Ph.D. Bikerwala

Directions

Ph.D. Bikerwala When a Busy Ph.D. student turns out to be a motovlogger...
Microbiologist in Profession, But Rider as well as Traveller in Passion. Welcome to my page.

Love to explore new places, capture photos & videos and want to share with all of you through my lens.

স্বাধীনতা দিবস এলেই ইদানীং রাস্তায় এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একাংশের মধ্যে বাইক নিয়ে এক অসুস্থ ...
16/08/2026

স্বাধীনতা দিবস এলেই ইদানীং রাস্তায় এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের একাংশের মধ্যে বাইক নিয়ে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতার হিড়িক দেখা যায়। বিকট শব্দের এক্সজস্ট, ওভারস্পিডিং, জ্যামের মধ্যে স্টান্ট করা, রেসিং আর স্রেফ লোক দেখানো 'শো-অফ'। এরা হয়তো নিজেদের 'বাইকার' (Biker) বলে দাবি করেন, কিন্তু এই সাময়িক উত্তেজনার পরিণতিতে ঘটছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা একেবারেই কাম্য নয়।

​মনে রাখবেন, একজন প্রকৃত 'রাইডার' (Rider) কখনোই রাস্তায় এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন না। একজন সত্যিকারের রাইডারের কাছে বাইক হলো প্যাশন আর ইমোশন, অন্যের বিরক্তি বা বিপদের কারণ নয়। স্পিডের চেয়ে সেফটি আর শো-অফের চেয়ে রেসপন্সিবিলিটি তাঁদের কাছে অনেক বেশি জরুরি। তাঁরা জানেন কীভাবে নিজের এবং রাস্তার অন্য মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রাইড করতে হয়।

​স্বাধীনতা মানে উচ্ছৃঙ্খলতা নয়। স্বাধীনতা দিবস মানেই যে বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে হুড়োহুড়ি করতে হবে, বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বাইকের সাথে ছবি পোস্ট করে দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। দিনটি বাড়িতে বসে, পরিবারের সাথে শান্তিতে বা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও উদযাপন করা যায়।
​আসুন, রাস্তায় স্টান্ট বা শো-অফ করা 'উচ্ছৃঙ্খল বাইকার' না হয়ে, একজন 'দায়িত্বশীল রাইডার' হয়ে উঠি। স্বাধীনতা দিবসের প্রকৃত সম্মান করতে শিখি।

​

আজ কাজের সূত্রে নিউটাউন গিয়েছিলাম। ফেরার পথে বিকেল ৪:৪০ নাগাদ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আসার সময় ঈশ্বরীপুরের কাছে (মাধবপ...
13/08/2026

আজ কাজের সূত্রে নিউটাউন গিয়েছিলাম। ফেরার পথে বিকেল ৪:৪০ নাগাদ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে আসার সময় ঈশ্বরীপুরের কাছে (মাধবপুর গ্রাম, দোপেরে) এক ভয়ংকর দৃশ্য চোখে পড়ল। উল্টোদিকের লেন থেকে আসা একটি ট্রাক হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাঝখানের ব্যারিয়ার ভেঙে সোজা আমাদের লেনে ঢুকে পড়ে আড়াআড়িভাবে!

প্রাথমিকভাবে যা মনে হলো বা আশপাশের মানুষের থেকে জানা গেল, ট্রাকের ড্রাইভার সম্ভবত মদ্যপ অবস্থায় ছিল। স্বস্তির বিষয় এটাই যে, এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর নেই। তবে এর জেরে রাস্তায় বিশাল ট্রাফিক জ্যাম তৈরি হয়ে যায়।

একবার ভেবে দেখুন তো, ট্রাকটা যখন ব্যারিয়ার ভেঙে এপারে ঢুকল, ঠিক ওই মুহূর্তে যদি এই লেনে কোনো বাইক বা গাড়ি থাকতো, তাহলে পরিণতি কতটা মর্মান্তিক হতে পারতো!

