25/08/2026
হিজাব পরিধান নিয়ে আসামের কাছাড় কলেজের মুসলিম ছাত্র ছাত্রীদেরকে মারধরের অভিযোগ।
শিক্ষাঙ্গন হল মানুষ তৈরীর কারখানা। স্কুল কলেজে পড়াশুনার অর্থ হলো দেশের জন্য দশের জন্য নিজেকে গড়ে তুলা, মুক্ত চিন্তার অধিকারী হওয়া। কিন্তু সেই শিক্ষাঙ্গনে যদি যদি ছাত্রছাত্রীরা মারপিটে জড়িয়ে পড়ে তার চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা কি হতে পারে? মতান্তর থাকবেই, মানুষ মাত্রেই ভিন্নতার অধিকারী। হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান নয় তেমনি সবাইকে এক করা ও সম্ভব নয়। পৃথিবীতে যদি ভিন্ন ভিন্ন রং না থাকত, গাছপালা জীব জন্তু সব এক হত? তাহলে কি আজকের পৃথিবী আমি দেখতে পেতাম। ভারতের মত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমাদের গর্ব হলো গণতন্ত্র। মায়ানমারের মত আমাদের দেশের সামরিক বাহিনী নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল নেয় নি। কারণ আমাদের দেশের সংবিধান গণতন্ত্রকে শক্তভাবে কায়েম করেছে। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের চেষ্টা করা উত্তম। তা না না করে সংখ্যার বলে, গায়ের জুর, ক্ষমতার বাহাদুরীতে মেয়েদের উপর মারমারি কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়? আমাদের নব প্রজন্ম ছাত্রছাত্রীদের ভাবা উচিত যে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। আজ চীন, আমেরিকা অর্থনীতি, উৎপাদন, টেকনোলজিতে কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, দেখলে ঈর্ষা হয়। মায়ানমার আমাদের আদর্শ হতে পারেনা। খেলাধুলা এক সময় যুবক যুবতীদের প্রাণ ছিল। অলিম্পিকে আমেরিকা, চীনের মেডেল তালিকা দেখলে চমকে উঠতে হয়। আমাদের কলেজ পড়ুয়াদের উচিত খেলা এবং পড়াতে মেডেল হাসিল করা। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি অনুরোধ নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করও। কত ধরনের সরকারি বেসরকারি চাকুরী রয়েছে, সেগুলি হাসিলের চেষ্টা করো। FYUG ফাইন্যাল ইয়ারের রেজাল্ট বেরিয়েছে, কলেজগুলোর পাশের হার নিয়ে চিন্তা করা একান্ত দরকার। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলোতে এক দশমাংশ ছাত্রছাত্রী ও ছয় সেমিস্টার পূর্ণভাবে পাশ করেনি। পাশের নিম্নমুখী হর নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। সরকারি অফিসগুলোতে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণীর চাকুরীতে বরাক উপত্যকার ছেলেমেয়েদের চাকুরী প্রাপ্ত তালিকাটি ভালোভাবে নিরীক্ষণ করা উচিত। আজ কেন? বিভিন্ন বিভাগের চাকুরীতে স্থানীয়দের অংশীদারিত্ব একদম নেই বললেই চলে। , সুতরাং মারপিটে নয় মুক্ত চিন্তার পরিবেশ ছাত্র শিক্ষক সবাই কে করা উচিত। একটি অপ্রয়োজনীয় ইস্যুকে গুরুত্ব না দিয়ে পড়াশুনার উন্নতি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হবে। আশাকরি বরাক উপত্যকার ক্যাম্পাসগুলোতে কীভাবে শিক্ষার সঠিক বাতা বরণ গড়ে উঠবে তা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অধিক মনযোগী হবে-জয় হিন্দ।