12/09/2026
দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় এসে বাগেশ্বর ধাম সরকারের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামেও পরিচিত, তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস এবং দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া নিয়ে তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর মন্তব্যে বাঙালির সংস্কৃতি ও অস্মিতাকে আঘাত করা হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস, ঐতিহ্য ও পুজোর রীতিনীতির পক্ষে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা।
পোস্টে অরিত্র লেখেন, বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও পুজোর আচার নিয়ে মন্তব্য করে বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন ‘বাঙালি-বিরোধী’ সরকারি নির্দেশ মেনে নেওয়া উচিত নয়।
এমনকী, নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে অরিত্র লেখেন, যে সরকার একজন জাতি হিসেবে বাঙালির আবেগ ও জাত্যাভিমানে আঘাত করে, একজন নাগরিক হিসেবে সেই সরকারের আইন বা প্রশাসনিক নির্দেশ তিনি মানেন না।
তবে এই পোস্ট সামনে আসতেই শুরু হয়েছে পাল্টা বিতর্ক। নেটপাড়ার একাংশ অভিনেতার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কমেন্ট সেকশনে তাঁকে ‘মাকু’, ‘চটিচাটা’ সহ নানা কটাক্ষ করা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
অন্যদিকে, বাগেশ্বর বাবার সমর্থকরাও অরিত্রর পোস্টের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, অভিনেতার বক্তব্য হিন্দু ধর্মের ভাবাবেগের বিরোধী।
অর্থাৎ, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, অরিত্র দত্ত বণিকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর তা আরও এক দফা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন অভিনেতার এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার।