13/08/2026
📌আজমল সাহেবের একটি ভুল অবশ্যই আছে, তিনি অনেক বিষয়ে ‘না’ বলতে পারেন না, সবকিছুকেই ‘হ্যাঁ’ বলে দেন: বিকাশ অসম
📌কোনো ব্যক্তিকে তাঁর পোশাক, চেহারা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার না করে তাঁর কাজের মূল্যায়ন করা উচিত।
এই মানুষটি আপনি-আমি যেভাবে দেখছি, আসলে তিনি শুধু তেমন একজন মানুষ নন। তাঁর চেহারা এবং অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড—যেমন বোতলে পানি ভরে ফুঁ দেওয়ার সেই ঘটনার কথা বলছি—এসবকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়েছে। আর দাড়ি, চুল ও টুপি দেখলেই আমরা সরাসরি তাঁকে ‘বাংলাদেশি’, ‘মিঞা’ কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে চিহ্নিত করে দিই। অর্থাৎ সামাজিক মাধ্যমকে বিষাক্ত করে তোলার সহজ উপায় যেন আমাদের হাতেই রয়েছে।
একটি বিষয় কি লক্ষ্য করেছেন? তিনি একজন দক্ষ সংগঠক, শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করা এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকের ভূমিকা পালনকারী একজন মানুষ। বিপদে পড়া মানুষের বন্ধু, একজন সাহসী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং সংক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করা একজন ব্যবসায়ী। উদার মন নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
আজমল সাহেবের একটি ভুল অবশ্যই আছে—তিনি অনেক বিষয়ে ‘না’ বলতে পারেন না, সবকিছুকেই ‘হ্যাঁ’ বলে দেন; আর তাঁর সঙ্গে থাকা মানুষগুলো তখন চিন্তায় পড়ে যান। তাঁকে বিতর্ক ও সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু উপেক্ষা করা যাবে না।
প্রায় ১০ দিন আগে আমি একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেদিন আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, “বিকাশ, তোমার জন্য কোনো সাহায্য করতে পারি?” আমি বলেছিলাম, আমার টাকা লাগবে না। কারণ টাকা দিলে সবার উপকার হবে না। বরং ছাত্রসমাজের জন্য কিছু করুন। আপনারা আর্থিকভাবে শক্তিশালী মানুষ। টাকা দিলে হয়তো ২০ লাখ টাকা দেবেন, আর যারা আজমল সাহেবকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, তারা মুখে মুখে বলে দেবেন—আজমল এক কোটি টাকা দিয়েছেন! অথচ তাঁর বিরুদ্ধে ‘ইনোভা’ নিয়ে বদনাম এখনও শেষ হয়নি।
এখন কথাগুলো ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বন্ধু ইমদাদ আলী ও আফনুর আলীকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলের বয়স আনুমানিক ৭০–৭৫ বছর হবে। এই বয়সে তিনি যে কাজ করছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটাকে সম্মান করি।
আমার মনে আজ পর্যন্ত হিন্দু-মুসলমানের কোনো ভেদাভেদ আসেনি। কারণ রক্তের প্রয়োজন হলে আমি শুধু লাল রংটাই চিনি, জাতি চিনি না।
হ্যাঁ, অবৈধ বাংলাদেশিদের বিতাড়িত করা উচিত। কিন্তু এটি যেন শুধু রাজনৈতিক স্লোগান না হয়ে জাতিকে রক্ষা করার একটি কার্যকর ব্যবস্থা হয়। ‘বিদেশি’ শব্দটি ব্যবহার করে অনেকেই নেতা-মন্ত্রী হয়েছেন, কিন্তু সমস্যার সফল সমাধান হয়নি।
এখন এই মহাবিপদের সময় ঘরে বসে বসে যেকোনো কিছু লেখা খুব সহজ। কিন্তু আসুন, মানুষের মাঝে গিয়ে একটি পানির বোতল দিয়ে দেখি। কারণ আপনার বয়স কিংবা বাড়ি থেকে দূরত্ব—কোনোটিই আজমল সাহেবের চেয়ে বেশি নয়।
শুধু টাকা থাকলেই হবে না, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মনও থাকতে হবে।
আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করার আগে দু-একজন আমাকে বলেছিলেন, “তুমি কি তাঁর সঙ্গে দেখা করবে না? পরে যদি তোমাকে ‘মিঞা-প্রেমী’ বলে কোনো নিউজ হয়!” তখন আমি বলেছিলাম, শিবসাগর, চরাইদেও, নাজিরা ও যোরহাটের মানুষের এই দুরবস্থার জন্য প্রয়োজনে আমি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-র সঙ্গেও দেখা করব। কারণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে রয়েছে মানবসেবা। তাহলে কি আমি বিজেপি হয়ে যাব?
