01/09/2026
পদ্মার ভাঙনে অস্তিত্বের সংকটে তারানগর, বাঁধ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
লালগোলা :থামছে না পদ্মার ভাঙন। দিনের পর দিন নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে পাড়ের মাটি। চোখের সামনে বসতভিটে ও জমি নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে লালগোলা ব্লকের তারানগর গ্রামের বাসিন্দাদের। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না হলে গোটা গ্রামের অস্তিত্বই বিপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে তারানগর গ্রামের পূর্ব দিকে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। পদ্মার স্রোতে ক্রমাগত পাড়ের মাটি ধসে নদীতে পড়ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনের আশঙ্কা থাকলেও স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সেচ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার পদ্মার জল বিপৎসীমা ছুঁয়েছিল। সোমবার জলস্তর কিছুটা কমলেও ভাঙনের আশঙ্কা কাটেনি। গ্রামবাসীদের দাবি, গত বছর নদীর জল বিপৎসীমা পার করার পরপরই ভয়াবহ ভাঙনে গ্রামের একটা বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় দু’শো পরিবারকে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, “রাতে নদীর গর্জনে ঘুম আসে না। কখন বড় আকারে ভাঙন শুরু হয়ে যাবে, সেই আতঙ্ক সব সময় থাকে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবারও বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারাবে।”
আর এক বাসিন্দা সানাম শেখের অভিযোগ, “কয়েক দিন ধরে পূর্ব দিকে ভাঙন শুরু হয়েছে। ওই অংশ এখনও বাঁধানো হয়নি। যে অংশ বাঁধানো রয়েছে, সেখানেও নদীর জল স্থলভাগের কাছাকাছি চলে এসেছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে মানচিত্রে তারানগর গ্রামের অস্তিত্বই থাকবে না।”
ভাঙনে ঘর হারানো বহু মানুষ বর্তমানে শেখালিপুর স্কুলের ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবার ত্রিপলের নিচে দিন কাটাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, পাট্টার জমি কোথাও নিচু, কোথাও আবার জল জমে থাকার কারণে বসবাসের উপযোগী নয়। ফলে পাট্টার জমি এবং আবাস প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পরও অনেকেই বাড়ি তৈরি করতে পারেননি।
এদিকে রামপুরকুড় গ্রামে নতুন করে ভাঙনের খবর না থাকলেও তারানগরের পূর্ব পাড়ে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীপাড়ের সুরক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে।
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, প্রতিবার ভাঙন শুরু হওয়ার পরই কি প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যাবে, নাকি আগেই স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে? তাঁদের দাবি, এবার আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।
তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ব্লক প্রশাসনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।