09/02/2026
বাংলার নাট্যমঞ্চের 'গ্যারিক': মহাবিপ্লবী গিরীশচন্দ্র ঘোষ
বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে যদি এমন একজনের নাম নিতে হয় যিনি থিয়েটারকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং আধ্যাত্মিকতার সাথে শিল্পের সেতুবন্ধন তৈরি করেছিলেন, তিনি হলেন গিরীশচন্দ্র ঘোষ।
আজকের History Remix-এ আমরা জানবো সেই মানুষটি সম্পর্কে, যাঁকে বলা হয় 'ফাদার অফ বেঙ্গলি থিয়েটার'।
কেন তিনি অনন্য?
স্টার থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা: কলকাতার বিখ্যাত 'স্টার থিয়েটার' তাঁরই হাত ধরে পূর্ণতা পেয়েছিল। তিনি কেবল প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না, ছিলেন একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা এবং পরিচালক।
৮০টিরও বেশি নাটক: সামাজিক, পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক— সব মিলিয়ে ৮০টিরও বেশি নাটক লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।
গৈরীশ ছন্দ: কবিতার ক্ষেত্রে তিনি প্রবর্তন করেছিলেন এক বিশেষ ছন্দ, যা নাটকের সংলাপকে আরও প্রাণবন্ত ও ছন্দময় করে তুলেছিল।
রূপান্তরের গল্প:
গিরীশ ঘোষের জীবন ছিল এক বিশাল 'রিমিক্স'। এক সময় যিনি ছিলেন ঘোরতর নাস্তিক ও উচ্ছৃঙ্খল, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সংস্পর্শে এসে তাঁর জীবন আমূল বদলে যায়। সেই 'বকলমা' দেওয়ার ঘটনাটি আজও আমাদের শেখায় যে, চরম আত্মসমর্পণের শক্তি কতটা হতে পারে। তাঁর লেখা 'চৈতন্য-লীলা' নাটক দেখে স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ মুগ্ধ হয়েছিলেন, যা তৎকালীন সমাজে থিয়েটার সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল।
আজকের প্রাসঙ্গিকতা:
আজকের যুগে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বিনোদনের নতুন মাধ্যম খুঁজছি, তখন গিরীশ ঘোষের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিল্প কেবল বিনোদনের জন্য নয়, তা মানুষের অন্তরের অন্ধকার দূর করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।