05/09/2025
একটা শেষ দেখা হয়তো খুব সাধারণ মুহূর্ত, তবু সেই চোখদুটো— কোথাও একটা চাপা আশা, হয়তো আজ নয়, কাল নয়, একদিন আবার দেখা হবে—এই বিশ্বাসে বুকের ভেতর কোথাও একটুখানি আলো জ্বলে থাকে। ভালোবাসলে মানুষ ধীরে ধীরে মাটি হয়ে যায়— নরম, গ্রহণশীল, স্মৃতির ভারে সিক্ত। আর সেই ভালোবাসার মানুষটা যেন নিজের অজান্তেই আমাদের ভিতরে গাছ হয়ে ওঠে—ডালপালা মেলে, পাতায় পাতায় ছায়া দেয়, আর শিকড় ছড়িয়ে দেয় এমনভাবে, যেটা টেনে ছিঁড়লেও রয়ে যায় গভীরে।
সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, অনুভূতিগুলো ধুয়ে যায় ধীরে ধীরে, রাগ আর অভিমানের জায়গায় শুধু একটুখানি নরম মায়া থাকে— যেটা ততটাই নীরব, যতটা গভীর।
তাই হঠাৎ কোনো এক বিকেলে, একটা চায়ের দোকানে বাজতে থাকা একটা গান, হালকা বাতাসে ভেসে আসা কারো হাসির শব্দ কিংবা খুব চেনা একটা পারফিউমের গন্ধ - অবচেতনেই ফিরিয়ে দেয় ফেলে আসা সেই সময়টায়, যখন হাতে হাত ছিল, আর চোখে চোখ রাখার ভয় ছিল না।
আর তখনই বুকের ঠিক মাঝে কোথাও খচ করে ওঠে— একটা দীর্ঘশ্বাস, একটা ফাঁকা চেয়ে থাকা, আর মনে মনে নিজেরই কানে বলা কিছু কথা:
“তুই থাকলে হয়তো জীবনটা একটু সহজ হতো রে।”
ভালোবাসা, তাই হয়তো সবচেয়ে নিঃশব্দ কবিতা। ভাঙে, জোড়া লাগে না, তবু থেকে যায়—একটা স্মৃতি হয়ে, একটা গল্প হয়ে, হয়তো একটা গান হয়ে।