23/08/2025
ইমরানকে হত্যা করার রহস্য বেরিয়ে আসলো
ইমরানের স্ত্রী রীনা বেগম আর তার গাড়িচালক বিজু আহমেদের অনৈতিক সম্পর্কের জেরে প্রান হারালেন ইমরান হোসেন বড়ভূইয়া। সম্পর্ক অনেক আগেই টের পেয়ে গিয়েছিল ইমরান, তাই বিজুকে বেশি কিছু না বলেই চাকরি ছাড়িয়ে দেন।
ইমরান, বিজু আর রীনা একই সাথে পড়াশুনা করতো, তাই তারা ভালো বন্ধুর মতো ছিল, কিন্তু বিজুর অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে সে বেশি কিছু না বলেই বিজুকে গাড়িচালকের চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলে। সেই অনুযায়ী একসময় বিজু ব্যাঙ্গালোরে চলে যায়।
প্রাপ্ত তথ্য মতে বেশ কয়েকমাস পর বিজুর বৃদ্ধ মা ইমরানকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন যে তাঁর ছেলে বিজুকে কোন একটা কাজের সুযোগ করে দিলে সে আবার এখানে চলে আসবে, তার ব্যাঙ্গালোর থাকা আর ভালো লাগছে না।
ইমরান বিজুর মায়ের অনুরোধ রেখে অবশেষে বিজুকে ফোন করে আসার প্রস্তুতি নিতে বলে আর তাকে বিমানের টিকিট পাঠিয়ে দেয়। তারপর বিজু আবার ইমরানের কাজে যোগ দেয়। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু বিজু আর রীনা আবারো অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।তবে এবার তারা খুব সাবধানে তাদের অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল যাতে ইমরান আর আগের মতো বুঝতে না পারে।
উল্লেখ, গত ১০ আগষ্ট প্লান অনুযায়ী বিজু নেশা জাতীয় কিছু সামগ্রী খুব সম্ভবত ঘুমের ট্যাবলেট রীনাকে এনে দেয়ে আর রীনা সেই ট্যাবলেট খাবারের সাথে ইমরানকে খেতে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইমরান অচেতন হয়ে পড়ে আর অবশেষে তার মৃত্যু ঘটে। আশপাশের মানুষকে হৃদয়রোগে আক্রান্ত বলে রটানো হয়।
কিন্তু বুধবার রাতে ইমরানের নিকটাত্মীয় কিছু বন্ধুরা বিজুর উপর সন্দেহ হলে তারা বিজুর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ এ থাকা নানা চ্যাট দেখে তাদের সন্দেহ আরো যেন মজবুত রূপ ধারণ করে।
ইমরানকে কিভাবে মারতে হবে, নেশার ট্যাবলেট আনা থেকে শুরু করে তারা দুইজন কিভাবে দুবাই পাড়ি দেবে সবকিছু তন্ন তন্ন উল্লেখ করা আছে সেখানে। ৬০ লক্ষ টাকার লোভ সামলাতে না পেরেই তারা এতো বড় পদক্ষেপ নেয়।
অবশেষে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করানো হলেও বিজু, রীনা, রীনার বাবা, ভাই, রীনার বড়ো বোন সবাইকে আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, ইমরান যখন তার স্ত্রী আর বিজুর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে পেরেছিল, তখনই তাকে সাবধান হওয়ার দরকার ছিল। একজন বিবাহিত মহিলা যখন স্বামী ছেড়ে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে, এর মানে সে এখন আওতার বাইরে। তাকে আর টেনে রাখাটা সময়ের সাথে লড়াই। এই ক্ষেত্রে হয়তো একজন পুরুষকে দোহাই দিয়ে আটকানো সম্ভব, তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে তাহা প্রযোজ্য নয়।
রীনা বিজুর সাথে ব্যাঙ্গালোরেও রীতিমতো যোগাযোগে রাখছিল, বিজুর মায়ের মারফত ইমরানকে অনুরোধ করা থেকে শুরু করে তাকে আবারো কাজে লাগানো সবই এই বৃহৎ প্লানের অংশ ছিল।
নিরীহ ইমরান এই ষড়যন্ত্র মোটেও বুঝতে পারে নাই। তাই তার প্রিয় এবং কাছের মানুষেরাই তার কাল হয়ে তারই প্রান কেড়ে নিল। দুটি শিশু তাদের, বাবা মৃত আর মা হাজতে। এমন পরিস্থিতি যেন কারো জীবনে না আসে।