্থান করে এবং বুদ্ধি কোনো কাজে প্রবৃত্ত হয় না, যোগীরা সেই অবস্থাকেই পরমাগতি বলেন।”
এই বলে ঠাকুর আবার নীরব হয়ে গেলেন।
চারপাশে তখনও সেই শ্মশানের নিস্তব্ধতা। দূরে শিয়ালের ডাক, আকাশে শকুনের উড়ে বেড়ানো, আর দ্বারকার তীরে বৃক্ষের নীচে বসে আছেন খ্যাপা ঠাকুর—শরীরের যন্ত্রণা ভুলে, সংসারের সমস্ত বন্ধন অতিক্রম করে, মগ্ন হয়ে আছেন জগজ্জননী তারামায়ের চিন্তায়।

03/10/2026

চিতাই আমার ঘর, তারাপীঠ...

ক্ষীণশ্রোতা দ্বারকা নদ পার হয়ে মণিগোস্বামী নামে এক দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ যুবক একদিন ভৈরবের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। যুবককে দেখ...
03/10/2026

ক্ষীণশ্রোতা দ্বারকা নদ পার হয়ে মণিগোস্বামী নামে এক দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ যুবক একদিন ভৈরবের সম্মুখে উপস্থিত হলেন। যুবককে দেখেই বামাক্ষ্যাপা মৃদু হেসে বললেন, “ওরে শালা, স্বপ্নে যে তুই তারা-বীজ পেয়েছিস!”
ছলছল নেত্রে বাবার পদযুগল স্পর্শ করে যুবক প্রার্থনা জানালেন, “বাবা, আপনার কৃপায় যখন স্বপ্নে তারামন্ত্র পেয়েছি, তবে আমায় সন্ন্যাস দিন।”
বামাখ্যাপা মৃদু হেসে বললেন, “সন্ন্যাস দেব কিরে বাবা? তোকে যে বিয়ে করে সংসারই করতে হবে। পরে তারামাই তোকে সন্ন্যাস দেবেন।”
এই কথা বলে বাবা তাঁর পিঠে মৃদু করাঘাত করলেন।
কিছুদিন তারাপীঠে শচী পাণ্ডার বাসায় থাকার পর মণিগোস্বামী নিজের বাড়ি চব্বিশ পরগনার অন্তর্গত স্বরূপনগরের বাঙলানি গ্রামে ফিরে এলেন। তাঁর পিতা ছিলেন প্রভাস গোস্বামী এবং মাতা হেমাঙ্গিনী দেবী। পুত্রের মধ্যে ক্রমশ যে উদাসীন ভাব প্রকাশ পাচ্ছিল, তা লক্ষ্য করে তাঁরা হরিপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ দেন।
পরবর্তীকালে মণিগোস্বামীজির তিন পুত্র ও তিন কন্যার জন্ম হয়। ১২৮১ বঙ্গাব্দের ১৭ই পৌষ তাঁর জন্ম হয়েছিল।
কিন্তু সংসারজীবনের মধ্যেও তাঁর মন ক্রমশ আধ্যাত্মিক সাধনার দিকে আকৃষ্ট হতে থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আত্মিক উন্নতির আকাঙ্ক্ষায় তিনি মনপ্রাণ দিয়ে শ্মশানসাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। কঠোর সাধনার মধ্য দিয়ে একের পর এক সিদ্ধিলাভও তাঁর জীবনে ঘটে বলে কথিত আছে।
অধিকাংশ সময় তাঁকে তারামায়ের জন্য শিশুর মতো কাঁদতে দেখা যেত। তাঁর এই গভীর মাতৃভক্তি ও ভাবাবেশ দেখে বসিরহাটের সাধারণ মানুষই তাঁকে ভালোবেসে “তারাখ্যাপা” নামে অভিহিত করেন।
দীর্ঘ সাধনজীবনের পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ উপস্থিত হয়। ১৩৭২ বঙ্গাব্দের ২৮শে আশ্বিন, রবিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বসিরহাটের কালিমায়ের মন্দিরে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, সেই মুহূর্তে তিনি তাঁর আরাধ্যা তারামায়ের সঙ্গেই লীন হয়ে যান।

