ToTo Company with Sirsendu

ToTo Company with Sirsendu “To live a simple, creative, financially-balanced life where travel and creation sustain each other.”

গত পোস্টে আমরা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মানেভঞ্জন, তুমলিং, সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান পেরিয়ে সান্দাকফু পৌঁছেছিলাম —সিঙ্গালিলা ...
31/01/2026

গত পোস্টে আমরা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মানেভঞ্জন, তুমলিং, সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান পেরিয়ে সান্দাকফু পৌঁছেছিলাম —সিঙ্গালিলা রিজ ধরে এই ট্রেক শুধু হাঁটা নয়, পাহাড়ের সঙ্গে এটা একটা নির্লিপ্ত আলাপচারিতা, যেখানে কুয়াশার ফাঁক দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা, দূরে ঝলমল এভারেস্ট—আর প্রতিটা বাঁকে প্রকৃতি আর মানুষের মিলেমিশে থাকা গল্প। সান্দাকফু পৌঁছে বিকেলে অবশ্যই সক্ষ্মী হন এক অবিস্মরণীয় সূর্যাস্তের যা আপনার স্মৃতির locker-এ সারাজীবন জায়গা করে নেবে এটা আমার বিশ্বাস।

দিন ৫: সান্দাকফু – ফালুট (২১ কিমি, ১২ ঘন্টা)

পরদিন সকালে সান্দাকফুতে হিমালয়ের বিশাল পর্বতশ্রেণীর উপর এক চমৎকার সূর্যোদয় দেখে । ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়তে পারেন ফালুটের উদ্দেশ্যে।

ফালুট ট্রেক : ফালুট সান্দাকফু থেকে আরও ২১ কিলোমিটার দূরে এবং এটি ১১৮১১ ফুট উচ্চতায় সিঙ্গালিলা রেঞ্জের অন্যতম সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
ফালুট শব্দটি লেপচা শব্দ "ফাক-লুক" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ অনুর্বর শৃঙ্গ।

সান্দাকফু থেকে ফালুট ট্রেক : সান্দাকফু থেকে ফালুটের ট্রেকটি সম্ভবত পুরো পথের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয়। পথটি বেশ দীর্ঘ এবং আগে পুরো পথে মাত্র একটি বসতি ছিল কিন্তু এখন এই রাস্তার মাজে আপনি আল ও থাকুম ভ্যালি পাবেন যেখানে কিছু হোম স্টেস গড়ে উঠেছে যেখানে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারবেন। সান্দাকফু থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সাবারগ্রাম বা সাবারকুম গ্রামটি অবস্থিত, যা ফালুটে পৌঁছানোর আগে শেষ বসতি। তাই ফালুটের পথে খাবার ও জল সাথে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
সান্দাকফু থেকে ফালুটের ট্রেকিং পথটি তুলনামূলকভাবে সহজ এবং পুরোটাই পাহাড়ের টপ ধরে ফলে আপনি পুরো রাস্তা তেই হিমালয়ের সুউচ্চ পর্বত শৃঙ্গ গুলোকে সাথে নিয়েই চলবেন এই পথ দিয়ে হাঁটার সময় আপনি আপনার ডানদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিবার এবং বামদিকে এভারেস্ট পরিবারকে দেখতে পাবেন।। রাস্তায় আপনি রডোডেনড্রন বন, পাইন বন, বিশাল তৃণভূমি এবং পটভূমিতে চমৎকার বরফে ঢাকা পর্বতমালা ভেদ করে চড়াই ও উতরাই উভয় পথই রয়েছে।
ফালুটে পৌঁছাতে প্রায় ১০-১২ ঘন্টা সময় লাগে এবং অভিজ্ঞ ট্রেকাররা এটি একদিনে করতে পারেন। কখনও কখনও, ট্রেকাররা সাবারগ্রামে থামতে পছন্দ করেন, তবে এখানে থাকার ব্যবস্থা সীমিত।

ফালুট মূলত একটি মালভূমির মতো, যেখানে একটিমাত্র জিটিএ ট্রেকার্স হাট রয়েছে। এখানকার থাকার ব্যবস্থা বেশ সাধারণ। কিন্তু একবার চারদিকে তাকালে আপনি চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালাকে মনে হবে যেন হাতের নাগালেই। এটি সরলরেখায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং এটিকে বিশাল ও অসাধারণ দেখায়। সিঙ্গালিলা রেঞ্জ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এত কাছ থেকে দৃশ্য আর কোথাও পাওয়া যায় না।
দুপুরের দিকে ফালুটে বেশ বাতাস বয়। বাতাস বেশ জোরালো থাকে, বিশেষ করে রাতে এবং রাতে ঘরের ভেতরে থাকাই ভালো। ফালুট থেকে সূর্যোদয়ও অসাধারণ।

ষষ্ঠ দিন: ফালুট – গোর্খে

পরের দিন, এক মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয় দেখার পর, হিমালয়ের বরফ আবৃত শৃঙ্গগুলিকে বিদায় জানিয়ে তৈরী হয়ে যান আমাদের পরের গন্তব্য গোর্খে। পথটি পাইন, কনিফার এবং বাঁশের ঝাড়ের সুন্দর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গেছে। গোর্খে ফালুট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। এটি পাইন গাছে ঘেরা একটি সুন্দর ছোট গ্রাম। গ্রামের মাঝখান দিয়ে গোর্খে খোলা নদী বয়ে গেছে। এই গ্রামে প্রায় ৩০টি পরিবার বাস করে। গোর্খেতে রাত কাটানোর জন্য একটি জিটিএ ট্রেকার্স হাট এবং কয়েকটি হোমস্টের ব্যবস্থা আছে।

সপ্তম দিন: গোর্খে - শ্রীখোলা

গোর্খে থেকে রামমাম হয়ে গন্তব্য শ্রীখোলা দূরত্ব ৮কিলোমিটার । এটি ট্রেক এর লাস্ট স্টপ এখন থেকে আপনি শিলিগুড়ির শেয়ার জীপ্ ও প্রাইভেট গাড়ি পেয়ে যাবেন। যদি দীর্ঘ পথ পাড়িদেবার কারণ-এ আপনি ক্লান্ত বোধ করেন তাহলে রেস্ট এবং থাকার জন্য আপনি রামমাম ও শ্রীখোলায় অনেক হোমস্টে পেয়ে যাবেন।

এই পথটি ছাড়া সান্দাকফু থেকে শ্রীখোলা আসার আরো কয়েকটি পথ আছে

পথ ১: সান্দাকফু থেকে শ্রীখোলা হয়ে গুরদুম
এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং সবচেয়ে ছোট পথ। সান্দাকফু থেকে গুরদুম মাত্র ১০ কিলোমিটার এবং এটি প্রায় ৩.৫ – ৪ ঘণ্টার মধ্যে হেঁটে যাওয়া যায়। আপনি যদি রাতে সেখানে থাকতে চান তবে গুরদুমে একটি ব্যক্তিগত থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
গুরদুম থেকে শ্রীখোলা আরও ১.৫ ঘণ্টার হাঁটা পথ। এই পথটি জঙ্গল এবং রডোডেনড্রন বনের মধ্যে দিয়ে গেছে। বসন্তকালে (এপ্রিল ও মে), বন রডোডেনড্রন ফুলে ভরে ওঠে। আপনি ভাগ্যবান হলে, একটি রেড পান্ডা বা হিমালয়ান ভাল্লুকের দেখা পেতে পারেন।
শ্রীখোলা নামটি একই নামের নদীর নামে রাখা হয়েছে। শ্রীখোলায় থাকার জন্য অনেক বিকল্প রয়েছে। সাধারণত, ট্রেকাররা শ্রীখোলায় রাতে থাকেন এবং পরের দিন রিম্বিক, মানেভঞ্জন এবং ঘুম হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য একটি শেয়ার্ড জিপে ওঠেন। শ্রীখোলা থেকে আপনি আরও ৭ কিলোমিটার পাহাড়ি পথে হেঁটে রিম্বিক যেতে পারেন। সেখানে রাত কাটিয়ে পরের দিন জিপে করে শিলিগুড়ি যেতে পারেন।

রুট ২: মোল্লের হয়ে সান্দাকফু থেকে শ্রীখোলা (১৬ কিমি)
এই পথে আপনাকে সাবারগ্রাম পর্যন্ত ট্রেকিং করতে হবে। এখানে রাস্তাটি দুটি ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। আপনাকে ডানদিকের রাস্তাটি ধরে মোল্লে, তারপর রাম্মাম এবং সবশেষে শ্রীখোলা পৌঁছাতে হবে।

**একটি বিষয়ে আপনাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে শ্রীখোলা থেকে শিলিগুড়ির যাবার গাড়ি আপনি দুপুর এর পর পাবেন না। তাই গাড়ির সময় মাথায় রেখে আপনারা পরের দিনের প্ল্যান করবেন।

Best time to Visit :
বসন্ত (মার্চ - মে): প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ সময়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং পাহাড়ের ঢাল রঙিন ফুলে (রডোডেনড্রন, অর্কিড) ভরে থাকে।
শরৎ (সেপ্টেম্বর - নভেম্বর): পরিষ্কার আকাশ এবং নির্মল বাতাসের কারণে এই সময়টি মনোরম পর্বত দৃশ্যের জন্য সেরা বলে বিবেচিত হয়।
শীতকাল (ডিসেম্বর - ফেব্রুয়ারি): শান্ত পথ এবং তুষারপাতের সাথে এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা, তবে খুব ঠান্ডা তাপমাত্রা এবং বিশেষ করে জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারিতে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকে।
বর্ষাকাল (জুন - আগস্ট): এই সময়ে দৃশ্যমানতা কম থাকে এবং ভারী বৃষ্টির কারণে পথচলা কঠিন ও কম উপভোগ্য হয়, তাই এই সময়টি ভ্রমণের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
মূল কথা: চমৎকার আবহাওয়া, পরিষ্কার দৃশ্য এবং প্রস্ফুটিত ফুলের ক্লাসিক সমন্বয়ের জন্য মার্চ-মে মাস বেছে নিন এবং সেরা পর্বত দৃশ্যের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর মাস নির্বাচন করুন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
* প্রথম যে জিনিসটি আপনি কোনোভাবেই বাদ দিতে পারবেন না তা হলো একটি ট্রেকিং স্টিক । এটি পাহাড়ে আপনার চলাচলকে সহজ করে তুলবে।
* এছাড়াও, যে জিনিসটি এই ট্রেকটিকে আপনার জন্য আরামদায়ক এবং সহজ করে তুলবে তা হলো আপনি কী ধরনের পোশাক পরছেন। এই ট্রেকের সময় হালকা এবং আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, কারণ সেগুলো আপনাকে অস্বস্তি দেবে এবং আপনার ট্রেকএর অভিজ্ঞতা নষ্ট করে দিতে পারে।
* একজন গাইড থাকা আবশ্যক। এতে গ্রামের অর্থনীতি উপকৃত হয় এবং আপনি নিরাপদ পথে চলতে পারেন,গাইড আপনাকে সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন।
* আপনি যখন ট্রেকিং করছেন, আপনি যে জায়গাতেই থাকুন না কেন বা আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, আপনার সাথে পর্যাপ্ত জল, এবং ড্রাই ফ্রুইটস রাখা উচিত।
* শুধু ট্রেকের পথই নয়, আবহাওয়াও অপ্রত্যাশিত হতে পারে। পাহাড়ে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে এবং তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। এখন একমাত্র উপায় হলো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা। এমন জিনিসপত্র সাথে নিন যা আপনাকে এই প্রাকৃতিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।
* ট্রেকিং পোল, আরামদায়ক পোশাক এবং একজন ভালো গাইড ছাড়াও, আপনার ট্রেকিংকে আরও আরামদায়ক ও সহজ করার জন্য যে জিনিসটি থাকা উচিত তা হলো ভালো ট্রেকিং জুতো। আপনার ট্রেকিংয়ের সময় পুরো যাত্রাটাই আপনার হাঁটার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। আপনার পায়ে যেন বেশি ব্যথা না হয় এবং যাত্রাটি মসৃণ হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আপনার সাথে একজোড়া ভালো ট্রেকিং জুতো রাখুন।

মনে রাখবেন ট্রেকে যেমন শারীরিক শক্তি প্রয়োজন তার থেকেও বেশি প্রয়োজন মনের শক্তি , নিজের শরীরকে কে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন আর নিশ্চিত করুন আপনার সহযাত্রীরাও সুস্থতার সাথে আনন্দের সাথে মন বোঝাই করা স্মৃতির পাহাড় নিয়ে বাড়ি ফেরে ।

বিশেষ অনুরোধ :
প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না: সাথে একটা এক্সট্রা থলি ক্যারি করুন নিজের আবর্জনা সঠিক জায়গা ডাস্টবিন এ ফেলুন।












COMING UP | এই শনিবার, সন্ধ্যা ৭টাগতপর্বে আমরা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মানেভাঞ্জন পেরিয়ে, হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গিয়েছিলাম পশ্চি...
14/01/2026

COMING UP | এই শনিবার, সন্ধ্যা ৭টা

গতপর্বে আমরা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে মানেভাঞ্জন পেরিয়ে, হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গিয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বিন্দু—সান্দাকফু।

এই পর্বে আমাদের
সান্দাকফু থেকে ফালুট—
তারপর গরখে, রামমাম, রিম্বিক, শ্রীখোলা হয়ে
ধীরে ধীরে নেমে আসা…
পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গ্রাম, বন, নদী আর নীরবতার ভেতর দিয়ে।

এই অন্তিম পর্বে আমরা থামবো ধত্রেতে—সেখানে শেষ হবে এই ট্রেক, আমি আসা করবো আগের পোস্ট গুলোর মতো এই পোস্ট টিও আপনাদের মনোরঞ্জন প্রদান করবে। ধন্যবাদ ,পাশে থাকার জন্য 🙏😇
দেখা হবে,
পাহাড়ের শেষ অধ্যায়-এ
এই শনিবার।

📍 Sandakphu–Phalut Trek | WB–Nepal
🗓️ Saturday | 7 PM
📷












শৈশবে আমাদের প্রায় সবারই সরস্বতী পুজোয় হাতেখড়ি হয়েছিল। বলা হতো—এই পুজোর পর থেকেই নাকি আমাদের পড়াশোনার জীবনটা আনুষ্ঠ...
10/01/2026

শৈশবে আমাদের প্রায় সবারই সরস্বতী পুজোয় হাতেখড়ি হয়েছিল। বলা হতো—এই পুজোর পর থেকেই নাকি আমাদের পড়াশোনার জীবনটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু। ঠিক তেমনই, পাহাড়প্রেমী বাঙালির জীবনে ট্রেকিং বা হাইকিংয়েরও একটা হাতেখড়ি থাকে। একটা চেনা পথ, যেটা দিয়ে প্রথমবার পাহাড়ের সঙ্গে সত্যিকারের আলাপ হয়। আজ আপনাদের সেই চেনা পথটার গল্পই বলছি।

ভারতবর্ষে এমন বহু ট্রেক আছে, যেখানে গেলে প্রকৃতি নিজের সেরা রূপটা খুলে ধরে। সান্দাকফু তাদের মধ্যেই এক নিঃশব্দ রত্ন। অনেকেই এর নাম শোনেননি—তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই জায়গা আলোচনার চেয়ে অভিজ্ঞতায় বেশি বিশ্বাসী। যারা হাঁটতে ভালোবাসেন, নিজের মতো করে প্রকৃতিকে আবিষ্কার করতে চান, তাদের কাছেই সান্দাকফু ধীরে ধীরে নিজের দরজা খুলে দেয়।

এই ট্রেক হিমালয়ের সবচেয়ে সহজ অথচ সুন্দর পথগুলোর একটি। সিঙ্গালিলা রিজ ধরে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়, যেন পাহাড় নিজেই পথ দেখাচ্ছে। এই রিজ দক্ষিণ দিক থেকে উঠে গিয়ে মিলেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশ্রেণীর কাছে, আর মাঝখানে তৈরি করেছে সিকিম ও নেপালের স্বাভাবিক সীমারেখা। প্রায় ৪৭ কিলোমিটারের এই যাত্রা শুধু ট্রেকারদের নয়, পাহাড় আর প্রকৃতিকে ভালোবাসা যেকোনো মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।

দার্জিলিংয়ের এই পথটাকে অনেকেই পশ্চিমবঙ্গের ছাদ বলে ডাকেন। কারণ এখানে দাঁড়িয়ে চোখের সামনে খুলে যায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যপট। হাঁটতে হাঁটতে, কখনও কুয়াশার ফাঁক দিয়ে, কখনও পরিষ্কার আকাশে দেখা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, দূরে ঝলমল করে ওঠে মাউন্ট এভারেস্ট, এমনকি ভালো দিনে চোখে পড়ে কে–টু–র রেখাও। কিন্তু শুধু পাহাড়ই নয়—প্রতিটা বাঁকে বাঁকে পাহাড়ি জনজীবন, পশুপাখি, রঙিন প্রার্থনার পতাকা আর ছোট ছোট গ্রাম মিলেমিশে একটা জীবন্ত গল্প তৈরি করে।
সান্দাকফু নিজে সিঙ্গালিলা পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ভারতের দিক থেকে এটি পশ্চিমবঙ্গ–নেপাল সীমান্তে, দার্জিলিং এলাকায় অবস্থিত; নেপালের দিকে পড়েছে ইলাম জেলা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৬৬৫ মিটার, বা ১১,৯৩০ ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়ে এই শৃঙ্গ। পথ খুব ভয়ংকর নয়—মাঝারি অভিজ্ঞতার ট্রেকাররা একটু ধৈর্য রাখলে সহজেই এই যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।