রাস্তায় বেরোলে প্লিজ সবাই খুব সাবধানে এবং দায়িত্ব নিয়ে ড্রাইভ বা রাইড করবেন। শুধু স্টিয়ারিং বা হ্যান্ডেলে নয়, গতি এবং নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাটা ভীষণ জরুরি। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বা ওভারস্পিডিংয়ের মতো সামান্য একটা ভুল পথে থাকা অন্য কোনো নিরীহ মানুষের জীবনের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে।

সবাই সাবধানে থাকুন, স্পিড লিমিট মেনে চলুন এবং দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো রাস্তা ব্যবহার করুন।

আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল আমাদের রোজকার জীবনে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দা...
18/05/2026

আমেরিকা আর ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল আমাদের রোজকার জীবনে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া, আর তার জেরে দেশে শুরু হয়েছে চরম জ্বালানি সংকট। কলকাতায় ইতিমধ্যে পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরি পার করে ১০৮.৭০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে! দামের এই ছ্যাঁকার পাশাপাশি পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের বহু পেট্রোল পাম্পে এখন নো-স্টক বোর্ড ঝুলছে, অর্থাৎ তেলই নেই। আর যে কয়েকটি পাম্প খোলা আছে, সেখানেও মাথাপিছু পেট্রোল দেওয়ার ওপর কড়া রেস্ট্রিকশন বা নিয়মের বেড়াজাল তৈরি করা হয়েছে। ইচ্ছে করলেই এখন আর ফুল ট্যাংক তেল নেওয়া যাচ্ছে না।

​রোজকার ল্যাবের যাতায়াত হোক বা উইকেন্ডে দু'চাকায় ভর করে কোথাও একটু বেরিয়ে পড়া—সবকিছুর ওপরেই যেন হঠাৎ করে একটা বড়সড় ব্রেক কষতে হচ্ছে। দেশের এই আপৎকালীন ও সংকটময় পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে ব্যক্তিগত যানের ব্যবহার কমাতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করেছেন। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক এবং রাইডার হিসেবে আমাদের সবারই উচিত এই কঠিন সময়ে দেশের স্বার্থে সহযোগিতা করা। খুব প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক ব্যবহার না করে, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা কারপুলিং ব্যবহার করাটাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।

​তবে সরকারের কাছে আমার এবং সাধারণ মানুষের একটাই বিনীত অনুরোধ—যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দয়া করে এই বর্ধিত দামটা যেন আবার সাধারণের আয়ত্তের মধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়। কারণ জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দাম মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন জীবনে যে কী পরিমাণ আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

​আপাতত দেশের এই সংকটজনক সময়ে লং ড্রাইভ বা রাইডগুলো একটু তোলা থাক। পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার না হয় চেনা হাইওয়েতে ফেরা যাবে। সবাই ভালো থাকবেন, আর খুব প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি বা বাইক বের করা থেকে বিরত থাকবেন।

​

গত বুধবার ল্যাবের সারাদিনের খাটুনির পর মাথাটা যখন পুরো জ্যাম, তখন ল্যাবমেটদের সাথে রিফ্রেশমেন্টের খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম কল্...
17/05/2026

গত বুধবার ল্যাবের সারাদিনের খাটুনির পর মাথাটা যখন পুরো জ্যাম, তখন ল্যাবমেটদের সাথে রিফ্রেশমেন্টের খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম কল্যাণীর নতুন ক্যাফে Nook.The Salad Cafe -তে। কল্যাণী B7/27-এ, কল্যাণী সেন্ট্রাল পার্কের ঠিক কাছেই।

কল্যাণীতে ইদানীং বেশ কিছু সুন্দর ক্যাফে খুলছে, তবে এই নতুন ক্যাফেটার কনসেপ্টটা বেশ আলাদা আর ইউনিক। এদের মেইন আকর্ষণ হলো Salad। আর সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এদের প্রাইসিং মেকানিজম—এখানে সালাদ কোনো ফিক্সড প্লেট হিসেবে নয়, বরং প্রতি গ্রাম হিসেবে বিক্রি হয়! মাত্র ৯৯ পয়সা প্রতি গ্রাম। যে যার পছন্দমতো হরেক রকমের ফ্রেশ ভেজিটেবলস, প্রোটিন আর ড্রেসিংস দিয়ে নিজের সালাদ বাটি সাজিয়ে ওজন করিয়ে নিলেই হলো। আমার মতো জিম আর ডায়েট সচেতন মানুষদের জন্য তো এটা একদম পারফেক্ট জায়গা! আমরা সবাই মিলে মনের মতো হেলদি সালাদ বানিয়ে বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলাম।

