25/05/2026
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সরব গোবিন্দপুরি!!
মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় অনুশাসন ও মৌলিক অধিকারে সরকারের হস্তক্ষেপ কাম্য নয় !!
গতকাল শিলচরে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, শায়খুল হাদিস ও শায়খুল জামিয়া মাওলানা আহমদ সায়িদ গোবিন্দপুরি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ভারত একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র। এই দেশের প্রকৃত সৌন্দর্য ও শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত।
তাই প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব পারিবারিক আইন, ধর্মীয় রীতি-নীতি ও সংস্কৃতিকে সম্মান করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
গোবিন্দপুরির মতে, ইউসিসি কার্যকর করা হলে শুধু মুসলিম সমাজ নয়, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, শিখ, জৈনসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করলে তা দেশের ঐক্য ও সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
গোবিন্দপুরি আরও বলেন, ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা দিয়েছে।
_তাই কোনো আইন এমন হওয়া উচিত নয়, যা মানুষের বিশ্বাস বা ধর্মীয় চর্চাকে সংকুচিত করে।
তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানান, তাড়াহুড়ো করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
তিনি ঘোষণা করেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ইউসিসির বিরোধিতা করবেন। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রয়োজনে আগামী নভেম্বরে দিল্লির যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ ধর্না ও প্রতিবাদ কর্মসূচি নেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণতান্ত্রিক ও অহিংস উপায়ে জনমত গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
প্রয়োজনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে বলেও তিনি জানান।
এমনকি দরকার হলে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনেও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ইঙ্গিত দেন। তবে তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের মাধ্যমেই ভারত শক্তিশালী হতে পারে।
শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অসম ও পশ্চিমবঙ্গে চলমান উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করা মানবিকতার পরিপন্থী। তবে বেআইনিভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও তিনি মত দেন।
তিনি সরকারকে অর্থনৈতিক বিকাশে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং রাজ্যে সবুজ বিপ্লব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে কোরবানি প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন গোবিন্দপুরি,
তিনি বলেন, দেশে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মুসলিম সমাজের উচিত সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া।
তিনি গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান এবং একই সঙ্গে মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের আইন মেনে প্রয়োজনে গরুর পরিবর্তে মহিষ, ছাগল বা খাসি কোরবানি দেওয়া যেতে পারে।
কোরবানির ক্ষেত্রে সরকারের জারি করা নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বানও জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা করা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। মতভেদ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়াই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।