13/09/2026
বাইবেল অনুযায়ী মূসা আ. -এর মায়ের নাম ছিলো জোখেবেদ (Jochebed)।
যেসব নারীদেরকে 'ইলহাম' দেয়ার কথা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তারমধ্যে একজন ছিলেন মূসা আ. -এর মা।
ফেরাউন যখন পুত্র সন্তান জন্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন জন্মগ্রহণ করেন মূসা।
মনে পড়ে জাহেলী আরবের কথা?
জাহেলী আরবে কন্যাসন্তানকে মেরে ফেলা হতো।
আর ফেরাউনের সময় পুত্র সন্তান।
আল্লাহ মূসার মা'কে বললেন— আল্লাহ তার কোলে সন্তান ফিরয়ে দিবেন, তিনি যেন তাকে নদীতে ফেলেন।
আল্লাহর নির্দেশমতো জোখেবেদ মূসা আ. -কে নদীতে ফেলেন।
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি মাধ্যম অবলম্বন ভুলে যাননি। সন্তানকে নদীতে ফেলে নিশ্চিন্তে ঘরে বসে থাকেননি।
বরং তিনি তার মেয়েকে পাঠান, দেখে আসো নদীতে ভেসে ভেসে সেটা কোথায় যাচ্ছে।
মূসার বোন দেখতে লাগলেন সেই ঝুড়ি ফেরাউনের প্রাসাদে গেলো।
লম্বা গল্প।
মূসা আলাইহিস সালামকে যখন দুধপান করতে গেলো, দেখা গেলো তিনি কারো দুধ খাচ্ছেন না। তখন মূসার বোন বললেন, আমি এমন একজন ধাত্রীকে চিনি, যার দুধ এই ছেলে পান করতে পারে।
দেখুন, তিনি বলেননি 'আমি এই বাচ্চার মাকে চিনি'। তিনি খুব টেকনিকালি বললেন একজন ধাত্রী চিনি।
তার মাধ্যমেই সেই ধাত্রী অর্থাৎ মূসার মায়ের কাছে সবাই যায়।
মূসার মা দেখতে পেলেন, কয়েক ঘণ্টা আগে যে ছেলেকে নদীতে ফেলেছিলেন, সেই ছেলে এখন তার কোলে।
সন্তানকে কাছে পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হননি।
বরং একজন ধাত্রীর মতো তিনি দুধপান করান, বিনিময়ে পারিশ্রমিক পান।
ঠিক তখন আল্লাহ বললেন- আমরা তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম আর আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য!
এটাকে যদি একটা গল্প হিসেবে দেখেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেই গল্প পূর্ণতা পেলো। আল্লাহর নির্দেশমতো জোখেবেদ নিজের সন্তানকে নদীতে ফেলেন, কয়েক ঘণ্টা পর সেই সন্তান শুধু তার কাছেই আসে এমন না; নিজের সন্তানকে দুধপান করানোর জন্য রাজ পরিবার থেকে ভাতা পাচ্ছেন।
মূসার মায়ের স্মার্টনেস দেখুন, সন্তান পাবার সাথে সাথে তিনি বলে ওঠেননি- সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর ওয়াদা সত্য, এইতো আমি আমার সন্তান ফিরে পেলাম।
তিনি বরং পরিচয় গোপন করেন যে, তিনি এই সন্তানের মা!
মূসা আলাইহিস সালামের শৈশবের এই থ্রিলার গল্প থেকে আমরা অনেককিছু শিখতে পারি।
৩টি শিক্ষার কথা স্পেশালি বলা যায়।
১. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা মানে ঘরে বসে থাকা নয়। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। এই গল্পে মূসার মা নিশ্চয়তা পাওয়া সত্ত্বেও মেয়েকে পাঠান। আর মেয়েকে পাঠান বলেই মেয়ের মাধ্যমে তার কাছে মূসা ফেরত আসেন। আর আল্লাহ এখানে মূসা আলাইহিস সালামের জন্য অন্য সবার দুধপান নিষিদ্ধ করে দেন।
আল্লাহ সাহায্য করেন, মূসার মা চেষ্টা করেন।
কুরআনের এই গল্প তাওয়াক্কুল এবং প্রচেষ্টার ফলের এক বাস্তব উদাহরণ।
২. কৌশল অবলম্বন কতো জরুরি, সেটাও শেখা যায়। মূসার বোন ফেরাউনের রাজপ্রাসাদে গিয়ে বলেননি, আমি তার বোন, তার মায়ের কাছে নিয়ে যাই। বরং তিনি মিথ্যা না বলে অন্য এক পরিচয়ে মায়ের পরিচয় দেন। মূসার মা সন্তানকে পেয়ে আবেগাপ্লুত হননি, তিনিও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালনের অভিনয় করেন; কিন্তু সন্তান পেয়ে মনে মনে খুশি হন।
৩. আল্লাহর নির্দেশের মধ্যেই যে কল্যাণ আছে, সেটা আমরা বুঝি বা না বুঝি; এটা শিখতে পারি এই গল্পে।
একটা ঝুড়িতে করে সন্তানকে নদীতে ফেলে দিলে বাঁচার সম্ভাবনা আছে? এই ছোট্ট সন্তান, নদীর ঢেউয়ে ডুবে যাবে। আমাদের কমনসেন্স তাই বলে।
কিন্তু, আল্লাহর নির্দেশ মূসা আলাইহিস সালামের মা পালন করেন।
এমন এক রেজাল্ট পান, যেটা ভাবতেও পারেননি।
কয়েক ঘণ্টা আগে এই সন্তানকে লুকিয়ে রাখতে হতো। ফেরাউনের বাহিনী দেখলে হত্যা করতো।
আর এখন?
সেই বাহিনী তার কাছে আসে এই সন্তানকে বাঁচাতে, দুধপানের জন্য।
নিজের সন্তানকে দুধপান করিয়ে তিনি উপার্জন করছেন। সন্তানকে নিয়ে ভয় তো করতে হচ্ছে না, উল্টো এটা তার রিজিকের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
পবিত্র কুরআনের প্রত্যেকটা গল্প আমাদের জন্য, এই সময়ের জন্যও শিক্ষণীয় হতে পারে।
আল্লাহ এই ঘটনাগুলো এমনি এমনি নাযিল করেননি।
কালেক্টেড: