21/09/2026
ভয় ব্যাপারটা আমার কাছে বহুমাত্রিক। ভয়ের গল্প মানেই যে ভূতের গল্প হতে হবে বা কোন অপজাগতিক এন্টিটি হতে হবে তার কোন মানে নেই। গত বছরের তুলনায় এই বছর আমরা অর্থাৎ Smell of Books Publication ভয়ের বইয়ের পরিমান অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি। আমাদের ইন্টেনশন এক একটি বই পড়ে পাঠকের সামনে খুলে যাক এক এক রকমের ভয়ের দরজা।
এই পোস্টে আমি তিনটি বইয়ের উল্লেখ করতে চাই, এমন তিনটি বই যেগুলি প্রকাশিত হচ্ছে বইমেলার আগেই। ধরে নিতে পারেন আমাদের "ভয়ের" প্রজেক্টগুলি নিয়ে এটা প্রথম পোস্ট, যাতে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হয় ঠিক কিরকম ধরনের কাজ আমরা করছি।
প্রথম বইটি আকাশ গুহ র "ত্রিকায়া"। বইটিতে আদতে তিনটে উপন্যাসিকা থাকলেও এটাকে একটি সিঙ্গেল বড় উপন্যাস হিসেবেও ধরতে পারেন। কেন?? সেটা জানার জন্য না হয় আরো কিছুদিন অপেক্ষা করুন.... কিন্তু ঠিক কি আছে এই বইটিতে। আকাশ তাঁর চিরাচরিত ছন্দে সেটাই করেছেন যেটা তিনি সবচেয়ে ভালো করেন। অর্থাৎ র এবং আনফিল্টার্ড ভয় দেখানো। ডেমনিক বা অকাল্ট হরর, লাভক্রাফটিয়ান ক্রিয়েচর হরর এবং প্যারানরম্যাল....তিন রকমের উপধারা এখানে লেখক নিয়ে এসেছেন। আবার চাইলে এগুলোকে মনস্তাত্ত্বিক হরর বললেও ভুল হবে না। আরেকটা মজার ব্যাপার রয়েছে এই বইটিতে। গল্পগুলো পাঠক চাইলে যেকোনো ক্রমে পড়তে পারেন, এবং শেষে গিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস পড়ার অভিজ্ঞতাই পাঠকের হবে, কিন্তু এক এক ক্ষেত্রে অনুভূতি এক এক রকমের হবে। তবে যে অনুভূতিটি থাকবেই তা হল শিরদাঁড়া দিয়ে বরফ গলা জল নেমে যাওয়ার অনুভূতি।
আকাশের বইয়ের ক্ষেত্রে ভয় যদি ফাস্ট পেসড এবং অন ইয়োর ফেস হয় তবে দ্বিতীয় বইয়ের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা হবে একদমই উল্টো। ভয় এখানে শুঁয়োপোকার মত গুঁড়ি মেরে উঠবে, কিন্তু সেটা চামড়ার নিচ দিয়ে। বিগত কয়েক বছরে বাংলা সাহিত্যে ভয়ের যে কম্বিনেশনটাকে আমার সর্বোচ্চ মাপের সাহিত্য মনে হয়েছে তা হলো পিয়া সরকার এবং ফোক হরর। পিয়ার গল্পে সরাসরি কোন ভৌতিক এন্টিটি র প্রবেশ ঘটে না, তাঁর গল্পে অন্ধকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকে মানুষের মনে এবং সমাজের অন্ধকার দিকে। গল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বুঝতে অসুবিধে হয় যে গল্পগুলির আসল ইভিল কে?? কোন অপজাগতিক সত্ত্বা না আমরা নিজে। পিয়ার এই বইতে রয়েছে চারটি উপন্যাসিকা যা উঠে এসেছে আমাদেরই সমাজের বিভিন্ন বিশ্বাস এবং অবিশ্বাস থেকে। কখনো বীরভূম, কখনো কালিম্পং, কখনো আমাদেরই আশেপাশের একটা ভুলোয় পাওয়া গ্রাম আবার একটি ক্ষেত্রে গোয়া। ভৌতিক গল্প কখনো উচ্চমানের সাহিত্য হতে পারেনা, এই অভিযোগ যাঁরা করেন, তাঁদের অনুরোধ করবো এই বইটি অন্তত একবার পড়ার জন্য। আসছে পিয়া সরকার এর "দ্যা ওয়াচার্স"।
আপনারা সবাই জানেন খুব শীঘ্রই আমাদের একটি ভৌতিক সংকলন আসতে চলেছে। সম্পাদনায় মালবিকা দাশগুপ্ত এবং মনীষ মুখোপাধ্যায় । এই সংকলনের মূল ভাবনা আমাদের নিজেদের জীবনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক্সপিরিয়েন্স করা কোন প্যারানরমাল ঘটনা। সেই ঘটনা কোন ভৌতিক উপদ্রব হতে পারে, আরবান বা রুরাল শামানিজম্ হতে পারে কিংবা হতে পারে কোন দৈবী অথবা অ দৈবী ভর। আজকের আলোচনা এই সংকলনটি নিয়ে নয়, বরঞ্চ কিভাবে সংকলনটির ইনস্পিরেশন আমরা পেলাম তাকে নিয়ে। দিন কয়েক আগে বাংলার বিখ্যাত একটি প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটিভ টিম তাঁদের একটি বিশেষ কেস নিয়ে একটি বই করার জন্য আমাদের অ্যাপ্রোচ করে। বইটির মূলে রয়েছে একটি আপাত অসম্ভব পজেশন এর সত্যি কাহিনী, কিন্তু সেই কাহিনীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই ইনভেস্টিগতিভ টিমের আরো কয়েকটি ভৌতিক এনকাউন্টারের গল্প। কাহিনীর প্লট লাইন এবং আইডিয়া আমাদের এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে আমরা সিদ্ধান্ত নিই এই বইটি ইংরেজি এবং বাংলা দুটো ভাষাতেই আমরা পাবলিশ করব। মূল গল্প লিখবে সেই টিম অর্থাৎ of Supernatural আর গল্পের ফাইন টিউনিং এবং পলিশিং করব আমরা। বুঝতেই পারছেন বেশ বড় একটা কর্মকান্ড এবং এতে অনেকেই যুক্ত আছেন। ব্যাপারটা হল, DOS টিমের সাথে যা হয়েছে তা নিয়ে পরে বলব, কিন্তু তার বাইরে অন্যান্য যারা এই প্রজেক্ট এর সাথে যুক্ত, যার মধ্যে আমিও আছি, প্রত্যেকের সাথে শেষ কয়েক দিনে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়, আর সেগুলো আদৌ পজিটিভ কিছু না। একটা সময় মনে হচ্ছিল এই প্রজেক্টটি আমরা আর করব না, কিন্তু তার পরে Devraj Sanyal এর জেদের জন্যেই অবশেষে সেই বইয়ের ইংরেজি ভার্সন এর কাজ প্রায় শেষের পথে। এই ইনভেস্টিগেশন টি চালানোর সময় ওদের টিমের সাথে যা হয়েছিল এবং তারপর আমাদের সাথে যা হয়, সেই ভাবনা থেকেই আসবে পূর্বে উল্লিখিত সংকলনটি। সেখানে উল্লেখ করব Mohona Debroy এর "অথচ নগরী মৃত" এবং Krishanu Kundu র এপিক ট্রিলজি নিয়ে।
আলোচনার শুরুতেই বলেছিলাম আমার কাছে ভয়ের সংজ্ঞা বহুমাত্রিক। আশা করি এই লেখার মাধ্যমে কিছুটা বোঝাতে পারলাম এই ঘরানায় আমরা কতটা স্পেকট্রাম কভার করছি। খুব শীঘ্রই পোস্ট করব আমাদের প্রকাশিত এবং প্রকাশিতব্য অন্যান্য ভয়ের বইগুলির ব্যাপারে।
এবার এতটা লেখা যখন আপনারা পড়েই নিয়েছেন তাহলে শেষে আপনাদের জন্য একটা ছোট্ট ওপিনিয়ন পোল রইল। তৃতীয় বইটির ক্ষেত্রে প্রচ্ছদ হিসেবে দুটো আইডিয়া নিয়ে আমরা নাড়াচাড়া করছি। দেবরাজ দের আইডিয়া প্রচ্ছদটি সিনেম্যাটিক করার এবং আমরা কিছুটা মিনিমালিস্টিক এবং সাটল রাখতে চাইছি। আপনাদের কোন প্রচ্ছদটা পছন্দ জানাবেন।
Sumit Gangopadhyay Tathagata Chaudhuri Ratnadip Chatterjee