তবে সারাদিনের ধকলের পর একটু মিষ্টিমুখ তো দরকার! তাই শেষে অর্ডার করেছিলাম 'হট চকোলেট ব্রাউনি'। গরম ব্রাউনির ওপরে ঠান্ডা আইসক্রিম আর চকোলেট সিরাপের যুগলবন্দি ল্যাবের সব ক্লান্তি নিমেষে দূর করে দিল। আর সবথেকে দারুণ ব্যাপার হলো, এই ব্রাউনিটাও ছিল লো-ক্যালোরি! তাই ডায়েট ভাঙার কোনো গিল্ট ছাড়াই পুরোটা এনজয় করলাম।

শুধু খাওয়া-দাওয়াই নয়, এখানকার শান্ত পরিবেশটা টাইম কাটানোর জন্য যেমন সেরা, তেমনই ল্যাপটপ খুলে নিরিবিলিতে নিজের কাজ করার জন্যও দারুণ একটা জায়গা। রোজকার থিসিস আর রিসার্চের একঘেয়েমির মাঝে এমন হেলদি আড্ডা সত্যিই খুব দরকার!

​ Ph.D. Bikerwala

দীর্ঘদিন পেজে নতুন কোনো ট্রাভেল আপডেট নেই! অনেকেই হয়তো ভাবছেন হঠাৎ করে আমি কোথায় গায়েব হয়ে গেলাম?​আসলে এই এপ্রিল মাসটায় ...
26/04/2026

দীর্ঘদিন পেজে নতুন কোনো ট্রাভেল আপডেট নেই! অনেকেই হয়তো ভাবছেন হঠাৎ করে আমি কোথায় গায়েব হয়ে গেলাম?

​আসলে এই এপ্রিল মাসটায় সেভাবে দূরে কোথাও বেরিয়ে ওঠা হয়নি। একদিকে ল্যাবের চরম ব্যস্ততা, আর অন্যদিকে আমাদের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন—সব মিলিয়ে রুটিনটা বড্ড টাইট হয়ে গেছে। হাইওয়ের হাওয়া, লাল মাটির পথ কিম্বা অচেনা কোনো জায়গার খোঁজ—সবই ভীষণ মিস করছি এই কয়েকটা দিন।
​
ভাবছি এই সময়টাকে একটু অন্যভাবে কাজে লাগাই। ট্রাভেল ভ্লগের পাশাপাশি এবার থেকে চ্যানেলে আমি কিছু ইনফরমেটিভ বা তথ্যমূলক ভিডিও নিয়ে আসতে চলেছি। সেখানে পিএইচডি লাইফ, রিসার্চ বা পড়াশোনার নানা অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বাইক মেইনটেন্যান্স বা ট্রাভেলের বিভিন্ন টিপস—অনেক কিছুই আপনাদের সাথে শেয়ার করার ইচ্ছে আছে। আশা করি আমার এই নতুন উদ্যোগেও আপনারা আগের মতোই পাশে থাকবেন। ​

আর ট্রাভেলের কথা যদি বলেন, এই ব্রেকটা নেহাতই সাময়িক! মে মাস থেকেই আবার পুরোনো ফর্মে ফিরছি। নতুন গন্তব্য, নতুন রাস্তা আর বাইকের সেই চেনা গর্জন নিয়ে খুব তাড়াতাড়িই নতুন ট্রাভেল স্টোরি আর ভ্লগ আসতে চলেছে।

​
Ph.D. Bikerwala Indrajit Das

বসন্তের রঙে শান্তিনিকেতন 🌸: প্রায় এক মাসেরও বেশি সময়ের বিরতি! ল্যাব, রিসার্চ আর রোজকার রুটিনের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ...
14/04/2026

বসন্তের রঙে শান্তিনিকেতন 🌸:

প্রায় এক মাসেরও বেশি সময়ের বিরতি! ল্যাব, রিসার্চ আর রোজকার রুটিনের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বেশ কিছুদিন দূরেই ছিলাম। তবে বাইক রাইডিং আর ঘোরাঘুরি—এই দুটো ছাড়া তো আমার চলে না। তাই দীর্ঘ এক মাসের নীরবতা ভেঙে আজ নিয়ে এলাম গত ৭ই মার্চের শান্তিনিকেতন সোলো বাইক ট্রিপের এক রঙিন গল্প।

