An-Noor Media

An-Noor Media Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from An-Noor Media, Media/News Company, KOLKATA.

আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীন তথা ইসলামের শাসন ধারা পুনরায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দাওয়াহ ও জিহাদ-ক্বিতালের পন্থা আঁকড়ে ধরে আল্লাহ প্রদত্ত সামর্থ্যের সবটুকু আল্লারই সন্তুষ্টির জন্য বিলিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার আমাদের।

ঈদুল ফিতর ১৪৪৭ উপলক্ষে জামা’আতুল মুজাহিদীনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তাبسم الله الرحمن الرحيمالله أكبر، الله أكبر، الله أ...
21/03/2026

ঈদুল ফিতর ১৪৪৭ উপলক্ষে জামা’আতুল মুজাহিদীনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা

بسم الله الرحمن الرحيم

الله أكبر، الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد.

الله أكبر كبيراً، والحمد لله كثيراً، وسبحان الله بكرة وأصيلا.

যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য রমাদ্বনের সিয়াম ও পালনের তাওফিক দিয়েছেন এবং এই মোবারক ঈদকে উম্মাহর জন্য আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও বিজয়ের প্রতীক করেছেন।

দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সাইয়্যিদুল মুরসালিন ও ইমামুল মুজাহিদিন, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (ﷺ), তাঁর পরিবার, সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী সকলের ওপর।

تقبل الله منا ومنكم، وعيد مبارك.

“আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের পক্ষ থেকে (নেক আমলসমূহ) কবুল করুন। ঈদ মোবারক।”

সমগ্র বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষ করে তাগুত ও কুফরের বিরুদ্ধে রণাঙ্গনে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের মুজাহিদ ভাইদের প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতর ১৪৪৭ হিজরির এই শুভক্ষণে জামা’আতুল মুজাহিদীন এর পক্ষ থেকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন।

হে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ!
এবারের ঈদ এমন এক ঐতিহাসিক ও ক্রান্তিলগ্নে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে, যখন উম্মাহর শরীর ক্ষত-বিক্ষত। আমরা আনন্দ উদযাপন করছি ঠিকই, তবে আমরা এক মুহূর্তের জন্যও ভুলে যাইনি আমাদের প্রথম কিবলা পবিত্র আল-আকসা এবং ফিলিস্তিনের কথা। গাজার ধূলিস্যাৎ হওয়া প্রতিটি প্রান্তর এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আজ মুমিনদের রক্ত আর বারুদের গন্ধ ভেসে আসছে। অপরদিকে, আরাকানের মজলুম মুসলিমদের আর্তনাদ আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে। আরাকানের অসহায় মা-বোন এবং শিশুদের ওপর বয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতা উম্মাহর হৃদয়ে এক দগদগে ঘা।
কিন্তু এতসব ধ্বংসস্তূপ, রক্তপাত ও বিশ্ব মোড়লদের প্রতারণার মাঝেও আমরা হতাশ নই। কারণ, আমাদের দ্বীন আমাদের শিখিয়েছে, বিপদের ঘোর অন্ধকারের পরপরই বিজয়ের সুবহে সাদিক উদিত হয়। মহান আল্লাহ তাঁর মহাগ্রন্থে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন:

وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ

“আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফিতনার অবসান হয় এবং দ্বীন (জীবনব্যবস্থা) সম্পূর্ণ রূপে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।” (সূরা আল-আনফাল: ৩৯)

হে মুসলিম ভাইয়েরা!
পশ্চিমা তথাকথিত ‘মডারেট’ বা আপসকামী আদর্শ দিয়ে এই উম্মাহর মুক্তি কখনোই সম্ভব নয়। শত্রুরা চায় আমরা যেন আমাদের জিহাদী চেতনা ভুলে গিয়ে তাদের শেখানো বানোয়াট শান্তির বুলি আওড়াই। কিন্তু আমাদের ফিরে যেতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর বিশুদ্ধ মানদণ্ডে, সালাফ আস-সালেহীনের সেই সোনালী যুগে। যেখানে ‘আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা’ ছিল ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

تَرَى الْمُؤْمِنِينَ فِي تَراحُمِهِمْ وَتَوَادِّهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ كَمَثَلِ الْجَسَدِ، إِذَا اشْتَكَى عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ جَسَدِهِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى

“মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি দেহের ন্যায়। যখন তার কোনো অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।” (সহীহ বুখারী: ৬০১১, মুসলিম: ২৫৮৬)

আজ ফিলিস্তিন ও আরাকানের ক্ষত আমাদের পুরো দেহের ক্ষত। এই ক্ষত নিরাময়ের একমাত্র পথ হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, “দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর মাঝে।” তাই আপস নয়, বরং জিহাদই আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র ঢাল।

জালিমদের প্রতি সতর্কবার্তা:
দখলদার ইহুদিবাদী শক্তি, আরাকানের মুশরিকগোষ্ঠী এবং তাদের মদদপুষ্ট পশ্চিমা তাগুতদের আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই- তোমাদের জুলুমের দিন ফুরিয়ে আসছে। শহীদদের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমাদের জিহাদের প্রস্তুতিকে আরও শানিত করছে। তোমরা তোমাদের সমরাস্ত্র নিয়ে যতই অহংকার করো না কেন, আসমান ও জমিনের বিশাল বাহিনী কেবল পরাক্রমশালী আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণে।
মহান আল্লাহ বলেন:

إِنَّ بَطْشَ رَبِّكَ لَشَدِيدٌ

“নিশ্চয়ই তোমার রবের পাকড়াও বড়ই কঠিন।” (সূরা আল-বুরুজ: ১২)

পরিশেষে, আমরা আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি:
হে আল্লাহ! আপনি ফিলিস্তিন, আরাকান, কাশ্মীর, সিরিয়া, পূর্ব তুর্কিস্তান, সোমালিয়া, মালিসহ বিশ্বের আনাচে-কানাচে নির্যাতিত মুসলিমদের সাহায্য করুন। আমাদের কারাবন্দী আলেম ও মুজাহিদ ভাইদের শৃঙ্খল মুক্ত করে দিন। এই ঈদুল ফিতরকে আমাদের জন্য শোকের পরিবর্তে শক্তি এবং বিজয়ের পয়গাম বানিয়ে দিন। উম্মাহকে আবার বিশুদ্ধ তাওহীদের ভিত্তিতে খিলাফতের ছায়াতলে সমবেত হওয়ার তাওফিক দান করুন।

والحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين. ولا عدوان إلا على الظالمين.

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল হিন্দি (হাফিজাহুল্লাহ)
মুখপাত্র – জামা’আতুল মুজাহিদীন

জামাআতুল মুজাহিদীনের পক্ষ থেকে রমাদান করীমের শুভেচ্ছাসমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদের আরও এক...
19/02/2026

জামাআতুল মুজাহিদীনের পক্ষ থেকে রমাদান করীমের শুভেচ্ছা

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদের আরও একটি পবিত্র রমাদান মাস অতিবাহিত করার তৌফিক দান করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দূত, সাইয়্যেদুল মুরসালিন মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবায়ে কেরামদের ওপর।
পবিত্র রমাদান মাস আমাদের দ্বারে সমাগত। এটি কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার মাস নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ধৈর্য এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মহোৎসব। এই বরকতময় মাস উপলক্ষে জামাআতুল মুজাহিদীন এর পক্ষ থেকে আমরা বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহ এবং বিশেষ করে আমাদের দেশের আপামর জনতাকে জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।

রমজানের মূল শিক্ষা: তাকওয়া অর্জন

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন:
“হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাক্বওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।” [সূরা বাকারা: ১৮৩]
রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলতে হয়। সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকা আমাদের ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়, যা আমাদের হৃদয়ে মানবিকতা ও সহমর্মিতার বীজ বপন করে।

আমাদের অঙ্গীকার ও আহ্বান:

