03/02/2024
@@হরে কৃষ্ণ@@
আগামি ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ মঙ্গলবার
শ্রীশ্রী ষটতিলা একাদশী ব্রত। পারনের সময়
পরদিন বুধবার সকাল ৭.০৬
মিনিট হতে ১০:৪৫ মিনিটের মধ্যে।
@শ্রীশ্রী ষটতিলা একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য@
মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের "ষটতিলা"একাদশীর
মাহাত্ম্য ভবিষ্যোত্তরপুরাণে বর্ণিত আছে।
যুধিষ্ঠির মহারাজ বললেন- হে জগন্নাথ!মাঘ মাসের
কৃষ্ণপক্ষের একাদশীতিথির নাম কি, বিধিই বা কি এবং
তার কি ফল, সবিস্তারে বর্ণনা করুন। তদুত্তরে
ভগবান বললেন- হে রাজন! এইএকাদশী 'ষট্ তিলা' নামে
জড়তেবিদিত। এক সময় দাল্ভ্য ঋষি মুনিশ্রেষ্ঠ
পুলস্তকেজিজ্ঞাসা করেন - মর্ত্যলোকেমানুষ
েরা ব্রহ্মহত্যা, গোহত্যা, অন্যেরসম্পদ করণ
আদি পাপকর্ম
দ্বারা নরকে গমণকরে। যাতে তারা নরক গতি
থেকেরক্ষা পায়, তা যথাযথভাবে
আমাকেউপদেশ
করুন। অনায়াসে সাধন করা যায়এমন কোন
কাজেরকাজি মাধ্যমে যদিতাদের এই পাপ
থেকে
উদ্ধারের কোনউপায় থাকে, তবে তা বলুন।
ঋষি পুলস্ত্য বললেন, হে মহাভাগ! তুমিএকটি
গোপনীয় উত্তম বিষয়াবলী প্রশ্নকরেছ। মাঘ
মাসের
শুচি, জিতেন্দ্রিয়,কাম, ক্রোধ আদি শূন্য হয়ে
স্নানার্থীপর সর্বদেবেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ এর পূজা
করবে।পূজাতে কোন বিঘ্ন ঘটলে কৃষ্ণনাম
স্মরণকরবে। রাত্রিকাল অর্চনান্তে তোমকরবে।
তারপর চন্দন, অগুরু, কর্পূর ও শর্করা প্রভৃতি
দ্বারা
নৈবেদ্য প্রস্তুত করেভগবানকে নিবেদন
করবে। কুষ্মাণ্ড,নারকেল অথবা একশত গুবাক
দিয়ে
অর্ঘ্যপ্রদান করবে ' কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃপালুস্ত্বমগতী
নাং
গতির্ভব ' ইত্যাদি মন্ত্রিতশ্রীকৃষ্ণের পূজা
করতে
হয়। ' কৃষ্ণ আমারপ্রতি প্রীত গোন ' বলে
যথাশক্তিব্রাহ্মণকে জলপূর্ণ কলস, ছত্র,
বস্ত্র,পাদুকা, গাভী ও তিলপাত্র দান করবে।
স্নান, দানাদি কার্যে কালো তিলঅত্যন্ত শুভ।
হে দ্বিজোত্তম! ঐ প্রদত্ত তিল থেকেপুনরায়
যে তিল উৎপন্ন হয়, ততো বছর ধরেদানকারী
স্বর্গলোকে বাস করে। তিলদ্বারা স্নান, তিল
শরীরে ধারণ,তিল জলে
মিশিয়ে তা দিয়ে কর্পর,তিল ভোজন এবং
তিল দান -
এই ছয়প্রকার বিধানে সর্বপাপ বিনষ্ট
হয়েথাকে। এই জন্য এই একাদশীর নাম ' ষট্তিলা
' । হে যুধিষ্ঠির! একসময় নারদও এই ষট্তিলা
একাদশীর ফল ও ইতিহাস সম্পর্কেজানতে
চাইলে যে কাহিনী
আমিবলেছিলাম তা এখন তোমার কাছে বর্ণনা
করছি।