আমি বেক্তিগত ভাবে একাধিকবার সান্দাকফু ফালুট ট্রেক করেছি, তাই এই এই রুটের বেশিরভাগ ট্রেলই আমার জানা, তাই আপাদের সুবিধের জন্য আমি একটি ম্যাপ ও একটা বেসিক সাধারণ প্ল্যান আপনাদের করে দিচ্ছি যার ওপর একটি ধারণা করে আপনারা আপনাদের প্ল্যান সাজাতে পারবেন।
Day 01 :
যাত্রাটা সাধারণত শুরু হয় নিউ জলপাইগুড়ি থেকে। সেখান থেকে গাড়িতে মানেভঞ্জন পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটাই ট্রেকের প্রথম অধ্যায়। সময় পেলে আপনারা অবস্যই এই গ্রামটি ঘুরে দেখবেন , নেপাল ও ভারতের সীমানায় অবস্থিত এই গ্রামটির বৈশিষ্ট হলো আপনি নিজেও বুঝতে পারবেনা কখন আপনি কোন দেশের মধ্যে আছেন।
পরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে হাঁটা শুরু করে দিন, (বলে রাখি মানেভঞ্জনে আপনাদের সান্দাকফু ট্রেকের পারমিট করতে হবে/এছাড়া যারা গাড়িতে যেতে চান তারা এখান থেকেই ওপরে যাওয়ার গাড়ি পাবেন) যত আস্তে আস্তে ওপরে উঠতে থাকবেন ধীরে ধীরে শহরের শব্দ হারিয়ে যায়, আর প্রকৃতি জায়গা নেয়।
Day 02:
দ্বিতীয় দিনে প্রায় এগারো কিলোমিটার হাঁটার পর পৌঁছানো যায় তুমলিং। পথ খুব কঠিন নয়, কিন্তু দীর্ঘ—সাধারণত ৬-৭ঘন্টা সময় লাগে, (কিন্তু আপনি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ আর পাইনের জঙ্গলে হারাতে হারাতে নিজের গতিতে আরামসে পৌঁছে যেতেই পারেন গন্তব্যে, আর যদি মনে করেন মানেভঞ্জন আর তুমলিংয়ে মধ্যে চিত্রে, মেঘমা বা টংলু - তেও থাকার জন্য হোমস্টেস আছে ওখানেও রাত্রিবাস করতে পারেন।) তুমলিংয়ে পৌঁছে মনে হয় যেন পাহাড় একটু থামতে বলছে। এখানকার ভিউ, বাতাস আর খাবার—সব মিলিয়ে শরীর আর মন দুটোই বিশ্রাম পায়। আমি আপনাদের একটাই কথা বলতে পারি তুমলিংয়ে এর সূর্যাস্ত আপনাকে যে স্মৃতিটা দেবে সেটা আপনি আজীবন মনে রাখবেন।
Day 03:
পরের দিন পথ নিয়ে যায় সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে, ১৩কিলোমিটার হাঁটার এই অংশটা ভীষণ সুন্দর। ঘন বন, নিস্তব্ধতা, হঠাৎ কোনো পাখির ডাক—সব মিলিয়ে মনে হয় শহরের জীবনটা বহু দূরে ফেলে এসেছি। মাঝে গৈরিবাসের এক কাপ কফি মাস্ট, দীর্ঘ পথ চলার পর ওই এক ঢোক কফি আপনাকে এক অপার্থিব অনুভূতি দেবে। কালিপোখরিতে রাত কাটিয়ে পরদিন আবার যাত্রা।
Day 04:
চতুর্থ দিনটা ট্রেকের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়। চার ঘণ্টা (৭ কিলোমিটার ) হাঁটার পর যখন সান্দাকফুর কাছে পৌঁছানো যায়, তখন শব্দ আপনা থেকেই কমে আসে। সূর্যাস্তের আলোয় হিমালয়ের সারি সারি শৃঙ্গ যেন একে একে নিজের পরিচয় দেয়। সেই মুহূর্তে বোঝা যায়—এই পথটা কেন এত প্রিয়।
সান্দাকফুতে থাকার পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও, বেস্ট ওয়ে হলো আগে থেকে বুক করে আসা কারণ অতিরিক্ত পর্যটক হয়ে গেলে তাদের একোমোডেট করার মতো সুবিধে এখানে নেই।

Best Time To Visit :
বসন্ত (মার্চ - মে): প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ সময়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং পাহাড়ের ঢাল রঙিন ফুলে (রডোডেনড্রন, অর্কিড) ভরে থাকে।
শরৎ (সেপ্টেম্বর - নভেম্বর): পরিষ্কার আকাশ এবং নির্মল বাতাসের কারণে এই সময়টি মনোরম পর্বত দৃশ্যের জন্য সেরা বলে বিবেচিত হয়।
শীতকাল (ডিসেম্বর - ফেব্রুয়ারি): শান্ত পথ এবং তুষারপাতের সাথে এক জাদুকরী অভিজ্ঞতা, তবে খুব ঠান্ডা তাপমাত্রা এবং বিশেষ করে জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারিতে ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা থাকে।
বর্ষাকাল (জুন - আগস্ট): এই সময়ে দৃশ্যমানতা কম থাকে এবং ভারী বৃষ্টির কারণে পথচলা কঠিন ও কম উপভোগ্য হয়, তাই এই সময়টি ভ্রমণের জন্য সুপারিশ করা হয় না।

চমৎকার আবহাওয়া, পরিষ্কার দৃশ্য এবং প্রস্ফুটিত ফুলের ক্লাসিক সমন্বয়ের জন্য মার্চ-মে মাস বেছে নিন এবং সেরা পর্বত দৃশ্যের জন্য অক্টোবর-নভেম্বর মাস নির্বাচন করুন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

* প্রথম যে জিনিসটি আপনি কোনোভাবেই বাদ দিতে পারবেন না তা হলো একটি ট্রেকিং স্টিক । এটি পাহাড়ে আপনার চলাচলকে সহজ করে তুলবে।
* এছাড়াও, যে জিনিসটি এই ট্রেকটিকে আপনার জন্য আরামদায়ক এবং সহজ করে তুলবে তা হলো আপনি কী ধরনের পোশাক পরছেন। এই ট্রেকের সময় হালকা এবং আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। শরীরের সাথে লেগে থাকা পোশাক এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন, কারণ সেগুলো আপনাকে অস্বস্তি দেবে এবং আপনার ট্রেকএর অভিজ্ঞতা নষ্ট করে দিতে পারে।
* একজন গাইড থাকা আবশ্যক। এতে গ্রামের অর্থনীতি উপকৃত হয় এবং আপনি নিরাপদ পথে চলতে পারেন,গাইড আপনাকে সহজেই আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবেন।
* আপনি যখন ট্রেকিং করছেন, আপনি যে জায়গাতেই থাকুন না কেন বা আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, আপনার সাথে পর্যাপ্ত জল, এবং ড্রাই ফ্রুইটস রাখা উচিত।
* শুধু ট্রেকের পথই নয়, আবহাওয়াও অপ্রত্যাশিত হতে পারে। পাহাড়ে আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে এবং তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। এখন একমাত্র উপায় হলো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা। এমন জিনিসপত্র সাথে নিন যা আপনাকে এই প্রাকৃতিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।
* ট্রেকিং পোল, আরামদায়ক পোশাক এবং একজন ভালো গাইড ছাড়াও, আপনার ট্রেকিংকে আরও আরামদায়ক ও সহজ করার জন্য যে জিনিসটি থাকা উচিত তা হলো ভালো ট্রেকিং জুতো। আপনার ট্রেকিংয়ের সময় পুরো যাত্রাটাই আপনার হাঁটার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। আপনার পায়ে যেন বেশি ব্যথা না হয় এবং যাত্রাটি মসৃণ হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আপনার সাথে একজোড়া ভালো ট্রেকিং জুতো রাখুন।

মনে রাখবেন ট্রেকে যেমন শারীরিক শক্তি প্রয়োজন তার থেকেও বেশি প্রয়োজন মনের শক্তি , নিজের শরীরকে কে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন আর নিশ্চিত করুন আপনার সহযাত্রীরাও সুস্থতার সাথে আনন্দের সাথে মন বোঝাই করা স্মৃতির পাহাড় নিয়ে বাড়ি ফেরে ।

বিশেষ অনুরোধ :

