28/08/2025
ভারতবর্ষের সর্বশিক্ষিত মানুষ – শ্রীকান্ত জিচকার 🌟
টাকা–পয়সার গরম আমরা অনেক দেখেছি, কিন্তু বিদ্যার গরম? এমন মানুষ কি আদৌ জন্মাতে পারে যিনি জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত শুধু পড়াশোনার জন্যই উৎসর্গ করেছেন? বিশ্বাস না হলেও সত্যি, তিনি একজন ভারতীয়—শ্রীকান্ত জিচকার।
📚 শিক্ষাজীবনের বিস্ময়কর যাত্রা
জীবন শুরু MBBS, M.D দিয়ে।
এরপর করলেন LLB এবং International Law-এ স্নাতকোত্তর।
নিলেন Business Management-এ ডিপ্লোমা, সাথে MBA।
পড়লেন Journalism-এও।
এখানেই শেষ ভেবেছেন? মোটেও না—এটা তো কেবল শুরু!
🎓 স্নাতকোত্তর ডিগ্রির তালিকা (সবগুলোতেই প্রথম শ্রেণী ও স্বর্ণপদক 🏅)
Public Administration
Sociology
Economics
Sanskrit
History
English
Philosophy
Political Science
Ancient Indian History, Culture & Archaeology
Psychology
👉 সব মিলিয়ে ২৮টি স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত প্রায় প্রতি গ্রীষ্ম ও শীতে তিনি কোনো না কোনো মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন!
🚔 চাকরি ও রাজনীতি
একঘেয়েমি কাটাতে দিলেন IPS পরীক্ষা—সফল! (১৯৭৮)
পরে দিলেন IAS পরীক্ষা—সফল! (১৯৮০)
কিন্তু চার মাসের মধ্যেই IAS-এর চাকরি ছেড়ে দাঁড়ালেন মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে।
মাত্র ২৫ বছর বয়সে হলেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী বিধায়ক।
পরবর্তীতে একসাথে ১৪টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে নির্বাচিত হন রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে।
🌟 অন্যান্য প্রতিভা
শ্রীকান্ত জিচকার কেবল শিক্ষিতই ছিলেন না, ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী—
অসাধারণ চিত্রশিল্পী 🎨
ফটোগ্রাফার 📸
মঞ্চাভিনেতা 🎭
অ্যামেচার রেডিও অপারেটর 📡
এমনকি জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ 🔮
তিনি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন UN ও UNESCO-তে।
📖 ব্যক্তিগত সংগ্রহ
ওনার ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারে ছিল ৫২,০০০ বই!
লিমকা বুক অফ রেকর্ডস তাঁকে ঘোষণা করেছিল—
👉 “ভারতের সর্বশিক্ষিত ব্যক্তি”
১৯৮৩ সালে নির্বাচিত হন বিশ্বের অসামান্য ১০ তরুণ-এর একজন হিসেবে।
💔 করুণ সমাপ্তি
২০০৪ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই বিস্ময় মানুষটি।
👉 শ্রীকান্ত জিচকার আমাদের শেখান—জীবন ছোট হলেও, জ্ঞান অর্জনের পথ অসীম।