EVEN ARANG

EVEN ARANG social news , news, information,live event
Youtube link:- https://youtube.com/?si=k7yR1A9E-

https://youtu.be/di_OGmN0j34
27/07/2026

https://youtu.be/di_OGmN0j34

সাঁওতাল সমাজ প্রকৃতির উপাসক। এখানে ঈশ্বর কোনো কৃত্রিম মূর্তিতে অবস্...

কুডমিদের ST তালিকাভুক্ত হওয়ার আন্দোলন । আমার চোখে :-পশ্চিমবঙ্গের বা সমগ্র ভারতের কোনো জনগোষ্ঠীকে তপশিলি উপজাতি (ST) তাল...
16/07/2026

কুডমিদের ST তালিকাভুক্ত হওয়ার আন্দোলন । আমার চোখে :-

পশ্চিমবঙ্গের বা সমগ্র ভারতের কোনো জনগোষ্ঠীকে তপশিলি উপজাতি (ST) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি আবেগ বা রাজনৈতিক দাবির ওপর ভিত্তি করে চলে না। এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট আইনি ও নৃতাত্ত্বিক শর্তাবলি।
​সংবিধানে সরাসরি কোনো সংজ্ঞা দেওয়া না থাকলেও, ১৯৬৫ সালের "লোকুর কমিটি" (Lokur Committee)-র সুপারিশ অনুযায়ী ভারত সরকার কোনো জনগোষ্ঠীকে 'তপশিলি উপজাতি' বা আদিবাসী হিসেবে ঘোষণা করার জন্য মূলত ৫টি প্রধান শর্ত বা প্যারামিটার অনুসরণ করে:

​আদিম বৈশিষ্ট্য (Primitive Traits) : জীবনযাত্রায় আদিম বা প্রাচীন রীতিনীতির ছাপ থাকা, যেমন—প্রাক-কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জীবন বা প্রাচীন শিকারী জীবনধারা।

​অনন্য ও বিশিষ্ট সংস্কৃতি (Distinctive Culture) : নিজস্ব ভাষা, লোকসংস্কৃতি, রীতিনীতি, উৎসব এবং সামাজিক নিয়মাবলী থাকা, যা সাধারণ মূলধারার হিন্দু সমাজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
​ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা (Geographical Isolation) : দুর্গম পাহাড়ি, বনাঞ্চল বা দূরবর্তী ভৌগোলিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা।

​অন্যান্যদের সাথে মেলামেশায় কুণ্ঠা (Shyness of Contact) : বৃহত্তর বা বাইরের সমাজের মানুষের সাথে অবাধে মেলামেশা বা সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক ধরণের আড়ষ্টতা বা কুণ্ঠাবোধ থাকা।

​চরম অনগ্রসরতা (Backwardness) :
সামাজিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা।

উনিশ শতকের শেষের দিকে এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে ব্রিটিশ ভারতের বহু অনগ্রসর ও আদিবাসী গোষ্ঠী নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে উচ্চবর্ণের হিন্দু (বিশেষ করে ক্ষত্রিয়) হিসেবে নিজেদের দাবি করতে শুরু করে।
​১৯১০ সালে গঠিত হওয়া "অল ইন্ডিয়া কুড়মি ক্ষত্রিয় মহাসভা" (All India Kurmi Kshatriya Mahasabha) এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়।
​তারা নিজেদেরকে বৈদিক ক্ষত্রিয়ের বংশধর দাবি করে এবং ব্রিটিশদের নথিতে ও পরবর্তীতে ১৯৫০ সালের স্বাধীন ভারতের প্রথম সংবিধান (তপশিলি উপজাতি) আদেশে নিজেদের "আদিবাসী" বা "তপশিলি উপজাতি" তালিকাভুক্ত করতে অনাগ্রহ দেখায়। তৎকালীন আদিবাসী সমাজকে মূলধারার হিন্দু সমাজে কিছুটা হেয় চোখে দেখা হতো এবং শিক্ষার হার কম থাকায় তারা সামাজিক উত্তরণের জন্য এই পথ বেছে নিয়েছিল।
​ফলস্বরূপ, ১৯৩১ সালের জনগণনায় তাদের আদিবাসী বা জনজাতি হিসেবে গণ্য করা হলেও, ১৯৫০ সালের সংবিধানে যখন চূড়ান্ত এসটি (ST) তালিকা তৈরি হয়, তখন কুড়মিদের আর সেখানে রাখা হয়নি।

