03/02/2026
*পনেরো শাবানের (শব-ই-বরাতের) সাথে সম্পর্কিত চারটি কথা সঠিক:*
*❶* এই রাতে আল্লাহ তা'আলা যতটুকু তাওফিক দেন, ততটুকু বাড়িতে একাকী ইবাদত করা উচিত। কিন্তু আমরা এই রাতকে হট্টগোলের রাত বানিয়ে দিয়েছি। মসজিদে এবং কবরস্থানে জড়ো হয়ে খাওয়া-দাওয়া করি, শোরগোল করি—এসব ভুল।
এর কোনো ভিত্তি (কোরআন ও হাদীসে) নেই। এই রাতে নফল নামাজ পড়া উচিত। পুরো রাত জাগরণ করা জরুরি নয়, আল্লাহ যতটুকু তাওফিক দেন ততটুকু বাড়িতে পড়ুন। এটা ব্যক্তিগত আমল, সমষ্টিগত (ইজতেমায়ী) নয়।
*❷* পরের দিন রোজা রাখা। এই রোজা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)।
*❸* এই রাতে নিজের জন্য, মৃত আত্মীয়-স্বজনদের জন্য এবং সমগ্র উম্মাহর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা। এর জন্য কবরস্থানে যাওয়া জরুরি নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতে কবরস্থানে গিয়েছিলেন, কিন্তু চুপিচুপি গিয়েছিলেন। হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কাকতালীয়ভাবে জেনে ফেলেছিলেন। এছাড়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতে কবরস্থানে যাওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি। তাই আমাদের এখানে যে তামাশা হয়, সব ভুল।
*❹* যাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ বা মতভেদ আছে, তারা এই রাতে মিলে-মিশে যাক। যদি মিল না হয়, তাহলে ক্ষমা হবে না।
এই চারটি কাজ এই রাতে দুর্বল (ضعیف) হাদীস থেকে প্রমাণিত। দুর্বল হাদীসের বিবেচনা তখনই করা হয় না যখন সামনে সহীহ হাদীস থাকে—সহীহ হাদীসের মুখোমুখি দুর্বল হাদীস নেয়া হয় না। কিন্তু যদি কোনো মাসআলায় শুধু দুর্বল হাদীস থাকে এবং সহীহ হাদীস না থাকে, তাহলে দুর্বল হাদীস নেয়া হয়। এমনটা শুধু এই একটি মাসআলায় নয়, অনেক মাসআলায় দুর্বল হাদীস আছে এবং দুর্বল হাদীস থেকেই মাসআলা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন—সালাতুত তাসবীহের এগারোটি রিওয়ায়াত আছে, সব দুর্বল, কিন্তু সালাফের যুগ থেকে সালাতুত তাসবীহ চালু আছে।
তবে দুর্বল হাদীস থেকে ওয়াজিব বা সুন্নাতের মর্যাদার আমল প্রমাণিত হবে না, শুধু মুস্তাহাবের মর্যাদার হুকুম প্রমাণিত হবে। তাই সালাতুত তাসবীহ পড়া মুস্তাহাব। একইভাবে পনেরো শাবানের ব্যাপারে যে রিওয়ায়াতগুলো আছে, সেগুলোও দুর্বল, কিন্তু তা থেকে মুস্তাহাবের মর্যাদার আমল প্রমাণিত হতে পারে। সুতরাং হাদীসে বর্ণিত চারটি কাজই মুস্তাহাব হবে। শব-ই-বরাত, তার আমলসমূহকে একেবারে ভিত্তিহীন (বেআসল) বলা ঠিক নয়।
তবে সূরা দুখানের তৃতীয় আয়াত: "ইন্না আনযালনাহু ফী লাইলাতিম মুবারাকাতিন" (আমি এটি একটি মুবারক রাতে নাযিল করেছি)—এর মুসাদ্দাক (প্রকৃত অর্থ) শব-ই-বরাত নয়, বরং শব-ই-কদর। কারণ কুরআন কারীম শব-ই-কদরে নাযিল হয়েছে।
ইলমী খুতবাত
লেখক: মাওলানা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী সাহেব রাহিমাহুল্লাহ
সাবেক শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদাররিসীন দারুল উলূম দেওবন্দ
খণ্ড: ২
পৃষ্ঠা নম্বর: ২৪