বসন্তের শান্তিনিকেতনের রূপ দেখার ইচ্ছেটা অনেকদিন ধরেই ছিল। তাই ৮ই মার্চ সকাল ঠিক ৭টায় বাইক স্টার্ট করলাম। এবারের রুটটা একটু অন্যরকম বেছে নিয়েছিলাম—মগরা-গুড়াপ রোড ধরে, ভাস্তারা হয়ে সোজা NH12, তারপর বর্ধমান। হাইওয়ের খোলা হাওয়া আর বসন্তের সকালের সেই হালকা শীতের আমেজে একা বাইক চালানোর থ্রিলটাই আলাদা! পথে শক্তিগড়ে দাঁড়িয়ে গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে ছোট্ট একটা ব্রেক নিলাম।

এরপর ধরলাম গুসকরার রাস্তা। বর্ধমান থেকে গুসকরা হয়ে শান্তিনিকেতন যাওয়ার পথের দু'পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই চোখ জুড়ানো। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে তখন কৃষকদের প্রবল ব্যস্ততা, কারণ সময়টা যে আলু তোলার! রাস্তার দু'পাশের এই স্নিগ্ধ গ্রামীণ দৃশ্য দেখতে দেখতে সকাল ১১টার মধ্যেই পৌঁছে গেলাম লাল মাটির দেশে।

এবারের ট্রিপে কোনো হোটেলে থাকার প্ল্যান ছিল না। একেবারে নিখাদ একটা 'ডে-ট্রিপ'—বিকেল ৪টের মধ্যে বাড়ির পথ ধরার টার্গেট। এই সফরের মূল উদ্দেশ্যই ছিল শান্তিনিকেতনের বসন্তকে দু'চোখ ভরে উপভোগ করা। রতনপল্লী থেকে প্রান্তিক, কোপাই থেকে তালতোড়—বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য গায়ে মাখতে বাইক নিয়ে চষে বেড়িয়েছি শান্তিনিকেতনের আনাচ-কানাচ।

চারদিকে তখন রীতিমতো রঙের মেলা! গাছে গাছে লাল পলাশ যেন আক্ষরিক অর্থেই আগুন ধরিয়েছে, আর সেই লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। এর পাশাপাশি চোখে পড়ার মতো হলো নানা রঙের বোগেনভিলিয়ার (কাগজ ফুল) বাহার। গোলাপি, সাদা, হলুদ, কমলা রঙের থোকা থোকা কাগজ ফুল প্রতিটি বাড়ির সীমানা প্রাচীর আর গেটের ওপর দিয়ে উঁকি মারছে। পথের দু'ধারে এই রঙিন ফুলের সমাহার আর তার মাঝে লুকিয়ে থাকা আরও কত যে নাম-না-জানা অচেনা ফুল, তা বলে শেষ করা যাবে না। বসন্তের এই জাদুকরী ছোঁয়ায় শান্তিনিকেতনের প্রতিটি বাড়ি যেন এক একটা অদ্ভুত স্নিগ্ধতায় আর আভিজাত্যে সেজে উঠেছিল।

বাইক নিয়ে একটু সোনাঝুরির জঙ্গলের দিকেও ঘুরে এলাম। শাল-পিয়ালের ফাঁক দিয়ে আসা হাওয়া গায়ে মেখে বাইক চালানোর অনুভূতিটা দারুণ। তবে প্রবল ভিড়, পার্কিংয়ের ঝামেলা আর সর্বোপরি সময়ের অভাবে এবারের মতো সোনাঝুরির হাট যাওয়া থেকে বিরত রইলাম।। দুপুরে লাঞ্চ সেরে সোজা চলে গেলাম বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে।

শান্তিনিকেতনে এলে আমার একটা বাঁধা নিয়ম আছে—এখানকার স্পেশাল রাবড়ি আর দই খাওয়া চাই-ই চাই! সারা সপ্তাহ জিমের জন্য যতই কড়া ডায়েট আর রুটিন মেনে চলি না কেন, লাল মাটির এই শহরে এলে দই আর রাবড়ির কাছে আমার সব ডায়েট প্ল্যান খুশি মনে হার মানে।

