02/09/2026
সময়
একাল/ সেকাল
জীবনধারণের জন্য কোন সময় আমার জীবনের সাথে সঠিক এবং মানিয়ে নেবো সেটা তে আমি খুব কনফিউজড।একটু গল্প করে বলছি।
ছোটোবেলার থেকে দেখেছি আমাদের যৌথ পরিবারের ১২ জন সদস্য এবং সদস্যা❤️।আমার মার সারা দিনরাত রান্নাঘরেই কেটে যেতো।যেহুতু ওই সময় বাড়িতে গ্যাস,ফ্রিজ কিছু ছিল না।আমার বড়মা মাকে কেটেকুটে সাহায্য করত।বরিশাল বাড়িতে সবরকমের রান্নাই চলত।আমার সাত্ত্বিক ঠাকুমার জন্য দু তিন পদ নিরামিষ তারপর আবার আমিষ বা পেঁয়াজের রান্না।এই সব কাজ সেরে বিকেল সাড়ে তিনটে চারটের সময় মা শুতে আসত☹️।আবার সন্ধের আগে আবার উনুন ধরিয়ে রাতের আয়োজন।এই বারোজন লোকের খাবারের সময় ছিল আলাদা আলাদা। কেনো? সেই বিশদে আর গেলাম না।সেই হিসেবে আমাদের বাড়িতে দিনের বা রাতের তাড়াতাড়ি খাওয়া , শোয়া ছিল না।সেই ভাবেই অভ্যস্ত ছিলাম।পরে ঠাকুমার চলে যাওয়া ।আমাদের বোনদের বিয়ে হয়ে যাওয়া,বাবার অবসরের পর এমনকি আমার ছেলে হয়ে যাবার পর আলাদা সংসার মা ,বড়মা পাতালো তাদের অনিচ্ছাতেই 😢☹️ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে। হয়তো সময়ের একটু পরিবর্তন করেছিল কেনোনা তখন দৈনন্দিন প্রযুক্তি অন্দরমহলে ঢুকে গিয়েছিল।তবুও টাইম বাবু তারা কোনো দিনই হতে পারে নি।😄☺️
অপরদিকে বিয়ে হয়ে আসার পর আমার মনে হতো মিলিটারী শাসনে চলে আসলাম।কেনোনা আমার শ্বশুরমশাই প্রচণ্ড সময় মত খাওয়া , শোয়া এই গুলি মেনে চলতেন।ছেলেরা একটু দেরি করলে রক্ষে ছিল না। বিয়ের আগে ছেলেরা মানিয়ে চললে ও বিয়ের পর ঘোরা,বেড়ানো,গল্প এইগুলোতে একটু অনিয়মিত হয়ে পড়ত।😂😄যেদিন আমরা অনিয়মিত করতাম সেদিন আমরা ভয়ে ভয়ে কাটাতাম☹️🥺😄 ।সকাল সাতটায় ব্রেকফাস্ট,দুপুর দেড়টায় লাঞ্চ,রাত দশটায় ডিনার। কোথাও ঘুরতে বেড়াতে গেলেও এই সময়ের অন্যথা করা যেতো না।পাঁচ,দশ মিনিট দেরি হলেই আমরা দুরু দুরু বুকে বাড়ি ঢুকতাম বা খেতে বসতাম।এমনকি ঘুম, গল্প সবই ওই সময় ধরে☹️😄।মনে মনে আমরা যে বিদ্রোহ হয় নি সেটা না😀😄।কিন্তু আমাদের শিক্ষা,অনুশাসন, বিদ্রোহী করে তোলে নি।😊😍মিলিটারিতেই আমরা অভ্যস্ত ছিলাম।❤️
শ্বশুরমশাই চলে যাবার পর আমরা একটু আমাদের মত সময় করে নিয়ে ছিলাম।দেরি করে খাওয়া ও নয় আবার ঘড়ির কাটা ধরেও খাওয়া নয়।আমার শ্বাশুড়ি ও বোধহয় এতদিনের অভ্যাসে হাঁপিয়ে উঠেছিল😁😄।উনিও ওই নিয়মের থেকে নিজেই বেরিয়ে গিয়ে আমাদের নিয়মকেই মন থেকে সমর্থন করেছিল😊😀।টাইম মত খেতে দিলেও খেতেন না।🤣😀
বর্তমানে আমার ছেলেমেয়ে র খাওয়া, শোবার টাইম দেখলে আমার মনে হয় আমার শ্বশুরমশাই পাগল হয়ে যেতেন।সময় গুলি আর নাই বা বললাম। আমার ছেলে এবং ছেলের বন্ধুরা টিভিতে কোনো খেলা দেখলে খাবার অর্ডার দেয় বারোটার পর। এবার ওটা আসতে সময় নেয় আর আধঘণ্টা বা তার বেশি।আমাদের গাঙ্গুলি বাড়ির সময়কেও এরা হারিয়ে দিয়েছে।😁😄😄
তবে আমি সব সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি।😊👍🏻এখন আমি এই সময় টার সাথে চলছি।😄 ভবিষ্যতে হয়তো আবার অন্যসময়ের সাথে চলব।😁তবে আমার মনে হয় আমার স্বামীর সাথে যে জীবনটা কাটিয়েছি সেটা appropriate সময় ছিল ❤️❤️❤️😍।