একটি জিহাদি তানজিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, রমাদানের এই প্রশিক্ষণ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। এই রমাদানে আমাদের কিছু বিশেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত:
১। কুরআন চর্চা: যেহেতু এটি কুরআন নাজিলের মাস, তাই প্রতিদিন অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত ও গবেষণায় সময় ব্যয় করা।
২। চরিত্র গঠন: মিথ্যা, গিবত, সুদ, ঘুষ এবং সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
৩। ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: আমাদের আশেপাশে অনেক অসহায় ও দুস্থ মানুষ রয়েছেন। ইফতার ও সাহরিতে তাদের শরিক করা এবং যাকাত-ফিতরার মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।
৪। পরার্থপরতা: ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা।

হে আল্লাহ! আমাদের এই রমাদানের সকল রোজা, তারাবিহ এবং নেক আমলগুলো কবুল করে নিন। আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন। ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের যেখানেই মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের আপনি সাহায্য করুন।

11/02/2026

#গণতন্ত্রকে_বর্জন_করুন

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ – اما بعد

সমস্ত প্রসংশা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, সলাত ও সালাম নাবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ও তার সাহাবা আজমাঈনদের উপর।
বাংলার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা! কালপরিক্রমায় আবারো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি জাতীয় নির্বাচন নামের আদিম প্রহসনকে সামনে রেখে, যার বদৌলতে আরো ৫ বছরের জন্য এদেশের সাধারণ মানুষের রক্ত চোষার লাইসেন্স পেয়ে যাবে কোন একটি রাজনৈতিক দল। এই রক্তচোষা হায়েনারা বারবার সাধারণ খেটে খাওয়া সহজ সরল মানুষগুলোর নিরুপায় সমর্থন নিয়ে তাদেরই মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খায়। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যারা ৯৫ ভাগ মুসলিমের আবাস ভুমিকে ইসলামের শত্রুদের হাতের খেলনা বানিয়ে দেয়, যারা দেশের মানুষের রক্ত পানি করা কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজের সুইস একাউন্ট ভারি করে, তারা আর যাইহোক জনসাধারণের শোভাকাঙ্ক্ষী হতে পারেনা। তাদের এই চরিত্র আপনাদের অজানা নয়। নির্বাচনের নামে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে তারা নিজেদেরকে আল্লাহর আসনে বসিয়ে দিয়েছে। যে বিধান দেওয়া একমাত্র আল্লাহ তা’লার অধিকারেই থাকার কথা সে অধিকার তারা নিজেদের করে নিয়েছে। আর এই কাজটি তারা করছে আপনাদেরই ভোটে নির্বাচিত হয়ে।

আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তার ইবাদত করার জন্য। এই পৃথিবীতে তার দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করে তার রাজত্বকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্য। কিন্তু কতিপয় ইসলাম বিদ্বেষী লোক আল্লাহর দ্বীনকে বিলুপ্ত করার প্রয়াসে নিজেদেরকে নিয়োগ করে রেখেছে। এজন্য তারা গণতন্ত্র নামের নতুন দ্বীন আবিষ্কার করে তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের ধোঁকায় পড়ে আজ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইহুদি খ্রিস্টানদের তৈরিকৃত এই কুফরি গণতন্ত্রকে মানুষ আজ সাধরে গ্রহণ করে নিয়েছে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ তার অর্থ, শ্রম সবকিছু ব্যয় করছে, এমনকি জীবনও বিলিয়ে দিচ্ছে। গণতন্ত্রের পাতানো ফাঁদ থেকে আলেম সমাজও রক্ষা পায়নি, তারাও গণতন্ত্রের ধোঁকায় পড়ে এরই মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে।

ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে গণতন্ত্রের বিষ-বাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ, মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি স্থান যেন গণতন্ত্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুকৌশলে গণতন্ত্র ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। স্কুলের কমিটি থেকে শুরু করে সর্বত্রই গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতির মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হচ্ছে। গণতন্ত্রের বিষ-বাষ্পে সমগ্র পৃথিবী আজ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রের পাতানো ফাঁদ থেকে উদ্ধার পেতে হলে জানতে হবে গণতন্ত্র কি? কেন এই গণতন্ত্র আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে? আর আলেম সমাজ কেনইবা এই ধোঁকায় পড়ে আছে?

#গণতন্ত্রের_পরিচয় :
গণতন্ত্র একটি মানব রচিত ধর্মহীন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা। তবে ‘জনগণের শাসন ব্যবস্থা’ বা জনগণের সরকার ব্যবস্থা হিসাবেই এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। ইংরেজী Democracy শব্দের বাংলা অর্থ গণতন্ত্র। এই ইংরেজী Democracy শব্দটি গ্রীক শব্দ δῆμος (dēmos) ও κράτος (kratos) থেকে উৎপন্ন হয়েছে। Demos শব্দের অর্থ জনগণ আর kratos শব্দের অর্থ শাসন বা ক্ষমতা। সুতরাং উভয় শব্দের মিলিত অর্থ দাঁড়ায় জনগণের শাসন বা জনগণের ক্ষমতা।
সাধারণভাবে গণতন্ত্র বলতে বুঝায়, এমন এক মতবাদ বা ব্যবস্থাকে যেখানে সমাজ-রাষ্ট্রের আইন-বিধান প্রণয়ণের চূড়ান্ত ক্ষমতা অর্পণ করা হয় জনগণের উপর বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর। মোটকথা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাকে গণতন্ত্র বলে। (ডঃ এমাজউদ্দীন আহমদ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের কথা, পৃঃ ৩৬৫)

গ্রীক ঐতিহাসিক ও দার্শনিক হিরোডোটাস (Herodotus) গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলেন, এটা এক প্রকার শাসন ব্যবস্থা যেখানে শাসন ক্ষমতা কোন শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহের উপর ন্যস্ত থাকে না, সমাজের সদস্যগণের উপর ন্যস্ত হয় ব্যাপকভাবে’।
অধ্যাপক শেলী বলেন, Democracy is a form of government in which every one has a share in it. অর্থাৎ ‘যে সরকার ব্যবস্থায় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে তাকে গণতন্ত্র বলে’। (মোঃ মকসুদুর রহমান, রাষ্ট্রীয় সংগঠনের রূপরেখা, পৃঃ ৭৬)

আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ‘আমেরিকান প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৩ সালে গেটিসবার্গের এক জনসভায় ‘গণতন্ত্র’-এর আধুনিক সংজ্ঞা দেন এভাবে যে, Democracy is the government of the people by the people and for the people. অর্থাৎ ‘গণতন্ত্র এমন একটি সরকার ব্যবস্থা, যা জনগণের উপর জনগণের দ্বারা পরিচালিত জনগণের শাসন ব্যবস্থা বুঝায়’। (সৈয়দ মকসুদ আলী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পৃঃ ২৮৫)

মোটকথা জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশ শাসনের নামই গণতন্ত্র। অন্য কথায় গণতন্ত্র হ’ল এমন একটি শাসন ব্যবস্থা যা সম্পূর্ণরূপে জনসমষ্টির ইচ্ছাধীনে পরিচালিত।

#গণতন্ত্র_কুফরী_এবং_শিরক।
এর মূল কারণ ৩ টি। যথা-
(১) গণতন্ত্রের মূল কথা ‘সকল ক্ষমতার মালিক/উৎস জনগণ’ বা ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’। আর এগুলো সুস্পষ্ট কুফরি কথা এবং নিঃসন্দেহ শিরক।
মহান আল্লাহ বলেন-

أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ يُعَذِّبُ مَن يَشَاء وَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاء وَاللّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“তুমি কি জানো না যে নভোমন্ডল ও ভূমণ্ডলের সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন, যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান”। [সূরা মায়িদাহ্ ৫ : ৪০]

الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا
“যিনি (আল্লাহ)* নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সার্বভৌমত্বের অধিকারী;** তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি; সার্বভৌমত্বে তাঁর কোন অংশীদার নেই।* তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথাযথ অনুপাতে….”। [সূরা আল ফুরকান ২৫ : ২]

গণতন্ত্রকে যারা লঘুভাবে দেখার পক্ষপাতী তারা যুক্তি দেখাতে চান, যে ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’ এর অর্থ এটা নয় যে ‘জনগণ আল্লাহর উপরেও ক্ষমতাবান/ কর্তৃত্বশীল’।