কুড়মি (কুড়মি মাহাতো) সম্প্রদায়ের দাবি অনুসারে, তাদের একটি নিজস্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয় রয়েছে যা আদিবাসীদের মতোই অনন্য। কুড়মিদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মূল ভিত্তিগুলো হলো:
​ভাষা (Kurmali): তাদের নিজস্ব ভাষা হলো 'কুড়মালি' ( কুড়মি ভাষা), যা জঙ্গলমহলের একটি অতি প্রাচীন আঞ্চলিক উপভাষা।
​ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসব (Sarna Religion & Karam Puja): কুড়মিদেরদাবি অনুযায়ী তারা মূলত প্রকৃতি পূজারী। তারা সনাতন হিন্দু দেবদেবীর চেয়ে প্রকৃতিকে প্রাধান্য দেয়। তারা করম পূজা, টুসু উৎসব, বাঁধনা পরব এবং জিতিয়া পূজা পালন করে। তারা নিজেদের সারনা ধরম (Sarna Dharma) বা প্রকৃতি পূজার অংশ বলে দাবি করে।
​টটেম প্রথা (Totemic Clan System): সাঁওতাল বা মুণ্ডাদের মতো কুড়মিদের সমাজেও বিভিন্ন 'গুঁঠি' বা কুলচিহ্ন (Totem) ভিত্তিক গোষ্ঠী রয়েছে (যেমন—পাখি, গাছ বা পশুর নামে বংশ বা বংশের নাম)। এদের নিজস্ব বিয়ে বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া মূলত বৈদিক ব্রাহ্মণ ছাড়াই নিজস্ব পুরোহিত (যাকে 'লায়া' বলা হয়) দ্বারা সম্পন্ন হয় বলে অনেকেই দাবি করেন।
কুড়মিদের আন্দোলনের মূল আবেগ ও শক্তির উৎস হলো ঐতিহাসিক নথির যুক্তি।
​তারা শুধু কাল্পনিক দাবি করছে না; ব্রিটিশ আমলের নথি (যেমন—১৯১৩ সালের নোটিফাইড ট্রাইব তালিকা এবং ১৯৩১ সালের আদমশুমারি) অনুযায়ী কুড়মিদের "আদিম উপজাতি" (Primitive Tribe) হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। তারা মূলত এই যুক্তিটিই সামনে রাখে।
​"যেহেতু আমরা একসময় আইনত আদিবাসী ছিলাম এবং আমাদের মূল আদিম সংস্কৃতি এখনও আমরা বাঁচিয়ে রেখেছি, তাই ১৯৫০ সালে আমাদের বাদ দেওয়াটা ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল, যা অবিলম্বে সংশোধন হওয়া উচিত।"
​কিন্তু অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায় এবং সরকারের "ট্রাইবাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট" (TRI)-এর সমাজবিজ্ঞানীদের পাল্টা যুক্তি হলো—অতীতের পরিচয় আর বর্তমানের পরিচয় এক নয়।
সমাজবিজ্ঞানে এটিকে "স্বেচ্ছায় বিচ্যুতি বা উত্তরণ" বলা হয়। কুড়মিরা একসময় স্বেচ্ছায় নিজেদের আদিবাসী তকমা ঝেড়ে ফেলে মূলধারার হিন্দু বর্ণাশ্রমের "ক্ষত্রিয়" মর্যাদায় উন্নীত হতে চেয়েছিল। দশকের পর দশক ধরে তারা শিক্ষা ও জমির মালিকানা অর্জন করে আদিবাসীদের চেয়ে বহুগুণ এগিয়ে গেছে। এখন আবার সংরক্ষণের সুবিধার জন্য পিছিয়ে গিয়ে আদিবাসী হতে চাওয়াটা সাংবিধানিক নিয়মের পরিপন্থী।