প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না: সাথে একটা এক্সট্রা থলি ক্যারি করুন নিজের আবর্জনা সঠিক জায়গা ডাস্টবিন এ ফেলুন।
আপনি পাহাড়ে গেলে কী খুঁজবেন—শান্তি, না গল্প?....
আমার পরিবেশন গুলো আপনাদের কেমন লাগছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনারদের কোনো suggesions বা কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা অবশ্যই আমাকে বলবেন যাতে আগামীদিনে আমি সেটাকে যুক্ত করতে পারি আমার ভ্ৰমণ এর অভিজ্ঞতার সাথে।
পরবর্তী অংশে, আমরা যাব সান্দাকফু থেকে ফালুট হয়ে ধোত্রে ।
ধন্যবাদ।











Happy New Year 2026 🎉টোটো কোম্পানির সকল দর্শক বন্ধুদেরনতুন ইংরেজি বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। আসন্ন বছর সবার জী...
03/01/2026

Happy New Year 2026 🎉

টোটো কোম্পানির সকল দর্শক বন্ধুদের
নতুন ইংরেজি বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। আসন্ন বছর সবার জীবনে আনন্দ, সাফল্য, সুখ আর সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায় নিয়ে আসুক—এই কামনাই করি।

আজ বছরের প্রথম শনিবার।
অন্য শনিবারগুলোর মতো আজ আমরা কোনো নতুন জায়গার গল্প বলব না। আজ আমরা Mother Nature -এর জন্য একটা ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নেবো—
যেটা অভ্যাসে পরিণত হলে, ধীরে ধীরে প্রকৃতির সুরক্ষায় বড় ভূমিকা নেবে।

গত বছর পাহাড়, সমতল, নদী, সমুদ্র, জঙ্গল—
ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরে আমি একটা জিনিস বারবার লক্ষ্য করেছি। আমরা ভ্রমণপ্রেমী মানুষরা অনেক সময় নিজের অজান্তেই চিপসের প্যাকেট, জলের বোতল, বিস্কুটের মোড়ক, গুটখা-পানমশলার প্যাকেট, মদ-বিয়ারের বোতল ইত্যাদি পাহাড়ের খাঁজে, ট্রেকের রাস্তার পাশে, জঙ্গলের ভেতর, সমুদ্র সৈকতে ফেলে আসি।

আমরা সবাই জানি—
প্লাস্টিক প্রকৃতির জন্য কতটা ক্ষতিকর।
তবু জেনেও এই ভুলগুলো করে চলেছি।

তাই আজ আমার এই ছোট্ট পরিবারে —
আপনাদের সবার কাছে একটাই অনুরোধ।

ঘুরতে যান।
ভ্রমণের চেয়ে বড় বিনিয়োগ জীবনে আর কিছু নেই।
নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন স্বাদ—ভ্রমণই একমাত্র জিনিস, যা মুহূর্তে জীবনের ক্লান্তি দূর করে।

কিন্তু ঘুরতে গিয়ে আমরা যেন আমাদের আবর্জনা প্রকৃতির কোলে ফেলে না আসি এই বিষয়ে যাতে একটু খেয়াল রাখি ।

প্লাস্টিক ছাড়া চলা সহজ নয়, তবে আমরা এইটুকু করতেই পারি —
👉 সঙ্গে একটা অতিরিক্ত থলে বা ব্যাগ রাখি।
👉 সব আবর্জনা সেটার ভেতর জমাই।
👉 ডাস্টবিন পেলে সেখানেই ফেলি।
👉 না পেলে একটু কষ্ট করে সঙ্গে নিয়ে যাই,
উপযুক্ত জায়গা পেলে তখন ফেলি।

শুনতে বড় কাজ মনে হলেও,
এটা আসলে খুবই সহজ—
মন থেকে চাইলে সবাই পারি।

আমি এমন অনেক পাহাড়প্রেমী মানুষ দেখেছি,
যাঁরা শুধু নিজের আবর্জনা বহন করে তাই নয়,
বরং পকেটে ভরে অন্যদের ফেলে যাওয়া আবর্জনাও নামিয়ে আনেন আর সঠিক জায়গায় ফেলেন।সেই সব দায়িত্বশীল প্রকৃতিপ্রেমী মানুষদের আমি হৃদয় থেকে কুর্নিশ জানাই ❤️

২০২৬-এর শুরুতে
আসুন আমরা সবাই মিলে একটা সংকল্প নিই—
“Garbage Free Tourism”

আপনি যদি এই সংকল্পে সহমত হন,
তাহলে এই বার্তাটা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিন।
যাতে একদিন ৮ থেকে ৮০—
সবাই এটা অনুভব করে।

ভারতবর্ষ ভীষণ সুন্দর একটা দেশ।
আসুন, আমরা সবাই মিলে একে
আরও সুন্দর করে তুলি।

ধন্যবাদ 🙏








আজ উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মণ্ডল গ্রামের পাহাড়ি পথে হাঁটলে চারপাশের বন, নীরবতা আর পাহাড়ের স্থিরতা দেখে মনে হয় -এখান...
27/12/2025

আজ উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মণ্ডল গ্রামের পাহাড়ি পথে হাঁটলে চারপাশের বন, নীরবতা আর পাহাড়ের স্থিরতা দেখে মনে হয় -এখানকার গল্প কেবল পুরাণের পাতায় বন্দি নয়। এই গল্পের জন্ম এই ভূগোলের মধ্যেই। অতীতের সেই সময়, সেই মানুষ, সেই স্থান—সব মিলিয়ে এই কাহিনি আজও আমাদের সামনে এক প্রশ্ন রেখে যায়: সত্যিকারের শক্তি কি বাহুতে, না চরিত্রে?

হিমালয়ের এক নীরব বনভূমি, যেখানে পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরে পড়া ঝরনার শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না—সত্য যুগে এই স্থানেই বাস করতেন ঋষি অত্রি। বৈদিক যুগের এই ঋষি ছিলেন সপ্তর্ষিদের অন্যতম একজন। সময়টা এমন, যখন সভ্যতা, জ্ঞান জন্ম নিত অরণ্যে, তপস্যার মধ্য দিয়ে। অত্রি মুনির আশ্রম ছিল এক ধরনের আশ্রয়—যেখানে জ্ঞান, সংযম আর ধ্যান একসাথে বসবাস করতো। তাঁর জীবন ছিল কঠোর তপস্যায় নিবদ্ধ।
তিনি আর তার সহধর্মিনী অনুসূয়া এই আশ্রম এই বাস করতেন। মাতা অনুসূয়া কোনো রাজকন্যা ,কোনো অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না । তিনি একজন আশ্রমবাসিনী নারী—যাঁর জীবনের মূল শক্তি ছিল সতীত্ব, ধৈর্য আর নিঃশব্দ করুণা। পুরাণে মাতা অনুসূয়াকে যেভাবে দেখা হয়, তা আসলে নারীশক্তির এক ভিন্ন সংজ্ঞা—যেখানে শক্তি মানে প্রতিরোধ নয়, বরং সংকটের মুহূর্তে শান্ত থেকে সঠিক পথ বেছে নেওয়া।
তার এই ব্যক্তিত্তের কারণ এ তিনি দেবলোকে খুবই এ সম্মানিত ছিলেন।