এ ব্যপারে বলতে গেলে-
a) আসলে সার্বভৌমত্ব শব্দটার মানেই হচ্ছে চরম চূড়ান্ত ক্ষমতা (The Ultimate Power), কাজেই একই সাথে একাধিক সার্বভৌমত্ব থাকতে পারে না,* (যেমন আল্লাহর সার্বভোমত্ব এবং জণগনের সার্বভৌমত্ব)।

b) রাষ্ট্রের যেকোন বিষয়ে যখন আল্লাহর কিতাবের উপরে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের খেয়াল খুশিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় তখন কিভাবে এটা দাবী করা যায় যে ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’ এর অর্থ এটা নয় যে জনগণ আল্লাহর উপরেও ক্ষমতাবান/ কর্তৃত্বশীল??

c) “আনা রব্বুকুমুল আ’লা” অর্থাৎ “আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব” (সূরা নাযিয়াত : ২৪) একথা বলে ফিরাউন তাগুত ও কাফিরে পরিণত হয়েছিল। অথচ সে নিজেকে আসমান জমীনের রব বলে দাবী করেনি, কেননা সে নিজেই অন্য ইলাহর উপাসনা করতো। (আলোচনা পরে আসছে)

d) যখন সংবিধানের ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের’ অজুহাত দেখিয়ে ‘আল্লাহর সার্বভৌমত্ব’ বিশিষ্ট একটা দলের নিবন্ধন বাতিল করা হল তখন এ ধরনের যুক্তি কতটুকু Valid??
[এরই সাথে আরো একটা প্রশ্ন করে রাখি যারা সংবিধানের জনগণের সার্বভৌমত্বের অজুহাত দেখিয়ে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে বাতিল করার দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদেরকে এখন তাকফির করতে বাধা কোথায়??]

(২) গণতন্ত্রে আইন-বিধান তৈরির চূড়ান্ত ক্ষমতা অর্পন করা হয় জনগনের ভোটে নির্বাচিত MP দের উপর। সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিরা যেটা বলবে সেটাই হবে দেশের সর্বোচ্চ আইন যার বিরোধিতা করা গণতান্ত্রিক সংবিধান অনুসারে আইনগত অপরাধ। গণতন্ত্রে MP দের সংখ্যাগরিষ্টতাকে কুরআন সুন্নাহর উপরেও স্থান দেয়া হয়। সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে তারা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী আইন তৈরি করতে পারে এমনকি আল্লাহর আইনকে বাতিলও করতে পারে।

[উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ১৮ বছরের পূর্বে বিয়ে নিষিদ্ধ করা, ১৬ বছরের পর পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যভিচার করলে তার বৈধতা দেওয়া, স্বামীর অনুমতিতে স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে ব্যভিচার করলে তার বৈধতা দেয়া, পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়া এবং এই কাজে কেউ বাধা দিলে তাকে উল্টো আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো,** মাদক উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়া, সমকামিতার বৈধতা দেয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করা, যাত্রা-সিনেমা হলে প্রকাশ্যে অশ্লীলতার চর্চাকে আইন দিয়ে প্রমোট করা, সুদের বৈধতা দেয়া, নাস্তিকতার চর্চাকে আইনী প্রোটেকশন দেয়া, আল্লাহর হুদুদসমূহকে অকার্যকর করে নিজেরা নিজেরা আইন তৈরি করা]

এ ধরণের মূলনীতি নিঃসন্দেহে * আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের (ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের) ক্ষেত্রে শিরক এবং একটি স্পষ্ট কুফর (কুফরুন বাওয়াহ)। * নিচের আয়াতগুলো লক্ষ্য করলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ-

أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ
“শুনে রাখ, সৃষ্টি যার, আইন চলবে তাঁরই।”* [সূরা আ’রাফ ৭ : ৫৪]
( অন্যদিকে গণতন্ত্র বলে আইন চলবে নগন্য কিছু মানুষের)

إِنِ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلّهِ أَمَرَ أَلاَّ تَعْبُدُواْ إِلاَّ إِيَّاهُ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُونَ
“বিধান দেয়ার অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহরই।* আর তিনি আদেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতিত আর কারও ইবাদাত না করতে। এটাই সুদৃঢ় সঠিক দ্বীন। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না”।* [সূরা ইউসুফ ১২ : ৪০]

وَاللّهُ يَحْكُمُ لاَ مُعَقِّبَ لِحُكْمِهِ وَهُوَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
“আল্লাহ নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই। তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করেন।”।* [সূরা রা’দ ১৩ : ৪১]
(অন্যদিকে গণতন্ত্র বলে মেম্বার অব দি পার্লামেন্ট আল্লাহর হুকুম যাচাই বাছাই করে বাদ দিতে পারে।)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন-

أَمْ لَهُمْ شُرَكَاء شَرَعُوا لَهُم مِّنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَن بِهِ اللَّهُ وَلَوْلَا كَلِمَةُ الْفَصْلِ لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الظَّالِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“তাদের কি এমন কতগুলো শরীক বা দেবতা আছে যারা ওদের জন্যে বিধান দিয়েছে এমন দ্বীনের যার অনুমতি আল্লাহ ওদেরকে দেননি”?* [সূরা শূরা ৪২ : ২১]

(এই আয়াতে যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারও কাছ থেকে আইন-বিধান গ্রহণ করে তাদেরকে আল্লাহ মুশরিক বলে সাব্যস্ত করেছেন।)

وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ
“যারা আল্লাহর বিধান অনুসারে বিধান দেয় না তারাই কাফের”।* [সূরা মায়িদা ৫ : ৪৪]

أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
“তবে কি তারা জাহেলিয়্যাতের বিধি-বিধান কামনা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্যে বিধান দানে আল্লাহ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর”?? [সূরা মায়িদা ৫ : ৫০]

(৩) গনতন্ত্রে যেকোন বাদানুবাদ/ বিতর্কের চূড়ান্ত মীমাংসাকারী বানানো হয় সংবিধান ও এর ধারাসমূহ এবং পার্লামেন্টের সংখ্যাধিক্যকে। এটা চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি কুফর।
মহান আল্লাহ বলেন-

فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
“যদি তোমাদের মাঝে কোন বিষয়ে মতভেদ হয়, তাহলে তোমরা বিষয়টিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও। এটাই তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক এবং পরিণতির দিক থেকে উত্তম”। [সূরা নিসা ৪ : ৫৯]

*অন্যদিকে পার্লামেন্টারী গণতন্ত্র বলে –
যদি তোমাদের মাঝে কোন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয় তাহলে তোমরা বিষয়টা মীমাংসার জন্যে মানব রচিত সংবিধান, তার ধারাসমূহ এবং সংসদের সংখ্যাধিক্যের কাছে সমর্পণ কর।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরো বলেন-

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا
“কোন বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন নির্দেশ দিলে সে বিষয়ে কোন মুমিন পুরষ বা মুমিন নারীর ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করবে সে স্পষ্টরূপে পথভ্রষ্ট হবে”। [সূরা আহযাব ৩৩ : ৩৬]

فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُواْ فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا
“না, তোমার প্রতিপালকের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদ বিসম্বাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর তোমার দেওয়া ফায়সালা সম্পর্কে তাদের মনে কোন সংশয় না থাকে এবং সর্বান্তকরনে তারা তা মেনে নেয়”। [সূরা নিসা ৪ : ৬৫]

*আরবাবাম মিন দুনিল্লাহ- আল্লাহর পরিবর্তে (কাউকে) রব বানিয়ে নেওয়া
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন-

اتَّخَذُواْ أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللّهِ
“আর তারা তাদের পন্ডিত (আলেম) ও সংসার বিরাগী (দরবেশ) লোকদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে রব বানিয়ে নিয়েছে”।* [সূরা তাওবাহ ৯ : ৩১]

