13/04/2026
#মফিজ #মিয়ার #জুলাই #সনদ ! :😅
আমাদের এলাকার মফিজ মিয়ার কাণ্ডকারখানা সবসময়ই একটু অন্যরকম। গত কয়েকদিন ধরে সে পাড়ায় বুক ফুলিয়ে হাঁটছে। কারণ কী? সে নাকি 'জুলাই সনদ' পেয়েছে! পাড়ার চায়ের দোকানে বসে মফিজ মিয়া গম্ভীর মুখে চা খাচ্ছে, এমন সময় বল্টু জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা মফিজ ভাই, এই জুলাই সনদ জিনিসটা আসলে কী? এটা দিয়ে কী হয়?"
মফিজ মিয়া চায়ের কাপে একটা দীর্ঘ চুমুক দিয়ে বলল, "আরে বল্টু, এটা তো সাধারণ কোনো কাগজ না! এটা হলো ধৈর্যের এক বিশেষ স্বীকৃতি। জুলাই মাসের সেই তপ্ত রোদে যখন সারা দেশ গরমে ঘামছিল, আর সবাই যখন এসি বা ফ্যানের নিচে বসে হাঁসফাঁস করছিল, আমি তখন একটানা তিন ঘণ্টা
লোডশেডিংয়ের মধ্যে বসেও একটা গালিও দেইনি। আমার এই অসীম ধৈর্য দেখেই নাকি ওপর মহল থেকে আমার জন্য এই বিশেষ 'জুলাই সনদ' পাঠানো হয়েছে!"
দোকানের সবাই হা হয়ে তাকিয়ে রইল। বল্টু অবাক হয়ে বলল, "বলেন কী ভাই! তাইলে তো আমারও পাওয়ার কথা। আমি তো কারেন্ট গেলে হারিকেন জ্বালিয়ে মশার কামড় খেয়ে বসে থাকি।"
মফিজ মিয়া মুচকি হেসে বলল, "তফাৎ আছে রে বল্টু, তফাৎ আছে। তুই তো মশা মারতে মারতে হাত ব্যথা করে ফেলিস, আর আমি মশা কামড়ালেও নড়ি না—একেবারে ধ্যানমগ্ন ঋষি! জুলাই সনদ পেতে হলে এমন লেভেলের আধ্যাত্মিক ধৈর্য লাগে।"
ঠিক তখন পাশের বাড়ির চাচা এসে বললেন, "ওরে মফিজ, তোর ঘরে তো আবার লোডশেডিং হইছে, তোর বউ তোরে বাসায় ডাকতেছে পানির পাম্প ছাড়ার জন্য।" মফিজ মিয়ার গম্ভীর চেহারা এক নিমিষেই পানসে হয়ে গেল। সে তাড়াহুড়ো করে দোকান থেকে উঠতে উঠতে বলল, "এই জুলাই সনদের একটাই সমস্যা, এটা দেখালে ঘরের মানুষের কাছে কোনো কাজ হয় না!"
দোকানভর্তি মানুষ তখন মফিজ মিয়ার 'সনদপ্রাপ্ত' দৌড় দেখে হাসিতে ফেটে পড়ল।