একদা দেবলোকেও অনুসূয়ার মাতার সতিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছিল তিন দেবী পার্বতী , লক্ষ্মী ও স্মরস্বতীর মধ্যে যে তাঁদের চেয়ে বড়ো প্রতীব্রতা আর কে আছে এই ত্রিভুবনে, তাই অনুসূয়াকে তো পরীক্ষা দিতে হবে সতীত্বের । তাই তাঁদের কথা উপেক্ষা না করতে পেরে ত্রিদেব —ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর—মানব রূপে পৃথিবীতে নেমে এলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল অনুসূয়ার সতীত্ব পরীক্ষা করা। স্থান ছিল অত্রি মুনির আশ্রম, সময় এমন এক মুহূর্ত, যখন অত্রি মুনি তপস্যায় বাইরে লীন হয়েছেন । অতিথি হিসেবে আশ্রমে এসে দেবতারা সাধুরুপে এসে এমন এক শর্ত রাখলেন, যা আসলে ছিল অপমানের সমান—তাঁরা মাতাকে বললেন তারা ক্ষুদার্থ, ভোজন করবেন, কিন্তু তাঁদের একটা শর্ত আছে তবেই অনুসূয়ার হাতে তারা অন্য গ্রহণ করবেন যদি তাঁদের শর্ত অনুসূয়া পালন করেন,শর্ত ছিলো অনুসূয়া যদি বস্ত্রহীন অবস্থায় তাঁদের খাবার পরিবেশন করেন তবেই তারা অনুসূয়ার আশ্রমে খাবেন ।

অনুসূয়া জানতেন, অতিথিধর্ম ভঙ্গ করা যেমন অধর্ম, তেমনই আত্মসম্মান বিসর্জন দেওয়াও ধর্ম নয়। সেই মুহূর্তে তিনি বুদ্ধি আর করুণাকে একসাথে কাজে লাগালেন। তিনি অত্রি মুনির পরামর্শ অনুযায়ী কমুন্ডলে জল এনে মন্ত্রোচ্চারণ করে সেই জলে দেবতাদের স্পর্শ করালেন। পুরাণ বলে, সেই স্পর্শেই ত্রিদেব শিশুরূপ ধারণ করলেন। শিশুদের তো লজ্জা নেই, অহংকার নেই—তাই অনুসূয়া মাতা তাঁদের কোলে তুলে ভোজন করালেন, মাতৃত্বের সমস্ত স্নেহে দিয়ে আগলে রাখলেন।
অনেক দিন কেটে গেলো দেবতারা ত্রিদেবকে কোনো লোকে খুঁজে পাচ্ছেনা, সৃষ্টির কর্ম থমকে গেছে ,এমতো অবস্থায় নারদের
মুখে এই ঘটনার সংবাদ দেবলোকেও পৌঁছাল। দেবীরা—সরস্বতী, লক্ষ্মী ও পার্বতী—আশ্রমে এসে নিজেদের স্বামীদের এই অবস্থায় দেখে বিস্মিত ও লজ্জিত হলেন। তাঁরা অনুসূয়ার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এবং বললেন তুমি হলে প্রকৃত সতী, এবং দেবীরা অনুসূয়া বর চাইতে বলা হলে তিনি শুধু এটুকুই চাইলেন—ত্রিদেব এ যেন শিশু হয়ে তার কাছে ফিরে আসে।

পুরাণ অনুযায়ী, এই তিন শিশুই পরবর্তীতে তিনটি ভিন্ন রূপে পৃথিবীতে পরিচিত হন—দত্তাত্রেয়, দুর্বাসা ও চন্দ্র। ত্রিদেব এর মাতা হবার জন্য তার নাম হয় মাতা অনুসূয়া।
কিন্তু এই কাহিনির আসল গুরুত্ব এই রূপান্তরে নয়। এর গভীরতা লুকিয়ে আছে অনুসূয়ার আচরণে। এখানে দেবতারা শক্তিশালী, কিন্তু নৈতিকতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন একজন আশ্রমবাসিনী নারী। এই গল্প আমাদের বলে, ধর্ম মানে শাস্তি নয়, ধর্ম মানে বুদ্ধির প্রয়োগ; সতীত্ব মানে দমন নয়, সতীত্ব মানে আত্মমর্যাদা রক্ষা করে করুণার পথে হাঁটা।

আমি অনুসূয়া মাতার মন্দির এর পুরোহিত মশাইয়ের থেকে আমরা এই গল্পের বর্ণ পাই , তার পর বাড়ি ফিরে ইন্টারনেটএ বিস্তারিত জানতে পারি, যদি কোনো ভুল সত্য পরিবেশন করে থাকি ক্ষমা করে দেবেন। ধন্যবাদ

Merry Christmas to all my viewers and my 97 wonderful followers! 🎄✨Thank you for being part of my journey, for the love,...
24/12/2025

Merry Christmas to all my viewers and my 97 wonderful followers! 🎄✨

Thank you for being part of my journey, for the love, support, and belief you’ve shown throughout the year.
Your presence means more than numbers—it’s encouragement, motivation, and inspiration.

Here’s to more stories, more journeys, and many beautiful moments ahead.
Stay with Totocompany with Sirsendu — the best is yet to come.

With love & gratitude 🤍

COMING UP | এই শনিবার, সন্ধ্যা 7টাহিমালয়ের কোলে জন্ম নেওয়া এক গল্প—তপস্যা, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের।ঋষি অত্রি আর তাঁর সহধ...
24/12/2025

COMING UP | এই শনিবার, সন্ধ্যা 7টা

হিমালয়ের কোলে জন্ম নেওয়া এক গল্প—
তপস্যা, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের।

ঋষি অত্রি আর তাঁর সহধর্মিণী অনুসূয়া মাতার গল্প —
যাঁদের জীবন থেকে সৃষ্টি হয়েছে দেবত্বের কাহিনি,
আর এক নারীর অটল পবিত্রতা বদলে দিয়েছিল নিয়তির পথ।

এই শনিবার শেয়ার করবো
ঋষি অত্রি ও অনুসূয়ার মাতার সেই পৌরাণিক উপাখ্যান, যা এখন মন্ডল এর অস্তিত্বের দলিল .

📍 Mandal Village, Uttarakhand
🗓️ Saturday | 7 PM
📷
Story drops Saturday. Stay curious.