মায়ের প্রসাদ বিতরণ হচ্ছে, তারাপীঠ …
02/10/2026

মায়ের প্রসাদ বিতরণ হচ্ছে, তারাপীঠ …

লগেন কাকাকে হঠাৎ বামাক্ষ্যাপা বললেন,“লগেন কাকা, বিলিতি কারণ আর ফলের গন্ধ আমার নাকে লাগছে কেন?”নগেন্দ্র পাণ্ডা ও অন্যান্য...
01/10/2026

লগেন কাকাকে হঠাৎ বামাক্ষ্যাপা বললেন,
“লগেন কাকা, বিলিতি কারণ আর ফলের গন্ধ আমার নাকে লাগছে কেন?”
নগেন্দ্র পাণ্ডা ও অন্যান্য ভক্তরা অবাক হয়ে গেলেন। শ্মশানের চারদিকে তাঁরা খুঁজে দেখলেন, কিন্তু কোথাও কোনো কারণ বা ফলের চিহ্ন পেলেন না। বরং চারদিকে শুধু পচা অস্থি, কঙ্কাল আর গলিত শবদেহের দুর্গন্ধ।
সেই দুর্গন্ধে নাক চাপা দিয়ে তাঁরা বাবার কাছে ফিরে এসে বললেন,“কোথাও তো বাবা, আমরা কিছু দেখতে পেলাম না। শুধু পচা শবের দুর্গন্ধই পেলাম।”
বাবা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বললেন,
“না রে লগেন! আমার নাকে তো ভুরভুর করে গন্ধ আসছে। যেখানে কঙ্কাল, অস্থি আর গলিত শব ছাড়া আর কিছুই নেই, সেখানে এমন সুগন্ধ কী করে আসতে পারে?”
বাবার কথা শুনে উপস্থিত ভক্তরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন। কেউই ঘটনার রহস্য বুঝতে পারলেন না।
এর কিছুক্ষণ পরেই মন্দিরের দিক থেকে হইচই শোনা গেল।
তেরোশো তেরো সালের কথা। দারভাঙার মহারাজা ধীরাজ রামেশ্বর সিং বাহাদুর বহু শিপাহী-সান্ত্রী সঙ্গে নিয়ে খ্যাপা বাবাকে দর্শন করতে এসেছেন।
জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক, তকমা লাগানো পাগড়ি আর সশস্ত্র পাহারাদারদের দেখে বাবা ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ে গেলেন। পুলিশকে বাবা বরাবরই ভয় ও অবিশ্বাস করতেন।
তিনি লগেন কাকাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“লগেন কাকা, ওরা কারা?”
লগেন কাকা বললেন,
“বাবা, আপনার কোনো ভয় নেই। দারভাঙার মহারাজা এসেছেন আপনার সঙ্গে দেখা করতে। আর ওরা তাঁর সান্ত্রী-পাহারাদার।”
বাবা অবাক হয়ে বললেন,
“সে কী লগেন কাকা! আমি তো সামান্য ভিক্ষু। আমার কাছে আবার রাজা-রাজড়া কেন? তাহলে তো আমাকে পালাতে হয়!”
নগেন্দ্র পাণ্ডা ও ভুবতী নাথ পাণ্ডা বাবাকে অনেক বুঝিয়ে সাহস দিলেন। কিন্তু এত সান্ত্রী-পাহারাদার দেখে বাবা তখনও অস্বস্তিতে।
তাই নগেন্দ্রনাথ পাণ্ডা মহারাজের লোকদের বললেন,
“আপনারা মন্দিরে ফিরে যান। মহারাজ যেন সাধারণ পোশাকে একাই বাবার কাছে আসেন।”
বাবা তখন একেবারে সাধারণ মানুষের মতো বসে আছেন। মনে মনে শুধু সুযোগ খুঁজছেন—একবার পালাতে পারলেই হয়! সুযোগ পেলেই সটান কুণ্ডের গভীর জলে ডুবে আত্মগোপন করবেন।
কিন্তু ভুবতী পাণ্ডা ও অন্যান্য ভক্তরা এমনভাবে বাবাকে ঘিরে বসেছিলেন যে পালানোর কোনো সুযোগই তিনি পাচ্ছিলেন না।