এই আয়াতটি একটি দলীল যে মাঝে মাঝে মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে মানুষকেই তাদের রব বানিয়ে ফেলে। এটাকেই কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে আরবাবাম মিন দুনিল্লাহ। কিন্তু কিভাবে আল্লাহর পরিবর্তে মানুষকেই মানুষের রব বানানো হয়, নিচে আমরা কিছু উদাহরণ পেশ করবো-

(ক) আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে মান্য করা হল এক ধরনের ইবাদত উপরের আয়াতটি [সূরা তাওবা ৩১] তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই আয়াতের তাফসীরে ইবনে কাসীর (রহঃ) ইমাম আহমদ, তিরমিযী ও ইবনে জারীরের সূত্রে বর্ণনা করেন, আদী ইবনে হাতেম (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তাঁর কাছে ইসলামের দাওয়াত আসার পরে প্রথমে তিনি সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন, পরে যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে তিনি এলেন, তখন তার গলায় ক্রুশ ঝুলানো ছিলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখিত আয়াতটি (তারা তাদের আলেম ও দরবেশদেরকে* আল্লাহর পরিবর্তে রব বানিয়ে* নিয়েছে) পড়ছিলেন।* তখন আদী (রাঃ) বলেন, আহলে কিতাবরা (ইহুদী ও খৃষ্টানরা) তো আলেম/দরবেশদের ইবাদত/উপাসনা করতো না! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তা সত্য। তবে তারা (আলেম/দরবেশরা) মন মতো কোনো কিছুকে বৈধ কিংবা অবৈধ ঘোষনা করলে জনগণ তা নির্বিচারে মেনে নিতো। এটাই হল তাদের পূজা-উপাসনা করা, এটাই হলো তাদের ইবাদত করা।

(খ) আল্লাহর কিতাব ও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে যারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মত আইন/বিধান প্রণয়ন করে তারা তাদের কামনা-বাসনাকে ইলাহ বানিয়ে নেয়, আর সাধারণ মানুষেরা যখন এসব মনগড়া আইন/বিধানকে কবুল করে নেয়, তখন কিছু সংখ্যক লোকের কামনা-বাসনাকে গোটা জাতির রব বানানো হয়। মহান আল্লাহ বলেন-

أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا-أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا
“তুমি কি দেখো না তাকে যে তার কামনা বাসনাকে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তুমি তার কর্মবিধায়ক হবে? তুমি কি মনে কর ওদের অধিকাংশ শুনে ও বুঝে? তারা তো পশুর মত, বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট”।* [সূরা ফুরকান ২৫ : ৪৩-৪৪]

(গ) আল্লাহর আইন ব্যতিত অন্য কোন আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করা কিংবা আল্লাহর আইন ব্যতিত অন্য কারও আইনের অনুসরণ করা হল শিরক যা একজন মানুষকে মুশরিকে পরিণত করে। প্রমাণ স্বরূপ সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায় যখন একটি মৃত ছাগলকে নিয়ে আর রাহমানের বান্দাদের সাথে শয়তানের বান্দাদের বিতর্ক হয়েছিল। মুশরিকরা যুক্তি দ্বারা মুসলিমদেরকে বুঝাতে চেয়েছিল, যে ছাগলকে জবাই করা হয় আর যে ছাগল (প্রাকৃতিকভাবে) মারা যায় এ দুইয়ের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। তারা দাবী করেছিল যে মৃত ছাগলটিকে আল্লাহই যবেহ করেছেন। আর তাই তাদের মতে উভয়টাই জায়েয। আর এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন-

وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ
“আর তোমরা যদি তাদের আনুগত্য/অনুসরণ কর তাহলে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে”। *
[সূরা আনআম ৬ : ১২১]
(বিস্তারিত তাফসীর ইবনে কাছির দ্রষ্টব্য)

(ঘ) সর্বশেষ আমরা উল্লেখ করবো ফিরআউনের কথা কেননা সে হল সেই ব্যক্তি যে নিজেকে রব বলে দাবি করেছিল-

فَحَشَرَ فَنَادَى-فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى
সে লোকজনকেক জড় করলো আর উচ্চস্বরে ঘোষণা করলো, “আমিই তোমাদের সবচেয়ে বড় রব”। [সূরা আন-নাযিয়াত ৭৯ : ২৩, ২৪]

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ফিরআউন এখানে ‘রব’ বলে নিজের জন্যে কি দাবী করেছিল? সে কি এটা বলতে চেয়েছিল যে আমি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছি, মানুষ সৃষ্টি করেছি, কিংবা আমি বিশ্বজগত পরিচালনা করছি??

না, সে এমনটা দাবী করে নি। কেননা সে নিজেই অনেক ইলাহ/রব বা উপাস্যর ইবাদত করতো। আর তার প্রমাণ মিলে-

وَقَالَ الْمَلأُ مِن قَوْمِ فِرْعَونَ أَتَذَرُ مُوسَى وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُواْ فِي الأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ
ফিরআউনের জাতির নেতারা বললো, “আপনি কি মূসা ও তার দলবলকে রাজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টির সুযোগ দিবেন আর তারা আপনাকে ও আপনার ইলাহদেরকে এভাবে বর্জন করে চলবে??” [সূরা আ’রাফ ৭ : ১২৭]

মূলত ফিরআউন নিজেকে আসমান- যমীনের রব দাবী করে নি, সে যেটা দাবী করেছিল তা মিশরের সার্বভৌমত্ব বা চূড়ান্ত কর্তৃত্ব। সে চেয়েছিল মিশরের জনগণ সকল প্রকার আইন বিধান ও কর্তৃত্বের চূড়ান্ত ক্ষমতা তার উপর অর্পণ করুক, তার খেয়াল খুশি মত চলুক-

وَنَادَى فِرْعَوْنُ فِي قَوْمِهِ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَيْسَ لِي مُلْكُ مِصْرَ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَجْرِي مِن تَحْتِي
“ফিরআউন তার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলো। সে বললো, মিশরের সার্বভৌমত্ব কি আমার নয়? তোমরা কি দেখছো না যে, এই নদীগুলো আমার (রাজত্বের) অধীনেই বয়ে চলছে?
[সূরা যুখরুফ ৪৩ : ৫১]

অতঃপর যারা তার এই অবৈধ কর্তৃত্ব মেনে নিল এবং মূসা আলাইহিস সালাম আনীত আল্লাহর সার্বভৌমত্বের দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করলো, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
“এসব বলে সে তার জাতিকে হতবুদ্ধি করে তুললো, (এক পর্যায়ে) তারা তার কথা মেনেও নিলো। নিঃসন্দেহে তারাতো ছিলো এক পাপীষ্ঠ জাতি”।* [সূরা যুখরুফ ৪৩ : ৫৪]

#প্রেক্ষিত_বাংলাদেশঃ
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
“ প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে”।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
“জনগণের অভিপ্রায়ে পরম অভিব্যক্তিকরূপে* এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহা হইলে ঐ আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততখানি বাতিল বলে গণ্য হবে।”

[কুরআন- সুন্নাহর আইন যদি এই সংবিধানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে সেই আইনও সংবিধানের দাবি মোতাবেক বাতিল বলে গণ্য হবে এবং অলরেডি অনেক ক্ষেত্রে হয়েছেও]
আবার বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম ভাগের শিরোনাম হলো ‘আইন সভা’। সংবিধানের ৬৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘জাতীয় সংসদ’ নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং সংবিধানের বিধানবালীর-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে।

* উপরের আলোচনা থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা গেল যে* আইনসভা বা* Parliament হল আইন-বিধান তৈরির স্থান, আর* Member of the Parliament হল* আইন-বিধান প্রণয়নকারী।* তাদের উপর এই ক্ষমতা অর্পণ করা হল* আরবাবাম মিন দুনিল্লাহ (আল্লাহর পরিবর্তে রব বানিয়ে নেওয়া)* যেটা স্পষ্টত শির্ক এবং কুফর। সহজ কথায় গণতন্ত্র হল একটি বহু ঈশ্বরবাদী ধর্ম যেখানে বিভিন্ন ঈশ্বর নিজেদের খেয়াল খুশিমত বিভিন্ন মত দেয়, অতঃপর সংখাধিক্যের মতামতকে আইন/বিধান হিসাবে জনগণের উপর নাযিল করা হয়।
ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য:

০১/ ইসলাম: সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ তা‘আলা।
গণতন্ত্র: সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ।

০২/
ইসলাম: ইসলাম আল্লাহর দেয়া পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্র ইহুদী-খৃস্টানদের তৈরি অসম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা।

০৩/
ইসলাম: সার্বভৌমত্বের মালিক আল্লাহ তা‘আলা।
গণতন্ত্র: সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ।

০৪/
ইসলাম: ইসলামে আল্লাহর অস্তিত্ব অনস্বীকার্য।
গণতন্ত্র: ইসলামে আল্লাহর অস্তিত্ব উপেক্ষিত।

০৫/
ইসলাম: ইসলামের লক্ষ্য আত্মিক ও পার্থিব উন্নতি।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার রাজনীতি।

০৬/
ইসলাম: ইসলামে মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর গোলাম।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে মানুষ মানুষের গোলাম।

০৭/
ইসলাম: ইসলামে আইনের উৎস কুরআন ও সুন্নাহ।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে আইনের উৎস মানুষের খেয়াল খুশি।

০৮/
ইসলাম: ইসলামে মৌলিক আইন অপরিবর্তনীয়।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে যে কোন আইন পরিবর্তনযোগ্য।

০৯/
ইসলাম: ইসলামের শিক্ষা মানুষে মানুষে ভ্রতৃত্ব।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের শিক্ষা মানুষে মানুষে অনৈক্য।

১০/
ইসলাম: ইসলামে নেতৃত্বের ভিত্তি জ্ঞান ও আল্লাহ ভীতি।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে নেতৃত্বের ভিত্তি সস্তা জনসমর্থন।

১১/
ইসলাম: ইসলামের লক্ষ্য জুলুম-শোষণের অবসান।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের লক্ষ্য পূঁজিবাদী শোষণ প্রতিপালন

১২/
ইসলাম: ইসলামে ন্যায়-অন্যায় চিরতরে নির্ধারিত।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে ন্যায়-নীতি সর্বদা উপেক্ষিত।

১৩/
ইসলাম: ইসলামে সকল পাপের পথ চিরতরে বন্ধ।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে সবরকম পাপের পথ উন্মুক্ত।

১৪/
ইসলাম: ইসলামে নৈতিক চরিত্র অনস্বীকার্য।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রে নৈতিক ইচ্ছাগুলো অনিবার্য।

১৫/
ইসলাম: ইসলামের শিক্ষা নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ।
গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের শিক্ষা ব্যক্তিস্বার্থ ভোগবাদ।

#প্রিয়_মুসলিম_ভাই_ও_বোনেরা!
আল্লাহর আইন ও আপনাদের স্বার্থকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বারবার যারা কাফের মুশরিকদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি হয়ে যায়, তাদেরকেই ভোট দিয়ে আবার ক্ষমতার মসনদে বসানোর মত বোকামি করা কি আদৌ ঠিক হবে? মনে রাখবেন আপনাদের সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে যদি তারা ইসলাম ও মানবতা বিরোধী কোন কাজ করে, তার দায়ভার আপনাদের উপরও বর্তাবে। একবারও কি আপনারা ভেবে দেখেছেন এই বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কি? এই প্রচলিত নির্বাচনী পদ্ধতি ইসলাম সমর্থন করে কিনা? যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার অধিনে এই নির্বাচন সংঘটিত হয় তা সম্পূর্ণ কুফরী ও অনৈসলামিক একটি পদ্ধতি, যা মেনে নিলে ইসলামকে অস্বিকার করা হবে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মূল কথাই হচ্ছে “সকল ক্ষমতার মালিক জনগন”, অথচ আল্লাহ তাআলার ঘোষনা হচ্ছে :

إِنِ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلّهِ
অর্থাৎ, সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। (সূরা ইউসুফ : ৪০)

আর এটাই হচ্ছে ইসলামের মূল ভিত্তি। দেখতেই পাচ্ছেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ও আল্লাহর নির্দেশনার মধ্যে মৌলিকভাবেই পার্থক্য বিদ্যমান যা চক্ষুষ্মান সকলের নিকটই পরিষ্কার। এরপরও যদি কেউ গণতন্ত্রকে মেনে নেয় তাহলে সে ইসলামকে বাদ দিয়ে কাফের মুশরিক কর্তৃক রচিত নতুন দ্বীন গ্রহণ করলো, যা তার কাছ থেকে কবুল করা হবে না। আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানের ৮৫ নং আয়াতে বলেনঃ

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآَخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে উহা গ্রহণ করা হবেনা। এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

আর গণতন্ত্র হচ্ছে একটি দ্বীন যার রচয়ীতা সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা কাফের গোষ্ঠী । তারা একে সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করে নিজেদের শয়তানী চিন্তাভাবনার প্রসার ঘটাতে চায়। সুতরাং, যদি আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হতে না চান তাহলে এই মুহুর্ত থেকে গণতন্ত্র নামক দ্বীন এবং এর অধীন সকল ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করুন।

একটি কথা সবার মনে রাখা দরকার, অনৈসলামিক পন্থায় যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে, তারা কখনো দেশে ইসলাম কায়েম করবে না। আর আপনাদের সমর্থন ছাড়া তারা কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই আপনারা ভোট কেন্দ্রগুলো বর্জন করুন, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে কাফেরদেরকে শাসনক্ষমতা প্রদান থেকে বিরত থাকুন। তারা আপনাদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগের মত রসালো কথায় বোকা বানাতে চায়। একটি বার ভাবুনতো, যদি তারা বলতো যে, আমরা তোমাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে কুরআন বিরোধী আইন তৈরি করবো, দেশের স্বার্থ সম্মান কাফেরদের নিকট বিকিয়ে দেবো, মাদ্রাসার ইসলামী শিক্ষাকে বিকৃত করে বস্তুবাদী শিক্ষায় পরিণত করবো, তাহলে কি আপনারা তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতেন? কখনই করতেন না। কিন্তু বাস্তবে তারা তাই করছে, তবে সাধারণ জনগণ তা বুঝতে পারেনা। আর বুঝবেইবা কেমন করে, রাজনৈতিক নেতারা তো এইগুলোকে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের মার-প্যাচে ভালো কাজ বলে চালিয়ে দেয়।

তাই আপনাদের আজ সময় এসেছে তাদের ভন্ডামীপূর্ণ বক্তব্যের সমুচিত জবাব দেওয়ার, তদেরকে টেনে হিঁচড়ে আল্লাহ তাআলার আসন থেকে নামিয়ে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করার। তাদেরকে বুঝিয়ে দিন প্রায় শতভাগ মুসলিমের দেশে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো বিধান চলতে পারেনা। আজ দেশের হক্বপন্থী উলামায়ে কিরামের উপর নৈতিক দায়িত্ব হয়ে পড়েছে জনসাধারণের কাছে এই নির্বাচনী পদ্ধতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। العلماء ورثة الأنبياء এই হাদিসের মূলতত্ত্ব আপনাদেরকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। যে কাজটি নবী (সাঃ) সারা জীবন করে গেছেন, আল্লাহর দরবারে কঠিন জবাবদিহি থেকে বাঁচার জন্য সে কাজটি আপনাদেরকেও করতে হবে। নাবী-রসূল (আ.) গণকে আল্লাহ তাআলা পাঠিয়েছিলেন মানুষকে ত্বগুত বর্জনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য, তাই আপনারা যদি নাবীদের উত্তরসূরী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে চান তাহলে জনগণকে ত্বগুতী ব্যবস্থাপনার কবল থেকে মুক্ত করার সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এটা আপনাদের করুণা নয়, বরং আপনাদের প্রতি সাধারণ জনগণের অধিকার।