শহরের কোলাহল আর ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে, উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার পাহাড়ে লুকিয়ে আছে এক শান্ত ছোট্ট গ্রাম—...
20/12/2025

শহরের কোলাহল আর ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে, উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার পাহাড়ে লুকিয়ে আছে এক শান্ত ছোট্ট গ্রাম—মন্ডল ভিলেজ। সবুজ জঙ্গলে ঘেরা, চারদিকে পাহাড়ের দৃশ্য নিয়ে এই গ্রামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এবং বহু সুন্দর ট্রেকের সূচনা বিন্দু হিসেবে পরিচিত।
এখান থেকেই শুরু করা যায় অনুসূয়া দেবী মন্দির, অত্রি মুনি আশ্রম, কুয়ারি পাস এবং শান্ত পানার বুগিয়াল –এর দিকে যাত্রা। তবে মন্ডল শুধু ট্রেকারদের জন্য নয়। এটি এমন এক জায়গা, যেখানে প্রকৃতি, সহজ গ্রামজীবন আর প্রাচীন মন্দির একসাথে মিশে গেছে। এখানকার বাতাস টাটকা, মানুষজন ভীষণ অতিথিপরায়ণ, আর পুরো পরিবেশটাই শান্ত ও আপন করে নেওয়ার মতো।

বাবা রুদ্রনাথের দর্শন করে আমরা নেমে আসি সাগর -এ যেখান থেকে আমরা যাত্রা শুরু করি , আমাদের প্ল্যান ছিল ফেরার পথে আমরা সপ্ত মুনির এক মুনি ঋষি অত্রি মুনির আশ্রম হয়ে নিচে নামবো কিন্তু ওই দিকের রাস্তা ভালো না থাকার কারণ এ আমরা আর যেতে পারিনা তাই স্যার (অনির্বান স্যার )-এর কথা মতো পরের দিন সকাল সকাল ব্রেকফাস্ট ছেড়ে একটা গাড়ির বন্ড বস্তু করে আমরা সাগর কে বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে পড়লাম অত্রি মুনির আশ্রম মন্ডল গ্রামের পথে।

এই ব্লগে আমরা মন্ডল ভিলেজ সম্পর্কে আপনার জানার মতো সবকিছুই বলব—কীভাবে যাবেন, কী দেখবেন, কখন যাওয়াই সবচেয়ে ভালো, আর কেন এই ছোট্ট গ্রামটি আপনার হিমালয় ভ্রমণের প্রিয় জায়গা হয়ে উঠতে পারে।

মন্ডল ভিলেজ ছোট হলেও আপনার ভ্রমণকে বিশেষ করে তোলার মতো সবকিছুই এখানে আছে। গ্রামটি চারপাশে সবুজ জঙ্গল ও ধাপে ধাপে চাষের জমিতে ঘেরা, আর পরিষ্কার দিনে দূরে বরফে ঢাকা নন্দা দেবী শৃঙ্গ দেখা যায়। স্থানীয় মানুষজন উষ্ণ হাসিতে আপনাকে স্বাগত জানায়, ডাল-ভাতের মতো সহজ খাবার খাওয়ায়, আর কাছের জঙ্গলে একসময় বসবাস করা সাধু-সন্তদের পুরনো গল্প শোনায়।
মন্ডলের সবচেয়ে ভালো দিকগুলোর একটি হলো—ট্রেক শুরু করতে আপনাকে আলাদা করে কোথাও যেতে হয় না। বেশিরভাগ ট্রেকিং রুট এখান থেকেই শুরু হয়। তাই বাড়তি যাত্রা ছাড়াই হিমালয় অভিযানের শুরু করার জন্য মন্ডল একেবারে আদর্শ জায়গা।

সাগর থেকে মন্ডল এর দূরত্ব ১০কিমির মতো গাড়িতে সময় লাগে আধা ঘন্টা,তার পর মন্দির এর পথটি হালকা হাইক, আমরা আমাদের ব্যাগ গাড়িতেই রেখে হাঁটা শুরু করলাম। রাস্তার দুই পাশে চোখে পড়বে ওক, দেবদারু আর রডোডেনড্রনের মতো উঁচু গাছ আর সরু পার্বতী নদী, যার অবিরাম জল প্রবাহের শব্দ আপনাকে সারাক্ষণ সঙ্গ দেবে যতক্ষণ আপনি একটু উচ্চতায় পৌঁছেছেন। এছাড়া আছে নানা ধরণের পাখি আর তাদের বৈচিত্রময় ডাক , আমার নিজের পাখি সমন্ধে খুব একটা ধারণা না থাকলেও আমার সোহো যাত্রী সান্তনু পাখি প্রেমী ওর থেকেই এই সব দুর্লভ পাখির বিবরণ শুনতে শুনতে আমরা এগিয়ে চললাম। বুঝতে অসুবিধে হয়নি বর্ষাকালে পুরো এলাকা কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যায়, আর তখন এই পথচলা যেন এক সুন্দর পোস্টকার্ডের দৃশ্য হয়ে ওঠে।

পথে আমরা একটি তীর্থযাত্রী পরিবারের সঙ্গে দেখা পেয়েছিলাম, আর তারা ছাড়া সেদিন আর প্রায় কাউকেই দেখা যায়নি। ট্রেকের মাঝখানে একটানা উঁচুতে উঠতে উঠতে ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল, আর চারপাশে তখন রডোডেনড্রনের ফুল পুরো দমে ফুটে ছিল। অনুসূয়া গ্রামের ঠিক আগে একটি পাথরের গায়ে ষষ্ঠ শতাব্দীর একটি শিলালিপিও চোখে পড়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা হাঁটার পর আমরা মন্দিরে পৌঁছাই।

এই শিলালিপিতে সার্বর্মণের রাজবংশের নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও, লিপিশৈলী (প্যালিওগ্রাফি) বিচার করে এটিকে খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যভাগের বলে ধরা হয়। এই ভিত্তিতে এবং ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধির কারণে, এই রাজাকে মৌখরি বংশের রাজা সার্বর্মণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যিনি আনুমানিক ৫৭৬ থেকে ৫৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। এই শিলালিপিটি প্রাচীন তীর্থযাত্রা পথে যাত্রীদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎকীর্ণ একটি ধর্মীয় দানলিপি। ঐতিহাসিকভাবে এটি এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মৌর্য সম্রাট অশোকের কলসি শিলালিপির পর উত্তরাখণ্ডে কোনো শাসক রাজার নাম উল্লেখ করা এটিই প্রাচীনতম নিদর্শন।