পুরাকালে মর্ত্যলোকে এক ব্রাহ্মণীবাস
করত। সে প্রত্যহ ব্রত আচরণ ওদেবপূজাপরায়ণা
ছিল।
উপবাস ক্রমেতার শরীর অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে
গিয়েছিল। সেই মহাসতী ব্রাহ্মণীঅন্যের কাছ
থেকে দ্রব্যাদি গ্রহণ করেদেবতা, ব্রাহ্মণ,
কুমারীদের ভক্তিভরেদান করত। কিন্তু কখনও
ভিক্ষুককে ভিক্ষাদান ও ব্রাহ্মণজাতি
অন্নদানকরেনি। এইভাবে বহু বছর অতিক্রান্ত
হল।আমি চিন্তা করলাম, কষ্টসাধ্য বিভিন্নব্রত
করার ফলা এই ব্রাহ্মণীর শরীরশুকিয়ে যাচ্ছে।
সে যথাযথভাবে বৈষ্ণব
দের অর্চনও করেছে, কিন্তু তাদেরপরিতৃপ্তির
জন্য কখনও অন্নদান করেনি।তাই আমি একদিন
কাপালিক রূপ ধারণকরে তামার পাত্র হাতে
নিয়ে তারকাছে গিয়ে ভিক্ষা প্রার্থনাকরলাম।
ব্রাহ্মণী বলল - হে ব্রাহ্মণ! তুমি কোথাথেকে
এসেছ, কোথায় যাবে,
তাআমাকে বলো।আমি বললাম - হে সুন্দরী!
আমাকে ভিক্ষা দাও। তখন মে ক্রুদ্ধ হয়ে
আমারপাত্রে একটি মাটির ঢিলা
নিক্ষেপকরল। তারপর আমি সেখান থেকে
চলেগেলাম।বহুকাল পরে সেই ব্রাহ্মণী ব্রত
প্রভাকরস্বশরীরে স্বর্গে গমন করল।
মাটিরঢেলা দানের ফলে একটিমনোরম গৃহ
সেপ্রাপ্ত হল। কিন্তু হে নারদ!
সেখানেকোন ধান ও চাল কিছুই ছিল না।
গৃহশূন্যদেখে
মহাক্রোধে সে আমার কাছেএসে বলল - আমি
ব্রত, কৃচ্ছ্রসাধন ও উপবাসের মাধ্যমে নারায়ণেরআরাধনা
করেছি।
এখন হে জনার্দন!আমার দুহে কিছুই দেখছি না
কেন?হে নারদ! তখন আমি তাকে বললাম -তুমি
নিজ গৃহে দরজা বন্ধ করে বসেথাকো।
মর্ত্যলোকের মানবী স্বশরীরেস্বর্গে এসেছে
শুনে দেবতাদের পত্নীরা তাকে দেখতে
আসবে। কিন্তুতুমি দরজা খুলবে না।
তুমি তাদেরকাছে ষট্ তিলা ব্রতের
পূণ্যফল প্রার্থনা
করবে। যদি তারা সেই ফলপ্রদানে রাজি হয়,
তবেই দরজা খুলবে। এরপর দেবপত্নীরা সেখানে এসে
তারদর্শন প্রার্থনা করল। ষট্ তিলা ব্রতের
ফলপেলেই কেবল সেই মানবী দর্শন
দেবেনজেনে তাদের মধ্যে এক দেবপত্নী
তার ষট্ তিলা ব্রতজনীত পূণ্যফল তাকে
প্রদান করল।
তখন সেই ব্রাহ্মণী দিব্যকান্তিবিশিষ্টা হল
এবং তার গৃহ ধনধান্যে ভরে গেল। দ্বার
উদঘাটন করলেদেবপত্নীরা তাকে দর্শন করে
বিস্মিতহেলেন।হে নারদ! অতিরিক্ত
বিষয়বাসনা করাউচিত নয়। বিত্ত শাঠ্যও
অকর্তব্য। নিজসাধ্য মতো তিল, বস্ত্র ও অন্ন
দান করবে।ষট্ তিলা ব্রতেরপ্রভাকর
দারিদ্রতা,শারীরিক কষ্ট, দুর্ভাগ্য প্রভৃতি
বিনষ্ট হয়।এই বিধি অনুসারে তিলদান করলে
মানুষ অনায়াসে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়।।
@হরিবোল@