কুড়মিদের দাবি বর্তমানে কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে ?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ/উপজাতি উন্নয়ন দপ্তরের একটি অফিসিয়াল চিঠি এবং ভারত সরকারের উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের একটি প্রেস রিলিজ (PIB) দুটি নথিই কুড়মি সম্প্রদায়ের এসটি (ST) তালিকায় অন্তর্ভুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এবং এর আইনি নিয়মাবলীর সাথে সরাসরি যুক্ত।
​নিচে দুটি নথির বিস্তারিত বাংলা তরজমা এবং সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
​প্রথম নথি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চিঠি (চিত্র ১)
​এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপজাতি উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব (OSD) এস. কে. থাড়ে কর্তৃক দিল্লির কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের সচিব শ্রী দীপক খান্ডেকর-কে লেখা একটি অফিসিয়াল চিঠি।
​বাংলা তর্জমা:
​পশ্চিমবঙ্গ সরকার
উপজাতি উন্নয়ন দপ্তর
প্রশাসনিক ভবন, ডিজে-৪, বিধাননগর, সেক্টর-২, কলকাতা ৭০০০৯১
পত্র সংখ্যা: STDD-05/21 | তারিখ: ০৬-০২-২০২১
​প্রেরক: এস. কে. থাড়ে, IAS (অবসরপ্রাপ্ত), প্রধান সচিব পদমর্যাদার ওএসডি (OSD), উপজাতি উন্নয়ন দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
প্রাপক: শ্রী দীপক খান্ডেকর, IAS, সচিব, উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রক, নয়াদিল্লি, ভারত সরকার।
​মহাশয়,
এই দপ্তরের পূর্ববর্তী মেমো নম্বর STDD-01/21 (তারিখ: ২০-০১-২০২১)-এর ধারাবাহিকতায়, পশ্চিমবঙ্গের ১৪টি জেলায় বসবাসকারী "কুড়মি সম্প্রদায়"-কে তপশিলি উপজাতি (ST) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এবং তাদের স্বতন্ত্র সামাজিক-অর্থনৈতিক, ভাষাগত, বংশগত (clan), টটেম ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়টিকে সামনে রেখে, আমরা উক্ত কুড়মি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৮১টি বংশগত কাঠামোর (clans) একটি বিস্তারিত পর্যালোচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।
​উক্ত পর্যালোচনাটি সম্পন্ন করা প্রয়োজন যাতে এই সম্প্রদায়কে তপশিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ শ্রেণীবিন্যাস করা যায়। সেই কারণে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, "অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া" (Anthroplogical Survey of India - ASI) দ্বারা একটি গবেষণার ব্যবস্থা করা হোক। এই গবেষণাটি ১৪টি জেলায় বসবাসকারী "কুড়মি সম্প্রদায়ের" অন্তর্নিহিত বংশগুলোর (clans) ব্যুৎপত্তিগত (Etymological) পরিচয়, শ্রেণীবিন্যাস এবং তাদের রাজ্য এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্যতার বিষয়ে সুপারিশ করবে। রাজ্য সরকার এই অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-এর রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করবে। এএসআই-এর মতামত পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের বিশেষজ্ঞ দল তা পর্যালোচনা করবে এবং তারপর বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ভারত সরকারের কাছে উক্ত "কুড়মি সম্প্রদায়"-কে এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ পাঠাবে।
​অতএব, পূর্ববর্তী মেমো নম্বর STDD-01/21 (তারিখ: ২০-০১-২০২১)-এর অনুবৃত্তি হিসেবে এই প্রস্তাবটি পুনরায় পাঠানো হচ্ছে, যাতে ভারত সরকারের অধীনে থাকা "অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া"-র তত্ত্বাবধানে উক্ত "কুড়মি সম্প্রদায়ের" একটি বিস্তারিত ও তথ্যসমৃদ্ধ শ্রেণীবিন্যাস করা যায় এবং তা আমাদের বিবেচনা ও পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গ্রাহ্য হয়।
​এই প্রসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের "কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট" (CRI) দ্বারা পরিচালিত একটি "নৃতাত্ত্বিক গবেষণা প্রতিবেদন" (Ethnographic Study Report)-এর অনুলিপি প্রয়োজনীয় বিবেচনা ও তথ্যসূত্রের জন্য পাঠানো হলো, যাতে "অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া" অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পশ্চিমবঙ্গের "কুড়মি সম্প্রদায়ের" ৮১টি বংশের উপজাতিগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে।
​আপনার বিশ্বস্ত,
(প্রধান সচিব পদমর্যাদার ওএসডি, উপজাতি উন্নয়ন দপ্তর)