এই পথ শুধু শান্ত আর সুন্দরই নয়—এটি গাড়োয়াল হিমালয়ের সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর বন ও পাহাড়ি ট্রেকগুলোর প্রবেশদ্বার। আধ্যাত্মিক মন্দির থেকে শুরু করে বিস্তৃত অ্যালপাইন বুগিয়াল—সব ধরনের ভ্রমণপ্রেমীর জন্যই এখানে কিছু না কিছু আছে। আপনি যদি ট্রেকিং ভালোবাসেন, ফটোগ্রাফি করতে চান বিশেষ করে যারা বার্ড ফোটোগ্রাফি করেন তাদের কাছে ইটা স্বর্গ, কিংবা শুধু প্রকৃতির মাঝে হাঁটতে চান—মন্ডল থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেকগুলো একেবারে উপযুক্ত। পুরো রাস্তায় আপনি একটি মাত্র ছোট বাবাজির দোকান ছাড়া আর কিছু পাবেন না , কিন্তু তীর্থ যাত্রীদের জন্য পাহাড়ের প্রত্যেকটি বাঁকে বসার জায়গা ও পানীয় জলের সুবন্দোবস্ত আছে যা খুবই প্রশংসনীয়।

ঠিকঠাক পরিকল্পনা করলে মন্ডল ভিলেজে পৌঁছানো খুবই সহজ। এটি সড়কপথে ভালোভাবে সংযুক্ত এবং ঋষিকেশ, চামোলি ও গোপেশ্বরের মতো বড় শহর থেকে সহজেই এখানে আসা যায়।

কিভাবে আসবেন :
সড়কপথে (By Road):
ঋষিকেশ থেকে মন্ডল যাওয়ার দূরত্ব প্রায় ২২৬ কিমি, সময় লাগে প্রায় ৯–১০ ঘণ্টা। NH-7 ধরে এই পথটি গেছে দেবপ্রয়াগ, শ্রীনগর, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি ও গোপেশ্বরের মতো মনোরম শহরগুলোর মধ্য দিয়ে। গোপেশ্বর থেকে মন্ডল মাত্র ১৩ কিমি দূরে—এই শেষ অংশটুকু শেয়ার জিপ বা লোকাল ট্যাক্সিতে সহজেই যাওয়া যায়।

ট্রেনপথে (By Train):
মন্ডলের নিকটতম রেলস্টেশন হলো ঋষিকেশ যোগ নগরী (YNRK)। স্টেশন থেকে চামোলি ও গোপেশ্বরের দিকে নিয়মিত বাস ও ট্যাক্সি পাওয়া যায়, বিশেষ করে ভোরবেলায়।

বিমানপথে (By Air):
সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হলো দেরাদুনের জলি গ্রান্ট এয়ারপোর্ট, যা মন্ডল থেকে প্রায় ২৪৩ কিমি দূরে। এখান থেকে প্রিপেইড ক্যাব বুক করতে পারেন বা উত্তরাখণ্ড রোডওয়েজের বাসে চামোলি বা গোপেশ্বর পৌঁছে সেখান থেকে মন্ডলের দিকে এগোতে পারেন।

মন্ডল ভিলেজে যাওয়ার সেরা সময়:
মন্ডল ভিলেজে প্রতিটি ঋতুই আলাদা রূপ নিয়ে আসে। ভ্রমণ পরিকল্পনার জন্য সংক্ষিপ্ত গাইডটি দেখে নিন—
বসন্ত (এপ্রিল – জুন):
মনোরম আবহাওয়া, রডোডেনড্রনের ফুলে ভরা জঙ্গল আর পরিষ্কার আকাশ। নতুনদের জন্য ট্রেকিং, দর্শনীয় স্থান ঘোরা ও ফটোগ্রাফির সেরা সময়।

বর্ষা (জুলাই – আগস্ট):
গ্রামটি হয়ে ওঠে ঘন সবুজ, চারদিকে ঝরনা আর জলপ্রপাতের ধারা। তবে এই সময় ট্রেকিং পথ পিচ্ছিল হয়ে যায়—তাই অভিজ্ঞ হাইকারদের জন্যই বেশি উপযোগী।

মন্ডল ভিলেজে দেখার ও করার সেরা জিনিসগুলো

১. গ্রাম ও আশেপাশের মন্দির দর্শন
অনুসূয়া দেবী মন্দির – দেবদারু জঙ্গলের ভেতর দিয়ে প্রায় ৫ কিমি হাঁটা পথ। বিশ্বাস করা হয়, নিঃসন্তান দম্পতিদের মনস্কামনা পূরণ হয়।
অত্রি মুনি আশ্রম – ঋষি অত্রির গুহা। হালকা জলপ্রপাত পেরিয়ে সহজ একটি ট্রেকের মাধ্যমে পৌঁছানো যায়।

২. প্রকৃতির সাথে হাঁটা নিরিবিলি পায়ে হাঁটার পথ চলে গেছে ধাপে ধাপে চাষের জমি, রডোডেনড্রনের বন আর ছোট ছোট ঝরনার ধারে। সঙ্গে দূরবিন নিলে ভালো—পুরনো দেবদারু গাছের চারপাশে হিমালয়ান বুলবুল আর রাসেট চড়ুই সহজেই চোখে পড়ে।

৩. স্থানীয় মানুষের সাথে সময় কাটান কৃষকদের সাথে বসে এক কাপ চা ভাগ করে নিন।আর জানুন কীভাবে তারা গাড়োয়ালি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহৃত বন্য ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করেন।

৪. অ্যালপাইন ট্রেকে যাত্রা শুরু মন্ডল থেকে পথ ছড়িয়ে গেছে পানার বুগিয়াল, কুয়ারি পাসের দিকে। অভিজ্ঞ ট্রেকারদের জন্য এখান থেকে পুরো পঞ্চকেদার সার্কিটের সাথেও সংযোগ রয়েছে।

মন্ডল বেশকিছু হোমস্টে আছে যেখানে আপনি পরিবার সমেত ভালো ভাবে রাত্রি যাপন করতে পারেন , এখনকার স্থানীয়দের আচরণ ব্যবহার খুব আন্তরিক আপনারা এক ভালস্মৃতি নিয়ে ফিরবেন এখানে এলে এইটুকু আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে।

বিশেষ অনুরোধ :
১. প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না: সাথে একটা এক্সট্রা থলি ক্যারি করুন নিজের আবর্জনা সঠিক জায়গা ডাস্টবিন এ ফেলুন।

আপনি পাহাড়ে গেলে কী খুঁজবেন—শান্তি, না গল্প?....

আমার পরিবেশন গুলো আপনাদের কেমন লাগছে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনারদের কোনো suggesions বা কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা অবশ্যই আমাকে বলবেন যাতে আগামীদিনে আমি সেটাকে যুক্ত করতে পারি আমার ভ্ৰমণ এর অভিজ্ঞতার সাথে।
ধন্যবাদ,

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ToTo Company with Sirsendu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share