স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদের হাড় ক্ষয় করা পরিশ্রম দ্বীন কায়েমের জন্য যথেষ্ট নয়, এই পথে ইলমের যোগান আপনাদেরকেই দিতে হবে। আপনারাই হচ্ছেন উম্মার সেই এলিট শ্রেণী, যাদের অনুপস্থিতি কিয়ামাতের লক্ষণ। কারন আল্লাহ তাআলা কিয়ামাতের আগে উলামাগণকে উঠিয়ে নিবেন। তাই আপনাদের প্রতি উদাত্ত আহবান, আসুন দ্বীন কায়েমের এই কাফেলায় শিশা ঢালা প্রাচিরের ন্যায় একত্রে এগিয়ে যাই। জনগণকে ইসলামের সঠিক দাওয়াহ দিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজকে সহজ করে তুলি।

#ওহে_আলেম_সমাজ!
হে সম্মানিত আলেমগণ! আল্লাহ তা‘আলা আপনাদেরকে তার দ্বীনের জ্ঞান দান করেছেন। আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী আপনারা দ্বীনকে মুসলিম জাতির সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরুন। আল্লাহকে ভয় করুন। সত্য গোপন করা থেকে বিরত থাকুন, নচেত আল্লাহ তা‘আলা শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।
গণতন্ত্রের ধোকা, নোংরামি উম্মার কাছে স্পষ্ট করে তুলে ধরুন। এর ক্ষতি ও ভয়াবহতা সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করুন।

পরিশেষে গনতন্ত্রের ধ্বজাদারী রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর শিখানো ভাষায় বলছি,

وَإِنْ أَدْرِي لَعَلَّهُ فِتْنَةٌ لَّكُمْ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ
অর্থাৎ, “এই ক্ষমতা তোমাদের জন্য পরীক্ষাসরূপ এবং কিছু সময়ের জন্য ভোগের বস্তু”(সূরা আম্বিয়া : ১১১)

তোমাদের দিন শেষ হয়ে আসছে, অনৈসলামিক পন্থায় আর কিছুকাল ক্ষমতা ভোগ করে নাও। যেদিন মুসলিমরা তাদের ভুলে যাওয়া ইতিহাস পুনরায় মনে করবে, তাদের অন্তরে আবু বকরের নিষ্ঠা, উমরের ন্যায়বিচার, উসমানের মহানূভবতা ও আলীর বদান্যতার স্মৃতি ভেসে উঠবে সেদিন তোমাদের মত দুর্নীতিবাজ, রক্তচোষা হায়েনারা আল্লাহর যমিনে পালিয়ে বাঁচার জায়গা পাবেনা ইনশাআল্লাহ। সেই কঠিন পরিণতি থেকে বাঁচতে চাইলে এখনি ইসলামের মূল ধারায় ফিরে আসো, তাহলে উমর (রাঃ)’র মত আরো বেশি সম্মানের অধিকারী হবে, অন্যথায় আবু জাহেলের মত লাঞ্চনাকর মৃত্যু আস্বাদন করবে।

#ওহে_মুসলিম_উম্মাহ!
আজ মুসলিম সমাজকে ধ্বংসা করার জন্য গণতন্ত্র নামের শিরক কুফরের যে ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সকলের উচিত এই উম্মাহকে শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত করা। সত্যিকার অর্থে আল্লাহর দ্বীনকে বিজয় করার প্রচেষ্টায় নিজেরদেরকে নিয়োজিত করা।

و صلى الله على خير خلقه محمد و على آله و صحبه وسلم تسليما كثيرا

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-হিন্দি (হাফি)
মুখপাত্র, জামা‘আতুল মুজাহিদীন –

 #এপস্টাইন_ফাইলস: খুলে পড়েছে পশ্চিমা মানবাধিকারের মুখোশসমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের একমাত্র মালি...
11/02/2026

#এপস্টাইন_ফাইলস: খুলে পড়েছে পশ্চিমা মানবাধিকারের মুখোশ

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর যিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের একমাত্র মালিক, যার জ্ঞানের বাইরে এই মহাবিশ্বের কোনো গোপন দ্বীপ বা অন্ধকার প্রকোষ্ঠ নেই। সকল প্রশংসা সেই মহান সত্তার, যিনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্য পাঠিয়েছেন আল-কুরআন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তিদূত, জালিমের আতঙ্ক এবং মজলুমের আশ্রয়স্থল জনাবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবায়ে কেরামের ওপর।

বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদেরকে মানবতার ত্রাণকর্তা, সভ্যতার আলোকবর্তিকা এবং মানবাধিকারের ধারক-বাহক হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তাদের এই তথাকথিত ‘সভ্যতা’র মোড়ক আজ খসে পড়ছে। সাম্প্রতিক ‘জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলস’ জনসমক্ষে আসা কেবল একটি আইনি নথির প্রকাশ নয়, বরং এটি পশ্চিমা উচ্চবিত্ত এবং নীতিনির্ধারক সমাজের চূড়ান্ত নৈতিক দেউলিয়াত্বের দালিলিক প্রমাণ। যারা বিশ্বকে নীতি-নৈতিকতার পাঠ দেয়, পর্দার আড়ালে তারা কতটা জঘন্য ও পাশবিক হতে পারে, এপস্টাইন ফাইলস তার জীবন্ত সাক্ষী।

#এপস্টাইন_ফাইলস: কী ঘটেছিল সেই অন্ধকার দ্বীপে?
​জেফরি এপস্টাইন, একজন মার্কিন ধনকুবের এবং যৌন পাচারকারী, যে দশকের পর দশক ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণের এক বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছে। তার এই জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, রাজপরিবারের সদস্য এবং বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা। ২০১৯ সালে কারাগারে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হাজার হাজার পৃষ্ঠার দলিল এবং আদালতি রেকর্ড থেকে বেরিয়ে এসেছে এমন সব তথ্য যা পশ্চিমা উচ্চবিত্তদের অপরাধের গভীরতা প্রকাশ করে।

এপস্টাইনের মালিকানাধীন বিভিন্ন সম্পত্তি, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রাসাদোপম বাড়ি, ফ্লোরিডায় পাম বিচের বাসভবন, নিউ মেক্সিকোর বিশাল খামার এবং ক্যারিবিয়ান সাগরের “লিটল সেন্ট জেমস” দ্বীপ যা “পেডোফাইল আইল্যান্ড” নামে কুখ্যাত হয়ে উঠেছিল, এসব স্থানে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ অকল্পনীয় নির্যাতন।

এসব কুকর্মে লিপ্ত ছিল বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক প্রেসিডেন্ট বুশ, বিল ক্লিনটন, মার্কিন নীতি নির্ধারক পর্যায়ের অনেক ব্যক্তিত্ব, সৌদি রাজপরিবারের সদস্য, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, বিলিয়নিয়ার এলন মাস্ক, বিল গেটস এবং প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

নথি এবং ভুক্তভোগী মেয়েদের বয়ান অনুযায়ী, তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো, ছোট ছোট মেয়ে শিশুদের উপর চালানো হত বিকৃত যৌনাচার, তাদেরকে মাদকাসক্ত করা হতো এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মনোরঞ্জনের জন্য পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিছু মেয়ে শিশুদের যৌন নির্যাতন চালানোর পর তাদের মাংসও খেয়ে ফেলা হতো, ভ্রুণ দিয়ে বানানো হতো স্যুপ।
ভার্জিনিয়া রবার্টস গিউফ্রে, যিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে এপস্টাইনের ফাঁদে পড়েছিলেন, তার সাক্ষ্যে জানিয়েছেন কীভাবে তাকে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষমতাশালী ব্যক্তির কাছে “উপহার” হিসেবে পাঠানো হতো। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে তাকে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছিল। তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে এপস্টাইনের দ্বীপে নিয়মিত “অর্জি পার্টি” আয়োজন করা হতো যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হতো।

আরেক ভুক্তভোগী সারাহ রনসম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাকে এপস্টাইনের যৌন দাসী হতে বাধ্য করা হয়। তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে তাকে প্রতিদিন একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হতো এবং অন্যান্য মেয়েদের “প্রশিক্ষণ” দিতে বাধ্য করা হতো। যারা প্রতিবাদ করতো তাদের শারীরিক নির্যাতন ও ভয় দেখানো হতো। তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখানে এপস্টাইনের “বন্ধুদের” সাথে অশ্লীলতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো।