​দ্বিতীয় নথি: ভারত সরকারের প্রেস রিলিজ - PIB (চিত্র ২)

​এটি ভারতের কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের একটি সরকারি বিবৃতি, যা রাজ্যসভায় পেশ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
​বাংলা তর্জমা:
​প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)
ভারত সরকার
উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রক
০২ এপ্রিল, ২০২৫ (বিকাল ৪:০৩) - পিআইবি দিল্লি
​তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতি (ST) তালিকা নির্ধারণকারী আদেশে কোনো সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা অন্যান্য সংশোধনের দাবি নিষ্পত্তির নিয়মাবলী:
​কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শ্রী দুর্গাদাস উইকে আজ রাজ্যসভায় জানিয়েছেন যে, ভারত সরকার ১৫.০৬.১৯৯৯ তারিখে (যা পরবর্তীতে ২৫.০৬.২০০২ এবং ১৪.০৯.২০২২ তারিখে সংশোধিত হয়েছে) তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি তালিকাভুক্ত আদেশে কোনো গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা সংশোধনের দাবি বিবেচনার সুনির্দিষ্ট নিয়মাবলী বা পদ্ধতি (Modalities) নির্ধারণ করে দিয়েছে।
​এই নিয়মাবলী অনুযায়ী, শুধুমাত্র সেই সমস্ত প্রস্তাবগুলোই বিবেচনা করা হবে এবং আইন সংশোধন করা হবে, যা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন দ্বারা সুপারিশকৃত ও যৌক্তিকভাবে প্রমাণিত এবং যা ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল (RGI) এবং জাতীয় তপশিলি উপজাতি কমিশন (NCST) দ্বারা অনুমোদিত বা সম্মত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সুপারিশ থাকা বাধ্যতামূলক।
​কোনো রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবগুলো এই নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারেই ধাপে ধাপে এগোয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আসা প্রস্তাবের সাথে একটি নৃতাত্ত্বিক প্রতিবেদন (Ethnographic Report) থাকা আবশ্যক। প্রস্তাবগুলো প্রথমে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI)-এর কার্যালয় এবং তারপর জাতীয় তপশিলি উপজাতি কমিশন (NCST) দ্বারা পরীক্ষা করা হয়। RGI যদি কোনো প্রস্তাব সুপারিশ না করে (অর্থাৎ আপত্তি জানায়), তবে রাজ্য সরকারকে RGI-এর উত্থাপিত আপত্তিগুলো জানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তারা অতিরিক্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুনরায় পরীক্ষার জন্য পাঠাতে পারে ।

এই দুটি নথিতে আসলে কী বলতে চাওয়া হয়েছে?

​পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরাসরি সিদ্ধান্ত নেয়নি, বল ঠেলেছে কেন্দ্রের কোর্টে (নথি ১):
২০২১ সালের এই চিঠিতে রাজ্য সরকার সরাসরি কুড়মিদের এসটি করার সুপারিশ করেনি। তারা বলেছে, কুড়মিদের আদিবাসী দাবিটি যাচাই করতে ভারতের প্রধান নৃতাত্ত্বিক সংস্থা "অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া" (ASI)-কে দিয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক গবেষণা করানো হোক। এএসআই যদি সবুজ সংকেত দেয়, তবেই রাজ্য সরকার চূড়ান্ত সুপারিশের জন্য কেন্দ্রের কাছে চিঠি পাঠাবে। অর্থাৎ, রাজ্য সরকার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছিল।

​কেন্দ্রীয় সরকারের অনড় অবস্থান ও নিয়মের কড়াকড়ি (নথি ২):
২০২৫ সালের এই প্রেস রিলিজে কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মুখে দাবি করলেই বা কোনো দল আন্দোলন করলেই কাউকে এসটি তালিকায় ঢোকানো যাবে না। এর জন্য ১৯৯৯ সালের তৈরি কঠোর আইনি নিয়ম (Modalities) মানতে হবে।
​রাজ্যকে প্রথমে অকাট্য নৃতাত্ত্বিক প্রমাণ দিতে হবে।
​সেই প্রমাণ দিল্লির RGI (রেজিস্ট্রার জেনারেল) এবং NCST (জাতীয় কমিশন) যাচাই করে একমত হতে হবে।
​RGI যদি রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্যে সন্তুষ্ট না হয়ে প্রস্তাব ফেরত পাঠায়, তবে প্রক্রিয়াটি সেখানেই থমকে যাবে (যেমনটি কুড়মিদের ক্ষেত্রে অতীতে ঘটেছে)।

সরকারি নথির আলোকে কুড়মিদের বর্তমান আইনি অবস্থান ও যোগ্যতা :
​পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২১ সালের চিঠি এবং ভারত সরকারের ২০২৫ সালের নোটিফিকেশনটি পাশাপাশি রাখলে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কুড়মিদের দাবিটি বর্তমানে একটি "লুপ" বা আইনি গোলকধাঁধায় আটকে গেছে।
​রাজ্য সরকারের "দায়িত্ব এড়ানো" কৌশল:
২০২১ সালের চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিন্তু সরাসরি বলেনি যে "কুড়মিরা এসটি হওয়ার যোগ্য, এদের তালিকায় ঢুকিয়ে নেওয়া হোক।" তারা মূলত দায়টি দিল্লির অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-এর ঘাড় ঠেলে দিয়েছে। রাজ্য জানিয়েছে, কুড়মিদের ৮১টি বংশের নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং তাদের ব্যুৎপত্তি এত জটিল যে এএসআই আগে তদন্ত করে জানাক এরা আদৌ আদিবাসী কিনা। অর্থাৎ, রাজ্য সরকার সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ও আইনি ঝুঁকি নেয়নি।
​কেন্দ্রের অনড় আইনি অবস্থান :
২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় উপজাতি মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি স্পষ্ট করে দেয় যে, যদি রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) এবং জাতীয় উপজাতি কমিশন (NCST) কোনো প্রস্তাবে সায় না দেয়, তবে তা সরাসরি বাতিল হবে। যেহেতু অতীতে কুড়মিদের দাবিকে আরজিআই (RGI) আদিবাসী বৈশিষ্ট্যের সাথে খাপ খায় না বলে ফিরিয়ে দিয়েছে, তাই নতুন কোনো অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া কেন্দ্র এই দাবি পুনর্বিবেচনা করবে না।

​২. বর্তমান অবস্থায় কুড়মিরা কি ST হওয়ার জন্য"আদৌ যোগ্য"?