সুনাম-দুর্নামের ভয় করলে মানুষের জন্য কাজ করা যায় না। আমাদের আবেগ আছে, কিন্তু আমরা আবেগপ্রবণ নই।
যে মানুষটির সমালোচনা করছেন, তিনি যে দশটি কাজ করেছেন, যেগুলো আপনার পক্ষে দশ জন্মেও করা সম্ভব নয়—সেগুলোর প্রশংসা করতে আপনার এত সাহসের অভাব কেন?
এই কঠিন সময়ে মানুষকে সাহায্য করার জন্য অসমের বাইরের মানুষও আসছেন। কোথাও খাবার পানি না পেয়ে মানুষ বন্যার পানিই পান করতে বাধ্য হয়েছে। ছোট্ট একটি ছেলে ১৩ ঘণ্টা খাবার না পেয়ে গাছের পাতা খেয়েছে। কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে ১৩ বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আর আপনারা মোবাইলে ৩৪৯ টাকা রিচার্জ করে বসে থেকে অপ্রয়োজনীয় বড় বড় কথা বলছেন!
আমি কোনোদিন বিধায়ক অখিল গগৈ, ময়ূর গগৈ কিংবা সুরুজ কাকাকে বদনাম করেছি? তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ আমার কাছে এসেছে—বিধায়ক আসেননি, ইত্যাদি। কিন্তু বিধায়ক তো ভগবান নন যে মায়াকৃষ্ণের মতো এক মুহূর্তে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যাবেন!
আমার সঙ্গে কাজ করা পুরো টিমেরই জ্বর হয়েছে। রোদ-বৃষ্টিতে মাঠে নেমে কাজ করা এত সহজ নয়।
অখিল গগৈ যেখানে যেতে পারেননি, সেখানে আমি মানুষকে বলেছি, “আমি অখিল দার হয়ে এসেছি।” ময়ূর দার জায়গায় গিয়ে বলেছি, “ময়ূর দা আসবেন, আমরা সবাই মিলে কাজ করব।” এভাবেই মানুষকে সাহস দিয়েছি।
এখন ধর্ম, মিথ্যা সমালোচনা কিংবা পরিবেশ বিষাক্ত করার সময় নয়। আমি সবার কাছ থেকেই সাহায্য নিয়েছি এবং বানপীড়িত মানুষের জন্য সাহায্য করে যাব।
কারণ শুধু ফেসবুকে কাজ করলেই হবে না। যারা মাঠে নেমে মানুষের জন্য কাজ করছেন, তাঁদের মতো আপনারাও মাঠে আসুন। যদি বদরুদ্দিন আজমলের মতো টাকা না থাকে, তাহলে নিজের শ্রমটুকুই দান করুন। দেখবেন, আপনার মনও নির্মল হবে।
অকারণে সবকিছু নিয়ে এত চিৎকার-চেঁচামেচি করার কী দরকার?
— বিকাশ অসম__
যুগ্ম সচিব, কেন্দ্রীয় সমিতি, বীর লাচিত সেনা, অসম।
গবেষক ছাত্র, সাহসিকতা পুরস্কারপ্রাপ্ত, দিসপুর প্রেস ক্লাব।
#নিউজ৫৭