24/03/2025
ডায়মন্ড হারবার রোডের পশ্চিম দিকে অবস্থিত টাঁকশাল বা কলকাতা টাঁকশাল সম্পর্কে কি জানেন?
জানুন তাহলে............
এটি কলকাতায় অবস্থিত ভারত সরকারের একমাত্র টাঁকশাল। এটি ভারতের অন্যতম প্রাচীন টাঁকশাল। কলকাতার আলিপুর অঞ্চলে এই টাঁকশালটি অবস্থিত।
১৭৫৯-৬০ সালে কলকাতায় প্রথম টাঁকশালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময় এই টাঁকশালের নাম ছিল "ক্যালকাটা মিন্ট"। এখান থেকে মুর্শিদাবাদের নামে মুদ্রা উৎপাদিত হত। ১৭৯০ সালে ইংল্যান্ড থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি এনে দ্বিতীয় ক্যালকাটা মিন্ট স্থাপন করা হয়। গিলেট শিপ বিল্ডিং-এ এই টাঁকশালটি অবস্থিত ছিল। পরে আবার ১৮৩৩ সালে স্ট্যাম্প অ্যান্ড স্টেশনারি কমিটির বাড়িটি অধিগ্রহণ করে নেওয়া হয়। তবে আগের মানে দ্বিতীয় টাঁকশাল থেকেও মুর্শিদাবাদের নামে মুদ্রা উৎপাদিত হত। আমরা জানি মুর্শিদাবাদ ছিল সেই সময়কার অন্যতম প্রধান অঞ্চল।
১৮২৪ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় টাঁকশালের শিলান্যাস করা হয়। যা কাজ শুরু করে় ১৮২৯ সালের ১ অগস্ট। ১৮৩৫ সাল অবধি এই টাঁকশাল থেকে মুর্শিদাবাদের নামে মুদ্রা উৎপাদিত হত। এই টাঁকশালটির নাম ছিল "ওল্ড সিলভার মিন্ট"। যা স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত ছিল। এটি ছিল গ্রিসের এথেন্স শহরের টেম্পল অফ মিনার্ভা মেডিকার অনুকরণে নির্মিত।
১৮৬০ সালে এই টাঁকশালের উত্তরে কেবলমাত্র তাম্রমুদ্রা উৎপাদনের উদ্দেশ্যে কপার মিন্ট নামে আর একটি সংযোজিত ভবন নির্মিত হয়। তবে সিলভার ও কপার মিন্ট থেকে ব্রোঞ্জ, রৌপ্য ও স্বর্ণমুদ্রা উৎপাদিত হত। এই দুই টাঁকশালের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করত ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম শহরের বোলটন অ্যান্ট ওয়াট অফ সোহো।
মুদ্রা উৎপাদন ছাড়াও ব্রিটিশ যুগের নানা পদকও এই টাঁকশাল থেকে নির্মিত হত যা এখনো হয়। তবে এর পথচলা শেষ ১৯৫২ সালে। এই বছর টাঁকশালটি আলিপুরে উঠে যায়। টাঁকশালটি উঠে যাওয়ার পর ভবনটি পরিত্যক্ত হয়। বর্তমানে এই ভবনটির সংস্কার করে এখানে একটি জাদুঘর স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান টাঁকশাল.........।
১৯৩০-এর দশকের শেষভাগে আলিপুরে নতুন টাঁকশাল ভবনের নির্মাণকার্য শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৯৪২ সালের গোড়ার দিকে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে এই কাজ থমকে যায়। অবশেষে ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে কাজ শেষ হয়।
১৯৫২ সালের ১৯ মার্চ ভারতের তদনীন্তন অর্থমন্ত্রী সি. ডি. দেশমুখ এই নতুন ভবনটির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে আলিপুরের এই ভবনটি থেকেই টাঁকশালের কাজকর্ম চলে। টাঁকশালটি বর্তমানে "ভারত সরকার টাঁকশাল, কলকাতা" নামে পরিচিত এবং ইহা জাতীয় সড়ক ১১৭ অর্থাৎ ডায়মন্ড হারবার রোডের পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
এই টাঁকশালের কয়েন চিনবেন কী ভাবে?
যেহেতু এই টাঁকশালটি ভারতের প্রথম টাঁকশাল। এর আগে কোনো টাঁকশাল ছিল না তাই এই কয়েন এর কোনো চিহ্ন নেই। যদি কোনো কয়েন দেখেন যে তার সালের নিচে কোনো চিহ্ন নেই তবে বুঝবেন এটি কলকাতা টাঁকশালের কয়েন। এই টাঁকশালের আনেক সারকুলেশেনে আসা দামি কয়েন আছে। পরে আমরা সেগুলো আলোচনা করবো।