শিল্পী ম্যারিয়া ফার্মার জানিয়েছেন কীভাবে এপস্টাইন এবং গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল তার এবং তার ছোট বোনকে যৌন নির্যাতন করেছিল। তিনি বলেন, এপস্টাইনের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পুলিশ ও এফবিআই-এর কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং তার পেশাগত জীবন ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এপস্টাইন এবং তার সহযোগীরা একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা তৈরি করেছিল যেখানে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রতারণা করে নিয়ে আসা হতো। তাদের “ম্যাসেজ থেরাপিস্ট” হিসেবে নিয়োগের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের যৌন দাসী বানানো হতো। যারা নতুন মেয়ে নিয়ে আসতো তাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হতো, এভাবে একটি পিরামিড স্কিম তৈরি হয়েছিল। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হতো এবং পালানোর চেষ্টা করলে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হতো।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো, এই অপরাধ দশকের পর দশক চলেছে অথচ তাদের তথাকথিত আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০০৮ সালে এপস্টাইন একবার গ্রেফতার হলেও তৎকালীন ফ্লোরিডার প্রসিকিউটর (পরবর্তীতে মার্কিন শ্রম সচিব) আলেক্স আকোস্তা তার সাথে একটি গোপন চুক্তি করেন যেখানে তার মাত্র ১৩ মাসের সাজা হয় এবং দিনের বেশিরভাগ সময় কারাগারের বাইরে কাটানোর সুবিধা দেওয়া হয়। এই “সুইটহার্ট ডিল” ছিল ন্যায়বিচারের সাথে চরম উপহাস।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা পুঁজিবাদী সমাজে টাকা এবং ক্ষমতা থাকলে যেকোনো জঘন্য অপরাধ করে পার পাওয়া যায়। তথাকথিত ‘লিবারেল’ সমাজব্যবস্থা এই অপরাধীদের বছরের পর বছর সুরক্ষা দিয়ে এসেছে।

#পশ্চিমা_মানবাধিকারের_ভণ্ডামি
পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের ধ্বজাধারী হিসেবে নিজেদের জাহির করে। তারা অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সামরিক হস্তক্ষেপ চালায় এবং “সভ্যতা” ও “গণতন্ত্র” প্রতিষ্ঠার নামে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করে। অথচ তাদের নিজেদের দেশে, তাদের নিজেদের ক্ষমতাশালীদের দ্বারা সংঘটিত হয় সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ।

যে পশ্চিমা মিডিয়া মুসলিম দেশগুলোতে শরিয়াহ আইনকে “বর্বর” বলে প্রচার করে, তারা নিজেদের দেশে শিশু যৌন নির্যাতনের এই বিশাল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে চুপ থাকে। যে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অন্যদের বিচার করে, তারা নিজেদের সমাজের এই কলঙ্ক নিয়ে কথা বলে না। যে নারীবাদীরা হিজাবকে “নিপীড়ন” বলে আখ্যা দেয়, তারা এপস্টাইনের শিকার মেয়েদের জন্য একই মাত্রায় সোচ্চার হয় না।

এপস্টাইন ফাইল প্রমাণ করে যে পশ্চিমা “স্বাধীনতা” ও “অধিকার” শুধুমাত্র শক্তিশালীদের জন্য। দুর্বলদের, বিশেষত নারী ও শিশুদের, কোনো অধিকার নেই যখন ক্ষমতাবানরা তাদের শোষণ করতে চায়। পশ্চিমা আইনি ব্যবস্থা যা “নিরপেক্ষতা” ও “ন্যায়বিচারের” দাবি করে, তা আসলে ধনী ও ক্ষমতাশালীদের রক্ষা করার একটি হাতিয়ার মাত্র।

#পশ্চিমা_আইনি_ব্যবস্থার_ভন্ডামি
এপস্টাইন মামলা পশ্চিমা আইনি ব্যবস্থার ভন্ডামি প্রকাশ করেছে। দশকের পর দশক ধরে অসংখ্য অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এপস্টাইনকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। ক্ষমতা ও অর্থ তাকে বিচারের ঊর্ধ্বে রেখেছিল। যেসব মেয়ে সাহস করে এগিয়ে এসে অভিযোগ করেছিল, তাদের বিশ্বাস করা হয়নি, বরং তাদের চরিত্র হনন করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রসিকিউটর এবং বিচারকরা এপস্টাইনকে সুবিধা দিয়েছে। ২০০৮ সালে তার সাথে করা “সুইটহার্ট ডিল” এর উজ্জ্বল প্রমাণ।
এপস্টাইনের মৃত্যুর পরিস্থিতি এখনো রহস্যাবৃত। তার সাথে জড়িত অনেক শক্তিশালী ব্যক্তির নাম চাপা দেওয়া হয়েছে।

শত শত মেয়ের জীবন ধ্বংস করার পরও খুব কম সংখ্যক ব্যক্তি শাস্তি পেয়েছে। গিসলাইন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া এপস্টাইনের নেটওয়ার্কের আর কেউ তেমন শাস্তি পায়নি।

#যৌন_বিপ্লবের_অন্ধকার_দিক
পশ্চিমা সমাজে “যৌন স্বাধীনতা” ও “যৌন বিপ্লবের” নামে যা চালু করা হয়েছে তার পরিণতি এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে স্পষ্ট। যখন সমাজ থেকে সকল নৈতিক বাধা তুলে নেওয়া হয়, যখন কোনো কিছুকেই “ট্যাবু” বলা যায় না, তখন শক্তিশালীরা দুর্বলদের শোষণ করার সুযোগ পায়। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে যৌনতার যে বাণিজ্যিকীকরণ ও বস্তুকরণ হয়েছে, তা নারী ও শিশুদের পণ্যে পরিণত করেছে।

হলিউডে ব্যাপক যৌন নির্যাতন, ক্যাথলিক চার্চে হাজার হাজার শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনা, ব্রিটেনে শত শত সেলিব্রিটি ও রাজনীতিবিদের যুক্ত পেডোফাইল রিং এসব হলো পশ্চিমা নৈতিক অধঃপতনের প্রমাণ। এপস্টাইন কেলেঙ্কারি তার ক্ষুদ্রতম একটি অংশমাত্র।

#ইসলামি_শরিয়াহ: প্রকৃত সমাধান
পশ্চিমা বিশ্ব যে নৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছে, তার একমাত্র ও স্থায়ী সমাধান রয়েছে ইসলামি শরিয়াহর মধ্যে। ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যা ব্যক্তির চারিত্রিক পবিত্রতা এবং সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

ইসলাম নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং যৌন উস্কানিমূলক পরিবেশকে নিষিদ্ধ করে। পশ্চিমা সমাজে যৌনতার যে প্রকাশ্য প্রদর্শনী চলে তা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেন:

وَ لَا تَقۡرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَۃً ؕ وَ سَآءَ سَبِیۡلًا

আর যিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। (সূরা আল ইসরা : ৩২)

ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। চারজন নিরপেক্ষ সাক্ষীর সাক্ষ্য বা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রমাণিত হলে বিবাহিত ব্যক্তির জন্য পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড এবং অবিবাহিত ব্যক্তির জন্য ১০০ বেত্রাঘাতের বিধান। এই কঠোর শাস্তি সমাজে যৌন অপরাধ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর এবং তা প্রমাণিত।

আবু হুরায়রা ও যায়েদ ইবন খালিদ জুহানী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত তারা বলেন

«جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ! اِقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ، فَقَامَ خَصْمُهُ فَقَالَ: صَدَقَ، اِقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللهِ ، فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: إِنَّ ابْنِيْ كَانَ عَسِيْفاً عَلَى هَذَا، فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ ، فَقَالُوْا لِيْ: عَلَى ابْنِكَ الرَّجْمُ، فَفَدَيْتُ ابْنِيْ مِنْهُ بِمِئَةٍ مِنَ الْغَنَمِ وَوَلِيْدَةٍ، ثُمَّ سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَقَالُوْا: إِنَّمَا عَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِئَةٍ وَتَغْرِيْبُ عَامٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ e: لَأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللهِ ، أَمَّا الْوَلِيْدَةُ وَالْغَنَمُ فَرَدٌّ عَلَيْكَ، وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِئَةٍ وَتَغْرِيْبُ عَامٍ، وَأَمَّا أَنْتَ يَا أُنَيْسُ! فَاغْدُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَارْجُمْهَا ، فَغَدَا عَلَيْهَا أُنَيْسٌ فَرَجَمَهَا»