দেখতে দেখতে বিকেল হয়ে এল। ফেরার আগে শেষ গন্তব্য হিসেবে একটু ঢুঁ মেরে এলাম কাছের সুরুল রাজবাড়িতে। পুরোনো রাজবাড়ির ইতিহাস আর গাম্ভীর্য ছুঁয়ে বিকেল ৪টে নাগাদ যখন বাইকের মুখ বাড়ির দিকে ঘোরালাম, তখন মনটা সত্যিই বেশ খারাপ লাগছিল। একরাশ শান্তি নিয়ে কেটে গেল একটা দারুণ দিন। এত সুন্দর একটা পরিবেশ, পলাশের রঙ আর লাল মাটির মায়া ছেড়ে ওই একঘেয়ে রুটিনে ফিরতে কারই বা ভালো লাগে! তবে এই মন খারাপের মাঝেই সুযোগ পেলেই আবার ঠিক এভাবেই বেরিয়ে পড়ব এমন কোনো সোলো বাইক ট্রিপে।। ফিরে আসবো আবার অন্য এক গল্প নিয়ে...

*একটা সচেতন বার্তা: সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ—দয়া করে কেউ গাছ থেকে ফুল তুলে এই সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না। আপনারা ছবিতে আমার বাইকের ওপর যে পলাশ ফুলগুলো দেখতে পাচ্ছেন, সেগুলো কিন্তু গাছ থেকে ছেঁড়া নয়, বরং গাছের তলা থেকে কুড়িয়ে নেওয়া ঝরে পড়া পলাশ। আর সেই সাথে আরও একটি কথা, ঘুরতে গিয়ে যত্রতত্র প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলবেন না। আমাদের চারপাশের এই সুন্দর পরিবেশটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।

অ্যাকাডেমিক ব্যস্ততা, ফেলে আসা স্মৃতি আর ইতিহাসের খোঁজে: আইআইটি খড়গপুর ডায়েরি 🍁বেনারসের গঙ্গার ঘাটের সেই আধ্যাত্মিক রে...
13/03/2026

অ্যাকাডেমিক ব্যস্ততা, ফেলে আসা স্মৃতি আর ইতিহাসের খোঁজে: আইআইটি খড়গপুর ডায়েরি 🍁

বেনারসের গঙ্গার ঘাটের সেই আধ্যাত্মিক রেশ কাটতে না কাটতেই এবারের গন্তব্য ছিল খড়গপুর। এই শহরে আমি আগেও একবার এসেছি, তবে সেটা ছিল নিতান্তই কয়েক ঘণ্টার জন্য। খড়গপুরের বাতাসে আমার ভালোবাসার কিছু পুরোনো অনুভূতি আর ফেলে আসা স্মৃতি মিশে আছে। তাই এবার যখন IIT Kharagpur আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে Mech2Med যোগ দেওয়ার সুযোগ এল, মনটা নাড়া দিয়েছিলো।

এবারের ট্রিপটা নিছক ঘোরাঘুরি নয়, মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের পিএইচডি-র গবেষণাপত্র এমন একটা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রেজেন্ট করা। কনফারেন্সটি ছিল ২০ থেকে ২২শে ফেব্রুয়ারি। তাই আগের দিন, অর্থাৎ ১৯শে ফেব্রুয়ারি রাতেই হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে খড়গপুর পৌঁছে গিয়েছিলাম। তবে এবারের কনফারেন্সের সবচেয়ে স্পেশাল দিকটা হলো—আমি একা নই, আমাদের ল্যাবের সমস্ত মেম্বার এবং আমাদের সুপারভাইজারও এই কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন। আমরা সবাই মিলে উঠেছিলাম 'ইভেন্ট ভিউ' (Event View) হোটেলে। একসাথে থাকা, আর ল্যাবের সবার সাথে এমন একটা ট্রিপে অ্যাকাডেমিক আলোচনার পাশাপাশি হোটেলে আড্ডাও জমেছিল দারুণ। প্রথমটায় ভেতরে ভেতরে বেশ নার্ভাস লাগছিল। কিন্তু প্রেজেন্টেশনটা সাফল্যের সাথে মিটে যাওয়ার পর মনের ওপর থেকে যেন একটা বড় পাথর নেমে গেল! আর সেই ফুরফুরে মেজাজ, সাথে একটু পুরোনো স্মৃতির রেশ নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম দেশের প্রথম আইআইটি-র বিশাল ক্যাম্পাসটা এক্সপ্লোর করতে।
ক্যাম্পাস তো নয়, যেন আস্ত একটা শহর! এত বিশাল এলাকা পায়ে হেঁটে ঘোরা প্রায় অসম্ভব, তাই একটা টোটো ঠিক করে নিলাম। আর আমার মতো যার ফটোগ্রাফি আর ভিডিও তৈরির নেশা আছে, তার কাছে এই টোটো সফরটা ছিল একদম পারফেক্ট। চারপাশের পুরোনো স্থাপত্য আর সবুজের মেলা লেন্সবন্দি করতে করতে এগিয়ে চললাম ইতিহাসের খোঁজে।