​সংবিধান ও লোকুর কমিটির কঠোর মাপকাঠি অনুযায়ী বিচার করলে, বর্তমান বাস্তবতায় কুড়মিদের এসটি হিসেবে যোগ্য প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। এর প্রধান ৩টি কারণ:
​ক) "উন্নত সমাজ" বনাম "আদিম অনগ্রসরতা"
​এসটি তালিকায় থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো "চরম অনগ্রসরতা" (Extreme Backwardness) এবং "বাইরের সমাজের সাথে মেলামেশায় কুণ্ঠা" (Shyness of Contact)।
​কুড়মিরা বর্তমানে জঙ্গলমহলের অন্যতম প্রধান, শক্তিশালী এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী সমাজ।
​শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা এবং জমির মালিকানার দিক থেকে তারা সাঁওতাল, মুণ্ডা বা শবরের মতো প্রান্তিক আদিবাসীদের তুলনায় অনেক গুণ এগিয়ে রয়েছে।
​ফলে, দেশের সর্বোচ্চ আইনি সংস্থাগুলোর চোখে তারা আর "অনগ্রসর উপজাতি" হিসেবে যোগ্য বিবেচিত হচ্ছে না।
​খ) ঐতিহাসিক আত্মপরিচয় পরিবর্তনের খেসারত :
একসময় ক্ষত্রিয় পরিচয় নেওয়ার জন্য কুড়মিরাই আবেদন জানিয়েছিল। নৃবিজ্ঞানীরা এটিকে কুড়মিদের সামাজিক "উত্তরণ" হিসেবে দেখেন। ভারত সরকারের কাছে নথিভুক্ত আছে যে কুড়মিরা স্বেচ্ছায় আদিবাসী তকমা ত্যাগ করে মূলধারার হিন্দু সমাজের অংশ হয়েছিল। এখন আবার উল্টো পথে হেঁটে নিজেদের "অনগ্রসর আদিবাসী" প্রমাণ করার মতো মজবুত নৃতাত্ত্বিক তথ্য বা প্রামাণ্য দলিল কুড়মিদের কাছে নেই।
​গ) রাজ্য সরকারের সিআরআই (CRI) রিপোর্টের সীমাবদ্ধতা :
​পশ্চিমবঙ্গের 'কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (CRI) কুড়মিদের নিয়ে যে নৃতাত্ত্বিক রিপোর্ট তৈরি করেছিল, তা নিয়ে খোদ আদিবাসী গবেষক ও কেন্দ্রীয় স্তরে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কুড়মিদের উৎসব বা ভাষা আদিবাসীদের মতো হলেও, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো এখন সম্পূর্ণ আধুনিক ও প্রগতিশীল। এই দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্যের কারণে তাদের "বিশুদ্ধ আদিবাসী" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাচ্ছে না।

​ তাহলে কি তারা আদৌ এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে?
​বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান অবস্থায় কুড়মিদের পক্ষে এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রায় অসম্ভব।
​এর পেছনে প্রধান দুটি বাধা রয়েছে:
​আদিবাসীদের চরম বিরোধিতা : জঙ্গলমহলের আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এখন পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কুড়মিরা এসটি তালিকায় ঢুকলে আদিবাসীদের অধিকার ধুলিসাৎ হবে। কোনো সরকারই জঙ্গলমহলে একটি বড়সড় অস্থিরতা বা চরম সামাজিক বিশৃঙ্খলা ডেকে এনে কুড়মিদের এই দাবিকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার ঝুঁকি নেবে না।
​আইনের কঠোরতা: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এবং কেন্দ্রীয় আইন অনুযায়ী, সংরক্ষণের সুযোগ পাওয়ার জন্য বা কেবল একসময় তালিকায় ছিল বলে রাজনৈতিক চাপে কাউকে এসটি তালিকায় ঢোকানো যায় না। এর জন্য যে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রয়োজন, কুড়মিদের বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে তা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।

​কুড়মিদের এই আন্দোলন ঐতিহাসিকভাবে আবেগপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জোরালো হলেও, আইন ও যোগ্যতার দাঁড়িপাল্লায় তাদের পাল্লা অত্যন্ত হালকা। সরকারি নিয়মের কঠোর বেড়াজাল এবং আদিবাসী সমাজের তীব্র প্রতিরোধের মুখে দাঁড়িয়ে কুড়মিদের পক্ষে পুনরায় এসটি তালিকায় ফিরে যাওয়াটা বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবলই একটি রাজনৈতিক মরিচীকা।

#সংগৃহিত

ভাবনা বদলের সময় এসেছে ।
30/06/2026

ভাবনা বদলের সময় এসেছে ।

Address

Durgapur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when EVEN ARANG posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to EVEN ARANG:

Shortcuts

Share