12/08/2026
একটা নাপিতের দোকানে ঢুকলে আপনি কী আশা করবেন?
আয়না, চেয়ার, কাঁচি...
আর হয়তো একটা টিভি।
কিন্তু তামিলনাড়ুর এই ছোট্ট দোকানে ঢুকলে চোখে পড়বে অন্য এক দৃশ্য।
টিভির জায়গায় সাজানো সারি সারি বই। 📚
আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয়?
চুল কাটাতে আসা মানুষ যদি অপেক্ষার সময় বই পড়েন এবং সেই বই সম্পর্কে নিজের মতামত জানান, তাহলে তাঁর পরিষেবার খরচে মিলবে ৩০% ছাড়!
এই অসাধারণ উদ্যোগের পিছনে রয়েছেন তামিলনাড়ুর থুথুকুড়ির Millerpuram এলাকার নাপিত P. Ponmariappan।
নিজের পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণির পর আর এগোয়নি। কারণ ছিল পরিবারের আর্থিক সংকট।
কিন্তু পড়াশোনা থেমে গেলেও বইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থামেনি।
বরং সেই বই-ভালোবাসা থেকেই কয়েক বছর আগে নিজের দোকানে বই রাখা শুরু করেন।
শুরুটা হয়েছিল মাত্র কয়েকটি বই দিয়ে।
পরে সেই সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০-রও বেশি বইয়ে। অধিকাংশ বই তামিল ভাষায়, পাশাপাশি কিছু ইংরেজি আত্মজীবনীও ছিল।
উদ্দেশ্যটা খুব সহজ ছিল...
যে সময়টা মানুষ সাধারণত মো/বা/ইল স্ক্রল করে কাটিয়ে দেয়,
সেই সময়টুকু যেন একটা বইয়ের সঙ্গে কাটে।
আর শুধু বই হাতে তুলে নিলেই হবে না।
তিনি পাঠকদের বই পড়ে তার সারাংশ বা মূল বক্তব্য লিখতেও উৎসাহিত করতেন। এর ফলে একজনের পড়া বই সম্পর্কে অন্যরাও জানতে পারতেন।
ভাবুন তো...
একজন নাপিত নিজের দোকানে বসে শুধু মানুষের চুল কাটছেন না,
তিনি আসলে মানুষের চিন্তাভাবনাও বদলানোর চেষ্টা করছেন।
যে মানুষটি নিজেই দারিদ্র্যের কারণে অষ্টম শ্রেণির পর পড়াশোনা চালাতে পারেননি,
তিনি আজ অন্য তরুণদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বই।
এই জায়গাটাই গল্পটাকে অন্যরকম করে তোলে। ❤️
তাঁর উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ার পর সাহিত্যিক S. Ramakrishnan তাঁর কাজের প্রশংসা করেন। তৎকালীন সাংসদ কানিমোঝিও তাঁর সংগ্রহে ৫০টি বই দেন বলে Times of India জানিয়েছিল।
একটা ছোট্ট দোকান...
একজন সাধারণ নাপিত...
আর কয়েকশো বই।
বড় কোনও বাজেট নেই।
বড় কোনও প্রচার নেই।
কিন্তু আছে একটা বড় চিন্তা—
“অপেক্ষার কয়েক মিনিটও যদি একজন মানুষকে আরও একটু জ্ঞানী করে তোলা যায়?”
আজ যখন কয়েক মিনিট খালি পেলেই আমাদের হাত চলে যায় মো/বা/ইলের স্ক্রিনে,
তখন এই মানুষটি মনে করিয়ে দিচ্ছেন—
সব পরিবর্তন বড় জায়গা থেকে শুরু হয় না।
কখনও কখনও একটা ছোট দোকানের এক কোণে রাখা কয়েকটা বইও
একজন মানুষের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। 📚❤️
চুল কাটার দোকান তিনি বানিয়েছেন ছোট্ট পাঠাগারে,
আর ছাড়ের লোভ দেখিয়ে নয়—
পড়ার আনন্দের সঙ্গে মানুষকে আবার পরিচয় করিয়ে দিতে।
এই উদ্যোগকে শুধু “একজন নাপিতের ভালো কাজ” বললে হয়তো কম বলা হবে।
এটা আসলে একটা প্রশ্নও ছুড়ে দেয়—
আমরা যদি প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিটও স্ক্রিনের বদলে বইকে দিই,
তাহলে এক বছর পরে আমাদের চিন্তাভাবনা কতটা বদলাতে পারে?
আপনি হলে এই দোকানে গিয়ে চুল কাটার সময় বই পড়তেন? 📖
কমেন্টে “বই” লিখে জানান। ❤️
এমন ছোট অথচ হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সত্যিকারের উদ্যোগের গল্প ভালো লাগলে পোস্টটি শেয়ার করুন।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
SOURCE
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
1. Times of India — “Photos: This Tamil Nadu hairdresser has a library in his salon” — 27 December 2019
2. Times of India — “Read, and save 30% on a shave” — 27 December 2019
3. Reuters — “Indian barber offers discount for no phones, only books policy” — December 2019
4. Brut India — “This Barber Shop In Tamil Nadu Is Also A Mini Library”
5. Dailymotion / Reuters video report — “This salon in south India has a built-in library with discounts for regular readers”
নোট: ছাড়ের হার নিয়ে বিভিন্ন সমসাময়িক প্রতিবেদনে ৩০% ও ৪০% উভয় সংখ্যাই প্রকাশিত হয়েছিল। এই পোস্টে ৩০% ব্যবহার করা হয়েছে কারণ Times of India-এর বিস্তারিত প্রতিবেদনে ৩০% ছাড়ের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।