টোটো করে প্রথমেই পৌঁছালাম ক্যাম্পাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক স্থান—হিজলি ডিটেনশন ক্যাম্প বা হিজলি জেলে। অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৫১ সালে দেশের এই প্রথম আইআইটি-র পথচলা শুরু হয়েছিল এই জেলের ভবন থেকেই!ব্রিটিশ আমলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি করে রাখার জন্য এই জেল তৈরি হয়েছিল। ১৯৩১ সালে এখানেই ঘটেছিল সেই মর্মান্তিক 'হিজলি ফায়ারিং', যেখানে ব্রিটিশ পুলিশের বিনা প্ররোচনায় চালানো গুলিতে শহীদ হন সন্তোষ মিত্র এবং তারকেশ্বর সেনগুপ্ত। সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা ভবনটি আজ 'নেহেরু সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মিউজিয়াম'। পুরোনো সেই সেলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছিল। একটা সময় যেখানে বন্দিদের আর্তনাদ আর শিকলের ঝনঝনানি শোনা যেত, আজ সেখানেই দেশের সেরা মেধারা তৈরি হচ্ছে—ইতিহাসের কী অদ্ভুত এক রূপান্তর! খড়গপুর মানেই তো রেলওয়ের এক বিশাল ইতিহাস। ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘুরতে ঘুরতেই হেরিটেজ চত্বরে চোখে পড়ল পুরোনো দিনের একটি ন্যারো-গেজ ভিনটেজ ট্রেনের ইঞ্জিন। শুধু ট্রেনই নয়, সেখানে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো ভারতীয় ফাইটার এয়ারক্রাফটও! এগুলোর পাশাপাশি মিউজিয়াম এবং ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের আরও অনেক পুরোনো জিনিসপত্র আর স্থাপত্য, যা এক লহমায় অতীতের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এই জায়গাটা ছবি তোলার জন্য দারুণ, তাই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য বেশ কিছু সিনেম্যাটিক শট নিয়ে নিলাম।
হিজলি জেলের পাশাপাশি দেখলাম আইআইটি-র পুরোনো বিল্ডিংগুলো। এই স্থাপত্যগুলোর পরতে পরতে একটা আলাদা আভিজাত্য আর গাম্ভীর্য লুকিয়ে আছে। চওড়া করিডোর, বিশাল সব গাছপালা আর শান্ত পরিবেশ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। টোটোয় করে ক্যাম্পাসের এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরতে ঘুরতে স্টুডেন্টদের কোলাহল, সাইকেল চালিয়ে ক্লাসে যাওয়ার ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে দারুণ একটা নস্টালজিক ভাইব পাচ্ছিলাম।

একদিকে কনফারেন্সে নিজের রিসার্চ ওয়ার্ক প্রেজেন্ট করার অ্যাকাডেমিক তৃপ্তি, IIT-Kharagpur-র মতো বিশাল মঞ্চে পুরস্কার নেওয়া, অন্যদিকে টোটোয় ঘুরে ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখার রোমাঞ্চ, আর মনের কোণে উঁকি দেওয়া কিছু পুরোনো ভালোবাসার স্মৃতি—সব মিলিয়ে খড়গপুরের এই সফরটা আমার ডায়েরিতে একটা বিশেষ জায়গা করে নিল। ২২ তারিখ সব কাজ মিটিয়ে ফেরার পথে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চেপে যখন বাড়ির দিকে ফিরছিলাম, মনে হচ্ছিল অ্যাকাডেমিক কাজের পাশাপাশি মনটাকেও বেশ রিফ্রেশ করে নিলাম।

ফিরে আসবো আবার অন্য এক গল্প নিয়ে...

​📷 কনফারেন্স আর এই ট্রিপের আরও কিছু মুহূর্তের ছবির লিংক নিচে দেওয়া থাকলো: https://www.facebook.com/share/p/1PKFYqsZbG/

Address

Kalyani
741235

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ph.D. Bikerwala posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share