01/06/2026
দুই বাংলায় দুই ছবি: উত্তরবঙ্গে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি, দক্ষিণবঙ্গে তীব্র গরমের দাপট
অঙ্কিতা ঘোষ/সংবাদ সংস্থা, কলকাতা ,১জুন: মাসের প্রথম দিনেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় ধরা পড়ল আকাশ-পাতাল পার্থক্য। একদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে যখন কালবৈশাখী ও প্রাক-বর্ষার বৃষ্টির পূর্বাভাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে তীব্র ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্তের টানে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলেও, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির দেখা নেই।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের আগামী দিনগুলোতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ী জেলাগুলোতে পারদ পতনের পাশাপাশি রয়েছে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে এই বৃষ্টির ব্যাপকতা আরও বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচটি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা গরমের অস্বস্তি থেকে উত্তরের বাসিন্দাদের সাময়িক মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে সোমবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা থাকলেও, বৃষ্টির কোনো নামগন্ধ নেই। তার বদলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি হওয়ায় বাড়ছে ভ্যাপসা গরম। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনুভূত তাপমাত্রা বা ‘ফিল লাইক টেম্পারেচার’ অনেক বেশি। এতে সামান্য হাঁটাচলা করলেই ঘাম এবং অস্বস্তিতে কাহিল হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমানে দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি একটি অক্ষরেখা বিদর্ভ থেকে ছত্তিশগড় ও ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই সিস্টেমটির কারণেই উত্তরবঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে, যা প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করছে। অন্যদিকে, সারা দেশ যে বর্ষার অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে, সেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কেরল উপকূলের দোরগোড়ায় এসে আপাতত থমকে দাঁড়িয়েছে। কেরলে বর্ষা প্রবেশ করলেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জুন মাসের শুরুতেই এই খামখেয়ালি আবহাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। একদিকে উত্তরের বাসিন্দারা বৃষ্টির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে লড়াই করতে হচ্ছে তীব্র ভ্যাপসা গরমের সাথে।
চিত্র: সংগৃহীত