কিছুক্ষণ পর মহারাজা সাধারণ পোশাকে এক হাতে বিলিতি কারণের বোতল এবং অন্য হাতে ফলপাকুড় নিয়ে বাবার কাছে এসে হাজির হলেন।
মহারাজকে দেখে বাবা জিজ্ঞেস করলেন,
“ভুবু কাকা, এ আবার কে?”
ভুবতী পাণ্ডা বললেন,
“বাবা, ইনি খুব ভালো মানুষ। দারভাঙার মহারাজা। আপনার ভক্ত। আপনার জন্য কারণ আর ফল নিয়ে এসেছেন।”
মহারাজ অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বললেন,
“বাবা, আপনার কোনো ভয় নেই। আমি আপনার একজন সামান্য ভক্ত। আপনার জন্য কারণ আর ফল এনেছি। সেবা করুন বাবা।”
বাবা সরলভাবে বললেন,
“বেশ বাবা, রাজা ধীরাজ! বাবা, বেঁচে থাকো। তোমার দুটো ছেলে হোক।”
এই বলে বাবা তাঁকে আশীর্বাদ করলেন।
মহারাজ তখন বিনীতভাবে বললেন,
“বাবা, আমি অপুত্রক বলেই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। আশীর্বাদ করুন, যেন বংশরক্ষার জন্য পুত্রসন্তান লাভ করি।”
বাবা বললেন,
“নিশ্চয়ই হবে বাবা। তারা মা বললে একটাও নয়—দুটো হবে। নিশ্চয়ই হবে।”
এরপর নগেন্দ্রনাথ পাণ্ডা বাবার হাতে কারণের বোতল তুলে দিলেন। বাবা বললেন,
“লগেন কাকা, বোতলটা খুলুন তো। একবার ফট করে দিই। আমাদের রাজা বাহাদুর খুব ভালো লোক।”
বোতল খোলা হলো। বাবা একটু কারণ ঢেলে কালু কুকুরকে খেতে দিলেন।
কিন্তু কালু তা খাওয়ার পরিবর্তে ঘৃণায় মুখ বাঁকিয়ে নিল।
কালু কারণ না খাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে বাবার মেজাজ বদলে গেল। রুক্ষ স্বরে তিনি বললেন,
“যা কুকুরে খায় না, তাই হবে দেবভোগ্য!”
বাবার এই আকস্মিক উগ্র রূপ দেখে রাজা বাহাদুর কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বিস্মিত চোখে তাঁকে লক্ষ্য করতে লাগলেন।
পাণ্ডা ও ভক্তরা তখন রাজা বাহাদুরকে মন্দিরে ফিরে যেতে অনুরোধ করলেন। তিনি মন্দিরে ফিরে গেলেন।
কথিত আছে, বাবার আশীর্বাদের কিছুদিন পরেই দারভাঙার মহারাজা যমজ পুত্রসন্তানের পিতা হন।
এরপর থেকে মহারাজা বামাক্ষ্যাপার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠেন। বাবার জন্য তিনি নিয়মিত মাসোহারা দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছিলেন।
এইভাবেই তারাপীঠের মহাশ্মশানে সাধক বামাক্ষ্যাপার সঙ্গে দারভাঙার মহারাজার সেই স্মরণীয় সাক্ষাতের ঘটনা লোকমুখে আজও প্রচলিত।

01/10/2026

মা তাঁরার ভোগ দর্শন করলে নাকি সৌভাগ্য প্রাপ্তি হয়

Address

Hostel Avenue, A-zone
Durgapur
713203

Telephone

+918759376283

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hello India Bangla posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hello India Bangla:

Shortcuts

Share