05/11/2025
পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো
বিষাদের সুর 🥹
ফিরলে বাড়ি? কি বলছে নীলকন্ঠ? জলভরা গুলো মনে করে দিও কিন্তু, আমাদের জামাইকে। আবার তো আসবে সেই একটা বছর পর,জানো আজ অফিসে আসার সময় কাঠামোতে তোমার চাঁদমালা ,মালা আর খন্তা (মুকুটের ওপরের অংশ) দেখে মনটা যেন কেমন হয়ে গেলো।এই তো সেদিন চাঁদার বিল হাতে সকালে সব বেরিয়েছিলো,"ও কাকিমা চাদাটা দেবে তো?লেখ কুড়ি টাকা। এবার প্রশেসন আছে তিরিশ দাও, সামনের বার আবার কুড়ি দেবে , তোদের চিনি, সামনের বছরেও এক কথা বলবি,ও কাকিমা একটু জল দেবে,দাড়া দিচ্ছি,এই নে নাড়ু, শুধু জল খাস না।"এভাবেই চলছে বছরের পর বছর।ওই যে ছেলেটা,যার ওজন ৩৫ কিলোও নয়,ও কোথা থেকে এতো শক্তি পায় বলবে? দশমীর দিন গলার শিরা ফুলিয়ে, জগদ্ধাত্রী মাঈ কি জয় বলে, তোমার কাঠামো তুলে ধরে তখন মনে হয় না,ওই ছেলেটাই সারাবছর ৮.১০ এর গুড়াপ লোকাল ধুঁকতে ধুঁকতে যায়। বেসরকারি সংস্থায় মারোয়ারী বসের খিস্তি মুখ বুজে সহ্য করে নেয় ছেলেটা, কিন্তু জগদ্ধাত্রী পুজোর সমন্ধে কোনো কুকথা সহ্য করে না। নির্দ্ধিধায় চাকরি ছেড়ে আসতে পারে । ও জানে যে তুমি আছো। সারা বছর তোমার হরিপুরের সন্তানের দল তিল তিল করে সঞ্চয় করে শুধু তোমাকে ভালো সাজে সাজাবে বলে, তোমাকে আলোয় আলোয় আলোকিত করবে বলে।তাই তো তোমার বিসর্জন এর সময়, ওদের চোখের জল আর থামতেই চায় না।আর যখন সারারাত তোমার ছেলেরা তোমাকে নিয়ে ঘোরে, তখন ওরা নেশা করে, তুমি ও সেটা জানো, কিন্তু সত্যি বলছি মা , এর জন্য আমাদের খারাপ ভেবো না। আমরা বারোয়ারী করা ছেলে গুলো সবাই সবার পাশে থাকি সবসময়।প্রশেসনের সময় অ্যাম্বুলেন্স এলে,বা কারো কোনো বিপদে তোমার এই পাগল ছেলে গুলোই ঝাঁপিয়ে পড়ে। সবটাই তোমাকে ভালোবেসে।আর তুমিও আমাদের এতাটাই খেয়াল রাখো বলেই এমনটা হয়েছে।তোমাকে ছোটো রাস্তার ওপর দিয়েও সযত্নে নিয়ে আসে ওরা, একটা নখের টোকাও তোমাকে লাগতে দেয় না।ঠিক তুমিও যেমন সবসময় আমাদের আগলে রাখো। তোমার দিকে যখন মাথা উঁচু করে তাকিয়ে ,ওই পাঁচদিন অফিস কামাই করা ছেলেটা ভাবে যে, এবার চাকরিতে রাখবে তো? তখন যেন তোমার ওই হাসি মুখ বলে দেয়,ভয় পাস না, আমি আছি তো। তোমার বিসর্জন এর পর তোমার আর এক সতীন গঙ্গার বুকে যখন তোমার কাঠামোটা নাচানো হয়, তখন তোমার ওই চির প্রতিদ্বন্দ্বী সতীন ও যেন আনন্দে মেতে ওঠে। অনেক কথা বলে ফেললাম,এই ফিরেছো কৈলাসে, নিজের সংসারে ভালো থেকো।আর মনে আছে তো?বরনের সময় জেঠিমা তোমার কানে কানে কি বলেছিল?"আবার এসো মা", এটা যেন মনে থাকে। তোমার পথ চেয়ে রোইলো তোমার হরিপুরের সন্তানেরা।।
গর্বের রানি মা