“জনৈক বেদুঈন ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললো: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের মাঝে কোর‘আনের ফায়সালা করুন। তার প্রতিপক্ষও দাঁড়িয়ে বললো: সে সত্য বলেছে। আপনি আমাদের মাঝে কোর‘আনের ফায়সালা করুন। তখন বেদুঈন ব্যক্তিটি বললো: আমার ছেলে এ লোকটির নিকট কামলা খাটতো। ইতিমধ্যে সে এর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করে বসে। সবাই আমাকে বললো: তোমার ছেলেটিকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। তখন আমি আমার ছেলেটিকে ছাড়িয়ে নেই এ লোকটিকে একটি বান্দী ও একশটি ছাগল দিয়ে। অতঃপর অত্র এলাকার আলিমদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললো, তোমার ছেলেকে একশটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করতে হবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদের মাঝে কুরআনের বিচার করছি, বান্দী ও ছাগলগুলো তোমাকে ফেরত দেওয়া হবে এবং তোমার ছেলেটিকে একশটি বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশান্তর করতে হবে। আর হে উনাইস! তুমি এর স্ত্রীর নিকট যাও। অতঃপর তাকে রজম করো। অতএব, উনাইস তার নিকট গেলো। অতঃপর তাকে রজম করলো”। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৬৯৫, ২৬৯৬)

ইসলামি শরিয়াহতে ধর্ষণ একটি জঘন্যতম অপরাধ এবং এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ভুক্তভোগীকে কোনো দোষারোপ করা হয় না, বরং পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করা হয়। ইসলামি ইতিহাসে এমন অনেক নজির আছে যেখানে ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। পশ্চিমা ব্যবস্থায় যেখানে ধর্ষক মাত্র কয়েক বছরের সাজা পায় বা অর্থ-প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যায়, সেখানে ইসলামই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
এপস্টাইন এবং তার মতো অপরাধীরা তাদের অর্থ-সম্পদের কারণে বিচারের ঊর্ধ্বে ছিল। ইসলামে যাকাত, সাদকা এবং উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়। কেউ এতটা ক্ষমতাশালী হতে পারে না যে আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে। খলিফা উমর (রা.) এর বিখ্যাত উক্তি: “একজন কপ্তিক খ্রিস্টান বালকও যদি মিশরে অত্যাচারিত হয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন উমরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।”

ইসলামি শরিয়াহতে ন্যায়বিচার সকলের জন্য সমান, ধনী-গরিব, শক্তিশালী-দুর্বল সবার জন্য একই আইন। খলিফা আলী (রা.) একজন ইহুদির বিরুদ্ধে মামলায় হেরে গিয়েছিলেন কারণ তার কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছিল না। এটি প্রমাণ করে যে ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় কোনো দ্বৈত মানদণ্ড নেই।
এপস্টাইনের যে কুকর্ম প্রকাশ পেয়েছে তা বিশাল হিমশৈলের ক্ষুদ্র একটি অংশ। এই ধরনের বিচারহীনতা এবং অনাচারের সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে ইসলামী শরিয়াই একমাত্র সমাধান।

#পর্দার_আড়ালে_কারা?
পুরো বিশ্ববাসী এবং সাধারণ মুসলিম উম্মাহ হয়তো ভাবছে যে সমস্ত অপরাধের জন্য শুধুমাত্র এই গোষ্ঠীটাই দায়ি যাদের তালিকা এপস্টাইন ফাইলে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডোনাল্ড ট্রাম্প রানিং প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় সে নিজেও নিজেকে রক্ষা করতে পারলো না। যাদের নাম এসেছে তারা সকলেই কোনো না কোনো স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, তবুও তারা এই নথিপত্রগুলোর প্রকাশ হওয়া রোধ করতে পারলো না। এই ঘটনা এটা স্পষ্ট করে দেয়, ক্ষমতার মসনদে যাদের দেখা যাচ্ছে তারা মূলত পুুতুল, তারা মূলত অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা এক অশুভশক্তির গোলাম, তারা মূলত পরাধীন, তারা চাইলেও গাযার গণহত্যা বন্ধ করতে পারে না কারণ তাদের লাগাম অন্য কেউ ধরে রেখেছে। এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশ হওয়ার মাধ্যমে সেই পর্দার আড়ালের শক্তি যেন ক্ষমতার মসনদে বসে থাকা পাপেটগুলোকে সর্তক বার্তা দিলো যে তারা যেন ভুলেও নিজের প্রভুদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে, করলেই তাদের ক্ষমতা সহ সবকিছুই কেড়ে নেওয়া। পর্দার আড়ালের সেই শক্তি হলো তারা যারা ইসলামকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, যারা পুরো পৃথিবীতে একটি অভিন্ন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যারা পৃথিবীতে একটি একক বিশ্ব ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, যারা দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের জন্য তার মঞ্চ তৈরি করছে এবং দাজ্জালের সেনাবাহিনী প্রস্তুত করছে, যারা এক মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যেটা ইমান ও কুফরের অস্তিত্ব রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই হবে। এই শক্তি ইবলিসকে তাদের প্রভু হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। আমেরিকা ও ইউরোপ এবং চীন ও রাশিয়া ভিত্তিক যে জোট নিজেদের মধ্যে ভিন্ন ফ্রন্টে লড়াইয়ে লিপ্ত সেখানে উভয় জোটই এই শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি। এই অশুভশক্তি গাযায় গণহত্যা চালাচ্ছে। তৈরি করছে এক যু্দ্ধের মঞ্চ।

#উম্মাহর_করণীয়
প্রিয় উম্মাহ, আঁধার যত ঘন হয়, মুক্তির আলো ততোই নিকটবর্তী হয়। উপমহাদেশে আজ ইসলাম নেই তবে কাল বা পরশু এই অঞ্চলে ইসলাম বিজয়ী হবেই ইনশাআল্লাহ। উপমহাদেশের কথিত পরাশক্তি ইন্ডিয়া খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। শুধু সময় এবং সুযোগের অপেক্ষা, অচিরেই তার পতন ঘটবে, উত্থান হবে ইসলামের। গোমূত্র পানকারী মুশরিকরা আমাদের প্রতিরোধের মুখে মনোবল হারিয়ে ফেলবে। তাই উপমহাদেশে ইসলামের উত্থান শুধু সময়ের ব্যাপার। আমরা যত দ্রুত মুশরিকদের দূর্বলতাগুলো বুঝতে পারবো এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবো, ইসলামের বিজয় ততই সন্নিকটে চলে আসবে ইনশা আল্লাহ।

বাংলাদেশে একসময়ে ইসলামের প্রচার প্রসার খুব কঠিন ছিল। তখন নাস্তিক গ্রুপের ন্যারেটিভ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন এসেছে। এমন এক প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যারা ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে চায়। ইসলামকে মধ্যযুগীয় ধর্ম বলে কটাক্ষ করা সেকুলারদের ন্যারেটিভ তারা ছুড়ে ফেলছে। এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশিত হওয়ার পর আমেরিকা ও ইন্ডিয়ার মানবাধিকারের বয়ান এখন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রাসঙ্গিক হয়েছে। তাই দায়ি ভাইদের উচিত হবে, ইসলামি খিলাফার ন্যারাটিভ সমাজে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা। তবেই এখানে ইসলামের বিজয়ের পথ প্রশস্ত হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ ، اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ اَسْتَغْفِرُكَ وَاَتُوْبُ اِلَيْكَ

– শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল হিন্দি (হাফিজাহুল্লাহ)
মুখপাত্র – জামা’আতুল মুজাহিদীন

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when An-Noor Media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share